📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর দলীল বিষয়ক নীতিমালা

📄 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর দলীল বিষয়ক নীতিমালা


(১) কোন নাম বা গুণ কুরআন অথবা সহীহ হাদীসের প্রমাণ ছাড়া সাব্যস্ত করা যাবে না।
(২) নাম ও গুণ বিষয়ক শব্দের প্রকাশ্য অর্থই বুঝতে হবে; তার অপব্যাখ্যা করা যাবে না। শব্দ শুনতেই যে অর্থের প্রতি আমাদের মস্তিষ্ক দৌড় দেয়, তাই হল তার প্রকাশ্য অর্থ, তাই আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: 'হাত' মানে শক্তি বা কবজা ইত্যাদি প্রায় সব ভাষাতেই ব্যবহার হয়। কিন্তু সেটা তার আসল ও প্রকাশ্য অর্থ নয়, সেটা তার রূপক বা আলঙ্কারিক অর্থ। মহান আল্লাহর সিফাতের ব্যাপারে রূপক বা আলঙ্কারিক অর্থ গ্রহণ করা বৈধ হবে না।
(৩) নাম ও গুণ বিষয়ক শব্দের অর্থ এক হিসাবে আমাদের জানা। কিন্তু অন্য হিসাবে আমাদের অজানা। যেহেতু সে গুণের প্রকৃতত্ব ও কেমনত্ব আমাদের জ্ঞানের নাগালের বাইরে। মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ علمه إلا بما شاء (٢٥٥) سورة البقرة}
অর্থাৎ, যা তিনি ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। (সূরা বাক্বারাহ ২৫৫ আয়াত)
বলা বাহুল্য, যদি কেউ আপনাকে প্রশ্ন করে, 'আল্লাহ কোথায়?' আপনি বলুন, 'আকাশে।' যদি বলে, 'আল্লাহ কেমন?' আপনি বলুন, 'আল্লাহ কেমন তা তো বলা যাবে না। কারণ তিনি তাঁর কেমনত্বের কথা বলেননি; বরং বলেছেন, তাঁর মত কোন কিছুই নেই। আর মানুষের জ্ঞান তাঁর কেমনত্বের নাগাল পেতে পারে না।' যদি বলে, 'আল্লাহ কখন?' আপনি বলুন, 'আল্লাহই প্রথম, তাঁর পূর্বে কিছু নেই। আর তিনিই শেষ, তাঁর পরে কিছু নেই।' যদি বলে, 'আল্লাহ কয়জন?' তাহলে আপনি বলুন, 'আল্লাহ এক। আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি জন্ম দেননি, জন্ম নেনও নি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।'

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 মহান আল্লাহর কর্ম ও গুণাবলীর উপমা

