📄 খুবাইব রাযি. ফাঁসিতে মঞ্চে দাঁড়িয়েও হক কথা বললেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةَ رَهْطٍ سَرِيَّةً عَيْنًا، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ عَاصِمَ بْنَ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيَّ جَدَّ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، فَانْطَلَقُوا حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالهَدَأَةِ، وَهُوَ بَيْنَ عُسْفَانَ وَمَكَّةَ، ذُكِرُوا لِحَيِّ مِنْ هُذَيْلٍ ، يُقَالُ لَهُمْ بَنُو لَحْيَانَ، فَنَفَرُوا لَهُمْ قَرِيبًا مِنْ مِائَتَيْ رَجُلٍ كُلُّهُمْ رَامٍ، فَاقْتَضُوا آثَارَهُمْ حَتَّى وَجَدُوا مَأْكَلَهُمْ تَمْرًا تَزَوَّدُوهُ مِنَ المَدِينَةِ. فَقَالُوا: هَذَا تَمْرُ يَثْرِبَ فَاقْتَضُوا آثَارَهُمْ ، فَلَمَّا رَآهُمْ عَاصِمٌ وَأَصْحَابُهُ لَجَثُوا إِلَى فَدْفَدٍ وَأَحَاطَ بِهِمُ القَوْمُ ، فَقَالُوا لَهُمْ : انْزِلُوا وَأَعْطُونَا بِأَيْدِيكُمْ، وَلَكُمُ العَهْدُ والمِيثَاقُ، وَلَا نَقْتُلُ مِنْكُمْ أَحَدًا ، قَالَ عَاصِمُ بْنُ ثَابِتٍ أَمِيرُ السَّرِيَّةِ: أَمَّا أَنَا فَوَاللَّهِ لَا أُنْزِلُ اليَوْمَ فِي ذِمَّةِ كَافِرٍ ، اللَّهُمَّ أَخْبِرْ عَنَّا نَبِيَّكَ، فَرَمَوْهُمْ بِالنَّبْلِ فَقَتَلُوا عَاصِمًا فِي سَبْعَةٍ، فَنَزَلَ إِلَيْهِمْ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ بِالْعَهْدِ وَالمِيثَاقِ، مِنْهُمْ خُبَيْبٌ الأَنْصَارِيُّ، وَابْنُ دَيْنَةَ، وَرَجُلٌ آخَرُ ، فَلَمَّا اسْتَمْكَنُوا مِنْهُمْ أَظْلَقُوا أَوْتَارَ قِسِيِّهِمْ فَأَوْثَقُوهُمْ ، فَقَالَ الرَّجُلُ الثَّالِثُ : هَذَا أَوَّلُ الغَدْرِ، وَاللَّهِ لَا أَصْحَبُكُمْ إِنَّ لِي فِي هَؤُلاءِ لَأُسْوَةً يُرِيدُ القَتْلَى، فَجَزَرُوهُ وَعَالَجُوهُ عَلَى أَنْ يَصْحَبَهُمْ فَأَبَى فَقَتَلُوهُ، فَانْطَلَقُوا بِخُبَيْبٍ، وَابْنِ دَيْنَةً حَتَّى بَاعُوهُمَا بِمَكَّةَ بَعْدَ وَقْعَةِ بَدْرٍ ، فَابْتَاعَ خُبَيْبًا بَنُو الحَارِثِ بْنِ عَامِرِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ، وَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ قَتَلَ الْحَارِثُ بْنَ عَامِرٍ يَوْمَ بَدْرٍ ، فَلَبِثَ حُبَيْبٌ عِنْدَهُمْ أَسِيرًا، فَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عِيَاضٍ، أَنَّ بِنْتَ الحَارِثِ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّهُمْ حِينَ اجْتَمَعُوا اسْتَعَارَ مِنْهَا مُوسَى يَسْتَحِلُّ بِهَا، فَأَعَارَتْهُ، فَأَخَذَ ابْنَا لِي وَأَنَا غَافِلَةٌ حِينَ أَتَاهُ قَالَتْ: فَوَجَدْتُهُ مُجْلِسَهُ عَلَى فَخِذِهِ وَالمُوسَى بِيَدِهِ، فَزِعْتُ فَزْعَةً عَرَفَهَا خُبَيْبٌ فِي وَجْهِي، فَقَالَ: تَخْشَيْنَ أَنْ أَقْتُلَهُ؟ مَا كُنْتُ لِأَفْعَلَ ذَلِكَ، وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ أَسِيرًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ خُبَيْبٍ، وَاللَّهِ لَقَدْ وَجَدْتُهُ يَوْمًا يَأْكُلُ مِنْ قِطْفِ عِنَبٍ فِي يَدِهِ، وَإِنَّهُ لَمُوثَقٌ فِي الحَدِيدِ، وَمَا بِمَكَّةَ مِنْ ثَمَرٍ وَكَانَتْ تَقُولُ: إِنَّهُ لَرِزْقٌ مِنَ اللَّهِ رَزَقَهُ خُبَيْبًا، فَلَمَّا خَرَجُوا مِنَ الحَرَمِ لِيَقْتُلُوهُ فِي الحِلِّ، قَالَ لَهُمْ خُبَيْبٌ: ذَرُونِي أَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ، فَتَرَكُوهُ، فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: لَوْلا أَنْ تَظُنُّوا أَنَّ مَا بِي جَزَعٌ لَطَوَّلْتُهَا اللَّهُمَّ أَحْصِهِمْ عَدَدًا وَلَسْتُ أَبَالِي حِينَ أُقْتَلُ مُسْلِمًا * عَلَى أَيِّ شِقٍّ كَانَ لِلَّهِ مَصْرَعِي وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ * يُبَارِكْ عَلَى أَوْصَالِ شِلْوِ مُمَزَّعِ فَقَتَلَهُ ابْنُ الحَارِثِ فَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ سَنَّ الرَّكْعَتَيْنِ لِكُلِّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ قُتِلَ صَبْرًا، فَاسْتَجَابَ اللَّهُ لِعَاصِمِ بْنِ ثَابِتٍ يَوْمَ أُصِيبَ، فَأَخْبَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصْحَابَهُ خَبَرَهُمْ، وَمَا أُصِيبُوا ، وَبَعَثَ نَاسٌ مِنْ كُفَّارِ قُرَيْشٍ إِلَى عَاصِمٍ حِينَ حُدِّثُوا أَنَّهُ قُتِلَ، لِيُؤْتَوْا بِشَيْءٍ مِنْهُ يُعْرَفُ، وَكَانَ قَدْ قَتَلَ رَجُلًا مِنْ عُظَمَائِهِمْ يَوْمَ بَدْرٍ، فَبُعِثَ عَلَى عَاصِمٍ مِثْلُ الظُّلَّةِ مِنَ الدَّبْرِ، فَحَمَتُهُ مِنْ رَسُولِهِمْ، فَلَمْ يَقْدِرُوا عَلَى أَنْ يَقْطَعَ مِنْ لَحْمِهِ شَيْئًا
অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ ব্যক্তিকে গোয়েন্দা হিসাবে সংবাদ সংগ্রহের জন্যে প্রেরণ করেন এবং আসিম ইবনে সামিত আনসারী রাযি.-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেন। যিনি ছিলেন আসিম ইবনে উমর ইবনে খাত্তাবের নানা। তাঁরা রওয়ানা হয়ে গেলেন। যখন তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী 'হাদআত' নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন হুযায়েল গোত্রের একটি প্রশাখা যাদেরকে 'লেহইয়ান' বলা হয় তাদের কাছে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তারা প্রায় দু'শত তীরন্দাজকে তাদের পিছু (ধাওয়া করার জন্যে) প্রেরণ করে। এরা তাঁদের চিহ্ন অনুসরণ করে চলতে থাকে। সাহাবীগণ মদীনা থেকে সাথে নিয়ে আসা খেজুর যেখানে বসে খেয়েছিলেন, অবশেষে এরা সে স্থানের সন্ধান পেয়ে গেল। তখন এরা বললো, ইয়াসরিবের খেজুর। এরপর এরা তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে চলতে লাগল। যখন আসিম ও তার সাথীগণ এদের দেখলেন, তখন তাঁরা একটি উচু স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। আর কাফিররা তাঁদের ঘিরে ফেলল এবং তাঁদেরকে বলতে লাগল, তোমরা অবতরণ করো এবং স্বেচ্ছায় বন্দীত্ব বরণ করো। আমরা তোমাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমরা তোমাদের কাউকে হত্যা করবো না। তখন গোয়েন্দা দলের নেতা আসিম ইবনে সাবিত রাযি. বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তো আজ কাফিরদের নিরাপত্তায় অবতরণ করবো না। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আপনার নবীকে সংবাদ পৌঁছে দিন। অবশেষে কাফিরগণ তীর নিক্ষপ করতে শুরু করলো। আর তারা আসিম রাযি.-সহ সাতজনকে শহীদ করলো। এরপর অবশিষ্ট তিনজন খুবাইব আনসারী, যায়েদ ইবনে দাসিনা রাযি. ও অপর একজন তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর বিশ্বাস করে তাদের নিকট অবতরণ করলেন। যখন কাফিররা তাদেরকে আয়ত্বে নিয়ে নিল, তখন তারা তাদের ধনুকের রশি খুলে ফেলে তাঁদের বেধে ফেললো। তখন তৃতীয়জন বলে উঠলেন, সূচনাতেই বিশ্বাসঘাতকতা! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাথে যাবো না, আমি তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করবো, যারা শাহাদাত বরণ করেছে। কাফিররা তাঁকে তাদের সঙ্গে টেনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন। তখন তারা তাঁকে শহীদ করে ফেলে এবং তারা খুবাইব ও ইবনে দাসিনাকে নিয়ে চলে যায়। অবশেষে তাদের উভয়কে মক্কায় বিক্রয় করে ফেলে। এটা বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। তখন খুবাইবকে হারিস ইবনে আমিরের পুত্রগণ খরিদ করে নেয়। আর বদর যুদ্ধের দিন খুবাইব রাযি. হারিস ইবনে আমিরকে হত্যা করেছিলেন। খুবাইব রাযি. কিছু দিন তাদের নিকট বন্দী থাকেন। ইবনে শিহাব রাযি. বলেন, আমাকে উবাইদুল্লাহ ইবনে আয়ায অবহিত করেছেন, তাঁকে হারিসের কন্যা জানায় যে, যখন হারিসের পুত্রগণ খুবাইব রাযি.-কে শহীদ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিল, তখন তিনি তাঁর নিকট থেকে ক্ষৌর কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটা ক্ষুর ধার চাইলেন।
তখন হারিসের কন্যা তাকে এক খানা ক্ষুর ধার দিল। (সে বলেছে) সে সময় ঘটনাক্রমে আমার এক ছেলে আমার অজ্ঞাতে খুবাইবের নিকট চলে যায় এবং আমি দেখলাম যে, আমার ছেলে খুবাইবের উরুর উপর বসে রয়েছে এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। আমি খুব ভয় পেলাম। খুবাইব আমার চেহারা দেখে বুঝতে পারলেন যে, আমি ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, তুমি কি এ ভয় করো যে, আমি এ শিশুটিকে হত্যা করে ফেলব? কখনো আমি তা করবো না। (হারিসের কন্যা বললো) আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের ন্যায় উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। আল্লাহর শপথ! আমি একদিন দেখলাম, তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় আঙ্গুর ছড়া থেকে খাচ্ছেন, যা তার হাতেই ছিলো। অথচ এ সময় মক্কায় কোনো ফলই পাওয়া যাচ্ছিল না। হারিসের কন্যা বলতো, এ তো ছিলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে প্রদত্ত জীবিকা, যা তিনি খুবাইবকে দান করেছেন। এরপর তারা খুবাইবকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে হерем থেকে হিল্লের দিকে নিয়ে বের হয়ে পড়ল। তখন খুবাইব রাযি. তাদের বললেন, আমাকে দু'রাকাআত সালাত আদায় করতে দাও। তারা তাঁকে অনুমতি প্রদান করলো। তিনি দু'রাকাআত সালাত আদায় করে নিলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমরা যদি ধারণা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি তবে আমি সালাতকে দীর্ঘায়িত করতাম। হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে ধ্বংস করুন। তারপর তিনি এ কবিতা দু'টি আবৃত্তি করলেন:
যখন আমি মুসলিম হিসাবে শহীদ হচ্ছি তখন আমি কোনরূপ ভয় করি না, আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমাকে যেখানেই মাটিতে লুটিয়ে ফেলা হোক না কেন। আমার এ মৃত্যু আল্লাহ তাআলার জন্যেই হচ্ছে তিনি যদি ইচ্ছা করেন, তবে আমার দেহের প্রতিটি খন্ডিত জোড়াসমূহে বরকত সৃষ্টি করে দিবেন।
