📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. وبعد:
সাবালক মানুষের উপর সর্বপ্রথম যে জিনিস ফরয হয়, তা হল ইল্ম, অতঃপর আমল, অতঃপর প্রচার এবং এই তিনে সবর। ইল্ম অনুসন্ধান করার ব্যাপারে কুরআন আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। মহান আল্লাহ বলেন,
{فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} (۱۹) سورة محمد
অর্থাৎ, জানো, শেখো ও শিক্ষা কর যে, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই। (সূরা মুহাম্মাদ ১৯ আয়াত)

কুরআন কারীমের প্রথম আদেশ ছিল 'পড়'। কিন্তু কোন্ বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করবেন? সর্বপ্রথম কোন বিষয় আপনার জানা ও পড়ার জন্য প্রাধান্য পাবে? নিশ্চয় যে জিনিস আপনার কাছে সবচেয়ে বড়, তা-ই আপনার কাছে সর্বপ্রথম শিক্ষণীয় হওয়া দরকার। আপনি বিশ্বাস করেন, 'আল্লাহু আকবার' (আল্লাহ সবার চেয়ে বড়), অতএব আল্লাহ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ আপনার কাছে সবার চেয়ে বেশী এবং সবার আগে প্রাধান্য পাওয়া প্রয়োজন। 'আল্লাহ' সম্বন্ধে জ্ঞান ঈমানের প্রথম রুকন। তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না হলে ঈমান সঠিক হয় না। আর ঈমান সঠিক না হলে হৃদয়ের জঞ্জাল দূর হয় না। আর তা না হলে তো বিপদ বটেই। মহান আল্লাহ বলেন,
{يَوْمَ لا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ (۸۸) إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْب سليم ) (۸۹) سورة الشعراء}
অর্থাৎ, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে কেবল সেই; যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হবে। (সূরা শুআরা ৮৮-৮৯ আয়াত)

মহান আল্লাহ ঈমানদারগণকে ঈমান আনার আদেশ দিয়ে বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِالله وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنزَلَ مِن قَبْلُ وَمَن يَكْفُرْ بِالله وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً بَعِيدًا} (١٣٦) سورة النساء
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহতে, তাঁর রসুলে, তিনি যে কিতাব তাঁর রসূলের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন তাতে এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে অবতীর্ণ করেছেন তাতে বিশ্বাস কর; আর যে কেউ আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসুলগণ এবং পরকালকে অবিশ্বাস করে, সে পথভ্রষ্ট হয়ে সুদূরে চলে যায়। (সূরা নিসা ১৩৬ আয়াত)

আর তাঁর প্রতি ঈমান আনার মৌলিক বিষয় হল তাঁর সত্তা, নামাবলী, গুণাবলী ও কর্মাবলী সম্বন্ধে সঠিক বিশ্বাস রাখা। এ পুস্তিকার অবতারণা এই গুরুত্বের কথা খেয়াল করেই। তাছাড়া যে জিনিসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য যত বেশী জানা যাবে, তত তার কদর বৃদ্ধি পাবে, তার প্রতি ভক্তি ও আগ্রহ বর্ধিত হবে। মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্বন্ধে মুসলিম ওয়াকিফ-হাল হলে অবশ্যই তার ঈমান বৃদ্ধি পাবে, তাঁর প্রতি তার ভক্তি ও আগ্রহ, আশা ও ভরসা, ভয় ও মান্যতা বর্ধিত হবে। যে আল্লাহর আমরা ইবাদত করি, যাঁকে আমরা আপদে-বিপদে আহবান করি, সেই আল্লাহর মা'রিফাত বড় মধুর জিনিস। মালেক বিন দীনার বলেন, 'দুনিয়াবাসীরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিল, অথচ তার মধ্যে সবচেয়ে ভাল জিনিসের স্বাদ ভক্ষণ করল না।' লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, 'হে আবু ইয়াহয়্যা! তা কি?' উত্তরে তিনি বললেন, 'আল্লাহ আয্যা অজাল্লার মা'রিফাত।' (হিলয়্যাহ, আবু নুআইম ২/৩৫৮)

মহান আল্লাহ তাঁর সুন্দর নামাবলী ধরে ডেকে দুআ ও প্রার্থনা করতে আদেশ করেছেন এবং মহানবী সুসংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর ৯৯টি নাম মুখস্থ রাখবে, সে বেহেশতে যাবে। মহান আল্লাহর নামাবলী অর্থসহ জানা থাকলে তার ফল ও পরিণাম বড় সুন্দর হয়। যেমন, ঈমানের মিষ্টতা পাওয়া যায়। আল্লাহর ইবাদতে বেশী মনোযোগ সৃষ্টি হয়। পদে পদে তাঁর জ্ঞান, দৃষ্টি ও আধিপত্যের কথা স্মরণ হলে তাঁর প্রতি ভয়, ভক্তি, তা'যীম ও ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। পাপকাজে পা বাড়াতে লজ্জাবোধ হয়। মহান আল্লাহর প্রতি সাক্ষাৎ-কামনা বাড়ে। তাঁর করুণা হতে নিরাশা দূর হয়। তাঁর প্রতি সুধারণা, ভরসা ও নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। মনের অহংকার ও ঔদ্ধত্য দূর হয়।

