📄 বিশ্বাসযোগ্যতা ও সত্যবাদিতা
নীতিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের মূল উপাদান হলো-সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। বিশ্বস্ততা হলো সততার সমার্থক এবং নির্ভরযোগ্যতার সমর্থক সত্যবাদিতা। প্রশিক্ষকরা এগুলোকে নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন-
'সত্যবাদী হওয়া সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দেয় এবং এই গুণের মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।'১৬২
আমেরিকায় প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধ এই গুণাবলির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে-
'ক্রমবর্ধমানভাবে আমরা শুনে এসেছি-সফল নেতারা নিজস্ব মূল্যবোধ ও নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার চিত্রায়ণের জন্য, যা পূর্বের দশকে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্বস্ততা, সততা, আনুগত্য; এমনকি নির্ভরযোগ্যতার মতো গুণসমূহ নেতৃত্ব-সম্পর্কিত সাহিত্য, জার্নাল ও বইগুলোয় এখন আর অপ্রচলিত শব্দ হিসেবে পরিগণিত হয় না।'১৬৩
স্টিফেন কোভে অবশ্য ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি এসব গুণাবলির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন-'বিশ্বাস এমন এক জিনিস, যার উপস্থিতি বা অভাব যেকোনো সম্পর্কের সাফল্য বা ব্যর্থতার মূল। আর ব্যাবসা, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারের ক্ষেত্রে এর অনুপস্থিতি সবকিছুর ফলাফলকে নিম্নগামী করে।'১৬৪
বিশ্বাসযোগ্যতা : ইসলামে নেতৃত্ব একটি পবিত্র আমানত। তাই একজন মুসলিম নেতাকে অবশ্যই বিশ্বস্ত হতে হবে। মুহাম্মাদ (সা.)-কে একজন শত্রুও সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী ব্যক্তি হিসেবে অবলীলায় মেনে নিত। বাল্যকাল থেকেই তাঁর ডাকনাম ছিল 'আল আমিন'। আল্লাহ স্বয়ং কুরআনে ঘোষণা করেছেন-
'যাকে সেখানে মান্য করা হয় এবং সে বিশ্বস্ত।' সূরা তাকভির: ২১
তাফসিরকারকগণ মনে করেন-এই আয়াত মুহাম্মাদ (সা.)-এর দিকে ইঙ্গিত দেয়। কাবা পুনর্নির্মাণের সময় কালো পাথরটিকে তার জায়গায় কে রাখবে-এটা নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হলে তারা সিদ্ধান্ত নেয়-প্রথম যে ব্যক্তি কাবায় আসবেন, তিনি হবেন বিচারক। পরদিন যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রথম কাবাঘরে দেখা গেল। তারা বলল-'ইনি মুহাম্মাদ। বিশ্বস্ত এক মানুষ। আমরা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।'১৬৫
আল্লাহর রাসূল (সা.) যখন মক্কা থেকে হিজরত করেন, তখনও তাঁর কাছে অনেক নিপীড়কের জিনিসপত্র আমানত হিসেবে ছিল। তাঁর সততা কখনো আপস করেনি, যদিও এই ব্যক্তিরাই তাঁর সঙ্গীদের বহিষ্কার করেছিল এবং তিনি তাদের নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।
তিনি আলি (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন মক্কায় থাকার জন্য, যাতে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে থাকা সমস্ত আমানত ফেরত দিতে পারেন। মক্কায় এমন কেউ ছিল না (এমনকি তাঁর শত্রুরাও) যারা তাঁর কাছে এসে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমানত হিসেবে রাখেনি। কারণ, এই লোকগুলো তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততার পরিচিতি ছিল। এভাবে আলি (রা.) তিন দিন তিন রাত (রাসূল (সা.)-এর হিজরতের পর) আমানতগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অবস্থান করেছিলেন। ১৬৬
