📄 আলোচনা
নিম্নলিখিত পর্যালোচনাগুলো আধুনিক নেতৃত্বের ধরন, যা মুহাম্মাদ (সা.)-এর নেতৃত্বের বিভিন্ন উপাদানকেও প্রতিফলিত করে- রূপান্তর ও কার্যসম্পাদনমূলক নেতৃত্ব: যুক্তিযুক্তভাবে নেতৃত্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সারাংশ হলো-রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব, যা অনুসারীদের মনোভাব, অনুপ্রেরণা ও আচরণের রূপান্তরকে প্রকাশ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস বার্নস বিশ্বাস করতেন-'নেতৃত্বের রূপান্তর শেষ পর্যন্ত নৈতিক হয়ে ওঠে এবং নেতৃত্ব ও নেতা উভয়ের মানবিক আচরণ ও নৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধি করে। এভাবে রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। নেতারা নিজেদের অনুগামীদের সাথে সুসম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। ফলে নেতা ও অনুসারীরা নিজেদের কাজে হবে আরও বেশি সক্রিয়। এতে নতুন অনুসারী বৃদ্ধি পাবে।'২৩৭
ইসমাইল নুর বলেন-'পরিবর্তন আবারও গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ইসলাম জীবনের সকল ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি এবং ব্যাপক প্রসারের কারণে মদিনার লোকদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল।'২৩৮
নেতৃত্বের আরেকটি শৈলী হলো-কার্যসম্পাদনমূলক নেতৃত্ব, যেখানে নেতা ও অনুসারীর মধ্যে বিনিময় জড়িত। এখানে নেতা কর্মক্ষমতার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) পবিত্র কুরআনের প্রতিফলন। তিনি সর্বদা তাঁর সাহাবিদের কাছে তুলে ধরেছেন-আল্লাহ তায়ালা এই পুরস্কার দুনিয়া ও পরকালের জীবনে বিশ্বাসীদের প্রদান করবেন। তিনি যুদ্ধের গনিমতও বিতরণ করেছিলেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মন জয় করতে পারেন। তিনি নতুন মুসলমানদের বেশি পুরস্কার দিয়েছিলেন। কার্যকর নেতারা রূপান্তর ও কার্যসম্পাদন উভয়টাতে সফল হন এবং অনুসারীদের প্রত্যাশার বাইরে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেন।২৩৯
সেবক, প্রামাণিক, আধ্যাত্মিক ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব : সেবক নেতারা তাদের দলের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়। সংযুক্ততার ধারণার ওপর ভিত্তি করে সেবক নেতৃত্বের চারটি কর্মবিধি তৈরি করা হয়েছে। যথা : নিজের আগে অন্যের সেবা; নিশ্চিতকরণের উপায় হিসেবে শোনা, বিশ্বাস তৈরি করা এবং অনুসারীদের গড়ে তোলা।২৪০
গার্ডনার ও তার সহকর্মীরা বলেন- 'প্রকৃত নেতা তারাই, যারা স্বচ্ছতা, বিশ্বাস, সততা এবং উচ্চ নৈতিক মান দ্বারা নেতৃত্ব দেন। আমরা এমন নেতাদের বলি প্রামাণিক নেতা। তারা কেবল নিজের প্রতিই সৎ নন, একইভাবে সততা অর্জনে সাহায্য করে অন্যদেরও নেতৃত্ব দেন।'২৪১
মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টায় দেখিয়েছেন-তিনি নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি/প্রামাণিক মানুষ ছিলেন।
নেতৃত্ববিশেষজ্ঞ লুই ফ্রাই বলেন-'আধ্যাত্মিকতা হলো ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে একটি।'২৪২
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রধান ভূমিকা ছিল মানবতার মধ্যে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রভুর অস্তিত্ব এবং তাদের অন্তর্নিহিত আত্মা (রুহ)-এর অস্তিত্বকে জাগ্রত করা। সর্বশক্তিমান আল্লাহকে নিরন্তর স্মরণ ও তাঁর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে কীভাবে আত্মার খোরাক সরবরাহ করা যায়, তা দেখানো এবং সর্বাবস্থায় তাঁকে খুশি করাও তাঁর ভূমিকার অন্যতম অংশ।
'গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব'; যা পূর্বে আলোচিত নেতৃত্বের শৈলীগুলোর সাথে যুক্ত। এর অর্থ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ চান।
উপসংহার নবিজির নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি নেতৃত্ববিষয়ক অনেকগুলো ইতিবাচক নেতৃত্বের শৈলীকে আলিঙ্গন করে। এই অধ্যায়ের আগে বর্ণিত নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যগুলোকে সর্বাধিক পরিমাণে উদাহরণ হিসেবে নবিজিকে তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং মুহাম্মাদ (সা.)-কে চূড়ান্ত নেতা হিসেবে চিহ্নিত করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। নেতৃত্ববিষয়ক লেখক আজমান হুসাইন, রোজহান উসমান ও তারেক আল সুওয়াইদানের মূল্যায়নের সাথে আমরা সম্পূর্ণ একমত। যারা বিশ্বাস করেন-'আধুনিক নেতৃত্বের অধ্যয়নের ভিত্তিতেও রাসূলুল্লাহ (সা.) নেতৃত্বের একক রোলমডেল হতে পারেন।'২৪৩
টিকাঃ
২৩৭ থমাস জে পিটার্স ও এইচি ওয়াটারম্যান জুনিয়র, In Search of Excellence : Lesson's from America's Best-Run Companies, pp. 82-83.
২৩৮ নুর, রাসূলুল্লাহর নেতৃত্ব, পৃ.-৬৮
২৩৯ জ্যাকসন ও প্যারি, পৃষ্ঠা ৩১
২৪০ Leadership Theory and Practice
২৪১ 'Can you see the real me? A self-based model of authentic leader and follower development', p.344.
২৪২ ফ্রাই এল, ডব্লিউ Towards a paradigm of spiritual leadership, p.619-622.
২৪৩ হুসাইন, উসমান ও আল সুওয়াইদান, নবি মুহাম্মাদ (সা.), পৃ.-২৬৮
নিম্নলিখিত পর্যালোচনাগুলো আধুনিক নেতৃত্বের ধরন, যা মুহাম্মাদ (সা.)-এর নেতৃত্বের বিভিন্ন উপাদানকেও প্রতিফলিত করে- রূপান্তর ও কার্যসম্পাদনমূলক নেতৃত্ব: যুক্তিযুক্তভাবে নেতৃত্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সারাংশ হলো-রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব, যা অনুসারীদের মনোভাব, অনুপ্রেরণা ও আচরণের রূপান্তরকে প্রকাশ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস বার্নস বিশ্বাস করতেন-'নেতৃত্বের রূপান্তর শেষ পর্যন্ত নৈতিক হয়ে ওঠে এবং নেতৃত্ব ও নেতা উভয়ের মানবিক আচরণ ও নৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধি করে। এভাবে রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। নেতারা নিজেদের অনুগামীদের সাথে সুসম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। ফলে নেতা ও অনুসারীরা নিজেদের কাজে হবে আরও বেশি সক্রিয়। এতে নতুন অনুসারী বৃদ্ধি পাবে।'২৩৭
ইসমাইল নুর বলেন-'পরিবর্তন আবারও গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ইসলাম জীবনের সকল ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি এবং ব্যাপক প্রসারের কারণে মদিনার লোকদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল।'২৩৮
নেতৃত্বের আরেকটি শৈলী হলো-কার্যসম্পাদনমূলক নেতৃত্ব, যেখানে নেতা ও অনুসারীর মধ্যে বিনিময় জড়িত। এখানে নেতা কর্মক্ষমতার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) পবিত্র কুরআনের প্রতিফলন। তিনি সর্বদা তাঁর সাহাবিদের কাছে তুলে ধরেছেন-আল্লাহ তায়ালা এই পুরস্কার দুনিয়া ও পরকালের জীবনে বিশ্বাসীদের প্রদান করবেন। তিনি যুদ্ধের গনিমতও বিতরণ করেছিলেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মন জয় করতে পারেন। তিনি নতুন মুসলমানদের বেশি পুরস্কার দিয়েছিলেন। কার্যকর নেতারা রূপান্তর ও কার্যসম্পাদন উভয়টাতে সফল হন এবং অনুসারীদের প্রত্যাশার বাইরে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেন।২৩৯
