📄 মহান আল্লাহর নামাবলীর মাহাত্ম্য
(وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا)
অর্থাৎ, আল্লাহর জন্যই যাবতীয় সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা সেই সব নাম ধরেই তাঁকে ডাক। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)
রসূল বলেন, ((إِنَّ اللَّهَ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ اسْمًا مَنْ حَفِظَهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ)).
অর্থাৎ, আল্লাহর এমন ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
((إِنَّ اللَّهَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ)).
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহর এমন এক কম একশ' ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা গণনা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী, মুসলিম ২৬৭৭নং)
উক্ত হাদীসে ৯৯টি নামের মাহাত্ম্য ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ সকল নামের অসীলায় বেহেস্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু শর্ত হলঃ-
১। তা মুখস্থ ও গণনা করতে (পড়তে) হবে।
২। তার অর্থ বুঝতে হবে।
৩। সেই অর্থের দাবী অনুযায়ী আমল করতে হবে। যেমন, যখন জানবেন যে, মহান আল্লাহর একটি নাম 'আর-রায্যাকু' এবং তার মানে রুযীদাতা, তখন এ কথা মানবেন যে, তিনিই আপনাকে রুযী দান করবেন। যখন জানবেন, তাঁর একটি নাম 'আল-অকীল' এবং তার মানে কর্মবিধায়ক, তখন আপনি তাঁরই উপর ভরসা করবেন। যখন জানবেন, তাঁর একটি নাম 'আর-রাক্বীব' এবং তার মানে পর্যবেক্ষক, তখন আপনি তাঁর দৃষ্টিকে ভয় করবেন ইত্যাদি।
৪। ঐ সকল নাম ধরে দুআ করতে হবে এবং তাতে বক্রতা বর্জন করতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (۱۸۰) سورة الأعراف
অর্থাৎ, উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা সে সব নামেই তাকে ডাকো। আর যারা তাঁর নাম সম্বন্ধে বক্রপথ অবলম্বন করে, তাদেরকে বর্জন কর, তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)
উক্ত হাদীস থেকে এ কথা বুঝা যায় না যে, আল্লাহর নাম কেবল ৯৯টি। বরং বুঝা যায় যে, তাঁর নামসমূহের মধ্যে ৯৯টি নাম এমন আছে, যা মুখস্থ ও গণনা করলে বেহেস্ত লাভ হবে।
মহান আল্লাহর নাম যে সীমিত নয়, সে কথা 'আসমা ও সিফাতের ব্যাপারে মৌলিক নীতিমালা'তে বলা হয়েছে। অতএব যে কোন (শুদ্ধভাবে প্রমাণিত) ৯৯টি নাম মুখস্থ করলে উক্ত ফযীলত লাভ হবে ইন শাআল্লাহ। কুরআন মাজীদ ও সহীহ সুন্নাহ থেকে সেই নামাবলী নিম্নরূপঃ-