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন-
'যদি তুমি আমাকে তোমার পক্ষ থেকে ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমার জান্নাতের জিম্মাদার হব। কথা বলার সময় সত্য বলা, কাউকে প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখা, কারও কাছে আমানত রাখলে তা পূরণ করা, অনৈতিকতা এড়িয়ে চলা, দৃষ্টি অবনত রাখা এবং হাতকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা।'১৬৭
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন-
'যাকে আল্লাহ শাসন করার সুযোগ করে দিয়েছেন, সে যদি তা বিশ্বাসের সাথে না পালন করে, তবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।'১৬৮
সত্যবাদিতা : সত্যবাদিতা ধার্মিকতার দিকে নিয়ে যায় এবং ধার্মিকতা নিয়ে যায় জান্নাতের দিকে। মিথ্যা পাপাচার ও আগুনের দিকে নিয়ে যায়। একজন মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে, যতক্ষণ না তাকে আল্লাহ মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করেন। ১৬৯
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে গুরুতর শত্রুরাও তাঁর সত্যতা স্বীকার করেছিল। আলি (রা.) বলেন-
'আবু জাহেল নবিজিকে বলেছিল- “আমরা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছি না। আমরা বলছি-আপনি যা নিয়ে এসেছেন, তা মিথ্যা।” তারপর আল্লাহ আয়াত নাজিল করে বলেন-“তারা তো তোমাকে অস্বীকার করে না।” সূরা আনআম : ৩৩
বাইজেন্টাইন খ্রিষ্টান সম্রাট হিরাক্লিয়াস ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে নবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছ থেকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণসংবলিত একটি চিঠি পান। আবু সুফিয়ান মুহাম্মাদ (সা.)-এর বিরোধী কুরাইশ সর্দার। তিনি কাকতালীয়ভাবে একটি বাণিজ্য সফরে সেখানে গিয়েছিলেন। হিরাক্লিয়াস তাঁকে মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর দুটি প্রশ্ন ছিল প্রাসঙ্গিক। এই ব্যাপারটি নিয়ে আবু সুফিয়ান আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে বর্ণনা করেছেন-
'হিরাক্লিয়াস আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- “আপনি কি তাঁর (নবি হওয়ার) দাবি করার পূর্বে তাঁকে মিথ্যা বলার জন্য অভিযুক্ত করেছেন?” আমি উত্তর দিলাম-“না।”
হিরাক্লিয়াস জানতে চাইলেন-“তিনি (মুহাম্মাদ) আপনাকে কী করার জন্য আদেশ করেছেন?” আমি উত্তর দিলাম-“তিনি আমাদের নামাজ কায়েম করতে, সত্য কথা বলতে, পবিত্র হতে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এবং আমানত ফেরত দেওয়ার আদেশ দেন।" তারপর হিরাক্লিয়াস বললেন- “এগুলো সত্যিই একজন নবির গুণাবলি।”১৭০
কিছু বর্ণনা থেকে ধারণা করা হয়, হিরাক্লিয়াস তাঁর ধর্মীয় প্রধানের সাথে আলোচনা করার পরে স্বীকার করেন-মুহাম্মাদ (সা.) সেই নবি, যার কথা যিশু আগেই বলে গিয়েছেন। কিন্তু 'আমি আমার সাম্রাজ্য ত্যাগ করতে পারব না' বলে সেই ধর্ম গ্রহণ করতে আর রাজি হননি। ১৭১