সেবক, প্রামাণিক, আধ্যাত্মিক ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব : সেবক নেতারা তাদের দলের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়। সংযুক্ততার ধারণার ওপর ভিত্তি করে সেবক নেতৃত্বের চারটি কর্মবিধি তৈরি করা হয়েছে। যথা : নিজের আগে অন্যের সেবা; নিশ্চিতকরণের উপায় হিসেবে শোনা, বিশ্বাস তৈরি করা এবং অনুসারীদের গড়ে তোলা।২৪০
গার্ডনার ও তার সহকর্মীরা বলেন- 'প্রকৃত নেতা তারাই, যারা স্বচ্ছতা, বিশ্বাস, সততা এবং উচ্চ নৈতিক মান দ্বারা নেতৃত্ব দেন। আমরা এমন নেতাদের বলি প্রামাণিক নেতা। তারা কেবল নিজের প্রতিই সৎ নন, একইভাবে সততা অর্জনে সাহায্য করে অন্যদেরও নেতৃত্ব দেন।'২৪১
মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টায় দেখিয়েছেন-তিনি নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি/প্রামাণিক মানুষ ছিলেন।
নেতৃত্ববিশেষজ্ঞ লুই ফ্রাই বলেন-'আধ্যাত্মিকতা হলো ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে একটি।'২৪২
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রধান ভূমিকা ছিল মানবতার মধ্যে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রভুর অস্তিত্ব এবং তাদের অন্তর্নিহিত আত্মা (রুহ)-এর অস্তিত্বকে জাগ্রত করা। সর্বশক্তিমান আল্লাহকে নিরন্তর স্মরণ ও তাঁর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে কীভাবে আত্মার খোরাক সরবরাহ করা যায়, তা দেখানো এবং সর্বাবস্থায় তাঁকে খুশি করাও তাঁর ভূমিকার অন্যতম অংশ।
'গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব'; যা পূর্বে আলোচিত নেতৃত্বের শৈলীগুলোর সাথে যুক্ত। এর অর্থ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ চান।
উপসংহার নবিজির নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি নেতৃত্ববিষয়ক অনেকগুলো ইতিবাচক নেতৃত্বের শৈলীকে আলিঙ্গন করে। এই অধ্যায়ের আগে বর্ণিত নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যগুলোকে সর্বাধিক পরিমাণে উদাহরণ হিসেবে নবিজিকে তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং মুহাম্মাদ (সা.)-কে চূড়ান্ত নেতা হিসেবে চিহ্নিত করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। নেতৃত্ববিষয়ক লেখক আজমান হুসাইন, রোজহান উসমান ও তারেক আল সুওয়াইদানের মূল্যায়নের সাথে আমরা সম্পূর্ণ একমত। যারা বিশ্বাস করেন-'আধুনিক নেতৃত্বের অধ্যয়নের ভিত্তিতেও রাসূলুল্লাহ (সা.) নেতৃত্বের একক রোলমডেল হতে পারেন।'২৪৩
টিকাঃ
২৩৭ থমাস জে পিটার্স ও এইচি ওয়াটারম্যান জুনিয়র, In Search of Excellence : Lesson's from America's Best-Run Companies, pp. 82-83.
২৩৮ নুর, রাসূলুল্লাহর নেতৃত্ব, পৃ.-৬৮
২৩৯ জ্যাকসন ও প্যারি, পৃষ্ঠা ৩১
২৪০ Leadership Theory and Practice
২৪১ 'Can you see the real me? A self-based model of authentic leader and follower development', p.344.
২৪২ ফ্রাই এল, ডব্লিউ Towards a paradigm of spiritual leadership, p.619-622.
২৪৩ হুসাইন, উসমান ও আল সুওয়াইদান, নবি মুহাম্মাদ (সা.), পৃ.-২৬৮