📄 মহান আল্লাহর কর্ম ও গুণাবলীর উপমা


মহান আল্লাহর কোন সদৃশ নেই, কোন দৃষ্টান্ত নেই, তাঁর কোন উপমা নেই। তিনি অনুপম, নিরুপম, অতুলনীয়, নযীরবিহীন। তাঁর প্রত্যেক কর্ম ও গুণও তাই। মহান আল্লাহ বলেন,
{لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ (۱۱) سورة الشورى}
অর্থাৎ, কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা শূরা ১১ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
{فَلَا تَصْرِبُوا لله الأَمْثَالَ إِنَّ اللهَ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} (٧٤) سورة النحل}
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর সদৃশাবলী স্থির করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। (সূরা নাহল ৭৪ আয়াত)
যেমন, মুশরিকরা উদাহরণ দিয়ে থাকে যে, যদি রাজার সাথে সাক্ষাৎ করতে হয় বা তাঁর নিকট থেকে কোন কাজ নিতে হয়, তাহলে রাজার নিকট সরাসরি যাওয়া যায় না; বরং তাঁর নিকটতম লোকেদের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ করতে হয়, (উকিল ধরতে হয়,) তবেই রাজার নিকট পৌঁছনো সম্ভব হয়। অনুরূপ আল্লাহ অত্যন্ত মহান ও বিশাল রাজা। তাঁর নিকট পৌঁছনোর জন্য আমরা এই সব উপাস্যদের উপাসনা করি বা বুযুর্গদেরকে অসীলা ও মাধ্যমরূপে ব্যবহার করি।
মহান আল্লাহ এর উত্তরে বলেন, তোমরা আল্লাহকে নিজেদের উপর অনুমান করো না এবং তাঁর জন্য কোন উপমা, দৃষ্টান্ত বা সদৃশ পেশ করো না। কারণ তিনি অনুপম; তাঁর কোন উপমা নেই। তিনি একক; তাঁর কোন সদৃশ নেই। তারপর মানুষ রাজা না গায়বী খবর জানে, আর না সে সব সময় সবার নিকট উপস্থিত, না সে সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা যে, বিনা কোন মাধ্যমে প্রজাদের অবস্থা ও তাদের প্রয়োজন জানতে সক্ষম। অন্যথা মহান আল্লাহ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, দৃশ্য-অদৃশ্য প্রত্যেক বস্তুর খবর রাখেন। রাত্রির অন্ধকারে সংঘটিত কর্মও তিনি দেখতে পান। প্রত্যেকের অভাব-অভিযোগও জানতে-শুনতে সক্ষম। অতএব কিভাবে একজন পার্থিব রাজা ও শাসকের সাথে মহান রাজা আল্লাহর তুলনা ও সাদৃশ্য হতে পারে?
পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ বলেন,
{وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ المَثلُ الأَعْلَى فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الحكيم (۲۷) سورة الروم}
অর্থাৎ, আর তিনিই যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি পুনর্বার একে সৃষ্টি করবেন; এ তাঁর জন্য সহজ। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ গুণ (বা সর্বোৎকৃষ্ট উপমা) তাঁরই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা রুম ২৭ আয়াত)
অর্থাৎ, তাঁর প্রত্যেক গুণ সৃষ্টির গুণের তুলনায় মহত্তর। যেমন তাঁর জ্ঞান অপরিসীম, তাঁর শক্তি অতুলনীয়, তাঁর দানশীলতা দৃষ্টান্তবিহীন, অনুরূপ সকল গুণাবলী। অথবা এর অর্থ হল, তিনি শক্তিশালী, সৃষ্টিকর্তা, রুযীদাতা, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ইত্যাদি (তিনি সর্বগুণনিধি।) (ফাতহুল কাদীর)
অথবা নিকৃষ্ট উপমা বলতে ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা, আর উৎকৃষ্টতম উপমা বলতে সর্বতোমুখী পরিপূর্ণতা সর্বদিক দিয়ে আল্লাহর জন্যই। (ইবনে কাসীর)
সুতরাং সুন্দর উপমা দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর কোন কর্ম ইত্যাদি বুঝানো দূষণীয় নয়। উদাহরণ স্বরূপঃ-
যেমন বাতাস, কারেন্ট ইত্যাদি না দেখে বিশ্বাস করি, তেমনি আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করা যায়।
বাদশার সামনে একজন রক্ষীর মাথায় মুকুট দিলে, বাদশা যেমন রাগান্বিত হন, তেমনি আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে সিজদা করলে আল্লাহ রাগান্বিত হন।
একজন স্বামী যেমন স্ত্রীর পক্ষ থেকে তার প্রেমে শরীক পছন্দ করে না, মহান আল্লাহও তেমনি তাঁর ইবাদতে কোন শরীক পছন্দ করেন না।
এগুলি আসলে আল্লাহর উদাহরণ নয়; বরং তাঁকে না দেখে বিশ্বাস এবং তাঁর শির্ক অপছন্দ করা ও তাতে রাগান্বিত হওয়ার উদাহরণ। আর এ কথায় কোন সন্দেহ নেই যে, তাঁর রাগ বা অপছন্দনীয়তা কোন সৃষ্টির মত নয়। তাই এই শ্রেণীর উপমা বর্ণনা করতে গিয়ে উলামাগণ বলেন, 'আল্লাহর আছে সর্বোৎকৃষ্ট উপমা।'

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 মহান আল্লাহর 'ইসমে আ'যম'

📄 মহান আল্লাহর 'ইসমে আ'যম'