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন-'হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছ থেকে যা শুনছি, তা কি লিখে নেব?' তিনি উত্তর দিলেন-'হ্যাঁ।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন-'তখনও, যখন আপনি খুশি ও রাগান্বিত হন?' নবি উত্তর দিলেন- 'হ্যাঁ, আমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কেবল সত্যই বলি। '১৭২
নবিজি সারাজীবনের উক্তি ও কর্মের (হাদিস) বিশাল সংগ্রহ লিপিবদ্ধ করা আছে, যা বিশ্বকে পড়তে এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি যা বলেছিলেন তা যে সত্য ছিল, এটি প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দেয়।
টিকাঃ
১৬২ পালমিসানো, নেতৃত্ব, পৃ. : ১৪২-১৪৩
১৬০ 'Spirituality in the workplace', Mining People International News, Edition 73 (January, 2012), pp.2-3
১৬৪ কাভারি, Principle-Centred Leadership, p.31
১৬৫ আশ-শিফা, ক্বাদি আইয়্যাদ, পৃ.-৬৯
১৬৬ মোহাম্মদ আল শিনাবি, 'How the Prophet Muhammad (pbuh) Rose above Enmity and Insult'
১৬৭ তিরমিজি: ১২৬০
১৬৮ বুখারি, বই ৯৩, হাদিস ১৪ (সুন্নাহ.কম, হাদিস ৭১৫০)
১৬৯ বুখারি: ৮১১৬
১৭০ বুখারি, ভলিয়ম ৩, বই ৪৮, হাদিস ৮৪৬
১৭১ হায়াতুস সাহাবা, পৃ. : ১৩৭-৩৯, কয়েকটি হাদিসের ওপর ভিত্তি করে
১৭২ ইবনে হাম্বল, আবু দাউদ ও আল হাকিম, আশ-শিফা, ক্বাদি আইয়্যাদ, পৃ.-৩০০
📄 ধৈর্য ও অধ্যবসায়
বিখ্যাত ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন- 'ইসলামে নেতৃত্ব অর্জিত হয় ধৈর্য ও বিশ্বাসের দৃঢ়তার মাধ্যমে।'১৭৩
কুরআনের বর্ণনানুসারে-
'আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নবি করেছিলাম, তাঁরা আমার আদেশ অনুযায়ী সৎপথপ্রদর্শন করত, যখন তাঁরা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তাঁরা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।' সূরা সাজদা: ২৪
আল্লাহ তায়ালা নেতাদের ও তাঁর সময়ের মানুষদের অনেক পরীক্ষা নেন। আল্লাহ বলেন-
'আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি প্রকাশ করে দিই তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদকারী ও ধৈর্যশীল এবং আমি তোমাদের কথা ও কাজ পরীক্ষা করে নেব।' সূরা মুহাম্মাদ: ৩১
'পরীক্ষা' শব্দটি নিয়ে ক্বাদি আইয়্যাদ তাঁর আশ-শিফা গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন-
'আল্লাহ নবিদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি ও মর্যাদা উন্নীত করার জন্য বিভিন্ন প্রকার কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। নবিগণের দুর্দশা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা অটলতা, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা, বশ্যতা, নির্ভরতা, অর্পণ, মিনতি, অনুনয়ে ব্যাকুল ও নমনীয় ছিলেন।
তাদের পরীক্ষা অন্যদের জন্য ছিল একটি সতর্কবাণী, যাতে লোকেরা কষ্টের মধ্যে নবিদের অনুসরণ করতে পারে। তাঁদের ওপর যে পরীক্ষাগুলো আসে, তাতে সান্ত্বনা পেতে পারে। আর অবিচলতার সাথে তাঁদের অনুকরণ করতে পারে। '১৭৪
রাসূলুল্লাহ (সা.) খুবই ধৈর্যশীল ছিলেন। আল্লাহ বলেন-
'অতএব, তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ করো।' সূরা মাআরিজ : ৫
শাইখ আয়েজ আল কারনি ব্যাখ্যা করে বলেন-
'রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধৈর্যশীল। যখন তিনি ধনী ছিলেন, তখন ছিলেন কৃতজ্ঞ। যখন দরিদ্র ছিলেন, তখনও তিনি ছিলেন কৃতজ্ঞ। কখনো কখনো রাসূল (সা.) এতটাই দরিদ্র ছিলেন, ক্ষুধা নিবারণের জন্য তাঁকে পেটে পাথর বাঁধতে হতো। তথাপি এমন কঠিন সময়ে তিনি ধৈর্য ধরেন এবং আল্লাহর আদেশে সন্তুষ্ট ছিলেন। যখন তিনি ধনী ছিলেন, তখন তিনি শত শত উট উপহার দিয়ে মানুষকে ইসলামের পরশে নিয়ে আসতেন।'১৭৫
নবিজি কঠিন কষ্টের সময়ও ধৈর্যের সর্বোচ্চ চূড়া প্রদর্শন করেছিলেন, আল্লাহর আদেশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। মক্কায় মুসলিমদের একটা ছোটো দল ব্যতীত প্রাথমিকভাবে সবাই তাঁর মিশন প্রত্যাখ্যান করছিল। তায়েফে তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারা হয়েছিল। মক্কা ও মদিনায় থাকাকালীন ক্ষুদ্র মুসলিম সম্প্রদায় প্রচণ্ড ক্ষুধা আর কষ্টে জর্জরিত ছিল।
তিনি তাঁর জীবদ্দশায় ফাতিমা ছাড়া বাকি ছয় সন্তানকে হারিয়েছিলেন। মদিনায় নতুন মুসলিম সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত অপ্রতিরোধ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। সব সময় তিনি ধৈর্য প্রদর্শন করতেন এবং প্রফুল্ল থাকতেন। তাঁর সফলতার অন্যতম কারণ ছিল দৃঢ়সংকল্প ও অটল-অবিচলতা।১৭৬
আরবি শব্দ 'সবর'-এর 'ধৈর্য' ছাড়াও আরেকটি নাম হলো 'অধ্যবসায়'। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের বিখ্যাত উক্তি হলো-
'অধ্যবসায় ও দৃঢ়সংকল্পই সর্বশক্তির মূল।'
নবিজির অধ্যবসায়ের একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কুরাইশরা আবু তালিবের কাছে নবিজি সম্পর্কে অভিযোগ করতে এসেছিল। বলেছিল-'হে আবু তালিব! আপনার ভাতিজা আমাদের মজলিশ ও উপাসনালয়ে আমাদের অপমান করে। আপনি তাঁকে আমাদের অপমান করা থেকে নিষেধ করুন।'
আবু তালিব তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন-'হে আমার ভাতিজা! তোমার চাচাতো ভাই দাবি করে, তুমি নাকি তাদের অপমান করছ। যদি করে থাকো, তাহলে এটা বন্ধ করো।' নবিজি আকাশের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলেন-'আপনি কি এই সূর্য দেখতে পাচ্ছেন?'
উত্তর দিলেন-'হ্যাঁ।'
তিনি বললেন-'আপনি তা থেকে একটি মশাল জ্বালাতে সক্ষম হলেও আমি ইসলামের দাওয়াত দেওয়া থেকে দূরে সরতে পারব না।' আবু তালিব তখন তাদের জানিয়ে দিলেন-'আমার ভাতিজা আমাকে মিথ্যা বলেনি। কাজেই ফিরে যাও (তাঁকে একা ছেড়ে দাও)।'১৭৭
এখানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে নবিজির দৃঢ়তা প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি সংগ্রাম ও সংগ্রামের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, যতক্ষণ না ইসলামের বাণী গোটা পৃথিবীতে উত্থাপিত হয় অথবা এই প্রচেষ্টারত অবস্থায় তিনি শহিদ হন। ১৭৮ তিনি আল্লাহর সত্য ধর্মকে সমুন্নত রাখার জন্য লড়াই করেছিলেন এবং তাঁর আত্মত্যাগের প্রভাব আজও পুরো পৃথিবীতে অনুভূত হচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষালাভ করতেন। তিনি বলেন-
'প্রকৃত মুমিন একই গর্ত থেকে দুইবার দংশিত হয় না।'১৭৯
টিকাঃ
১৭৩ আয়েজ আল কারনি, মানবতার রহমত, পৃ.-২৭১
১৭৪ আশ-শিফা, ক্বাদি আইয়্যাদ, পৃ.-৩৬৩
১৭৫ আল কারনি, মানবতার রহমত, পৃ.-৪২৮-৪২৯
১৭৬ আল কারনি, মানবতার রহমত, পৃ.-৫০৬
১৭৭ আয়েজ আল কারনি, মানবতার রহমত, পৃ.-৫০৬
