📄 সর্বশেষ রাসূল
মানবজাতির জন্য পৃথিবীতে পাঠানো সর্বশেষ নবি ও রাসূল হলেন-মুহাম্মাদ (সা.)। কুরআনে বলা আছে-
'মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল ও শেষনবি। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।' সূরা আহজাব : ৪০
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রাসূল (সা.) ছিলেন শেষ নবি। আল্লাহর এমন ঘোষণার পর নতুন করে কোনো নবি কিংবা রাসূল আসার সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন-
'আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবিগণের অবস্থা এমন-এক ব্যক্তি একটি গৃহ নির্মাণ করল, তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল; কিন্তু একপাশে একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল-“ওই শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হলো না কেন?” তখন আমি বললাম-“আমিই সেই ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবি।”৩৭
আদম (আ.) থেকে শুরু করে নবিদের আগমনের গতিপথে রাসূলুল্লাহ (সা.) হলেন শেষ পেরেক। তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে নবুয়তের ধারা। আল্লাহর দ্বীন কিয়ামত অবধি চলবে, কিন্তু পৃথিবীতে আর কোনো নবির আগমন ঘটবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মানুষকে ইসলামের পথে ডাকা, তাদের পথপ্রদর্শন ও অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা।৩৮
দুনিয়াতে বেঁচে থাকার অর্থ ও উদ্দেশ্য; দুটো বিষয়ই তিনি সবার সামনে পরিষ্কার করেছেন। নবিজির শিক্ষাদান ছিল তিন ধরনের-আল্লাহর ইবাদতের ধারণা (তাওহিদ); সঠিক কাজকর্ম, হাশর ও আখিরাত। ৩৯ এ কাজ করতে গিয়ে তাঁকে সম্মুখীন হতে হয়েছিল প্রবল প্রতিরোধের। কিন্তু সকল প্রতিরোধের পাহাড় মাড়িয়ে তিনি তাওহিদকে সমুন্নত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
📄 উম্মাহর নেতা
নির্যাতনের একপর্যায়ে মহান আল্লাহর নির্দেশে মাতৃভূমি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন প্রিয় নবিজি। মদিনায় হিজরতের পর সবাই তাঁকে গ্রহণ করল এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। এরপর তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে সবার সামনে মদিনা সনদ তথা সংবিধান প্রণয়ন করলেন।
এই সনদের মাধ্যমে সেখানকার মুসলিম অধিবাসী, হিজরতকারী এবং ইসলামের জন্য যারা সংগ্রাম করছে, তাদের একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। মূলত সেই সম্প্রদায়কেই বলা হয় 'উম্মাহ'। পরবর্তী সময়ে 'উম্মাহ' শব্দটি বিশ্বব্যাপী মুসলিম ভ্রাতৃত্বের জন্য প্রয়োগ করা হয়।
'মদিনা সনদ' ইসলামের প্রথম রাজনৈতিক ব্যবস্থা লিখিত রূপ। এই সনদ নবিজিকে সমাজের প্রধান নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইহুদি-নাসারারাও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দ্বন্দ্বের মীমাংসা এবং বহিরাগতদের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য তাঁকে মেনে নিয়েছিল। তারা জানত-একমাত্র তিনিই এর উপযুক্ত ব্যক্তি।
একজন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা.) সামাজিক রীতিনীতিকে বিচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন। তিনি কুরআনের আলোকে আইন প্রণয়ন করে তা প্রয়োগ করতেন। সৈন্যবাহিনী তৈরি করে তাদের বিভিন্ন অভিযানে যাওয়ার নির্দেশনা দিতেন। আর যখন নতুন কোনো এলাকা জয় করতেন, তখন সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করে তা পরিচালনা করতেন।৪০
