📘 মুহাম্মাদ ﷺ দ্যা আল্টিমেট লিডার > 📄 রাসূল (সা.)-এর বংশ তালিকা

📄 রাসূল (সা.)-এর বংশ তালিকা


কুরাইশ (ফিহর ইবনে মালেক)
হারিস মাহারিব গালিব তিম খালজ (জন্ম: ২৪১ খ্রি.) 1 লুওয়াই (জন্ম: ২৭৪ খ্রি.)
আদি কাব (জন্ম: ৩০৭ খ্রি.) (উমর (রা.)-এর পূর্বপুরুষ) 1 মুররাহ (জন্ম: ৩৪০ খ্রি.) তাইম 1 (আবু বকর (রা.)-এর পূর্বপুরুষ) কিলাব (জন্ম: ৩৭৩ খ্রি.) 1 কুসাই (জন্ম: ৪০০ খ্রি.)
আবদে উজ্জা আবদে দার আবদে মানাফ (জন্ম: ৪৩০ খ্রি.)
মুত্তালিব হাশিম আবদে শামস নওফেল (মৃত্যু: ৫২০ খ্রি.) (৪৬৪-৫০৬ খ্রি.) 1 1 আবদুল মুত্তালিব উমাইয়া (শাইবা: ৪৯৭-৫৭৮ খ্রি.) হারব 1 আবু সুফিয়ান মুয়াবিয়া (রা.)
জোবায়ের হারিস আবু লাহাব হামজা (রা.) আব্বাস (রা.) আবদুল্লাহ আবু তালিব (৫৪৫-৫৭০ খ্রি.)
মুহাম্মদ (জন্ম: ৫৭০ খ্রি.) 1 ফাতিমা (রা.) আলি (রা.) আকিল জাফর (রা.) 1 হাসান (রা.) হুসাইন (রা.) মুসলিম

📘 মুহাম্মাদ ﷺ দ্যা আল্টিমেট লিডার > 📄 মক্কায় রাসূল (সা.)-এর পরিবার

📄 মক্কায় রাসূল (সা.)-এর পরিবার


খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যুর পূর্বে মক্কায় রাসূল ﷺ-এর পরিবার
নবি মুহাম্মাদ ﷺ
খাদিজা (রা.)
কন্যা
জয়নাব (রা.) রুকাইয়া (রা.) উম্মে কুলসুম (রা.) ফাতিমা (রা.)
জামাতা
আবুল আস (রা.) উসমান ইবনে আফফান (রা.)

📘 মুহাম্মাদ ﷺ দ্যা আল্টিমেট লিডার > 📄 রাসূল (সা.)-এর ওফাতের সময় মদীনায় তাঁর পরিবার

📄 রাসূল (সা.)-এর ওফাতের সময় মদীনায় তাঁর পরিবার


নবি মুহাম্মাদ ﷺ
স্ত্রীগণ
সাওদা (রা.) হাফসা (রা.) জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা.) উম্মে হাবিবা (রা.) মাইমুনা (রা.) আয়িশা (রা.) উম্মে সালমা (রা.) জুয়াইরিয়া (রা.) সাফিয়া (রা.)
মেয়ে জামাতা ফাতিমা (রা.) আলি ইবনে আবু তালিব (রা.)
নাতি-নাতনি হাসান (রা.) হুসাইন (রা.) উমামাহ (রা.) কুলসুম (রা.) জয়নাব (রা.)