অবশেষে হারিসের পুত্র তাঁকে শহীদ করে। বস্তুত যে মুসলিম বন্দী অবস্থায় শহীদ হয়, তার জন্যে দু'রাকাত সালাত আদায়ের এ রীতি খুবাইব রাযি.-ই প্রবর্তন করে গেছেন। যেদিন আসিম রাযি. শাহাদাত বরণ করেছিলেন, সেদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করেছিলেন। সেদিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাগণকে তাঁদের সংবাদ ও তাঁদের উপর যা' যা' আপতিত হয়েছিল সবই অবহিত করেছিলেন। আর যখন কুরাইশ কাফিরদেরকে এ সংবাদ পৌঁছানো হলো যে, আসিম রাযি.-কে শহীদ করা হয়েছে, তখন তারা তাঁর নিকট এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করে, যাতে সে ব্যক্তি তাঁর মরদেহ থেকে কিছু অংশ কেটে নিয়ে আসে। যেন তারা তা দেখে চিনতে পারে। কারণ, বদর যুদ্ধের দিন আসিম রাযি. কুরাইশদের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। আসিমের মরদেহের (হেফাজতের) জন্যে মৌমাছির ঝাঁক প্রেরিত হয়েছিলো। (এসব মৌমাছি) তাঁর দেহ আবৃত করে রেখে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেছিলো। ফলে তারা তাঁর দেহ থেকে সামান্য টুকরাও কেটে নিতে সক্ষম হয়নি। (বুখারী-৩০৪৫, ৩৯৮৯, ৪০৮৬, ৭৪০২, ইফা.-২৮৩১, আবু দাউদ-২৬৬০, আহমাদ-৭৮৬৯, ৮০৩৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, কাফিররা হযরত খুবাইব রাযি.-কে শূলিবিদ্ধ করে ঝুলিয়ে রেখেছিলো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সংবাদ শোনার পর হযরত যুবাইর ও হযরত মিকদাদ রাযি.-কে গোপনে তার মরদেহ আনার জন্য পাঠিয়ে ছিলেন। তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন, তখনও খুবাইব রাযি. এর লাশ কোনোরূপ বিকৃত হয়নি, বরং সম্পূর্ণ তাজা ছিলো। এমনকি তার দেহ মোবারক থেকে যে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিলো তা ছিলো কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত। হযরত যুবাইর ও মিকদাদ রাযি. যখন তার মরদেহ শূলিকাষ্ঠ থেকে নামিয়ে মদিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন, তখন ৭০জন কাফির তাদের পিছু ধাওয়া করলো।
যুবাইর রাযি. যখন দেখলেন যে, কাফিররা পিছন থেকে ধাওয়া করছে তখন তিনি লাশটি মাটিতে রেখে দিলেন। আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে সাথে সাথেই লাশটি মাটিতে গ্রাস করে ফেললো। অর্থাৎ জমীন ফাঁক হয়ে ভিতরে চলে গেল। এ কারণে হযরত খুবাইব রাযি. কে بلع الارض (বালিউল আরদ) তথা 'জমীনের গলধঃকরণ' বলা হয়।
📄 বিস্ময়কর তাওবাহ : ১০০ জনকে হত্যা করেও ক্ষমা পেলেন
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ, أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, سَمِعَتُهُ أَذْنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي, إِنَّ عَبْدًا قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا, ثُمَّ عَرَضَتْ لَهُ التَّوْبَةُ, فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ, فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ فَأَتَاهُ, فَقَالَ, إِنِّي قَتَلْتُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا, فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ, قَالَ, بَعْدَ تِسْعَةٍ وَتِسْعِينَ نَفْسًا, قَالَ فَانْتَضَى سَيْفَهُ فَقَتَلَهُ فَأَكْمَل بِهِ الْمِائَةَ, ثُمَّ عَرَضَتْ لَهُ التَّوْبَةُ, فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ, فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ فَأَتَاهُ, فَقَالَ إِنِّي قَتَلْتُ مِائَةَ نَفْسٍ, فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ, قَالَ, فَقَالَ, وَيْحَكَ, وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَكَ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ اخْرُجُ مِنَ الْقَرْيَةِ الْخَبِيثَةِ الَّتِي أَنْتَ فِيهَا إِلَى الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ قَرْيَةِ كَذَا وَكَذَا, فَاعْبُدْ رَبَّكَ فِيهَا, فَخَرَجَ يُرِيدُ الْقَرْيَةَ الصَّالِحَةَ, فَعَرَضَ لَهُ أَجَلُهُ فِي الطَّرِيقِ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلائِكَةُ الْعَذَابِ, قَالَ إِبْلِيسُ أَنَا أَوْلَى بِهِ, إِنَّهُ لَمْ يَعْصِنِي سَاعَةً قَطُّ قَالَ فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ إِنَّهُ خَرَجَ تَائِبًا
অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে যা শুনেছি এবং যা আমার দু'কান শ্রবণ করেছে এবং যা আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে, আমি কি তোমাদেরকে তা অবহিত করবো না? জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বইজনকে হত্যা করেছিলো। এরপর তার তাওবা করার খেয়াল হলে সে জানতে চাইলো যে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলেম কে? তাকে একজন সম্পর্কে অবহিত করা হলো। সে তার কাছে এসে বললো, আমি নিরানব্বই ব্যক্তিকে হত্যা করেছি, আমার জন্য কি তাওবার কোনো সুযোগ আছে? লোকটি বললো, নিরানব্বই জনকে হত্যা করার পর (এখন আবার তাওবা)! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন সে তার তরবারি কোষমুক্ত করলো এবং তাকেও হত্যা করে একশতজন পূর্ণ করলো। এরপর আবারো তার মনে তওবার খেয়াল হলো। সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলো। তাকে এক লোক সম্পর্কে বলা হলে সে তার নিকট গিয়ে বললো, আমি একশত ব্যক্তিকে হত্যা করেছি, আমার জন্য কি তাওবার কোনো সুযোগ আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই লোকটি বললো, তোমার জন্য আফসোস! তোমার এবং তওবার মধ্যে কে প্রতিবন্ধক হতে পারে? তুমি যে নিকৃষ্ট জনপদে আছো সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে উত্তম জনপদে, অমুক অমুক জনপদে যাও। সেখানে গিয়ে তোমার রবের ইবাদত (তাওবা) করো। অতঃপর সে সেই উত্তম জনপদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো। পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়ে গেলো। তখন তার ব্যাপারে রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতা বিবাদে লিপ্ত হলো। ইবলীস বললো, আমিই তার উপযুক্ত হকদার। কারণ সে এক মুহূর্তের জন্যও আমার অবাধ্য হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রহমতের ফেরেশতা বললেন, সে অনুতপ্ত হয়ে যাত্রা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: তখন মহান আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করলেন। উভয় ফেরেশতা তার কাছে মামলা দায়ের করলেন। মীমাংসাকারী ফেরেশতা বললেন, তোমরা দেখো, উভয় জনপদের যেটি তার নিকটবর্তী তাকে সেই জনপদের অন্তর্ভুক্ত করো। কাতাদা বলেন, হাসান রহ. আমাদের নিকট এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, তার মৃত্যু এসে গেলে সে হামাগুড়ি দিয়ে উত্তম জনপদের নিকটবর্তী হয়ে গেলো এবং নিকৃষ্ট জনপদ থেকে দূরে সরে গেলো। তাই ফেরেশতাগণ তাকে উত্তম জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে গণ্য করেন। (বুখারী-৩৪৭০, ইফা.-৩২২১, মুসলিম-২৭৬৬, ইবনে মাজাহ-২৬২২, আহমাদ-১০৭৭০, ১১২৯০, জামি-২০৭৬, তারগীব-৩১৫১, বায়হাকী-১৫৮৩৬, ইবনে হিব্বান-৬১৫, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)