📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর 'ইসমে আ'যম'

📄 মহান আল্লাহর 'ইসমে আ'যম'


মহান আল্লাহর সুন্দর নামাবলীর মধ্যে একটি নাম আছে যেটি তাঁর ইসমে আ'যম (সবচেয়ে মহান নাম), যে নাম ধরে তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন; অর্থাৎ, সেই নাম নিয়ে দুআ করলে তিনি তা কবুল করেন।
কিন্তু তাঁর নামাবলীর মধ্যে কোন্ নামটি ইসমে আ'যম (সবচেয়ে মহান নাম), তা নিয়ে মতভেদ আছে।
১। অনেকে ধারণা রাখে যে, সে নাম কেবল আল্লাহর সেই ওলী জানেন, যাঁর কারামতী আছে।
অথচ এ ধারণা ভুল। যেহেতু মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর নামাবলী জানতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তা (অর্থসহ) জেনে যে দুআ ও যিক্র করবে, তার প্রশংসা করেছেন এবং তাকে বেহেশ্‍ দানের ওয়াদা দিয়েছেন, সেহেতু সে নাম এমন গুপ্ত হবে কেন?
২। মহান আল্লাহর সকল নামই ইসমে আ'যম। এর মধ্যে আযীম ও আ'যমের কোন পার্থক্য নেই।
৩। ইসমে আ'যম সেই নামাবলীর অন্তর্ভূ‍ত, যা মহান আল্লাহ নিজের গায়বী ইলমে গুপ্ত রেখেছেন; যেমন শবেকদর, জুমআর দিন দুআ কবুল হওয়ার নির্দিষ্ট সময়, মধ্যবর্তী নামায প্রভৃতি সম্পর্কে কোন স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।
৪। ইসমে আ'যম হল, 'হু' বা 'হুয়া'। যেহেতু বিরাট মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির নাম না নিয়ে আদবের সাথে 'হু' বা 'উনি'ই বলতে হয়। এ মত হল সুফীবাদীদের। এই জন্য তাদের একটি যিক্র হল ঐ 'হু' বা 'হুয়া' নামের। অথচ তা একটি বিদআত।
৫। ইসমে আ'যম হল, 'আল্লাহ'। কারণ এ নামই হল সা‍ত্ত্বিক আসল ও মূলনাম, অবশিষ্টগুলি গুণগত উপনাম।
৬। ইসমে আ'যম হল, 'আল্লাহুর রাহমানুর রাহীম'।
৭। ইসমে আ'যম হল, 'আরাহমানুর রাহীমুল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম'। যেহেতু সহীহ হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছে। (দেখুন সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪৬নং)
৮। ইসমে আ'যম হল, 'আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম'। এটিও একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (ইবনে মাজাহ, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪৬নং) তাছাড়া এ নাম মহান আল্লাহর প্রতিপালকত্বের মহৎ গুণাবলীর কথা ঘোষণা করে।
৯। ইসমে আ'যম হল, 'আল-মান্নান, বাদীউস সামাওয়াতি অল-আরয়ি যুল-জালালি অল-ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুম'। যেহেতু একটি সহীহ হাদীসে এটিকে ইসমে আ'যম বলা হয়েছে। (আবু দাউদ ১৪৯৫, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ৩৮৫৮, আহমাদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান)
১০। 'আল্লা-হু, লা ইলা-হা ইল্লা আন্তাল আহাদুস স্বামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ অলাম ইউলাদ, অলাম য়‍্যাকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।' এটিও ইসমে আ'যম বলে সহীহ হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে। (আবু দাউদ ১৪৯৩, তিরমিযী ৩৪৭৫, ইবনে মাজাহ ৩৮৭, আহমাদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান)
হাফেয ইবনে হাজার (রঃ) বলেন, এ বিষয়ে উল্লিখিত হাদীসের মধ্যে সনদের দিক দিয়ে এটিই সবচেয়ে বলিষ্ঠ। (ফাতহুল বারী ১৮/২১৫, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩৭৮)
১১। আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত আছে, ইসমে আ'যম হল, 'রাব্বি, রাব্বি'। (হাকেম, ইবনে আবিদ্দুনয়্যা)
১২। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)র অন্য এক বর্ণনায় আছে, 'মা-লিকুল মুল্ক'। কিন্তু বর্ণনাটি জাল। (সিলসিলাহ যয়ীফাহ ২৭৭২নং)
১৩। অন্য এক দুর্বল বর্ণনা মতে ইসমে আ'যম হল, দুআয়ে ইউনুস 'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুন্তু মিনায যা-লিমীন।' (নাসাঈ হাকেম সিলসিলাহ যদীসহ ২৭৭৫নং)
১৪। যাইনুল আবেদীন থেকে বর্ণিত ইসমে আ'যম হল, 'আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।'
১৫। কাযী ইয়াযের মতে ইসমে আ'যম হল, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।'
১৬। ইমাম যারকাশীর মতে তা হল, 'আল্লাহুম্মা'। তিনি বলেন, 'আল্লাহু' তাঁর সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করে, আর 'ম্মা' (মীম) বাকী সকল সিফাত (গুণাবলী)র প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। অনুরূপ বর্ণিত আছে ইমাম হাসান বাসরী ও নায়ুর বিন শুমাইল হতে।
১৭। ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)র মতে 'আলিফ-লাম-মীম' হল আল্লাহর ইসমে আযম। (ইবনে জারীর) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)র এক অন্য মতও তাই। (ইবনে আবী হাতেম)
১৮। এক যয়ীফ হাদীস মতে ইসমে আযম হল, সূরা হাশরের শেষ ৬টি আয়াত। (সিলসিলাহ যয়ীফাহ ২৭৭৩নং)

