📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মেঘ থেকে ঘোষণা এলো, অমুকের জমিতে বৃষ্টি হবে

📄 মেঘ থেকে ঘোষণা এলো, অমুকের জমিতে বৃষ্টি হবে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : بَيْنَا رَجُلٌ بِفَلَاةٍ مِنَ الأَرْضِ فَسَمِعَ صَوْتًا فِي سَحَابَةٍ اسْقِ حَدِيقَةً فُلانٍ فَتَنَقَّى ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَاءَهُ فِي حَرَّةٍ فَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشَّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتْ ذَلِكَ الْمَاءَ كُلَّهُ فَتَتَبَّعَ الْمَاءَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِي حَدِيقَتِهِ يُحَوِّلُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا اسْمُكَ قَالَ فُلانٌ. لِلإِسْمِ الَّذِي سَمِعَ فِي السَّحَابَةِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ لِمَ تَسْأَلُنِي عَنِ اسْمِي فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّحَابِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهُ يَقُولُ اسْقِ حَدِيقَةً فُلانٍ لِاِسْمِكَ فَمَا تَصْنَعُ فِيهَا قَالَ أَمَّا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ وَأَكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثَا وَأَرْدُّ فِيهَا ثُلُثَهُ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: একদা এক ব্যক্তি কোনো এক জঙ্গলে (বিরাণ মাঠে) দাঁড়িয়ে ছিলো। হঠাৎ সে (আকাশের) মেঘের মধ্য থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন যে, অমুকের বাগানে পানি বর্ষণ করো। সঙ্গে সঙ্গেই ঐ মেঘমালাটি সেদিকে সরে গিয়ে একটি কংকরময় জমিতে বৃষ্টিপাত আরম্ভ করলো। ঐ স্থানের নালা সমূহের একটি নালা ঐ পানিতে সম্পূর্ণরূপে ভরে গেল। তখন সে লোকটি পানির অনুসরণ করে চললো। যেতে যেতে সে এক ব্যক্তিকে তার বাগানে দাঁড়ানো অবস্থায় কোদাল (সেচনী) দিয়ে পানি ভরতে দেখতে পেল। এ দেখে সে তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর বান্দা! আপনার নাম কি? সে বললো, আমার নাম অমুক, যা তুমি মেঘ খণ্ডের মাঝে শুনতে পেয়েছ। অতঃপর বাগানের মালিক তাকে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে কেন? সে বললো, আমি মেঘের মধ্যে এ আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, তোমার নাম নিয়ে বলছে যে, অমুকের বাগানে পানি দাও, (আর সেটি তোমার নাম)। সুতরাং এখন বলো, তুমি এ বাগান দিয়ে কি করো? বাগানের মালিক বললো, যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করছো তাই বলছি, এ বাগানে যে ফসল উৎপন্ন হয় প্রথমে তা আমি হিসাব করি। এরপর সেখান থেকে এক-তৃতীয়াংশ (তিনের একাংশ) আল্লাহর রাস্তায় দান করি; এক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবারের জন্য রেখে দেই এবং এক-তৃতীয়াংশ বাগানের উন্নয়নের কাজে খরচ করি। (সহীহ মুসলিম-৭৬৬৪, ২৯৮৪, ইফা.-৭২০৩, আহমাদ-৭৮৮১, মিশকাত-১৮৭৭, জামিউস সগীর-২৮৬৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বিস্ময়কর হাট-বাজার : যেখানে গেলে কালো মানুষও সুন্দর হয়ে যাবে

📄 বিস্ময়কর হাট-বাজার : যেখানে গেলে কালো মানুষও সুন্দর হয়ে যাবে


عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ فِي سُوقِ الْجَنَّةِ قَالَ سَعِيدٌ أَوَفِيهَا سُوقٌ قَالَ نَعَمْ أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ إِذَا دَخَلُوهَا نَزَلُوا فِيهَا بِفَضْلِ أَعْمَالِهِمْ فَيُؤْذَنُ لَهُمْ فِي مِقْدَارِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا فَيَزُورُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيُبْرِزُ لَهُمْ عَرْشَهُ وَيَتَبَدَّى لَهُمْ فِي رَوْضَةٍ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ فَتُوضَعُ لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ وَمَنَابِرُ مِنْ لُؤْلُةٍ وَمَنَابِرُ مِنْ يَاقُوتٍ وَمَنَابِرُ مِنْ زَبَرْجَدٍ وَمَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ وَمَنَابِرُ مِنْ فِضَّةٍ وَيَجْلِسُ أَدْنَاهُمْ وَمَا فِيهِمْ دَنِيءٌ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ وَالْكَافُورِ مَا يُرَوْنَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَرَاسِي بِأَفْضَلَ مِنْهُمْ مَجْلِسًا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ, قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ, هَلْ نَرَى رَبَّنَا قَالَ نَعَمْ هَلْ تَتَمَارَوْنَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ قُلْنَا لاَ, قَالَ, كَذلِكَ لا تَتَمَارَوْنَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا يَبْقَى فِي ذلِكَ الْمَجْلِسِ أَحَدٌ إِلَّا حَاضَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مُحَاضَرَةً حَتَّى إِنَّهُ يَقُولُ لِلرَّجُلِ مِنْكُمْ أَلا تَذْكُرُ يَا فُلانُ يَوْمَ عَمِلْتَ كَذَا وَكَذَا يُذَكِّرُهُ بَعْضَ غَدَرَاتِهِ فِي الدُّنْيَا فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَفَلَمْ تَغْفِرُ لِي فَيَقُولُ بَلَى فَبِسَعَةِ مَغْفِرَتِي بَلَغْتَ مَنْزِلَتَكَ هَذِهِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذلِكَ غَشِيَتْهُمْ سَحَابَةٌ مِنْ فَوْقِهِمْ فَأَمْطَرَتْ عَلَيْهِمْ طِيبًا لَمْ يَجِدُوا مِثْلَ رِيحِهِ شَيْئًا قَط ثُمَّ يَقُولُ قُومُوا إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لَكُمْ مِنَ الْكَرَامَةِ فَخُذُوا مَا اشْتَهَيْتُمْ, قَالَ فَنَأْتِي سُوقًا قَدْ حُقَّتْ بِهِ الْمَلائِكَةُ فِيهِ مَا لَمْ تَنْظُرِ الْعُيُونُ إِلَى مِثْلِهِ وَلَمْ تَسْمَعِ الْآذَانُ وَلَمْ يَخْطُرُ عَلَى الْقُلُوبِ, قَالَ فَيُحْمَلُ لَنَا مَا اشْتَهَيْنَا لَيْسَ يُبَاعُ فِيهِ شَيْءٌ وَلَا يُشْتَرَى وَفِي ذَلِكَ السُّوقِ يَلْقَى أَهْلُ الْجَنَّةِ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَيُقْبِلُ الرَّجُلُ ذُو الْمَنْزِلَةِ الْمُرْتَفِعَةِ فَيَلْقَى مَنْ هُوَ دُونَهُ وَمَا فِيهِمْ دَنِيءٌ فَيَرُوعُهُ مَا يَرَى عَلَيْهِ مِنَ الرِّبَاسِ فَمَا يَنْقَضِي آخِرُ حَدِيثِهِ حَتَّى يَتَمَثَّلَ لَهُ عَلَيْهِ أَحْسَنُ مِنْهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ لا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَحْزَنَ فِيهَا, قَالَ ثُمَّ نَنْصَرِفُ إِلَى مَنَازِلِنَا فَيَتَلَقَّانَا أَزْوَاجُنَا فَيَقُلْنَّ مَرْحَبًا وَأَهْلاً لَقَدْ جِئْتَ وَإِنَّ بِكَ مِنَ الْجَمَالِ وَالطَّيبِ أَفْضَلَ مِمَّا فَارَقْتَنَا عَلَيْهِ فَنَقُولُ إِنَّا جَالَسْنَا الْيَوْمَ رَبَّنَا الْجَبَّارَ عَزَّ وَجَلَّ وَيَحِقْنَا أَنْ تَنْقَلِبَ بِمِثْلِ مَا انْقَلَبْنَا