এ বই লেখার অন্য এক কারণ হল, এ বিষয়ে বই-পুস্তক কম, মুসলিমের চর্চাও কম। আর তফসীর ইত্যাদির নামে যা আছে, তার অধিকাংশ এ ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ অল-জামাআহর পরিপন্থী আকীদায় পরিপূর্ণ। উদাহরণ স্বরূপঃ-
"আল্লাহ আরশে আরূঢ় আছেন” অর্থাৎ, কুদরতের সিংহাসনে আরূঢ় হইয়া আছেন। (তফসীর মওলানা আকরাম খাঁ সুরা আ'রাফ ৫৪, ইউনুস ৩, রা'দ ২, তাহা ৫ আয়াত)
'আরশ' শব্দের শাব্দিক অর্থ ছাদবিশিষ্ট কিছু। সৃষ্টির ব্যাপার-বিষয়াদির পরিচালন-কেন্দ্রকে আল্লাহর 'আরশ' বলা হয়। (কোরআন শরীফ, মাওলানা মোবারক করীম জওহর ১০৭পৃঃ)
(আরশ মানে) সিংহাসন---আকাশ ও পৃথিবী জুড়ে অবস্থিত, যা বিশ্বাসীদের অন্তরে অবস্থিত---। (কোরআন শরীফ, ডক্টর ওসমান গনী ১১৫পৃঃ)

বুখারী শরীফের হাদীসকে অগ্রাহ্য ক'রে মহান আল্লাহর পদনালী সম্পর্কে মওলানা আকরাম খাঁ সাহেব লিখেছেন, 'এই পদের ব্যবহারিক তাৎপর্যের প্রতি লক্ষ্য না করিয়া এবং আরবী সাহিত্যের সর্ব্ববাদীসম্মত বাকধারাকে অগ্রাহ্য করিয়া, একদল লেখক উহার অর্থ করিয়াছেন:- "যেদিন আল্লাহর পায়ের পিণ্ডলিকাকে উন্মুক্ত করা হইবে।” কিন্তু ইহা আরবী ভাষার একটা ইডিয়ম। কোনও গুরুতর পরিস্থিতি উপস্থিত হইলে আরবরা ঐ ইডিয়মটা ব্যবহার করিয়া থাকে।' (তফসীর ৫/৫৮৭)

বলা বাহুল্য, সহীহ হাদীস অগ্রাহ্য ক'রে আক্কেল-ছুটানো বহু তফসীর তাঁর গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। অবশ্য তিনি তা আকলানী মযহাবধারী মু'তাযেলী, আশআরী ও জাহমী বিভিন্ন তফসীরকারদের নিকট থেকে নকল করেছেন। উক্ত পদনালীর অর্থে 'কঠিন সঙ্কট'-এর কথা শুধু তাঁর তফসীরেই নয়, বরং মওলানা মওদুদী, মুবারক করীম জওহর, ডঃ ওসমান গনী, আব্দুল মাতীন সালাফী প্রমুখ কর্তৃক অনূদিত ও সম্পাদিত কুরআন মাজীদেও ঐ একই কথা লিখা হয়েছে।

আমাদের দেশের মাদ্রাসা কোর্সে যে 'তফসীরে জালালাইন' পড়ানো হয়, তাতেই মহান আল্লাহর গুণাবলীর অপব্যাখ্যা করার রোগ ঢুকে আছে। উদাহরণ স্বরূপ দেখুনঃ-
মহান আল্লাহ বলেছেন, "তারা কি এরই প্রতীক্ষা করে যে, তাদের নিকট ফিরিশ্তা আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালক আসবেন কিংবা তোমার প্রতিপালকের কিছু নিদর্শন আসবে?” (সূরা আনআম ১৫৮ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'তোমার প্রতিপালক আসবেন: অর্থাৎ, তাঁর সেই নিদর্শন আসবে, যার দ্বারা কিয়ামত জানা যাবে।'

মহান আল্লাহ বলেছেন, "যখন তোমার প্রতিপালক আগমন করবেন আর সারিবদ্ধভাবে ফিরিস্তাগণও (সমুপস্থিত হবে)।” (সুরা ফাজর ২২ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'যখন তোমার প্রতিপালকের নির্দেশ আগমন করবে আর সারিবদ্ধভাবে ফিরিস্তাগণও (সমুপস্থিত হবে)।' (উক্ত দুই জায়গায় মহান আল্লাহর 'আগমন'কে অস্বীকার করা হয়েছে।)

মহান আল্লাহ বলেছেন, "বল, 'তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন।” (সূরা আলে ইমরান ৩১ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে সওয়াব দান করবেন।' (এখানে মহান আল্লাহর 'ভালবাসা'কে অস্বীকার করা হয়েছে।)

মহান আল্লাহ বলেছেন, "তবে জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না।” (ঐ ৩২)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে শাস্তি দেবেন।' (এখানে মহান আল্লাহর 'ভাল না বাসা' বা 'গযব'কে অস্বীকার করা হয়েছে।)

মহান আল্লাহ বলেছেন, "সৎবাক্য তাঁর দিকে আরোহণ করে।” (সূরা ফাত্বির ১০)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'সৎবাক্য তিনি জানেন।'

মহান আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা কি নিশ্চিত আছ যে, আকাশে যিনি রয়েছেন, তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন না?” (ঐ ১৬ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'তোমরা কি নিশ্চিত আছ যে, আকাশে যাঁর আধিপত্য ও ক্ষমতা রয়েছে, তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন না?' (উক্ত দুই আয়াতে মহান আল্লাহর 'ঊর্ধ্বে আকাশে থাকা'কে অস্বীকার করা হয়েছে।)

মহান আল্লাহ বলেছেন, "তোমার প্রতিপালক বললেন, 'হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোমাকে কে বাধা দিল?” (সূরা স্বাদ ৭৫ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমাকে কে বাধা দিল?'