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তাঁর সকল নামই সুন্দর, সকল নামই মহান এবং ইসমে আ'যমও সেই সকলেরই অন্তর্ভূ‍ত। অতএব সঠিক কথা এই যে, যে একক নামে তাঁর সমস্ত সুন্দর ও পরিপূর্ণ গুণাবলী সন্নিবিষ্ট আছে, সেই নামই মহানতম নাম; আর তা হল 'আল্লাহ'।
অথবা যাতে আছে একাধিক নামের সমষ্টি এবং তাতে প্রধান প্রধান সত্তা ও কর্মগত বহু গুণাবলীর উল্লেখ আছে, সেই নামই হল ইসমে আ'যম।
অথবা যে নামের কথা সহীহ হাদীস দ্বারা সমর্থিত, সেই নামই ইসমে আ'যম। ভক্তের উচিত, ভক্তিভাজন আল্লাহর সেই নাম বেছে নিয়ে দুআ করা। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, অন্য নাম ধরে দুআ করা যাবে না। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, যয়ীফ বা জাল হাদীসে উল্লিখিত নাম দ্বারা অথবা কারো মনগড়া নাম দ্বারা তাঁকে ডাকা বৈধ নয়।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর নামাবলীর মাহাত্ম্য

📄 মহান আল্লাহর নামাবলীর মাহাত্ম্য


(وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا)
অর্থাৎ, আল্লাহর জন্যই যাবতীয় সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা সেই সব নাম ধরেই তাঁকে ডাক। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)

রসূল বলেন, ((إِنَّ اللَّهَ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ اسْمًا مَنْ حَفِظَهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ)).
অর্থাৎ, আল্লাহর এমন ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

((إِنَّ اللَّهَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ)).
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহর এমন এক কম একশ' ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা গণনা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী, মুসলিম ২৬৭৭নং)

উক্ত হাদীসে ৯৯টি নামের মাহাত্ম্য ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ সকল নামের অসীলায় বেহেস্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু শর্ত হলঃ-
১। তা মুখস্থ ও গণনা করতে (পড়তে) হবে।
২। তার অর্থ বুঝতে হবে।
৩। সেই অর্থের দাবী অনুযায়ী আমল করতে হবে। যেমন, যখন জানবেন যে, মহান আল্লাহর একটি নাম 'আর-রায্যাকু' এবং তার মানে রুযীদাতা, তখন এ কথা মানবেন যে, তিনিই আপনাকে রুযী দান করবেন। যখন জানবেন, তাঁর একটি নাম 'আল-অকীল' এবং তার মানে কর্মবিধায়ক, তখন আপনি তাঁরই উপর ভরসা করবেন। যখন জানবেন, তাঁর একটি নাম 'আর-রাক্বীব' এবং তার মানে পর্যবেক্ষক, তখন আপনি তাঁর দৃষ্টিকে ভয় করবেন ইত্যাদি।
৪। ঐ সকল নাম ধরে দুআ করতে হবে এবং তাতে বক্রতা বর্জন করতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (۱۸۰) سورة الأعراف
অর্থাৎ, উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা সে সব নামেই তাকে ডাকো। আর যারা তাঁর নাম সম্বন্ধে বক্রপথ অবলম্বন করে, তাদেরকে বর্জন কর, তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)