পরামর্শদাতার মতামত তাঁর নিজের মতামতের চেয়ে উত্তম হলে তিনি তা নির্দ্বিধায় মেনে নিতেন। সিরাতগ্রন্থগুলো পর্যবেক্ষণ করলে এর অহরহ বর্ণনা পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে চুক্তি, গনিমত বণ্টন, সৈন্যদের অস্ত্র কেনা, গভর্নর ও বিচারক নিয়োগ, দ্বন্দ্ব মিটমাট, দূতদের পাঠানোর খরচ, অধ্যাদেশ দেওয়া, ইসলামে আসা নতুন মুসলিমদের সমস্যা নিষ্পত্তি, শরিয়াহর আলোকে আইন প্রণয়ন, দোষীদের শাস্তি দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান, নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের দেখভাল করাসহ যাবতীয় বিষয় তাঁকে তত্ত্বাবধান করতে হতো।
আল্লাহর রাসূল (সা.) দূরের অঞ্চলগুলোতে সাহাবিদের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করে সেখানকার সবকিছুর দায়িত্ব তাঁদের হাতেই ন্যস্ত করতেন। কিন্তু মদিনা ও মদিনার আশেপাশের অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি নিজেই।৪১ এই দায়িত্বগুলো ছিল তাঁর জন্য শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে যথেষ্ট চাপের! তবুও তিনি বিরামহীন পরিশ্রম করে যেতেন।
আরবের সমস্ত ধনসম্পদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পদতলে থাকা সত্ত্বেও সামান্য আরামের জন্য তাঁর ছিল না কোনো নরম বিছানা। তিনি না খেয়েছেন তৃপ্তিকর খাবার, আর না ছিল তাঁর কোনো রাজকীয় ঘর। ধনসম্পদের কোনো রকম বাহাদুরি ছাড়াই কেবল ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন আজীবন। ৪২ ইতিহাসের পাতা এর সাক্ষী।
টিকাঃ
৩৭ বুখারি, ভলিওম ৪, হাদিস: ৩৩১
* সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভি, সিরাতুন্নবি, মুহাম্মাদ সাইদ সিদ্দিকি অনূদিত (Lahore : Kazi Publications, 2000), Vol. 3, p.39.
৩৯ নাজিম উদ্দীন বামাতে, Mohammed in Encyclopaedia Britannica (Chicago, 1971), Vol. 15, p.640; এস দাউদ শাহ Prophet Muhammad (pbuh) as a Teacher (Riyadh : Darussalam, n.d.), p.103.
৪০ আবদুল রাশিদ মতিন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান : একটি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি (London: Macmillan Press, 1996), p.91.
৪১ নাদভি, ভলিওম ৩, পৃষ্ঠা-৩৯
৪২ নাদভি, ভলিউম ৩, পৃষ্ঠা ৩৭-৩৮
📄 প্রধান বিচারক
রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর দেওয়া কুরআন, সুন্নাহ ও শরিয়াহর আলোকে আইন প্রণয়ন করে সে মোতাবেক বিচারকার্য পরিচালনা করার নির্দেশ দেন। এর নাম 'ইসলামি শরিয়াহ'। মদিনা ও আশেপাশের বিচারকার্য তিনি নিজেই করতেন। অন্যান্য অঞ্চলে সাহাবিদের কাজি বা গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করে পাঠাতেন। সেখানকার বিচারকার্য তাঁরাই করতেন। ৪৩
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিচারিক ফয়সালার পরিমাণ এত বেশি ছিল, সেসব একত্রিত করে বিশাল আকারের একটি গ্রন্থ প্রস্তুত করা সম্ভব। তিনি তাঁর নিয়োগকৃত বিচারকদের বিচারকার্যে সহানুভূতিশীল ও ক্ষমাশীল হওয়ার পরামর্শ দিতেন। হাদিসে এসেছে-
'মুসলমানদের ওপর নির্ধারিত শাস্তির চাপ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত এবং যদি কোনো উপায় থাকে, তবে একজন মানুষকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ খোঁজা দরকার। কারণ, একজন নেতার জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করা ভালো।' ৪৪
টিকাঃ
৪৩ নাদভি, ভলিউম ৩, পৃ.-৪০
৪৪ তিরমিজি, ৩৫৭০
📄 শিক্ষক ও পরিচালক
আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মানবজাতির জন্য শিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কুরআনে বর্ণিত আছে—
'আমি তোমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদের পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। আর তোমাদের শিক্ষা দেন এমন কিছু, যা তোমরা জানতে না।' সূরা বাকারা : ১৫১
