📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন

📄 আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন


মহান আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অবশ্য তাঁর এই সঙ্গ দুই শ্রেণীর; আম ও খাস।

আম সঙ্গ হল তাই, যা সকল সৃষ্টির জন্য ব্যাপক। আর তার অর্থ হল তিনি সমগ্র সৃষ্টিকে তাঁর জ্ঞান, শক্তি, প্রতাপ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেষ্টন ক'রে আছেন। মহান আল্লাহ বলেন, তিনিই ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা কিছু তা হতে বের হয়। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন। তুমি কি অনুধাবন কর না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন জানিয়ে দেবেন তারা যা করে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত।

দ্বিতীয় শ্রেণী হল খাস সঙ্গ। এই সঙ্গ মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা রসুল ও তাঁর অনুসারিগণকে দান ক'রে থাকেন। আর এর অর্থ হল তিনি তাঁর সাহায্য ও সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে থাকেন। মহান আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সাবধানীদের সাথী। নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরই সঙ্গে থাকেন, যারা সংযম অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ। মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর সাথী সম্বন্ধে বলেন, যখন সে ছিল দু'জনের মধ্যে একজন; যখন উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল। সে তখন স্বীয় সঙ্গী (আবু বাক্স) কে বলেছিল, 'তুমি বিষণ্ণ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।'

অনুরূপভাবে মহানবী ﷺ সফরে গেলে দুআ পড়তেন, হে আল্লাহ! তুমিই সফরের সাথী এবং পরিবারে প্রতিনিধিও তুমিই। অতএব স্পষ্ট যে, তিনি সত্তা সহ বান্দার সাথী হন না। যেহেতু তিনি আছেন আরশের উপরে। এর উদাহরণ ঠিক চাঁদের মত। রাতে চললে চাঁদ আমাদের সাথে থাকে, অর্থাৎ, তার জ্যোৎস্না আমাদের সাথে থাকে, অথচ তা থাকে আকাশে। পূর্বেই বলা হয়েছে, 'মহান আল্লাহ সকলের সাথে আছেন' মানে 'তিনি সর্বময় বা সর্বস্থানে বিরাজমান' নয়।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহ আমাদের নিকটে

📄 মহান আল্লাহ আমাদের নিকটে


মহান আল্লাহ আছেন সৃষ্টিকুলের উর্ধ্বে। মহান আল্লাহর সাত আসমানের নীচে যে কত সৃষ্টি রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নভমণ্ডলের নক্ষত্রগুলো সংখ্যায় অগণিত। মহাশূন্যে এমন অনেক নক্ষত্র আছে, যা পৃথিবী হতে এত দূরে অবস্থিত যে, তাদের আলো আমাদের পৃথিবীতে পৌঁছতে এক কোটি বছর লাগে! আর এ সবের উপরে রয়েছে প্রথম আসমান। কারণ সকল গ্রহ-নক্ষত্র প্রথম আসমানের নীচে। মহান আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজি দ্বারা সুশোভিত করেছি।

এই সুন্দর সুশোভিত মহাশূন্যের উপরে প্রথম আসমান এবং তার উর্ধ্বে পরপর আরো ছয় আসমান। তার উপরে আছে কুরসী। মহান আল্লাহ বলেন, তাঁর কুরসী আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পরিব্যাপ্ত। আর সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, মহামহিম।

তাঁর উপরে মহান আল্লাহর মহাসন আরশ। তার উপর তিনি আছেন। কিন্তু এত উর্ধ্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের অতি নিকটে। মহান আল্লাহ বলেন, আর আমার দাসগণ যখন আমার (অবস্থান) সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই।

মহানবী ﷺ বলেন, "শেষ রাতের গভীরে প্রতিপালক নিজ বান্দার সবচেয়ে বেশী নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি যদি ঐ সময় আল্লাহর যিক্রকারীদের দলভুক্ত হতে সক্ষম হও, তাহলে তা হয়ে যাও।” তিনি আরো বলেন, "সিজদাহ অবস্থায় বান্দা আপন প্রভুর সবচেয়ে অধিক নিকটতম হয়ে থাকে। সুতরাং ঐ অবস্থায় তোমরা বেশী-বেশী ক'রে দুআ কর।"

আবু মুসা আশআরী বলেন, একদা আমরা নবী ﷺ-এর সাথে সফরে ছিলাম। নবী তখন বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন কর। কেননা, তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না। তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।”

তিনি আরশে আছেন। তবুও তিনি নিকটবর্তী। যেহেতু তিনি আমাদের সাথে। তাঁর জ্ঞান ও দৃষ্টি সর্বত্রে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। তিনি তাঁর জ্ঞান ও দৃষ্টি দ্বারা সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন ক'রে আছেন। তাঁর জ্ঞান সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন ক'রে আছে, সারা সৃষ্টিতে পরিব্যাপ্ত আছে।

টিকাঃ
১. জ্ঞাতব্য যে, শরীয়তে যেখানে সশব্দে বা উঁচু শব্দে মহান আল্লাহর যিক্র আছে, তা তাঁকে শোনাবার উদ্দেশ্যে নয়। বরং তাতে অন্য উদ্দেশ্য থাকে। যেমন আযান-ইক্বামত দ্বারা নামাযীদেরকে আহবান করা হয়, ইমাম সাহেব জোরে ক্বিরাআত ক'রে বা তকবীর বলে তাদেরকে শোনান ইত্যাদি।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহ নামাযীর সামনে

📄 মহান আল্লাহ নামাযীর সামনে


নামাযী যখন নামায পড়ে, মহান আল্লাহ তখন তার সামনে থাকেন। মহানবী ﷺ বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ করে। তার প্রতিপালক থাকেন তার ও তার কিবলার মাঝে। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তার সামনের দিকে অবশ্যই থুথু না ফেলে।"

যিনি সকল সৃষ্টির উর্ধে আরশে আছেন, তিনি আবার নামাযীর সামনে কিভাবে হন? সে কথা তিনিই ভাল জানেন। তাঁর জন্য অসম্ভব কিছু নয়। সৃষ্টির জন্য তা অসম্ভব হতে পারে। সূর্য যখন উদয় হতে লাগে, তখন তা আমার-আপনার সামনে হয়। অথচ তা আছে আকাশে বহু দূরে। অনুরুপ মহান আল্লাহর জন্যও আকাশের উপরে থেকে বান্দার সামনে হওয়া যুক্তি-অগ্রাহ্য নয়।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর জ্ঞান

📄 মহান আল্লাহর জ্ঞান


জ্ঞান হল প্রত্যেক বস্তুর প্রকৃতত্ব জানার নাম। মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞ। তাঁর জ্ঞান সারা সৃষ্টিতে পরিব্যাপ্ত। তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। এ হল তাঁর ব্যাপক জ্ঞানের দলীল।

তাঁর বিশেষ বিশেষ জ্ঞানবত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁরই নিকট অদৃশ্যের চাবি রয়েছে; তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। তিনি প্রত্যেকের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থানক্ষেত্র সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেন; সবই সুস্পষ্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।

বলাই বাহুল্য যে, তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় আছে, সবকিছু তিনি জানেন, কোন কিছু তাঁর নিকট গুপ্ত নয়। নিশ্চয় তিনি মহাজ্ঞানী, মহান প্রতিপালক, মহান আল্লাহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px