উক্ত হাদীস থেকে এ কথা বুঝা যায় না যে, আল্লাহর নাম কেবল ৯৯টি। বরং বুঝা যায় যে, তাঁর নামসমূহের মধ্যে ৯৯টি নাম এমন আছে, যা মুখস্থ ও গণনা করলে বেহেস্ত লাভ হবে।

মহান আল্লাহর নাম যে সীমিত নয়, সে কথা 'আসমা ও সিফাতের ব্যাপারে মৌলিক নীতিমালা'তে বলা হয়েছে। অতএব যে কোন (শুদ্ধভাবে প্রমাণিত) ৯৯টি নাম মুখস্থ করলে উক্ত ফযীলত লাভ হবে ইন শাআল্লাহ। কুরআন মাজীদ ও সহীহ সুন্নাহ থেকে সেই নামাবলী নিম্নরূপঃ-

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 অপ্রমাণিত নামাবলী

📄 অপ্রমাণিত নামাবলী


অপ্রমাণিত নামাবলী কিছু নাম আছে, যা আল্লাহর বলে প্রসিদ্ধ। অথবা তার কোন সহীহ দলীল নেই। অথবা তাঁর কোন কর্ম বা গুণ থেকে সে নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তা তাঁর নাম বলে (ইসমে ফায়েল বা সিফাত রূপে) কুরআন ও সুন্নাহর কোথাও বর্ণিত হয়নি। সেই শ্রেণীর কিছু নাম নিম্নরূপঃ-

البادئ (আল-বা-দি') এর অর্থ সৃষ্টির সূচনাকারী। তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন। মহান আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন, অতঃপর তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।' (সুরা রূম ১১ আয়াত) সৃষ্টির সূচনা করা তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু 'আল-বা-দি' বলে তাঁর নাম বর্ণিত হয়নি।

الباعث (আল-বা-ইস) এর অর্থ পুনরুত্থানকারী। মহান আল্লাহ মৃত্যুর পর সকলকে পুনর্জীবিত ও পুনরুত্থিত করবেন। তিনি বলেন, 'আর কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর অবশ্যই আল্লাহ কবরে যারা আছে তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।' (সূরা হাজ্জ ৭ আয়াত) মৃত্যুর পর জ্বিন-ইনসান ও পশুদেরকে পুনর্জীবিত করা তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু 'আল-বাইস' তাঁর নাম বলে উল্লিখিত হয়নি।

الباقي (আল-বা-ক্বী) এর অর্থ হল অবিনশ্বর। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, কেবল তিনিই অবশিষ্ট থাকবেন। তিনি বলেন, 'ভূ-পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সমস্তই নশ্বর। অবিনশ্বর শুধু তোমার মহিমময়, মহানুভব প্রতিপালকের মুখমন্ডল (সত্তা)।' (সুরা রাহমান ২৬-২৭ আয়াত) অনিশ্বর থাকা তাঁর সত্তাগত একটি গুণ। কিন্তু 'আল-বাক্বী' তাঁর নাম বলে প্রমাণিত নয়।

البديع (আল-বাদী') এর অর্থ হল উদ্ভাবনকর্তা। তিনি সবকিছুর উদ্ভাবনকর্তা, আকাশ-পৃথিবী সহ সকল বস্তু তিনিই উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, 'তিনি গগন ও ভুবনের উদ্ভাবনকর্তা এবং যখন তিনি কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন, 'হও' আর তা হয়ে যায়।' (সূরা বাক্বারাহ ১১৭ আয়াত) উদ্ভাবন করা তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু 'আল-বাদী' তাঁর নাম বলে প্রমাণিত নয়।

الْجَامِعُ (আল-জামে') এর অর্থ একত্রকারী, জমাকারী, সমাবেশকারী। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সকলকে হাশরের ময়দানে জমা করবেন। তিনি বলেন, 'হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি মানবজাতিকে একদিন একত্রে সমাবেশ করবে -- এতে কোন সন্দেহ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্ধারিত সময়ের ব্যতিক্রম করেন না।' (সূরা আলে ইমরান ৯ আয়াত) পরকালে সকলকে জমায়েত করা তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু 'আল-জামে' তাঁর নাম বলে প্রমাণিত নয়।