📘 মুহাম্মাদ ﷺ দ্যা আল্টিমেট লিডার > 📄 ব্যবসায়ী

📄 ব্যবসায়ী


নবুয়তের পূর্বে নবিজি তাঁর কর্মজীবনকে আমাদের সামনে রোলমডেল হিসেবে পেশ করেন। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি মক্কার কাছাকাছি পাহাড় এবং বিভিন্ন উপত্যকায় ভেড়া ও ছাগল চরানোর কাজ করতেন। তাঁর জন্য এই সময়টি ছিল জীবন, প্রকৃতি এবং বাস্তবতাকে নিয়ে চিন্তা করার সময়।

আমরা যদি মেষপালকের দিকে তাকাই, তাহলে তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য আমাদের সামনে ছবির মতো ভেসে ওঠে। একজন মেষপালককে তার মেষগুলো চারণ ও দেখভাল করতে হয়, যেন সেগুলো পথভ্রষ্ট না হয় কিংবা শিকারি তাদের আক্রমণ করতে না পারে। এই বিষয়টি একজন নবির কাজকে প্রতিফলিত করে; যিনি মানবজাতিকে বাঁচাতে ও ভালোর পথে পরিচালন করতে চান। পূর্বের নবিরাও মেষপালক ছিলেন। যেমন: মুসা ও দাউদ (আ.)-কে এই মেষপালনের মাধ্যমে প্রাথমিক নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছিল।

মক্কা ছিল ট্রান্স-আরবীয় ব্যাবসায়িক বাণিজ্য পথের একটি মূল কেন্দ্র। এর দক্ষিণ দিকে ইয়েমেন এবং পূর্ব আফ্রিকা যাওয়ার পথ। উত্তর দিকে ছিল শাম (সিরিয়া), বসরা, মিশর, রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যে যাওয়ার পথ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স যখন ১২, তখন তাঁর চাচা আবু তালিব সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী। সিরিয়াতে ব্যাবসায়িক কাজে যাওয়ার সময় তিনি নবিজিকে রেখে যাওয়ার চিন্তা করলেন। এতে মনঃক্ষুণ্ণ হলেন নবিজি। তাই তিনি চাচাকে জোর করতে লাগলেন তাঁকেও সঙ্গে নেওয়ার জন্য।

এতিম ভাতিজা। আবু তালিব না বলতে পারলেন না। ফলে তিনি নবিজিকে নিয়েই রওনা হন। বলা হয়ে থাকে, এই যাত্রায় খ্রিষ্টান পাদরির সাথে তাঁর দেখা হয়, যিনি তাঁকে শেষনবি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। কারণ, তাদের কিতাবে শেষনবির আগমনি বার্তা হিসেবে ভবিষ্যদ্‌বাণী করা আছে। তবে খ্রিষ্টান পাদরির এই ঘটনা নিয়ে ভিন্নমত পাওয়া যায়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় তাঁর ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। একজন ব্যবসায়ীকে ব্যাবসা করতে গিয়ে নানান ধরনের মানুষের সাথে লেনদেন, মোয়ামেলাত করতে হয়। মানুষকে চিনতে হয়। মানুষের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝতে হয়। তাদের রুচি, অভ্যাস, চিন্তার ভিন্নতা সম্পর্কে জানতে হয়। সুতরাং ব্যাবসা পরিচালনা করতে গিয়ে নবিজিও মানুষের আচরণের ব্যাপারে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। এই বিষয়টি তাঁর নেতৃত্বগুণকে আরও বেশি পরিপক্ব করে তোলে।

যাহোক, নবিজির বিশুদ্ধ চরিত্র ও সহনশীল আচরণের জন্য মক্কার সকলেই তাঁকে একই সুরে আল আমিন ও আল সাদিক উপাধি দিয়েছিল; যার অর্থ বিশ্বাসযোগ্য ও সত্যবাদী। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স তখন ২৫। আবু তালিব হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এরই মধ্যে খবর পেলেন মক্কার অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী খাদিজা (রা.) তাঁর বাণিজ্যিক কাফেলার পরিচালনা করার জন্য মানুষ খুঁজছেন।