মহান আল্লাহর সুন্দর নামাবলীর মধ্যে একটি নাম আছে যেটি তাঁর ইসমে আ'যম (সবচেয়ে মহান নাম), যে নাম ধরে তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন; অর্থাৎ, সেই নাম নিয়ে দুআ করলে তিনি তা কবুল করেন।
কিন্তু তাঁর নামাবলীর মধ্যে কোন্ নামটি ইসমে আ'যম (সবচেয়ে মহান নাম), তা নিয়ে মতভেদ আছে।
১। অনেকে ধারণা রাখে যে, সে নাম কেবল আল্লাহর সেই ওলী জানেন, যাঁর কারামতী আছে।
অথচ এ ধারণা ভুল। যেহেতু মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর নামাবলী জানতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তা (অর্থসহ) জেনে যে দুআ ও যিক্র করবে, তার প্রশংসা করেছেন এবং তাকে বেহেশ্‍ দানের ওয়াদা দিয়েছেন, সেহেতু সে নাম এমন গুপ্ত হবে কেন?
২। মহান আল্লাহর সকল নামই ইসমে আ'যম। এর মধ্যে আযীম ও আ'যমের কোন পার্থক্য নেই।
৩। ইসমে আ'যম সেই নামাবলীর অন্তর্ভূ‍ত, যা মহান আল্লাহ নিজের গায়বী ইলমে গুপ্ত রেখেছেন; যেমন শবেকদর, জুমআর দিন দুআ কবুল হওয়ার নির্দিষ্ট সময়, মধ্যবর্তী নামায প্রভৃতি সম্পর্কে কোন স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।
৪। ইসমে আ'যম হল, 'হু' বা 'হুয়া'। যেহেতু বিরাট মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির নাম না নিয়ে আদবের সাথে 'হু' বা 'উনি'ই বলতে হয়। এ মত হল সুফীবাদীদের। এই জন্য তাদের একটি যিক্র হল ঐ 'হু' বা 'হুয়া' নামের। অথচ তা একটি বিদআত।
৫। ইসমে আ'যম হল, 'আল্লাহ'। কারণ এ নামই হল সা‍ত্ত্বিক আসল ও মূলনাম, অবশিষ্টগুলি গুণগত উপনাম।
৬। ইসমে আ'যম হল, 'আল্লাহুর রাহমানুর রাহীম'।
৭। ইসমে আ'যম হল, 'আরাহমানুর রাহীমুল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম'। যেহেতু সহীহ হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছে। (দেখুন সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪৬নং)
৮। ইসমে আ'যম হল, 'আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম'। এটিও একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (ইবনে মাজাহ, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪৬নং) তাছাড়া এ নাম মহান আল্লাহর প্রতিপালকত্বের মহৎ গুণাবলীর কথা ঘোষণা করে।
৯। ইসমে আ'যম হল, 'আল-মান্নান, বাদীউস সামাওয়াতি অল-আরয়ি যুল-জালালি অল-ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুম'। যেহেতু একটি সহীহ হাদীসে এটিকে ইসমে আ'যম বলা হয়েছে। (আবু দাউদ ১৪৯৫, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ৩৮৫৮, আহমাদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান)
১০। 'আল্লা-হু, লা ইলা-হা ইল্লা আন্তাল আহাদুস স্বামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ অলাম ইউলাদ, অলাম য়‍্যাকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।' এটিও ইসমে আ'যম বলে সহীহ হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে। (আবু দাউদ ১৪৯৩, তিরমিযী ৩৪৭৫, ইবনে মাজাহ ৩৮৭, আহমাদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান)
হাফেয ইবনে হাজার (রঃ) বলেন, এ বিষয়ে উল্লিখিত হাদীসের মধ্যে সনদের দিক দিয়ে এটিই সবচেয়ে বলিষ্ঠ। (ফাতহুল বারী ১৮/২১৫, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩৭৮)
১১। আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত আছে, ইসমে আ'যম হল, 'রাব্বি, রাব্বি'। (হাকেম, ইবনে আবিদ্দুনয়্যা)
১২। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)র অন্য এক বর্ণনায় আছে, 'মা-লিকুল মুল্ক'। কিন্তু বর্ণনাটি জাল। (সিলসিলাহ যয়ীফাহ ২৭৭২নং)
১৩। অন্য এক দুর্বল বর্ণনা মতে ইসমে আ'যম হল, দুআয়ে ইউনুস 'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুন্তু মিনায যা-লিমীন।' (নাসাঈ হাকেম সিলসিলাহ যদীসহ ২৭৭৫নং)
১৪। যাইনুল আবেদীন থেকে বর্ণিত ইসমে আ'যম হল, 'আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।'
১৫। কাযী ইয়াযের মতে ইসমে আ'যম হল, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।'
১৬। ইমাম যারকাশীর মতে তা হল, 'আল্লাহুম্মা'। তিনি বলেন, 'আল্লাহু' তাঁর সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করে, আর 'ম্মা' (মীম) বাকী সকল সিফাত (গুণাবলী)র প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। অনুরূপ বর্ণিত আছে ইমাম হাসান বাসরী ও নায়ুর বিন শুমাইল হতে।
১৭। ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)র মতে 'আলিফ-লাম-মীম' হল আল্লাহর ইসমে আযম। (ইবনে জারীর) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)র এক অন্য মতও তাই। (ইবনে আবী হাতেম)
১৮। এক যয়ীফ হাদীস মতে ইসমে আযম হল, সূরা হাশরের শেষ ৬টি আয়াত। (সিলসিলাহ যয়ীফাহ ২৭৭৩নং)