الْجَلِيل (আল-জালীল) এর অর্থ হল মহিমময়। নিঃসন্দেহে তিনি মহিমময়, তাঁর এক নাম ذُو الْجَلَالِ وَالإِكْرَامِ (যুল জালা-লি অল ইকরা-ম)। কিন্তু 'আল-জালীল' বলে তাঁর নাম শুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।

الْحَفِيُّ (আল-হাফিয়্যু) এর অর্থ হল অনুগ্রহশীল। নিশ্চয় মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল। তিনি ইব্রাহীম-এর কথা উল্লেখ ক'রে বলেন, '(ইব্রাহীম তার পিতাকে) বলল, 'তোমার উপর সালাম; আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।' (সূরা মারয়্যাম ৪৭ আয়াত) অতএব অনুগ্রহশীল হওয়া তাঁর একটি গুণ। এ গুণ তাঁর নাম হিসাবে বর্ণিত হয়নি।

الْحَنَّانُ (আল-হান্নান) এর অর্থ মমতাময়। মহান আল্লাহ ইয়াহইয়া সম্পর্কে বলেছেন, 'আমার নিকট হতে মমতা ও পবিত্রতা।' (সূরা মারয়্যাম ১৩ আয়াত) বলা বাহুল্য, মমতাময় হওয়া তাঁর একটি গুণ। 'আল-হান্নান' নাম হিসাবে শুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়নি।

الْخَافِصُ (আল-খা-ফিয়) এর অর্থ নিম্নকারী। আল্লাহর রসুল বলেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ আয্যা অজাল্ল ঘুমান না এবং ঘুম তাঁর জন্য শোভনীয় নয়। তিনি তুলাদণ্ড নিম্ন করেন ও উত্তোলন করেন।' (মুসলিম ১৭৯নং) এটি তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু 'আল-খা-ফিযু' বলে তাঁর নাম প্রমাণিত নয়।

الخَلِيفَةُ (আল-খালীফাহ) এর মানে প্রতিনিধি। মহানবী সফরে বের হওয়ার সময় দুআতে বলতেন, 'আল্লাহ গো! তুমিই সফরের সাথী এবং পরিবারে প্রতিনিধিও।' (মুসলিম) এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহান আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু 'আল-খালীফাহ' তাঁর নাম রূপে বর্ণিত হয়নি।

الدائم (আদ-দাইম) এর অর্থ, চিরস্থায়ী, অনন্ত, অবিনশ্বর। মহান আল্লাহ অবিনশ্বর ও চিরস্থায়ী, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যে শব্দ সে গুণকে বুঝাবার জন্য তাঁর নাম হিসাবে কুরআন-হাদীসে ব্যবহৃত হয়নি, তা কল্পিতভাবে আল্লাহর নাম হয় কিভাবে? পক্ষান্তরে সমার্থবোধক তাঁর নাম রয়েছে 'আল-আ-খির'।

الدَّهْرُ (আদ-দাহর) এর মানে যুগ-যামানা, কাল। মহানবী বলেছেন, (আল্লাহ বলেন,) "আদম-সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়; বলে, 'হায়রে দুর্ভাগা যুগ!' সুতরাং তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই না বলে, 'হায়রে দুর্ভাগা যুগ!' কারণ, আমিই তো যুগ। রাত ও দিনকে আমিই আবর্তন ক'রে থাকি।" 'আদ্-দাহর' তাঁর নাম নয়। কারণ তিনিই 'দাহর'-এর আবর্তনকারী।

الذاري (আয-যারি') ذَرّاً এর অর্থ বিস্তৃত করা, ছড়িয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি ক'রে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এটি তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু ঐ ক্রিয়া থেকে কর্তা নির্ধারণ ক'রে তাঁর নাম দেওয়া বৈধ নয়।

الرافع (আর-রা-ফি') এর অর্থ উত্তোলনকারী। এটি তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু 'আর-রা-ফি' বলে তাঁর নাম প্রমাণিত নয়।

الرشيد (আর-রাশীদ) এর অর্থ বিজ্ঞ; যিনি সকল কাজ কারো মন্ত্রণা, পরামর্শ ও নির্দেশনা ছাড়াই সম্পন্ন করেন। এটি একটি তাঁর কর্মগত গুণ। তা বলে সেখান থেকে তাঁর নাম উৎপত্তি করা যায় না।