১৭৮ আয়েজ আল কারনি, মানবতার রহমত, পৃ.-৫০৬-০৭
১৭৯ বুখারি: ১৫৪
📄 সঠিক সিদ্ধান্ত
নেতৃত্ববিষয়ক লেখকদের প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে একটি হলো-একজন নেতার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি এবং তা হতে হবে সময়োপযোগী। বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে একটি সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে অথবা কোম্পানি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আল্লাহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে কুরআনে বলেন-
'আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতঃপর যখন সংকল্প করবে, তখন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।' সূরা আলে ইমরান : ১৫৯
নবিজিকে এখানে উপদেশ দিয়েছেন—একবার অনুসারীদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটাকে বাস্তবায়ন করতে হতে হবে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।
উহুদের যুদ্ধের আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। আনসার নেতারা যখন বুঝতে পারলেন যুদ্ধের জন্য শহরের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নবির ইচ্ছার পরিপন্থি, তখন তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে পালটাতে চাইলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন—
'একবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মেনে চলা উচিত।'১৮০
নবিজির সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা থাকলেও পদ্ধতিকে তিনি মেনে চলেছেন এবং তা অনুসরণ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। একজন নেতাকে অনুসারীদের সাথে পরামর্শ করতে হয়। তারপর তাঁকে ইস্তেখারার মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশনা চেয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
টিকাঃ
১৮০ খালিক আহমাদ, Management from Islamic Perspective, Second edition pp.177-178.
📄 আশাবাদী, প্রফুল্ল ও আত্মবিশ্বাসী
আশাবাদকে অক্সফোর্ড অভিধানে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে—'কোনো কিছুর ভবিষ্যৎ সাফল্য সম্পর্কে আশাবাদিতা ও আত্মবিশ্বাস।'১৮১
সামগ্রিক নেতৃত্ব কাঠামোতে আশাবাদের কারণে একজন নেতা পরিপক্ব হবেন। তিনি তার মিশনের জন্য দূরদর্শী দৃষ্টি রাখতে এবং সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পাবেন।
লেখক সু ব্যারেট আশাবাদের অনেকগুলো সুবিধা চিহ্নিত করেছেন—
১. আশাবাদী মানুষ সাধারণত ভালো নেতা হয়। কারণ, আশাই তাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ফলে তারা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাতে পারে। যা স্বপ্নে দেখে, তার চিত্র সবার সামনে তুলে ধরে এবং মানুষের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়।
২. আশাবাদী মানুষরা একসঙ্গে অনেক ব্যবসা শুরু করতে পারে। কারণ, তারা যেখানে সুযোগ দেখে অন্যরা দেখে হতাশা এবং অনিশ্চয়তা।
৩. আশাবাদীদের উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, ১৫% নৈরাশ্যবাদীদের তুলনায় ৮৫% আশাবাদী মানুষকে তারা পাশে পায়।
৪. কোনো সমস্যা দেখলে আশাবাদীরা সেই সমস্যাটিকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, তারপর এগিয়ে যায়।