মহান আল্লাহ বলেছেন, "কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে তাঁর ডান হাতে গুটানো।” (সুরা যুমার ৬৭ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তাঁর কবজায় (মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে) থাকবে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে তাঁর কুদরতে একত্রিত।'

মহান আল্লাহ বলেছেন, "মহা মহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে।” (সূরা মুলক ১ আয়াত)
তফসীরে বলা হয়েছে, 'মহা মহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর নিয়ন্ত্রণে।' (এ সকল আয়াতে মহান আল্লাহর 'হাত'কে অস্বীকার করা হয়েছে।)

এ ছাড়া আরো বহু সিফাতের 'তা'বীল' বা অপব্যাখ্যা করা হয়েছে উক্ত তফসীর-গ্রন্থে এবং বাইয়াবী ও কাশশাফ তফসীরেও, যা আমাদের দেশের আলেমগণ ছাত্র জীবন থেকেই রপ্ত ক'রে নেন। আর সেখান থেকে সমাজে সেই 'আক্বীদা' রাজ্য চালায়, যা আহলুস সুন্নাহ অল-জামাআতের নয়। বড় দুঃখের বিষয় যে, বিভিন্ন তফসীর গ্রন্থ ছাড়াও হাদীসের ব্যাখ্যা-গ্রন্থও এই সিফাতের অপব্যাখ্যার কাজে কম অংশ নেয়নি। ইবনে হাজার, নওবী প্রমুখ ইমামগণও মহান আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করতে গিয়ে সেই অপব্যাখ্যায় শামিল হয়ে গেছেন। আল্লাহ তাঁদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।

তারই ফলশ্রুতি স্বরূপ মহান আল্লাহর হাত-পা-চোখ ইত্যাদি শুনে অনেকে বলেন, "আল্লাহ কি মানুষের মতো নাকি? আল্লাহ আল্লাহর মতো। কোন মাখলুকের সঙ্গে তিনি তুলিত নন। চোখ ছাড়াই তিনি দেখেন, কান ছাড়াই তিনি শোনেন। আল্লাহর হাত আছে, আল্লাহর পা আছে, আল্লাহ জাহান্নামে পা রেখে জাহান্নামের পেট ভরাবেন, আল্লাহ আরশে সমাসীন হন, কুরসীতে পা রাখেন --- এ সব মানবীয় গুণাবলীর কথা শুধু মানুষকে বুঝানোর জন্য। ছোট্ট শিশুকে কি এম. এ. ক্লাশের অঙ্ক বুঝানো যায়? তাকে অঙ্ক বুঝাতে হলে নেমে আসতে হবে তার বৌদ্ধিক ধারণ ক্ষমতার স্তরে। বলতে হবে, 'একটা চকোলেটের সঙ্গে আর একটা চকোলেট দিলে দুটো চকোলেট হয়।' আল্লাহর অসীম জ্ঞানের তুলনায় মানুষের জ্ঞান তো 'ইল্লা ক্বালীল', শিশুর মতোও নয়। তাই মানুষের বৌদ্ধিক সীমানার স্তরে নেমে এসে, -- মানুষের অতি পরিচিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কথা উল্লেখপূর্বক আল্লাহর হাত-পা- বসা-শোনা-দেখা ইত্যাদির কথা বলা!"

সুবহানাহ! মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্বন্ধে এমন দুর্বল ঈমানের অবস্থা দর্শন ক'রে এই পুস্তিকা লিখিত হল। আশা করি এর দ্বারা তাঁর সম্পর্কে আকীদার অনেক ভুল দূরীভূত হবে। অনেকের ঈমান নবায়ন হবে। আর তা হলেই আমার শ্রম সার্থক হবে।
আল্লাহর কাছে দুআ, তিনি যেন আমাদের ঈমান নবায়ন করেন এবং তাঁর প্রতি সঠিক ঈমান রাখার তওফীক দান করেন। আমীন।

ইতি-- আব্দুল হামীদ মাদানী
আল-মাজমাআহ
২০/৭/২০০৯

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 মহান আল্লাহর নামাবলী সম্বন্ধে মৌলিক নীতিমালা

📄 মহান আল্লাহর নামাবলী সম্বন্ধে মৌলিক নীতিমালা


এ কথা বিদিত যে, মহান আল্লাহ যে সকল গুণে নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রসূল তাঁকে যে সকল বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, আমরা প্রকৃতার্থেই সেই সকল গুণ ও বিশেষণ তাঁর আছে বলে বিশ্বাস করব; তাতে কোন প্রকার হেরফের ঘটাব না, নিষ্ক্রিয় গুণ ধারণা করব না, তার কোন অপব্যাখ্যা করব না, তার কোন বাস্তবিক অথবা কাল্পনিক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করব না। যেহেতু তিনি তাঁর গুণাবলীতে ঠিক সেই রূপ, যে রূপ তিনি তাঁর সত্তায়। অর্থাৎ, সত্তায় যেমন তাঁর কোন নযীর নেই, তেমনি তাঁর গুণাবলীতেও তাঁর কোন নযীর নেই। তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর কোন দৃষ্টান্ত, সমকক্ষ, সমতুল্য, শরীক ও সদৃশ নেই।
{لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} (۱۱) سورة الشورى
অর্থাৎ, কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা শুরা ১১ আয়াত)

মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ব্যাপারে কিছু নিয়ম-নীতি আছে, ঈমান ঠিক রাখার জন্য সেগুলি মনে রাখা মু'মিনের খুবই প্রয়োজন। নচেৎ তাতে পদস্খলন ঘটতে পারে; যেমন অনেকের ঘটেছে। সেই নীতিমালা নিম্নরূপঃ-

১। মহান আল্লাহর সকল নামই সুন্দর; বরং সুন্দরতম। অর্থাৎ শেষ পর্যায়ের সুন্দর। যেহেতু তাতে আছে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী। তাতে কোন প্রকার কমি ও ত্রুটি নেই। মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে সে কথা চার জায়গায় ঘোষণা করেছেন,
{وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (۱۸۰) سورة الأعراف
অর্থাৎ, উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা সে সব নামেই তাকে ডাকো। আর যারা তাঁর নাম সম্বন্ধে বক্রপথ অবলম্বন করে, তাদেরকে বর্জন কর, তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে। (সুরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)

{قُلِ ادْعُوا اللهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيَّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى} (۱۱۰)
অর্থাৎ, বল, তোমরা 'আল্লাহ' নামে আহবান কর অথবা 'রহমান' নামে আহবান কর, তোমরা যে নামেই আহবান কর, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামাবলী। (সূরা বানী ইসরাঈল ১১০ আয়াত)

{اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى} (۸) سورة طـــه
অর্থাৎ, আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই, সমস্ত উত্তম নাম তাঁরই। (সূরা ত্বাহা ৮ আয়াত)

{هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى} (٢٤) سورة الحشر
অর্থাৎ, তিনিই আল্লাহ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, রূপদাতা। সকল উত্তম নাম তাঁরই। (সুরা হাশ্র ২৪ আয়াত)

২। মহান আল্লাহর নামসমূহ নামও এবং গুণও। পক্ষান্তরে মানুষের নাম কেবল তার নামই, গুণ নয়। যেমন যার নাম আলীম, সে জাহেল হতে পারে। হুদা নামের লোক বেহুদা, আমীন নামের লোক খিয়ানতকারী, জামীল নামের লোক কুৎসিত হতে পারে। কিন্তু মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে তা নয়। তাঁর ক্ষেত্রে নামের যে অর্থ পাওয়া যায়, তিনি তাই। তাঁর প্রত্যেক নাম সার্থক।

৩। মহান আল্লাহর নাম যদি সকর্মক গুণাবলী নির্দেশ করে, তাহলে তাতে তিনটি বিষয় সাব্যস্ত হবে:-
(ক) সে নাম আল্লাহর, তা বিশ্বাস করতে হবে।
(খ) সে গুণ তাঁর আছে, তাও মানতে হবে।
(গ) সে অর্থের নির্দেশ ও দাবী বিশ্বাস করতে হবে।
যেমন, 'আস-সামী' মহান আল্লাহর একটি নাম। 'শোনা' তাঁর কর্মগত একটি গুণ। আর তার দাবী হল, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার কথা তিনি শোনেন।

৪। আল্লাহর নাম তাঁর গুণ বুঝাবে সামগ্রিক অর্থে, আংশিক অর্থে অথবা অনিবার্য অর্থে। যেমন, 'আল-খালিকু' তাঁর নাম। সামগ্রিক অর্থে আল্লাহকেই সৃষ্টিকর্তা বুঝায়। তিনি যে সৃষ্টি করেন, সামগ্রিক অর্থে সে গুণের কথাও বুঝায়। কেবল সত্তা অথবা গুণ বুঝায় আংশিক অর্থে এবং তাঁর জ্ঞান ও মহাশক্তির কথা বুঝায় অনিবার্য অর্থে।

৫। মহান আল্লাহর নাম (সহীহ) দলীল-সাপেক্ষ। জ্ঞান বা অনুমিতি দ্বারা কোন নাম নির্ধারণ করা যাবে না। যেহেতু মহান আল্লাহ কোন্ নামের উপযুক্ত, তা কারো জ্ঞান নির্ধারণ করতে পারে না। আর মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولئِكَ كَانَ عَنْهُ مسؤولا} (٣٦) سورة الإسراء
অর্থাৎ, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৬ আয়াত)

{قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللهِ مَا لَمْ يُنَزِّلُ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (۳۳)
অর্থাৎ, বল, 'আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, পাপাচারকে ও অসংগত বিদ্রোহকে এবং কোন কিছুকে আল্লাহর অংশী করাকে, যার কোন দলীল তিনি প্রেরণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলাকে (নিষিদ্ধ করেছেন), যে সম্পর্কে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই।' (সুরা আ'রাফ ৩৩ আয়াত)
অনুরূপ তাঁর কোন গুণ বা কর্ম থেকে তাঁর নাম নির্ধারণ করা যাবে না। যেমন কোন যয়ীফ বা জাল হাদীস দ্বারাও কোন নাম প্রমাণিত হবে না।