الستার (আস্-সাত্তার) এর অর্থ গোপনকারী। এটি 'আস-সিত্তীর'-এর প্রতিশব্দ। বলা বাহুল্য, তাঁর এক নাম 'আস-সিত্তীর' সহীহভাবে প্রমাণিত। পক্ষান্তরে 'আস্-সাত্তার' সহীহভাবে প্রমাণিত নয়।

الصاحব (আস্-স্বা-হিব) এর মানে সঙ্গী, সাথী। এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহান আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু 'আস্-স্নাহিব' তাঁর নাম রূপে বর্ণিত হয়নি।

الصادق (আস্-স্বাদিকু) এর অর্থ সত্যবাদী। সত্য বলা তাঁর একটি সুন্দর গুণ। তা বলে সেখান থেকে 'সত্যবাদী' (আস্- স্বাদিকু) তাঁর নাম উদ্ভাবন করা যায় না।

الصَّائِعُ (আস্-স্বানে') এর অর্থ শিল্পী, প্রস্তুতকারক, কারিগর। নিঃসন্দেহে তিনি একজন অনুপম কারিগর। কিন্তু 'আস্-স্বানে' তাঁর নাম নয়।

الصبুর (আস্-স্বাবুর) এর অর্থ বড় ধৈর্যশীল। ধৈর্য ধারণ করা মহান আল্লাহর একটি কর্মগত গুণ। তা বলে এখান থেকে তাঁর নাম 'আস্-স্বাবুর' উদ্ভাবন করা যায় না।

الضَّار (আয-যার) এর অর্থ ক্ষতিকারক, অপকারী, মন্দকারী। মহান আল্লাহর সকল কাজই হিকমতে পরিপূর্ণ। কিন্তু এখান থেকে তাঁর নাম 'আয-যার' নির্বাচন করা ভুল।

العَدْلُ (আল-আদল) এর মানে ন্যায়পরায়ণ। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ। কিন্তু এখান থেকে তাঁর নাম 'আল-আদল' উদ্ভাবন করা যায় না। যে নাম তিনি নিজে নেননি এবং তাঁর রসুল বলেননি, সে নাম আমি-আপনি রাখতে পারি না।

الْعَلامُ (আল-আল্লাম) এর অর্থ মহাজ্ঞানী, অতিজ্ঞানী। এর সম-অর্থের তাঁর নাম রয়েছে 'আল- আলীম'। কিন্তু 'আল-আল্লাম' তাঁর নাম বলে প্রমাণিত নয়।

الغافر (আল-গা-ফির) এর অর্থ ক্ষমাকারী, মার্জনাকারী। এর চাইতে অধিক ক্ষমাশীলতা বুঝাতে তাঁর নাম রয়েছে 'আল-গাফুর, আল-গাফ্ফার'। কিন্তু 'আল-গা-ফির' তাঁর নাম নয়।

الغالب (আল-গা-লিব) এর অর্থ বিজয়ী। নিশ্চয় তিনি বিজয়ী। এটি তাঁর কর্মগত একটি গুণ। কিন্তু তা থেকে 'আল-গা-লিব' তাঁর নাম নির্ধারণ করা যায় না।

الْفَاطর (আল-ফাত্বির) এর অর্থ সৃষ্টিকর্তা। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে, 'আকাশ ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা।' সুতরাং 'ফা-ত্বিরুস্ সামাওয়াতি অল-আর্য' তাঁর নাম হতে পারে। 'আল-ফাত্বির' তাঁর নাম নয়।

القديم (আল-ক্বাদীম) এর অর্থ প্রাচীন, আদি। এ অর্থের তাঁর নাম রয়েছে 'আল-আওয়াল।' তাঁর নাম 'আল-ক্বাদীম' কুরআন ও সুন্নাহর কোথাও উল্লেখ হয়নি।

الكاشف (আল-কাশেফ) এর অর্থ দূরকারী, মোচনকারী। মহান আল্লাহ বলেন, 'যদি আল্লাহ তোমাকে কোন কষ্টে নিপতিত করেন, তাহলে তিনি ছাড়া তার মোচনকারী আর কেউ নেই।' কিন্তু এখান থেকে 'আল-কাশেফ' তাঁর নাম নির্ধারণ করা যায় না।