৫. আশাবাদ এবং দীর্ঘ জীবনযাপনের মধ্যে যোগসূত্র অনেক শক্তিশালী।১৮২
ওয়ারেন বেনিসের লেখা দ্য লিডারশিপ অ্যাডভান্টেজ প্রবন্ধে লিখেছেন—
'আশাবাদ হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যেটা মানুষ তাদের নেতাদের থেকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখে। আমি যে সকল আদর্শবাদী নেতাদের সাথে দেখা করেছি, তাদের কাছে আশাবাদিতাকে অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। অথচ এই আশাবাদ প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রতিশ্রুতি তৈরির মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।'১৮৩
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ডা. মার্টিন সেলিগম্যান তাঁর গবেষণায় দেখেছেন—
'আশাবাদ এমন একটি গুণ, যা সহজেই শেখা যায়। তিনি তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা আশাবাদী মানুষদের মধ্যে থাকে—
১. আশাবাদীরা প্রতিকূলতাকে অস্থায়ী ও বাহ্যিক হিসেবে দেখে।
২. হতাশাবাদীদের বিপরীতে আশাবাদীরা প্রতিকূলতাকে সহজে জয় করতে পারে।
৩. বিপত্তি, চ্যালেঞ্জ বা কঠিন কাজের মুখে আশাবাদীরা দিনদিন অধ্যবসায়ী হয়ে ওঠে।'১৮৪
ব্রুনা মার্টিনুজি পরামর্শ দিয়ে বলেন—'সফল ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনী পড়ে লোকেরা আশাবাদকে আয়ত্ত করতে পারে।'১৮৫
অন্যদিকে আমাদের পরামর্শ হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পড়া, যেখান থেকে যে কেউ অনুপ্রাণিত হতে পারে। মার্টিনুজি বলেন— 'আশাবাদীরা সাফল্যের জন্য তাদের কল্পনাকে ব্যবহার করে। তাঁরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ইতিবাচক দিকটি মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে রাখে।' একইভাবে নবি মুহাম্মাদ (সা.) প্রায়শই সফল ভবিষ্যৎ কল্পনা করতেন এবং সাহাবিদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য এই চিত্রগুলো তাঁদের কাছে তুলে ধরতেন। তিনি অযৌক্তিক আশাবাদী ছিলেন না; বরং যেগুলো ইতিবাচক ও সত্য, সেগুলোকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যধারণ করেছিলেন। ১৮৬
সিরাত অধ্যয়নে আমরা একটি ঘটনার বিবরণ বেশ ভালো দেখতে পাই। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খনন করার সময় একটি বিশাল পাথরকে কোনোভাবেই ভাঙ্গা যাচ্ছিল না। নবিজিকে খবর দিলে তিনি এসে সেখানে নামলেন। তারপর কুড়াল নিয়ে সজোরে বাড়ি দিলে তা ভেঙে যায়। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) খুশিতে ‘আল্লাহু আকবার’১৮৭ উচ্চারণ করে সবাইকে বললেন-'আমাকে সিরিয়ার দরজার চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি নিজ চোখে সেখানকার লাল প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি।' তারপর আরেকটি বাড়ি দিলেন। আবারও তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করে বললেন-'আমাকে পারস্যের চাবি দেওয়া হয়েছে। আমি মাদায়েনের সাদা প্রাসাদ দেখছি এখন।' তৃতীয়বারও তিনি আঘাত করে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করে বললেন-'আমাকে ইয়েমেনের চাবি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি সানার গেট দেখতে পাচ্ছি।'১৮৮