৬। মহান আল্লাহর নাম কোন নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। যেহেতু মহানবী তাঁর দুআয় বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قضاءكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتُهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَداً منْ خَلْقِكَ، أو استأثرت به في عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي وَجَلَاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي.
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিঃসন্দেহে আমি তোমার দাস, তোমার দাসের পুত্র ও তোমার দাসীর পুত্র, আমার ললাটের কেশগুচ্ছ তোমার হাতে। তোমার বিচার আমার জীবনে বহাল। তোমার মীমাংসা আমার ভাগ্যলিপিতে ন্যায়সঙ্গত। আমি তোমার নিকট তোমার প্রত্যেক সেই নামের অসীলায় প্রার্থনা করছি---যে নাম তুমি নিজে নিয়েছ। অথবা তুমি তোমার গ্রন্থে অবতীর্ণ করেছ, অথবা তোমার সৃষ্টির মধ্যে কাউকে তা শিখিয়েছ, অথবা তুমি তোমার গায়বী ইলমে নিজের নিকট গোপন রেখেছ, তুমি কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত কর, আমার বক্ষের জ্যোতি কর, আমার দুশ্চিন্তা দূর করার এবং আমার উদ্বেগ চলে যাওয়ার কারণ বানিয়ে দাও। (মুসনাদে আহমদ ১/৩৯১)

তিনি আরো বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহর এমন ৯৯টি নাম রয়েছে, যে কেউ তা (দুআতে) গণনা করবে (বা মুখস্ত ক'রে তার অর্থ ও দাবী অনুযায়ী আমল করবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারী, মুসলিম ২৬৭৭নং) এ হাদীস এ কথা বুঝায় না যে, তাঁর ৯৯টিই নাম আছে। বরং বুঝায় যে, তাঁর অনেক নাম আছে। কিন্তু তার মধ্যে ৯৯টি নাম এমন আছে, যে কেউ......। তা না হলে বাক্যটি এরূপ হত, "নিশ্চয় আল্লাহর নাম ৯৯টি...." বুঝা গেল যে, তাঁর নামাবলী নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

৭। মহান আল্লাহর নামে বক্রপথ অবলম্বন করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (۱۸۰) سورة الأعراف
অর্থাৎ, উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা সে সব নামেই তাকে ডাকো। আর যারা তাঁর নাম সম্বন্ধে বক্রপথ অবলম্বন করে, তাদেরকে বর্জন কর, তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে। (সূরা আ'রাফ ১৮০ আয়াত)
তাঁর নামে বক্রপথ অবলম্বন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে:-
(ক) আল্লাহর কোন নামকে অস্বীকার করা। অথবা সেই নামের অর্থ যে গুণ বুঝায় তা অস্বীকার করা। অথবা তার নির্দেশ ও দাবী অস্বীকার করা। যেমন হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি লেখার সময় কাফেররা 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম' নামকে অস্বীকার করেছিল। মু'তাযিলা প্রভৃতি ফির্কার লোকেরা বলে থাকে, আল্লাহ বিনা ইলমে 'আলীম'।
(খ) মহান আল্লাহর নামে যে গুণ পাওয়া যায়, তা কোন সৃষ্টির গুণের মত মনে করা। অথচ তিনি বলেন,
{لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البصير} (۱۱) سورة الشورى
অর্থাৎ, কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা শূরা ১১ আয়াত)
(গ) যে নাম আল্লাহ নেননি, মনগড়াভাবে তাঁর সেই নাম উদ্ভাবন করা। খুদা, জগৎ-পিতা, বিধাতা-পুরুষ ইত্যাদি।
(ঘ) তাঁর নাম থেকে বাতিল মা'বুদের নাম উদ্ভাবন করা। যেমন 'ইলাহ' থেকে 'লাত', 'আযীয' থেকে 'উয্যা' ইত্যাদি।

৮। শব্দের একই ধাতু থেকে উৎপত্তি একাধিক নামকে একই নাম মনে করা যাবে না। কারণ প্রত্যেক শব্দের পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য আছে এবং সেই হিসাবে প্রত্যেক নামের কিছু না কিছু পৃথক অর্থও আছে। যেমন, 'আল-ক্বা-দির, আল-ক্বাদীর, আল-মুকুতাদির এবং 'আল-আলী, আল-আ'লা, আল-মুতাআল' ইত্যাদি।

৯। বিপরীতার্থবোধক যুগ্ম নাম পৃথক পৃথক নাম গণ্য করা হবে। কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে একটি নামের মত ধরা হবে। যেমন 'আল-ক্বা-বিদ্ব---আল-বা-সিত্ব, আল-মুক্বাদ্দিম---আল-মুআখ্খির ইত্যাদি। এই শ্রেণীর নাম দ্বারা দুআ-যিক্র করলে একটি ছেড়ে অন্যটি দ্বারা করা যাবে না। যেহেতু তাতে সে নামের মাহাত্ম্য ও মহান আল্লাহর পূর্ণ প্রশংসা ফুটে উঠবে না।

১০। যে শব্দে মহান আল্লাহর গুণে কোন ত্রুটি প্রকাশ হয় না এমন শব্দ দিয়ে তাঁর গুণাবলী প্রকাশ করা দূষণীয় নয়। যেমন, 'আল-ক্বাদীম, ওয়াজিবুল অজুদ, ওয়াজিবুয যাত' ইত্যাদি। কিন্তু তা নাম গণ্য করা যাবে না।