الكافي (আল-কা-ফী) এর অর্থ যথেষ্ট, যথেষ্টকারী। মহান আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ কি তাঁর দাসের জন্য যথেষ্ট নন?' কিন্তু এ সকল শব্দ থেকে 'আল-কাফী' তাঁর নাম নির্ণয় করা যায় না।

الكفيل (আল-কাফীল) এর অর্থ যামিন। মহান আল্লাহ জীবের রুযীর যামিন। কিন্তু ব্যাপকভাবে তাঁর নাম 'আল-কাফীল' বলা হয়নি। সুতরাং এটি তাঁর নামাবলীতে শামিল করা ঠিক নয়।

الْمَاجِدُ (আল-মা-জিদ) এর অর্থ গৌরবময়। এ অর্থের তাঁর নাম আছে 'আল-মাজীদ'। পক্ষান্তরে 'আল-মা-জিদ' নামের হাদীস সহীহ নয়।

الْمَانِعُ (আল-মানে') এর অর্থ রোধকারী, বাধাদানকারী। কিন্তু এখান থেকে তাঁর 'আল-মানে' নাম নির্বাচন করা ভুল।

المبدئ (আল-মুবদি') এর অর্থ প্রথম সৃষ্টিকারী, অস্তিত্ব দানকারী। কিন্তু তাঁর এ ক্রিয়া থেকে কর্তা বের ক'রে তাঁর নাম 'আল-মুবদি' নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

المخصي (আল-মুহস্বী) এর অর্থ হিসাব যিনি রাখেন। এখান থেকে তাঁর নাম নির্ধারণ করা যায় না। কারণ তাঁর নাম প্রমাণ-সাপেক্ষ।

المحبي (আল-মুহয়ী) এর অর্থ জীবনদাতা। মুহয়িল মাওতা তাঁর একটি নাম হতে পারে, 'আল-মুহয়ী' তাঁর নাম নয়।

الْمُدَبَّرُ (আল-মুদাব্বির) এর অর্থ তদবীরকারী, পরিচালক। এটি তাঁর কর্মগত গুণ। কিন্তু এখান থেকে তাঁর নাম উদ্ভাবন করা যায় না।

مدل (আল-মুযিল্ল) এর অর্থ লাঞ্ছনাকারী, অপমানকারী। এ ক্রিয়া হতে তাঁর 'আল-মুযিল্ল' বা 'আল-মুইয্য' নাম নির্ধারণ করা সহীহ নয়। এ কথা মহাসত্য যে, মহান আল্লাহ চাইলে কেউ অপমানিত হতে পারে না।

الْمُسْتَعَانُ (আল-মুস্তাআন) এর অর্থ সাহায্যস্থল। এটি সীমাবদ্ধভাবে উল্লেখ হওয়ার কারণে ব্যাপকভাবে তা তাঁর নাম গণ্য করা ঠিক হবে না।

الطَّلِبُ (আল-মুত্তালিব) 'আল-মুত্ত্বালিব' মানে তলবকারী। এটি আল্লাহর নাম নয়।

الْمُعِزُّ (আল-মুইয্য) এর অর্থ সম্মানদাতা, ইয্যতদাতা। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ তা-ই। কিন্তু এটি তাঁর নাম হওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ ও সঠিক দলীল নেই।

الْمُعِيدُ (আল-মুঈদ) এর অর্থ পুনরাবর্তনকারী। এটি শুদ্ধভাবে আল্লাহর নাম বলে প্রমাণিত নয়।

الْمُعين (আল-মুঈন) এর অর্থ সাহায্যকারী, মদদদাতা। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী ও মদদদাতা। কিন্তু এটি তাঁর নাম নয়।

المগنی (আল-মুগনী) এর অর্থ মুখাপেক্ষিতা দূরকারী, অভাব দূরকারী, ধনদাতা। এ কাজ তাঁর কর্মগত একটি গুণ হলেও 'আল-মুগনী' বলে তাঁর নাম প্রমাণিত নয়।

الْمُغيث (আল-মুগীস) এর অর্থ কষ্ট দূরীকরণে সাহায্যকারী, বৃষ্টি বর্ষণকারী। কিন্তু এখান থেকে তাঁর নাম উদ্ভাবন করা যায় না।

الْمُقْسِط (আল-মুকুসিত্ব) এর অর্থ ন্যায়পরায়ণ। নিঃসন্দেহে তিনি ন্যায়পরায়ণ। কিন্তু এখান থেকে তাঁর 'আল-মুক্বসিত্ব' নাম মনোনয়ন করা বান্দার জন্য বৈধ নয়।

