📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহানবী কি তাঁকে মি'রাজের রাতে দেখেছিলেন?

📄 মহানবী কি তাঁকে মি'রাজের রাতে দেখেছিলেন?


এটিও একটি বিতর্কিত বিষয়। খোদ সাহাবাগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইবনে আব্বাস বলেন, 'তিনি অন্তর-নেত্রে তাঁকে দর্শন করেছেন।' মা আয়েশা বলেন, যে বলে যে, 'মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর রব্ব (আল্লাহ) কে দেখেছেন, সে মিথ্যুক। (সে আল্লাহর প্রতি বড় মিথ্যা আরোপ করে।)'

যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন, দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ব করতে পারে না, কিন্তু দৃষ্টিসমূহ তাঁর আয়ত্বে আছে এবং তিনিই সুক্ষ্মদর্শী; সম্যক পরিজ্ঞাত। কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ওহীর (প্রত্যাদেশ) মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা কোন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে; আর তখন আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে অহী (প্রত্যাদেশ) করেন; নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।

প্রিয় নবীকে জিজ্ঞাসা করা হল, 'আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন?' উত্তরে তিনি বললেন, "তাঁকে কিরূপে দেখা সম্ভব? যাঁর পর্দা (অন্তরাল) হল নূর (জ্যোতি)। যে পর্দা উন্মোচিত হলে তাঁর আনন-দীপ্তি সমগ্র সৃষ্টিকূলকে দগ্ধীভূত ক'রে ফেলবে।” অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, "আমি নূর দেখেছি।”

সুতরাং কেউ বলেন, তিনি আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখেছেন। কেউ বলেন, অন্তর-নেত্রে দর্শন করেছেন। আবার কেউ বলেন, তিনি ঐ রাত্রে মহান আল্লাহর নূর ও জিব্রাঈলকে দর্শন করেছিলেন, মহান আল্লাহকে নয়। সত্যানুসন্ধানী উলামাগণ বলেন, সঠিক এই যে, তিনি চাক্ষুষ দৃষ্টিতে মহান আল্লাহকে দর্শন করেননি। বরং অন্তর-দৃষ্টি দ্বারা স্বপ্নে ও মি'রাজের রাত্রে দর্শন করেছেন।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 পরকালে মহান আল্লাহর দর্শন

📄 পরকালে মহান আল্লাহর দর্শন


কিয়ামতের দিন মহানবী আল্লাহকে দেখে সিজদা করবেন। মু'মিন বান্দাগণ কিয়ামতে মহান আল্লাহর পদনালী দেখে সিজদা করবে। মুনাফিকরা সিজদা করতে পারবে না। তাদের পিঠ পাটার মত সোজা হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, (স্মরণ কর,) যেদিন পায়ের রলা উন্মোচন করা হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হবে; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না।

পরকালে মহান আল্লাহ তাঁর বেহেস্তী বান্দাদেরকে দীদার দানে ধন্য করবেন। মহান আল্লাহ বলেন, সেদিন বহু মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। কক্ষনো না, অবশ্যই তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক (দর্শন) থেকে পর্দাবৃত থাকবে। যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরো অধিক (আল্লাহর দীদার)। তাদের মুখমন্ডলকে মলিনতা আচ্ছন্ন করবে না এবং লাঞ্ছনাও না; তারাই হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী, তারা ওর মধ্যে অনন্তকাল বাস করবে। সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং আমার নিকট রয়েছে তারও অধিক (আল্লাহর দর্শন)।

জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী ﷺ-এর নিকট পূর্ণিমার রাতে বসে ছিলাম। তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, নিঃসন্দেহে তোমরা (পরকালে) তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক এইভাবে দর্শন করবে যেভাবে তোমরা এই পূর্ণিমার চাঁদ দর্শন করছ। এটি দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (নিয়মিত) নামায পড়তে পরাহত না হতে সক্ষম হও (অর্থাৎ এ নামায ছুটে না যায়), তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন কর।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, তখন মহান বর্কতময় আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা কি চাও যে, আমি তোমাদের জন্য আরো কিছু বেশি দিই?' তারা বলবে, 'তুমি কি আমাদের মুখমন্ডল উজ্জ্বল ক'রে দাওনি? আমাদেরকে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করাওনি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাওনি?' অতঃপর আল্লাহ (হঠাৎ) পর্দা সরিয়ে দেবেন (এবং তারা তাঁর চেহারা দর্শন লাভ করবে)। সুতরাং জান্নাতীদের নিকট তাদের প্রভুর দর্শন (দীদার)ই হবে সবচেয়ে বেশী প্রিয়।” মহানবী ﷺ বলেছেন, "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে চাক্ষুষ দর্শন করবে।" সুতরাং এ কথার অপব্যাখ্যা ক'রে কেউ বলতে পারে না যে, বেহেস্তীরা মহান আল্লাহর সওয়াব দর্শন করবে।