১১। আল্লাহর সমস্ত নামাবলী আল্লাহর কালাম ও গুণ। তা সৃষ্ট নয়। সুতরাং তাঁর সকল নামের কসম খাওয়া যাবে।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 আল্লাহর নামে মানুষের নাম

📄 আল্লাহর নামে মানুষের নাম


মহান আল্লাহর নামের পূর্বে আব্দ, উবাইদ বা গোলাম যোগ ক'রে মানুষের নাম রাখা যাবে। কিন্তু সরাসরি আল্লাহর নাম কোন মানুষের নাম হতে পারে কি না?
যে নাম মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়, সে নাম কোন গায়রুল্লাহর রাখা বৈধ নয়। যেমন: 'আল্লাহ, আর-রাহমান, আল-খালিকু, আল-বারী, আল-ক্বাইয়্যুম' প্রভৃতি। (আলিফ-লামযুক্ত হোক অথবা না হোক।) যেহেতু এ সকল নাম কেবল তাঁরই জন্য খাস। সুতরাং 'আল্লাহ' কোন সৃষ্টির নাম হতে পারে না। তেমনি 'আর-রাহমান' বা রহমান কোন মানুষের নাম হতে পারে না। পূর্বে 'আব্দ' যোগে রাখলে তা ছেড়ে কেবল 'রহমান, খালেক, কাইয়্যুম' ইত্যাদি বলে ডাকা বৈধ নয়। বরং 'আব্দুর রহমান...' ইত্যাদি বলেই ডাকতে হবে।

আল্লাহর নাম বান্দার জন্য রেখে যদি তার আসল অর্থ উদ্দেশ্য হয়, তাহলে (আলিফ-লামযুক্ত হোক অথবা না হোক) তা বৈধ নয়। যেমন আল্লাহর নবী বিচারক এক সাহাবীর উপনাম 'আবুল হাকাম' পরিবর্তন ক'রে বলেছিলেন, "নিশ্চয় আল্লাহই 'হাকাম' (বিচারক), সকল বিচার-ফায়সালা তাঁরই।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকেম, ইবনে হিব্বান)

এ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে আল্লাহর নামে বান্দার নাম রাখায় দোষ নেই। অতএব 'রহীম, রউফ, করীম, আযীয, আলী, সাইয়েদ, মওলা, মালেক প্রভৃতি আল্লাহ ছাড়া কোন মানুষকে বলাতেও দোষ নেই। যেহেতু সেসব নামের অর্থগত সেই গুণ উদ্দেশ্য নয়, যা আল্লাহর নামে পাওয়া যায়। তাই তো সাহাবাদের মধ্যে অনেকের 'হাকীম, আলী' ইত্যাদি নাম ছিল। তাই তো মহান আল্লাহ নিজেকে 'আল-আযীয' বলেছেন এবং বলেছেন,
{قَالَتِ امْرَأَةُ الْعَزيز} (٥١) سورة يوسف
নিজেকে 'রাউফ-রাহীম' বলেছেন এবং নিজের নবীকেও তাই বলেছেন,
{لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رؤوفٌ رَّحِيمٌ} (۱۲۸) سورة التوبة
নিজেকে 'মওলা' বলেছেন এবং অপর সম্বন্ধেও তাই বলেছেন,
{وَضَرَبَ اللهُ مَثَلاً رَّجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَى مَوْلاهُ أَيْنَمَا يُوَجِّهَهُ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَمَن يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَهُوَ عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ } (٧٦) سورة النحل
{إِن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا وَإِن تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ} (٤) سورة التحريم
নিজের সম্বন্ধে বলেছেন 'আল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির' এবং মানুষের জন্যেও তাই বলেছেন,
{كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّر جَبَّارٍ} (٣٥) سورة غافر
বলাই বাহুল্য যে, "উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই"--এ কথার উদ্দেশ্য এই নয় যে, সে নাম আর কারো হতে পারে না। অবশ্য এ কথা সত্য যে, তাঁর নামের মত সেই সার্থক নাম কোন সৃষ্টির হতেই পারে না।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী > 📄 মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্বন্ধে মৌলিক নীতিমালা