الْمَقْصُودُ (আল-মাকসুদ) এর অর্থ অভীষ্ট, ঈপ্সিত। কিন্তু 'আল-মাকসুদ' তাঁর নাম প্রমাণিত নয়।

المميت (আল-মুমীত) এর অর্থ মৃত্যুদানকারী, মরণদাতা। নিঃসন্দেহে জীবের জীবন-মরণ মহান আল্লাহর হাতে। কিন্তু 'আল-মুমীত' বলে তিনি নিজের নাম ঘোষণা করেননি।

الْمُنتقم (আল-মুস্তাক্কিম) এর অর্থ প্রতিশোধ গ্রহণকারী। সরাসরি 'আল-মুন্তাক্বিম' নাম তাঁর আছে বলে কুরআন-হাদীসের কোথাও উল্লেখ নেই। অবশ্য এই অর্থে 'যুনতিক্বাম'কে একটি নাম বলতে পারেন।

الْمُنْعم (আল-মুনইম) এর অর্থ নিয়ামতদাতা, অনুগ্রহকর্তা, পুরস্কারদাতা। কিন্তু তাঁর এই কর্মগত গুণ থেকে 'আল-মুনইম' নাম নির্ধারণ করা যায় না।

النَّافِعُ (আন-নাফে') এর অর্থ উপকারী। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ আমাদের উপকারী। কিন্তু তাঁর সে ক্রিয়া হতে কর্তা নির্ণয় ক'রে তাঁর নাম 'আন-নাফে' দেওয়া যায় না।

النُّورُ (আন-নূর) এর অর্থ জ্যোতি, আলো। এ কথা বিদিত যে, আল্লাহ আকাশ-পৃথিবীর জ্যোতি। কিন্তু তাঁর নাম 'আন-নূর' বলে কোথাও উল্লেখ হয়নি।

الهادي (আল-হাদী) এর অর্থ হিদায়াতকারী, সুপথপ্রদর্শনকারী। নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা-ই। তাঁর এই কর্মগত গুণ নির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু 'আল-হাদী' তাঁর নাম বলে বর্ণিত হয়নি।

الْوَاجِدُ (আল-ওয়াজিদ) এর অর্থ ধনী, অভাবমুক্ত। এ নাম কুরআন বা সহীহ হাদীসে নেই।

الواقي (আল-ওয়াক্বী) এর অর্থ পরিত্রাতা, রক্ষাকারী। নিশ্চয় মহান আল্লাহ বান্দাকে বিপদাপদ ও দোযখ থেকে বাঁচান। কিন্তু 'আল-ওয়াক্বী' বলে তাঁর নাম শুদ্ধ নয়।

الْوَالي (আল-ওয়ালী) এর অর্থ অভিভাবক। কিন্তু এ থেকে তাঁর ঐ নাম প্রমাণিত হয় না।

الْوَفِي (আল-অফী) এর অর্থ পূর্ণকারী, পালনকারী। কিন্তু এখান থেকে তাঁর 'আল-অফী' নাম প্রমাণিত হয় না।

ইবনে আব্বাসের এক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, 'কাফ-হা-য়্যা-আইন-স্বাদ', 'তা-হা', 'ত্বা-সীন', 'ত্বা-সীন-মীম', 'ইয়া-সীন, 'স্বা-দ', 'হা-মীম', 'ক্বা-ফ' প্রভৃতি মহান আল্লাহর এক একটি নাম। কিন্তু তা সহীহ নয়।

খুদা = খুদ আ। যিনি খোদ বা নিজে এসেছেন; স্বয়ম্ভু। এটি কোন বর্ণিত গুণও নয় এবং নামও নয়। সুতরাং এ নাম ধরে দুআ না করাই উচিত। যেমন গড, ঈশ্বর, ভগবান ইত্যাদি শব্দ দিয়ে কেউ মহান আল্লাহকে বুঝাতে চাইলেও মুসলিমদেরকে সেসব শব্দ ব্যবহার না করাই উচিত।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 আল্লাহর নামের তা'যীম