সিরাতের মাধ্যমে তাঁর জীবনী এবং হাদিসের মাধ্যমে তাঁর বাণী সাহাবিদের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে বইয়ে রূপান্তর করা হয়। এই সিরাত ও হাদিস যুগের পর যুগ মানুষকে আলোকিত করে আসছে। আজও নবিজির শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে এবং সন্দেহাতীতভাবে ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
ড. দাউদ শাহের লেখা Prophet Muhammad (pbuh) as a Teacher নামক চমৎকার বই থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কিত কিছু বিষয় আলোকপাত করা হলো-
'মক্কা ও মদিনা; দুই এলাকায় তাঁর দুই ধরনের ভূমিকা ছিল। মক্কায় থাকাকালীন মুসলিমরা ছিল নির্যাতিত। তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হতো। এমনই এক পরিবেশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াতি কাজ করতেন। যদিও মুসলিমদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল, তবু রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা তাঁদের টিকে থাকার বড়ো উৎস হিসেবে কাজে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তিনি সবার সামনেই সাহাবিদের শিক্ষাদান করতেন।
মদিনায় মুহাজির ও আনসার; দুই দলের জন্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) হয়ে ওঠেন একমাত্র নেতা। মসজিদ ছিল তৎকালীন শিক্ষালয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববিতে বসেই সকলকে শিক্ষাদান করাতেন। একপর্যায়ে তা ইসলামের শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া হতো মুসলিম বিশ্বের নানান প্রান্তে। এটাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর তিনি সাহাবিদের সাথে বসতেন এবং তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। মহিলাদের জন্যও সপ্তাহে এক দিন বৈঠকের ব্যবস্থা ছিল। এই প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত সফল ইসলামি শিক্ষার বিপ্লবী সূচনা।
নবুয়তপ্রাপ্তির ১৩ বছর পর মদিনায় হিজরত করে রাসূলুল্লাহ (সা.) সেখানকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাকার্যক্রম মদিনাবাসীর জীবন হতে যাবতীয় কলুষতা দূর করতে শুরু করে, তাদের যাবতীয় অনাচার, অপকর্ম থেকে বিরত রাখে। কুসংস্কার, মদ্যপান, জুয়া, সুদ, চুরি, ব্যভিচার, পতিতাবৃত্তি, শিশুহত্যা, সীমাহীন বহুবিবাহ, দাসত্ব ইত্যাদি নির্মূল করার জন্য তিনি বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে সফল হন।
আরব সমাজে রাসূলুল্লাহ (সা.) যেসব ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রয়োগ করেছিলেন, তা হলো-গরিবদের জাকাত প্রদান, মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সর্বজনীন করা, মানবাধিকারের ঘোষণা, নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ঘোষণা ইত্যাদি।
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস, একজন রাসূল হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত গুণাবলি, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর অবদান, মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য তাঁর সুশৃঙ্খল শিক্ষাব্যবস্থা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় শাস্তি দেওয়ার নিয়মকানুন ইত্যাদি বিষয়গুলো একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে ব্যাপক কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।’৪৬
ইবাদতের বেলায়ও রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সবার চেয়ে অগ্রগামী; শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী। চলুন একটি হাদিস দেখি-