📄 মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্বন্ধে মৌলিক নীতিমালা


মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্বন্ধেও নিয়ম-নীতি রয়েছে, যা মেনে না চললে পদস্খলন ঘটা স্বাভাবিক। যেমন:-
১। মহান আল্লাহর (ইতিবাচক ও নেতিবাচক) সমস্ত গুণাবলী প্রশংসনীয় ও ত্রুটিবিহীন। তাতে কোন প্রকার নিন্দা ও ত্রুটির লেশমাত্র থাকতে পারে না।
{لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ }
অর্থাৎ, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য নিকৃষ্ট উদাহরণ। আর আল্লাহর জন্য রয়েছে উৎকৃষ্টতম উদাহরণ এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নাহল ৬০ আয়াত) অর্থাৎ, তাঁর প্রত্যেক গুণ সৃষ্টির গুণের তুলনায় মহত্তর। যেমন তাঁর জ্ঞান অপরিসীম, তাঁর শক্তি অতুলনীয়, তাঁর দানশীলতা দৃষ্টান্তবিহীন, অনুরূপ সকল গুণাবলী। অথবা এর অর্থ হল, তিনি শক্তিশালী, সৃষ্টিকর্তা, রুযীদাতা, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ইত্যাদি (তিনি সর্বগুণনিধি।) (ফাতহুল কাদীর) অথবা নিকৃষ্ট উপমা বলতে ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা, আর উৎকৃষ্টতম উপমা বলতে সর্বতোমুখী পরিপূর্ণতা সর্বদিক দিয়ে আল্লাহর জন্যই। (ইবনে কাসীর)
পক্ষান্তরে যে গুণ কখনো কখনো নিন্দনীয়, তা মহান আল্লাহর শানে শোভনীয় নয়। অবশ্য প্রশংসনীয় অর্থে তা দোষাবহ নয়। যেমন, কৌশল, চক্রান্ত, ধোঁকা, উপহাস ইত্যাদি। এগুলি নিন্দনীয় হলেও, অপরের মুকাবিলায় অথবা প্রতিশোধে যখন তা করা হয়, তখন তা প্রশংসনীয় হয় এই জন্য যে, বিরোধীর মুকাবিলায় জয়ী হওয়া যায়। মহান আল্লাহর শানে এই শ্রেণীর গুণ প্রশংসনীয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। যেমন,
{وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ) (٥٤) سورة آل عمران}
অর্থাৎ, অতঃপর তারা ষড়যন্ত্র করল এবং আল্লাহও কৌশল প্রয়োগ করলেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী। (সূরা আলে ইমরান ৫৪ আয়াত)
{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاؤُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلاً) (١٤٢) سورة النساء}
অর্থাৎ, নিশ্চয় মুনাফিক (কপট) ব্যক্তিরা আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়। বস্তুতঃ তিনিও তাদেরকে প্রতারিত ক'রে থাকেন এবং যখন তারা নামাযে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে নিছক লোক-দেখানোর জন্য দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ ক'রে থাকে। (সূরা নিসা ১৪২ আয়াত)
{إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا} (١٥) وَأَكِيدُ كَيْدًا} (١٦) سورة الطارق}
অর্থাৎ, নিশ্চয় তারা ভীষণ চক্রান্ত করে। এবং আমিও ভীষণ কৌশল করি। (সূরা তারিকু ১৫-১৬ আয়াত)
{وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُونَ (١٤) اللهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ} (١٥)}
অর্থাৎ, যখন তারা বিশ্বাসিগণের সংস্পর্শে আসে, তখন বলে, 'আমরা বিশ্বাস করেছি।' আর যখন তারা নিভৃতে তাদের দলপতিগণের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, 'আমরা তো তোমাদের সাথেই রয়েছি; আমরা শুধু তাদের সাথে উপহাস ক'রে থাকি।' আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন, আর তাদের অবাধ্যতায় তাদেরকে বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াবার অবকাশ দেন।

২। মহান আল্লাহর নামাবলী অপেক্ষা গুণাবলী অনেক ব্যাপক। যেহেতু প্রত্যেক নামের মধ্যেই মহান আল্লাহর এক অথবা একাধিক গুণ আছে। তার উপর মহান আল্লাহর কর্মাবলীও এক একটি গুণ। তাঁর কর্মাবলীর কোন সীমা নেই, তেমনি তাঁর বাক্যাবলীরও কোন শেষ নেই। মহান আল্লাহ বলেন,
{وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِن شَجَرَةِ أَقْلَامُ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِن بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَّا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (۲۷) سورة لقمان}
অর্থাৎ, পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এ যে সমুদ্র এর সাথে যদি আরও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও আল্লাহর বাণী (লিখে) শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা লুকুমান ২৭ আয়াত)
মহান আল্লাহর কর্মগত গুণ যেমন: আসা, অবতরণ করা, গ্রহণ করা, নেওয়া, পাকড়াও করা, কষ্ট পাওয়া, হাসা, অবাক হওয়া, কথা বলা ইত্যাদি।

৩। মহান আল্লাহর গুণাবলী দুই শ্রেণীর; ইতিবাচক ও নেতিবাচক। ইতিবাচক গুণাবলী তা-ই, যা তিনি নিজের কিতাবে অথবা রসূলের মুখে 'আছে' বলে ব্যক্ত করেছেন। সে সকল গুণাবলী পরিপূর্ণ প্রশংসনীয় গুণ, তাতে কোন প্রকার ত্রুটি বা নিন্দার লেশমাত্র নেই। যেমন: তাঁর জীবন, জ্ঞান, শক্তি, আরশে আরোহণ, পৃথিবীর আকাশে অবতরণ, তাঁর মুখমণ্ডল, হাত ইত্যাদি।
এ সকল গুণ তাঁর প্রকৃতার্থেই তাঁর জন্য যেভাবে শোভনীয় সেইভাবে 'আছে' বলেই বিশ্বাস করতে হবে। যেহেতু এ বিশ্বাস আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যা নিজের জন্য 'আছে' বলেন, আমরা তাঁর জবাবে 'নেই' বলে এ কথা প্রকাশ করতে পারি না যে, 'আল্লাহ তুমি জান না, আমরা জানি, ঐ গুণ তোমার নেই। তোমার ঐ গুণ থাকতে পারে না; কারণ তা সৃষ্টির!'