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তাঁর সকল নামই সুন্দর, সকল নামই মহান এবং ইসমে আ'যমও সেই সকলেরই অন্তর্ভূ‍ত। অতএব সঠিক কথা এই যে, যে একক নামে তাঁর সমস্ত সুন্দর ও পরিপূর্ণ গুণাবলী সন্নিবিষ্ট আছে, সেই নামই মহানতম নাম; আর তা হল 'আল্লাহ'।
অথবা যাতে আছে একাধিক নামের সমষ্টি এবং তাতে প্রধান প্রধান সত্তা ও কর্মগত বহু গুণাবলীর উল্লেখ আছে, সেই নামই হল ইসমে আ'যম।
অথবা যে নামের কথা সহীহ হাদীস দ্বারা সমর্থিত, সেই নামই ইসমে আ'যম। ভক্তের উচিত, ভক্তিভাজন আল্লাহর সেই নাম বেছে নিয়ে দুআ করা। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, অন্য নাম ধরে দুআ করা যাবে না। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, যয়ীফ বা জাল হাদীসে উল্লিখিত নাম দ্বারা অথবা কারো মনগড়া নাম দ্বারা তাঁকে ডাকা বৈধ নয়।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 মহান আল্লাহর নামাবলীর মাহাত্ম্য

📄 মহান আল্লাহর নামাবলীর মাহাত্ম্য


(وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا)
অর্থাৎ, আল্লাহর জন্যই যাবতীয় সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা সেই সব নাম ধরেই তাঁকে ডাক। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)

রসূল বলেন, ((إِنَّ اللَّهَ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ اسْمًا مَنْ حَفِظَهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ)).
অর্থাৎ, আল্লাহর এমন ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

((إِنَّ اللَّهَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ)).
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহর এমন এক কম একশ' ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা গণনা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী, মুসলিম ২৬৭৭নং)

উক্ত হাদীসে ৯৯টি নামের মাহাত্ম্য ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ সকল নামের অসীলায় বেহেস্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু শর্ত হলঃ-
১। তা মুখস্থ ও গণনা করতে (পড়তে) হবে।
২। তার অর্থ বুঝতে হবে।
৩। সেই অর্থের দাবী অনুযায়ী আমল করতে হবে। যেমন, যখন জানবেন যে, মহান আল্লাহর একটি নাম 'আর-রায্যাকু' এবং তার মানে রুযীদাতা, তখন এ কথা মানবেন যে, তিনিই আপনাকে রুযী দান করবেন। যখন জানবেন, তাঁর একটি নাম 'আল-অকীল' এবং তার মানে কর্মবিধায়ক, তখন আপনি তাঁরই উপর ভরসা করবেন। যখন জানবেন, তাঁর একটি নাম 'আর-রাক্বীব' এবং তার মানে পর্যবেক্ষক, তখন আপনি তাঁর দৃষ্টিকে ভয় করবেন ইত্যাদি।
৪। ঐ সকল নাম ধরে দুআ করতে হবে এবং তাতে বক্রতা বর্জন করতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (۱۸۰) سورة الأعراف
অর্থাৎ, উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা সে সব নামেই তাকে ডাকো। আর যারা তাঁর নাম সম্বন্ধে বক্রপথ অবলম্বন করে, তাদেরকে বর্জন কর, তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)

উক্ত হাদীস থেকে এ কথা বুঝা যায় না যে, আল্লাহর নাম কেবল ৯৯টি। বরং বুঝা যায় যে, তাঁর নামসমূহের মধ্যে ৯৯টি নাম এমন আছে, যা মুখস্থ ও গণনা করলে বেহেস্ত লাভ হবে।

মহান আল্লাহর নাম যে সীমিত নয়, সে কথা 'আসমা ও সিফাতের ব্যাপারে মৌলিক নীতিমালা'তে বলা হয়েছে। অতএব যে কোন (শুদ্ধভাবে প্রমাণিত) ৯৯টি নাম মুখস্থ করলে উক্ত ফযীলত লাভ হবে ইন শাআল্লাহ। কুরআন মাজীদ ও সহীহ সুন্নাহ থেকে সেই নামাবলী নিম্নরূপঃ-

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00