আবু তালিব এই খবর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জানালেন এবং যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিলেন। অন্যদিকে খাদিজা (রা.) যখন শুনলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাণিজ্যিক কাফেলা পরিচালনা করবেন, তখন তিনি আর ভিন্ন কোনো চিন্তা না করে সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন। আর হবেনই-বা না কেন! তিনি তো জানতেন তাঁর নৈতিকতা সম্পর্কে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণিজ্যিক কাফেলা নিয়ে সিরিয়া গেলেন এবং অন্যবারের চেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করে মক্কায় ফিরলেন। খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সততায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সেই সময়ে কুরাইশদের মধ্যে খাদিজা (রা.)-এর বংশ, মর্যাদা ও সম্পদে সবচেয়ে ধনী হওয়ার কারণে তিনি ছিলেন সম্মানিত মহিলা। ৬৬

রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যাবসা-বাণিজ্য করার সময় কিছু নীতিমালা প্রয়োগ করেছিলেন। এই সংক্রান্ত হাদিসগুলো উল্লেখ করা হলো-
'আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যে নম্রতার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করে ও পাওনা ফিরিয়ে চায়।'৬৭

'ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের এখতিয়ার থাকবে (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করা)। যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়।'৬৮

'ঘাম শুকানোর পূর্বেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।'৬৯ 'ঘুসখোর ও ঘুসদাতার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ।'৭০

'কিয়ামতের দিন সৎ ব্যবসায়ীরা আরশের নিচে স্থান পাবে এবং নবি, সিদ্দিক ও শহিদদের কাতারে থাকবে।'৭১

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যাবসায়িক নীতি ছিল-ক্রেতা ও বিক্রেতা দুপক্ষই নিজেদের সুবিধার জন্য সংযোগ বা সম্পর্ক স্থাপন করবেন। একজন ব্যবসায়ীর অন্যতম প্রধান গুণ হলো-তার কথা ঠিক থাকা। রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কথা ঠিক রাখার মূর্তপ্রতীক। আবদুল্লাহ ইবনে আবুল হাওসা এমন একটি ঘটনার বর্ণনা করেছিলেন।

ঘটনাটি নবুয়তের পূর্বের। আবদুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি আমানত রেখেছিলেন। কোনো এক কারণে আবদুল্লাহ ফিরে আসবেন বলে চলে গেলেও ফিরে আসতে ভুলে যান। তিন দিন পর তাঁর মনে হলে দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখেন-রাসূলুল্লাহ (সা.) ওই একই জায়গায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। আবদুল্লাহ তাঁর কথা রাখতে ব্যর্থ হলেও রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ওপর বিরক্ত বোধ করেননি। তিনি শুধু আবদুল্লাহকে বলেছিলেন-'তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ, তিন দিন ধরে আমি এখানে অপেক্ষা করছিলাম।'৭২

নবুয়তলাভের পূর্বে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ব্যাবসা-বাণিজ্য চালিয়ে গিয়েছেন। নিজের ও খাদিজা (রা.)-এর সম্পত্তি ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন। আর নবুয়তলাভের পর তিনি আল্লাহর প্রেরিত নবি হিসেবেই জীবন পার করেছেন। নবি হিসেবে তিনি যে সময়কাল (২৩ বছর) অতিবাহিত করেছেন, তার থেকে বেশি সময় (২৫ বছর) অতিবাহিত করেছেন একজন ব্যবসায়ী হিসেবে।

টিকাঃ
৬৫ সিদ্দিকি, মুহাম্মাদের জীবনী, পৃ. ৫২
৬৬ ইবনে ইসহাক। মুহাম্মাদের জীবনী, edited by Michael Edwards (London: Folio Society, 1964), p.26.
৬৭ বুখারি: ১৯৭০
৬৮ বুখারি: ২৯৩
৬৯ ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩
৭০ আবু দাউদ, আহমাদ হাসান অনূদিত (New Delhi : Kitab Bhavan, 1990), Hadith 1595.
৭১ তিরমিজি: ১২০৯
৭২ আবু দাউদ: ৪৯৯৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00