📄 আল্লাহর নামের তা'যীম


পরিচয়ে বস্তুর মাহাত্ম্যের বিকাশ ঘটে। ফুলের ভিতর যে মধু আছে, তা কেউ জানত না, যদি মৌমাছি তা আহরণ ক'রে মৌচাকে সংগ্রহ না করত। নিজের কথাই বলি, অনেক জায়গায় অনেক লোক আমার সাথে সালাম-মুসাফাহাহ করে না। কিন্তু পরিচয়ের পর নতুনভাবে সালাম ক'রে মুসাফাহার জন্য হাত বাড়ায়।

মহান আল্লাহর জন্য উত্তম উপমা। তাঁকে না চেনার ফলে অনেকে তাঁর যথার্থ তা'যীম করে না। না জানার ফলে রাজা ছেড়ে দারোয়ানের কাছে দান চায়। আল্লাহর যথার্থ পরিচয় জানা নেই বলেই তো লোকে তাঁর দরবার ছেড়ে তাঁর সৃষ্টি ও গোলামের দরবারে প্রার্থনা করে, মাথা লুটায়, নযর মানে, কুরবানী দেয়। অনেকে মানে না বলে তাঁর পবিত্রতা ও সম্মানকে মলিন করার অপচেষ্টা করে। মহান আল্লাহ বলেন, ওরা আল্লাহর যথোচিত কদর করেনি। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে তাঁর ডান হাতে গুটানো।

মহান আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহু আকবার। প্রভুর মান রক্ষা করা প্রত্যেক দাসের কর্তব্য। কোন রকমভাবেই যাতে তাঁর নাম-মান-সম্মান মলিন না হয় তার আপ্রাণ চেষ্টা রাখা প্রত্যেক দাস-দাসীর কর্তব্য। আল্লার নামে মিথ্যা কসম খাওয়া যাবে না। যারা খায়, তারা আসলে আল্লাহর নামকে নগণ্য ভাবে। আল্লাহর নামে হলফ ক'রে কোন ভাল কাজ বন্ধ করার সংকল্প করা বৈধ নয়। কসম খেলে তা রক্ষা করতে হবে। আর রক্ষা করতে না পারলে কাফফারা লাগবে। অনুরূপ আল্লাহর নামে কসম খেয়ে যাকে কিছু বলা হয়, তার উচিত, সেই নামের তা'যীম রক্ষা ক'রে তা বিশ্বাস করা।

আল্লাহর নামের তা'যীম করতে সেই নামের সাথে অন্য কাউকে 'এবং, 'ও' বা 'আর' লাগিয়ে কথা বলবেন না। যেমন 'আল্লাহ আর তুমি না থাকলে' ইত্যাদি বলে কথা বলবেন না। বলতে হলে 'অতঃপর' যোগে বলবেন। তাঁর নাম লেখার সময় অনেকে পাশাপাশি 'মুহাম্মাদ' লেখে। এতে কিন্তু আল্লাহর নামের তা'যীম লাঘব হয়ে যায়। কোথাও লিখতে হলে মহানবী ﷺ-এর মোহরের মত লিখতে হবে। উপরে 'আল্লাহ' এবং নিচে 'মুহাম্মাদ' লিখতে হবে।

মহানবী ﷺ বলেন, "কেউ আল্লাহর নাম নিয়ে চাইলে তাকে দাও।" "সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যার কাছে আল্লাহর দোহাই দিয়ে চাওয়া হয়, অথচ দেয় না।” মহান আল্লাহর তা'যীম আপনার মনে থাকলে আপনি কি আর মসজিদের অসম্মান করতে পারেন? ক্বিবলার দিকে কি থুথু ফেলতে পারেন? ক্বিবলার দিকে মুখ অথবা পিঠ ক'রে কি পেশাব-পায়খানা করতে পারেন? কুরআনের দিকে পা ক'রে কি বসতে পারেন? কুরআনের ছেঁড়া পাতা পড়ে থাকা দেখলে কি তা না তুলে থাকতে পারেন? মহান আল্লাহর নাম যেখানেই থাক, তার যথার্থ সম্মান করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।

কোন কোন দেহতত্ত্ববাদীদের মতে মানুষের উভয় হাতের আঙ্গুলগুলিতে নাকি আরবীতে ৯৯ শব্দ লেখা আছে। তা যদি সত্য হয়, তাহলে সেই আঙ্গুল দিয়ে কোন অপবিত্র জিনিস ধরা ও ছোঁয়া হারাম। কিন্তু ব্যাপারটা যে নিছক কষ্ট-কল্পনা তা বলাই বাহুল্য।

ফন্ট সাইজ
15px
17px