৪। ইতিবাচক গুণাবলী প্রশংনীয় পরিপূর্ণতামূলক গুণ। সুতরাং সে গুণ যত বেশী হবে এবং তার অর্থ যত ভিন্ন হবে, তত মহান আল্লাহর প্রশংসা ও পরিপূর্ণতা প্রকাশ পাবে। এই জন্য তাঁর নেতিবাচক গুণাবলীর তুলনায় ইতিবাচক গুণাবলী অনেক অনেক বেশী।
মহান আল্লাহর নেতিবাচক গুণ তা-ই, যা তাঁর 'নেই' বলে খণ্ডন করা হয়েছে। আমাদেরকে তা 'নেই' বলেই বিশ্বাস করতে হবে এবং তাতেও মহান আল্লাহর প্রশংসা ও পরিপূর্ণতা ব্যক্ত হবে। যেমনঃ-
{لَيْسَ كَمِثْله شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البصير (۱۱) سورة الشورى}
অর্থাৎ, কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা শূরা ১১ আয়াত)
{اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} (٢٥٥) سورة البقرة}
অর্থাৎ, আল্লাহ! তিনি ব্যতীত অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। (সূরা বাক্বারাহ ২৫৫ আয়াত)
{وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِن لَّغُوبٍ}
অর্থাৎ, আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যস্থিত সব কিছু সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। (সূরা ক্বাফ ৩৮ আয়াত)
{قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ (1) اللهُ الصَّمَدُ (۲) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوا أَحَدٌ (٤)}
অর্থাৎ, বল, তিনিই আল্লাহ একক (অদ্বিতীয়)। আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারো সন্তান নন এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই। (সূরা ইখলাস)

৫। মহান আল্লাহর ইতিবাচক গুণাবলী দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়; সত্তাগত গুণ এবং কর্মগত গুণ।
(ক) সত্তাগত বা সাত্ত্বিক গুণে তিনি পূর্বে গুণান্বিত ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন। যেমন, জ্ঞান, শক্তি, সম্মান, প্রবলতা, মুখমণ্ডল, দুই হাত, দুই চোখ ইত্যাদি।
(খ) কর্মগত গুণ তাঁর ইচ্ছা ও এখতিয়ারভুক্ত। যেমনঃ কথা বলা, দেখা, শোনা, সৃষ্টি করা, হিদায়াত করা, রুযী দান করা, জীবন-মৃত্যু দান করা প্রভৃতি।

৬। মহান আল্লাহর গুণাবলীতে বিশ্বাস রাখার সময় তা কোন কাল্পনিক অথবা বাস্তবিক জিনিসের মত ভাবা যাবে না। কারণ তাঁর মত কোন কিছুই নেই; না বাস্তবে, না কল্পনায়। তিনি বলেন,
{لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البصير (۱۱) سورة الشورى}
অর্থাৎ, কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা শুরা ১১ আয়াত)
তার প্রকৃতত্ব জানার চেষ্টা করা বৃথা। যেহেতু যেমন মহান আল্লাহর সত্তা আমাদের জ্ঞানের বাইরে, তেমনি তাঁর সকল গুণাবলীর প্রকৃতত্বও আমাদের জ্ঞানের নাগালের বাইরে। তিনি বলেন,
{يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاء}
অর্থাৎ, তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে, তা তিনি অবগত আছেন। যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। (সুরা বাক্বারাহ ২৫৫ আয়াত)
{يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ به علما (۱۱۰) سورة طه}
অর্থাৎ, তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি অবগত। কিন্তু ওরা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না। (সূরা ত্বাহা ১১০ আয়াত)
{هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا (٦٥) سورة مريم}
অর্থাৎ, তুমি কি তাঁর সমনাম কাউকেও জান? (সূরা মারয়‍্যাম ৬৫ আয়াত)

৭। মহান আল্লাহর সকল গুণাবলী কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলীল-সাপেক্ষ। কারো জ্ঞান বা অনুমিতি দ্বারা তা প্রমাণ ও বর্ণনা করা যাবে না। সুতরাং যা আছে বলে প্রমাণিত, তা আমাদেরকে বিনা কৈফিয়তে বিশ্বাস করতে হবে, যা নেই বলে প্রমাণিত, তা নেই বলেই বিশ্বাস করতে হবে এবং যা 'আছে' অথবা 'নেই' কিছু বলে প্রমাণিত নেই অর্থাৎ, কুরআন-হাদীস যে গুণের ব্যাপারে চুপ আছে, আমাদেরকেও সে বিষয়ে চুপ থাকতে হবে। তার ব্যাপারে 'আছে' অথবা 'নেই' বলা যাবে না। যেমন, 'তিনি অসীম, তিনি সীমা-পরিধির উর্ধ্বে। তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সাজ-সরঞ্জাম নিরপেক্ষ। অন্যান্য সৃষ্ট বস্তুর ন্যায় ষষ্ঠ দিক তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না।' (আক্বীদাহ তাহাবিয়াহ)
অথচ আমরা জানি যে, মহান আল্লাহ উর্ধ্বে আছেন এবং তিনি আরশে আছেন। মহান আল্লাহ শোনেন, তাঁর السمع (শ্রবণশক্তি) আছে ---এ কথা প্রমাণিত; কিন্তু তাঁর الأذن (কান) আছে---এ কথা প্রমাণিত নয়। সুতরাং কান আছে কি না, তা বলা যাবে না। বলা যাবে না যে, তিনি কান দ্বারা শোনেন অথবা কান ছাড়া শোনেন। বরং এসব বিষয়ে বলতে হবে, আল্লাহই ভাল জানেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00