আবদুল হামিদ সিদ্দিকি বলেন, 'ইতিহাস বলে-রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়েছে। মুসলমানরা একতরফাভাবে বিজয়ী হয়েছে। আর প্রতিপক্ষরা একে একে ধসে পড়েছে গোড়া কেটে যাওয়া গাছের মতো। আর এটাই ছিল পরাশক্তি মুসলিমদের উত্থানের সময়।' ১৮৯
নবিজির জীবন থেকে আরেকটি উদাহরণ নেওয়া যেতে পারে। এটি হলো মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময়কার। ঘোষণা করা হলো-'যে-ই মুহাম্মাদকে এনে দিতে পারবে, ১০০ উট তার জন্য বরাদ্দ।' সুরাকা ইবনে মালেক খোঁজ পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন। কিন্তু তার ঘোড়া বারবার পড়ে যাচ্ছিল। কোনোভাবেই তিনি নবিজির সামনে যেতে পারছিলেন না। অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তিনি বুঝলেন-তাদের কেউ রক্ষা করছেন এবং তার সাথে যা ঘটছে, তা অলৌকিক ঘটনা।
তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন-'আমি জানি, আপনার ধর্ম সবদিকে ছড়িয়ে যাবে। আপনি আমাকে নিরাপত্তা দিন সেই দিনের, যেদিন আপনি হবেন অন্যদের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। আমি আপনার কাছ থেকে লিখিত নিরাপত্তা চাই।' রাসূল (সা.)-এর আদেশে আবু বকর (রা.) তাঁকে লিখিত দলিল দেন এবং অনুরোধ করেন, যাতে তিনি শত্রুদের বলে না দেন। ১৯০
যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন-'হে সুরাকা! কেমন হবে সেদিন, যেদিন তুমি কিসরার মুকুট পরবে?' এই কথা দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) যেন ইসলাম রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ারই ইঙ্গিত করলেন। সুরাকা ফিরে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় চলে এলেন। এই ঘটনাই বলে দেয়-রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আত্মবিশ্বাস কতটুকু ছিল। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন, আল্লাহ তাঁকে সফল করবেন। পরবর্তী সময়ে সুরাকা ইসলাম কবুল করেছিলেন।
নবিজির ইন্তেকালের পর উমর (রা.)-এর আমলে পারস্য বিজয় করা হয়। পারস্য থেকে মদিনায় নিয়ে আসা হলো সমস্ত গনিমতের মাল। উমর (রা.) সুরাকা (রা.)-কে ডেকে আনলেন। সবার সামনে তাঁর মাথায় পরালেন পারস্য সম্রাটের মুকুট। গায়ে পরালেন পোশাক এবং সোনাদানার অলংকার পরালেন হাতে। আর এর মধ্য দিয়ে নবিজির সেই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়ে গেল। সুরাকা (রা.) তাঁর বিনয়ের কারণে তা গ্রহণ না করে উমর (রা.)-কে বললেন, এসব যেন তিনি মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। ১৯১
আল্লাহ বলেন-
'আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না; তোমরাই বিজয়ী, যদি মুমিন হয়ে থাকো।' সূরা আলে ইমরান: ১৩৯
ইসলাম আশাবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার মহান জীবনব্যবস্থা। এই জীবনব্যবস্থা তার অনুসারীদের জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য ও সর্বোত্তম ফলাফলের আশা করতে উৎসাহিত করে। আর আশাবাদী মনোভাবের কারণে মুমিনের জীবনের সমস্ত ঘটনাই হয়ে ওঠে কল্যাণের উৎস। ১৯২ হাদিস থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়-
'মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। প্রতিটি কাজেই তার জন্য কল্যাণ রয়েছে। এটা মুমিন ব্যতীত অন্য কারও জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর দুঃখ এলে সে ধৈর্যধারণ করে। ফলে এটাও হয় তার জন্য কল্যাণকর।'১৯৩