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, 'যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে না, সে কাফের।'

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর মন

📄 মহান আল্লাহর মন


মহান আল্লাহর 'মন'-এর কথা কুরআন ও হাদীসে উল্লেখ হয়েছে, সেহেতু আমাদেরকে তার প্রতি ঈমান রাখতে হবে। কুরআন মাজীদে তিনি তাঁর নবী ঈসা -এর কথা উদ্ধৃত ক'রে বলেন, (স্মরণ কর) যখন আল্লাহ বলবেন, 'হে মারয়‍্যাম-তনয় ঈসা! তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর?' সে বলবে, 'তুমিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার জন্য আদৌ শোভনীয় নয়। যদি আমি বলে থাকি, তাহলে তা তো তুমি অবশ্যই জানো। আমার মনে কি আছে তা তুমি অবগত আছ, কিন্তু তোমার মনে যা আছে, তা আমি অবগত নই, নিশ্চয় তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি। (অর্থাৎ, সে যদি ধারণা রাখে যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, তার তওবা কবুল করবেন, বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তাহলে তাই করি।) আর আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি, সে যদি কোন সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের (ফিরিশাদের) সভায় স্মরণ করি।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর মুখমন্ডল

📄 মহান আল্লাহর মুখমন্ডল


মহান আল্লাহর মুখমণ্ডল তাঁর সত্তাগত একটি গুণ। তাঁর মুখমণ্ডল আছে, যেমন তাঁর জন্য শোভনীয়। সে মুখমণ্ডল কোন সৃষ্টির মুখমণ্ডলের মত নয়। তার কোন উদাহরণ নেই উপমা নেই। তার কেমনত্ব আমাদের অজানা; কিন্তু তার প্রতি ঈমান ওয়াজেব। মহান আল্লাহ বলেন, তাঁর মুখমন্ডল ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। ভূ-পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সমস্তই নশ্বর। অবিনশ্বর শুধু তোমার মহিমময়, মহানুভব প্রতিপালকের মুখমন্ডল (সত্তা)।

সেই চেহারা বড় দীপ্তিময়, তার পর্দা হল জ্যোতি। মহানবী ﷺ বলেন, "তাঁকে কিরূপে দেখা সম্ভব? যার পর্দা (অন্তরাল) হল নূর (জ্যোতি)। যে পর্দা উন্মোচিত হলে তাঁর মুখমণ্ডলের দীপ্তি সমগ্র সৃষ্টিকুলকে দগ্ধীভূত ক'রে ফেলবে।” সেই মুখমণ্ডল বা চেহারা জান্নাতীরা জান্নাতে দর্শন করবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, তখন মহান বর্কতময় আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা কি চাও যে, আমি তোমাদের জন্য আরো কিছু বেশি দিই?' তারা বলবে, 'তুমি কি আমাদের মুখমন্ডল উজ্জ্বল ক'রে দাওনি? আমাদেরকে তুমি জান্নাতে প্রবিশ করাওনি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাওনি?' অতঃপর আল্লাহ (হঠাৎ) পর্দা সরিয়ে দেবেন (এবং তারা তাঁর চেহারা দর্শন লাভ করবে)। সুতরাং জান্নাতীদের নিকট তাদের প্রভুর দর্শন (দীদার) ই হবে সবচেয়ে বেশী প্রিয়।”

বলা বাহুল্য, চেহারা বা মুখমণ্ডলের অপব্যাখ্যা ক'রে 'সওয়াব' বলা বৈধ নয়। যেহেতু তা শাব্দিক অর্থের বিরোধী এবং সলফদের ইজমার পরিপন্থী। যদি কেউ আল্লাহকে কোন সৃষ্টির চেহারার মত কল্পনা ক'রে প্রশ্ন করে যে, তাঁর নাক আছে কি? তাহলে প্রশ্ন বিদআত হলেও তার উত্তর হবে, 'জানি না।' যেহেতু কুরআন-হাদীসে তার উল্লেখ নেই। আছে বলেও নেই, নেই বলেও নেই। সুতরাং যা 'নেই' বলে উল্লেখ নেই, তার জন্য আমরা মানবীয় চাহিদার উপর কিয়াস ক'রে 'অবশ্যই জানি, তাঁর নাক নেই' বলতে পারি না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px