📄 পবিত্র কুরআনের মুজিজা: তাঁর নবুয়তের প্রমাণাদি
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বিভিন্ন ভাগে কুরআন নাজিল করা হয়েছিল। এগুলো পরে সংগ্রহ ও যাচাই করে একসাথে জড়ো করা হয়, যা আজ বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ তিলাওয়াত করছে। এই কুরআনই নবুয়তের একটি বড়ো প্রমাণ। মহাগ্রন্থ আল কুরআন যে একটি নিদর্শন, এর সপক্ষে চারটি শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে—
প্রথমত, আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা করেন—রাসূলুল্লাহ (সা.) হলেন পৃথিবীতে আসা শেষনবি ও রাসূল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
'এমন কোনো নবি নেই, যাকে নিদর্শন ছাড়া পাঠানো হয়েছে। ফলে লোকেরা তাঁকে বিশ্বাস করেছিল। আমাকে দেওয়া হয়েছে ওহি, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন এবং আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন আমার সর্বাধিকসংখ্যক অনুসারী থাকবে।'৩২
আল্লাহ অবিশ্বাসীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন-
'বলো, যদি মানুষ ও জিন এ কুরআনের অনুরূপ হাজির করার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ হাজির করতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।' সূরা বনি ইসরাইল : ৮৮
কাজি আবদুল জব্বার ব্যাখ্যা করেন- 'রাসূলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের কাছে কুরআনের মাধ্যমে নিজের নবুয়তের প্রমাণ দেন। আর এটি তাদের অনুসরণ ও মান্য করতে এবং তাঁর কাছে নিজেদের সঁপে দিতে বাধ্য করেছিল। আরবরা ছিল তাদের বাগ্মিতার জন্য বেশ নামকরা। কোনো কিছুকে ঘৃণা বা অহংকার করার ক্ষেত্রে তাদের ছিল নিজস্ব রীতি। নিজ গোত্রপ্রধানের প্রতি আনুগত্যের জন্য যেকোনো কিছু করতে তারা ছিল প্রস্তুত। এজন্য তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিথ্যা নবি প্রমাণের সব ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। কিন্তু শেষমেশ কুরআনের মতো কোনো কিছু নিয়ে আসতে না পারায় তারা আত্মসমর্পণ করে। আর এটাই আল্লাহর তরফ থেকে তাঁর নবি হওয়ার অন্যতম নিদর্শন।'৩৩
দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী নবি-রাসূলদের মুজিজার মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী পরাভূত হয়েছিল। যেমন: মুসা (আ.)-এর সময়কার জাদুকর, ঈসা (আ.)-এর সময়ের ডাক্তাররা। কিন্তু পবিত্র কুরআন পুরো একটা জাতির ওপর বিজয়ী হয়।
তৃতীয়ত, কুরআন এমন এক জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল, যারা সাহিত্যকর্মে ও বাগ্মিতায় ছিল দুর্দান্ত। এই লোকদের কাছে তাদের ভাষা আরবিতেই কুরআন নাজিল হয়েছিল। পবিত্র কুরআনের সাবলীল বাক্য ও বাক্যের অলংকারশাস্ত্র শুনে তারা বুঝতে সক্ষম ছিল-মানুষের পক্ষে এমন কিছু তৈরি করা অসম্ভব। এটি অবশ্যই আল্লাহর তরফ থেকে নাজিলকৃত, যিনি এই দুনিয়ার মালিক।
চতুর্থত, আল্লাহর কালাম কুরআনের আরেকটি মুজিজা হলো-এটি চিরস্থায়ী এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এর বাণী মানুষের হৃদয়কে প্রভাবিত করে কাছে টেনে নেয়। তাই আজও বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম প্রভাব বিস্তারকারী ধর্মের নাম ইসলাম।৩৪
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়তের প্রমাণ হিসেবে সাইদ নুরসি (রহ.) বলেন-
'কোনো নবি কিংবা নেককারদের ক্ষেত্রে কিছু নিদর্শন প্রমাণ হিসেবে থাকে। তিনি যে আল্লাহর নবি; তার প্রমাণের জন্য হাজারের বেশি নিদর্শন রয়েছে। এটা ইনজিল, তাওরাত দ্বারা প্রমাণিত। তাঁর নবুয়তের সময় হাজারও নিদর্শন হাজির হয়েছিল। গায়েবি আওয়াজ শুনতে পাওয়ার বিখ্যাত ঘটনা, জাদুকরদের সর্বসম্মত সাক্ষ্য ছাড়াও অনেক নিদর্শন ছিল। যেমন: চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করা, শরিয়াহ আইনের ন্যায়পরায়ণতা। একইভাবে তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলি তাঁকে পূর্ণতার চূড়ায় নিয়ে যায়। মিশনের প্রতি দৃঢ়প্রত্যয় এবং তা অর্জনে বুদ্ধিমত্তার সাথে বিচরণ, আল্লাহর ভয়, ইবাদতে মশগুল, প্রশান্তিতে থাকা, দৃঢ়তা-এসবই তাঁর বিশ্বাসের শক্তিবল, নিশ্চয়তা ও সম্পূর্ণ অবিচলতার প্রমাণ চোখের সামনে দেখিয়ে দেয়।'৩৬
টিকাঃ
৩১ আবদুল রাদি মুহাম্মাদ আবদুল মোহসেন, মুহাম্মাদের নবুয়ত : বাস্তবিক না বিভ্রান্তি, মুহাম্মাদ আল মাহদি অনূদিত (Riyadh : International Islamic Publishing House, 1999), p.131.
৩২ বুখারি: ৭২৭৪
৩৩ আবদুল রাদি, মুহাম্মাদের নবুয়ত, পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
৩৪ টড এম. জনসন এবং বিরান জে. গ্রিম, বিশ্বে ধর্মের জরিপ: ধর্মীয় জনসংখ্যার একটি আন্তর্জাতিক ভূমিকা (Hoboken, New Jersey : Wiley-Blackwell, 2013)
৩৫ সাইদ নুরসি, The Nineteenth Letter, Part-2; The Miracle of the Splitting of the Moon
৩৬ সাইদ নুরসি, রিসালায়ে নূর। The Nineteenth Word, p.248.