আশাবাদিতা ছিল নবিজির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য, যা তাঁর মিশনের পরিপূর্ণতায় ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছিল। বহু বছর তিনি বড়ো রকমের সাফল্য ছাড়াই মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী প্রচার করে গিয়েছেন। তবুও আশাবাদী ছিলেন, ভবিষ্যতে সফলতা আসবেই। তিনি যখন দাওয়াতের কাজে তায়েফে যান এবং তায়েফবাসীর পাথর দ্বারা আহত হন, তখনও আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন-'পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো ইসলাম গ্রহণ করবে।'
মদিনায় হিজরত করেন এই বিশ্বাসে, মুহাজির ও আনসাররা মিলে একক সম্প্রদায় হিসেবে একীভূত হবে। তিনি আশা করেছিলেন-মদিনার মুনাফিকরা আলো দেখবে এবং সত্যিকারের ঈমান গ্রহণ ও মুসলিমদের ক্ষতি করা বন্ধ করবে। এই প্রতিটি ঘটনায় তিনি সঠিক প্রমাণিত হয়েছেন। এটা ছিল আল্লাহর প্রতি তাঁর আস্থা, আন্তরিকতা ও অপরিসীম পরিশ্রমের মিশ্রণ; যা তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী মানবে পরিণত করেছে। ১৯৪
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত প্রফুল্ল থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্য, উত্তম আচার-ব্যবহার এবং সকল প্রকৃতির মানুষের সাথে প্রফুল্লতা নিয়ে মেশার অনেক হাদিস আছে।১৯৫ ইবনে আবি হালা (রা.) তাঁকে নিয়ে বর্ণনা করেছেন-
'নম্রতা ছিল তাঁর স্বভাবের অন্যতম একটি বিশেষ গুণ। তাঁর মধ্যে আনন্দ লেগে থাকত এবং কখনোই খারাপ বা অভদ্রতার লক্ষণ ছিল না।'১৯৬
রাসূল (সা.) স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় হাসিমুখে প্রফুল্ল হয়ে দেখা দিতেন। তিনি তাঁর দীপ্তিময় ও মৃদু হাসি দিয়ে সুস্থ করে তুলতেন সাহাবিদের আত্মাকে। শত্রুদের মন জয় করার জন্য তিনি সব সময় তাঁদের সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে-
'আপনি আপনার সম্পদ দিয়ে মানুষের মন জয় করতে পারবেন না, কিন্তু আপনি হাসিখুশি চেহারা এবং সর্বোত্তম আচরণের মাধ্যমে তাদের হৃদয় জয় করতে পারবেন।'১৯৭
আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রা.) বলেন-
'রাসূল (সা.)-এর চেয়ে সবচেয়ে বেশি হাসিখুশি মানুষ আমি কখনো দেখিনি।'১৯৮
টিকাঃ
১৮১ Australian Pocket Oxford Dictionary, Sixth Edition
১৮২ স্যু বারেট Why purposeful optimism is great for business (July 23, 2018)
১৮৩ ব্রুনা মার্তিনুজ্জি Optimism : The Hidden Asset
১৮৪ মার্তিনুজ্জি Optimism : The Hidden Asset
১৮৫ মার্তিনুজ্জি Optimism: The Hidden Asset
१८६ জিনান ইউসুফ Seeing the World in a Different Way Part I (December 2, 2013)
১৮৭ আরবিতে-'আল্লাহু আকবার'
১৮৮ ফতহুল বারি, পৃষ্ঠা-৪০০
১৮৯ সিদ্দিকি, মুহাম্মদের জীবনী, পৃ -১০৯
১৯০ সাদুক আল মিনশাউই-উমার আল খাত্তাবের জীবনে থেকে ১০০টি ঘটনা
১৯১ আনওয়ার আল আওলাকি দ্বারা বর্ণিত। আরও দেখুন বুখারি, ভলিওম ৪, বই ৫৬, হাদিস: ৮১২; ভলিওম ৫, হাদিস: ২৪৫
১৯২ আম্মার আওয়াইস-ইসলামে আশাবাদ
১৯৩ মুসলিম : ২৯৯৯
১৯৪ আম্মার আওয়াইস-ইসলামে আশাবাদ
১৯৫ আশ-শিফা, ক্বাদি আইয়্যাদ, পৃ.-৬১
১৯৬ আশ-শিফা, ক্বাদি আইয়্যাদ, পৃ.-৬২
১৯৭ শুআবুল ইমান
১৯৮ তিরমিজি