'নবিজি একদিন মসজিদে প্রবেশ করে সাহাবিদের দুটি দলে বিভক্ত হয়ে বসে থাকতে দেখলেন। প্রথম দল ছিলেন আল্লাহর ইবাদত ও জিকিরে মনোযোগী। আর দ্বিতীয় দল একজন আরেকজনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইলম অর্জন করে নিচ্ছিলেন। নবিজি তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন- “সকলেই কল্যাণকর তৎপরতায় রত আছে। কিন্তু আমি শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি।” এ কথা বলে তিনি দ্বিতীয় দলের সমাবেশে বসলেন। '৪৭
সাহাবিদের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাদানে অনুপ্রাণিত করতে নবিজি কুরআনকে সামনে তুলে ধরতেন। পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জনকে উৎসাহিত করে কুরআনের প্রথম নাজিলকৃত আয়াত হলো-
'পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে “আলাক” থেকে। পড়ো, আর তোমার রব মহামহিম। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।' সূরা আলাক : ১-৫
উম্মি নবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর সাহাবিদের জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শিখিয়েছিলেন। তাঁদের শিখতে ও শেখাতে অনুপ্রাণিত করে তা অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৪৮ অতঃপর সাহাবিগণ পূর্ণ উদ্যমে ইসলামের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেন।
আল্লাহ ও নবির আদেশ মান্য করার প্রতিদান হিসেবে পুরস্কার অর্জন করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন-
'আমার সমস্ত অনুসারী জান্নাতে যাবে, তবে যারা আমাকে অস্বীকার করেছে তারা ব্যতীত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো-“হে আল্লাহর রাসূল! এমন ব্যক্তি কে হবে?” নবিজি ব্যাখ্যা করলেন- “যে আমার আনুগত্য করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং যে আমাকে অমান্য করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”৪৯
তিনি ছিলেন একজন চমৎকার শিক্ষক। ধর্মীয় চিন্তাগুলোকে সবার বুঝ উপযোগী ভাষায় উপস্থাপন করতেন, যেন সহজে সবাই বুঝতে পারে। তিনি বলেছেন- 'ধর্ম শিক্ষা দাও এবং সেটাকে সহজ করো।'৫০
তিনি জ্ঞানার্জনকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে বলেন- 'প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ।'৫১
জ্ঞানার্জনের বিনিময়ে জান্নাত লাভের আশ্বাস দিয়েছেন- 'যে কেউ জ্ঞান অন্বেষণের পথ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাঁর জন্য জান্নাতকে সহজ করে দেবেন।'৫২
ঈসা (আ.) ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষাদানের তুলনা করতে গিয়ে লেখক দাউদ শাহ লিখেছেন-
'ঈসা (আ.)-এর মিশন তিন বছর স্থায়ী থাকলেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মিশন ছিল ২৩ বছর পর্যন্ত, যা শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে বিস্তৃতিলাভ করার জন্য এবং রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ছিল যথাযথ।'৫৩
নবিজির মহান শিক্ষণীয় কৃতিত্ব হলো-বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মানুষ মুসলিম এবং তাদের মধ্যে সে শিক্ষা আজও প্রতিফলিত।
টিকাঃ
৪৫ এস. দাউদ শাহ Prophet Muhammad (pbuh) as a Teacher (Riyadh : Darussalam, n.d.)
৪৬ শাহ, পৃ.-২৮০-২৮১
৪৭ ইবনে মাজাহ (New Delhi : Kitab Bhavan, 2004), Vol. 1, Hadith 229.
৪৮ Shah, pp.76-77
৪৯ বুখারি; ইমাম নববি দ্বারা বর্ণিত; রিয়াদুস সালেহিন, ভলিওম ১, এস এম মাদানি আব্বাসি অনূদিত (Beirut : Dar Al Arabia, n.d.), Chapter 16, Hadith 158.
৫০ বুখারি, মুহাম্মাদ মহসিন খান অনুদিত, (Madinah: Al Maktabat Al Salafiat, 1971), Vol. 1, p.60.
৫১ ইবনে মাজাহ: ২২৪
৫২ মুসলিম: ২৬৯৯
৫০ শাহ, পৃ. ২৭১