অর্থ: সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা রাযি. এর সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাকে ও তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্র করেন। সাঈদ রহ. বললেন, জান্নাতে কি বাজারও আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অবহিত করেছেন যে, জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন নিজ নিজ নেক আমল অনুসারে সেখানে মর্যাদা লাভ করবে। তারপর দুনিয়ার সময় অনুসারে এক জুমুআর দিনে তাদেরকে (তাদের প্রভুকে দেখার) অনুমতি দেয়া হবে এবং তারা তাদের মহামহিম আল্লাহর দর্শন লাভ করবে। তাদের জন্য তাঁর আরশ উন্মুক্ত হবে। জান্নাতের কোনো এক উদ্যানে তাদের সামনে তাদের প্রভুর (তাজাল্লীর) প্রকাশ ঘটবে। তাদের জন্য নূর, মণি-মুক্তা, পদ্মরাগমণি, যমরূদ ও সোনা-রূপা ইত্যাদির আসন স্থাপন করা হবে। তাদের মধ্যকার সবচেয়ে নিম্নস্তরের জান্নাতীও কস্তুরী ও কপূরের স্তূপের উপর আসন গ্রহণ করবে। তবে সেখানে কেউ হীন বা নীচ হবে না। মিম্বারে আসীন ব্যক্তিগণকে তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা উৎকৃষ্ট ভাববে না।
আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আমাদের প্রভুকে দেখতে পাবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সূর্য বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোনো সন্দেহ হয়? আমরা বললাম, 'না'। তিনি বললেন, তদ্রূপ তোমরাও তোমাদের মহান প্রভুর দর্শন লাভে কোনো সন্দেহ থাকবে না। সেই মজলিসে উপস্থিত এমন কোন লোক থাকবে না, যার সামনে মহান আল্লাহ প্রকাশিত হবেন না। এমনকি তিনি একে একে তাদের নাম ধরে ডেকে বলবেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! তুমি অমুক দিন এরূপ এরূপ আমল করেছ, তা তোমার স্মরণ আছে কি? এভাবে তিনি তাকে দুনিয়ার কতক নাফরমানী ও বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সে তখন বলবে, হে আমার প্রভু! আপনি কি আমাকে ক্ষমা করেননি? এ অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর একখন্ড মেঘ এসে তাদেরকে ছেয়ে ফেলবে এবং তা থেকে তাদের উপর সুঘ্রাণ (নূরের বৃষ্টি) বর্ষিত হবে, যেরূপ সুঘ্রাণ তারা ইতোপূর্বে কখনো কিছুতে পায়নি। অতঃপর তিনি বলবেন, ওঠো! আমি তোমাদের সম্মানে মেহমানদারীর আয়োজন করেছি, সেদিকে অগ্রসর হও এবং যা কিছু পছন্দ হয় গ্রহণ করো।
তখন আমরা একটি বাজারে এসে উপস্থিত হবো, যা ফেরেশতাগণ পরিবেষ্টন করে রাখবেন। সেখানে এমন সব পণ্যসামগ্রী থাকবে, যা না কোন চক্ষু দেখেছে, না কোনো কান শ্রবণ করেছে এবং না কখনো কোনো অন্তর কল্পনা করেছে। আমরা সেখানে যা চাইবো, তাই তুলে দেয়া হবে। তবে ক্রয়-বিক্রয় হবে না। সেই বাজারে জান্নাতীগণ পরস্পরের সাথে সাক্ষাত করবে। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতী সামনে অগ্রসর হয়ে তার চেয়ে অল্প মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতীর সাথে সাক্ষাত করবে। তবে সেখানে তাদের মধ্যে উঁচু-নীচু বোধ থাকবে না। তিনি তার পোশাক দেখে পেরেশান হয়ে যাবেন। এ কথা শেষ হতে না হতেই তিনি মনে করতে থাকবেন যে, তার পরনেও পূর্বাপেক্ষা উত্তম পোশাক শোভা পাচ্ছে। আর এরূপ এজন্যই হবে যে, সেখানে কাউকে দুঃখ- কষ্ট বা দুশ্চিন্তা স্পর্শ করবে না। অতঃপর আমরা নিজেদের জায়গায় ফিরে আসবো এবং স্ব স্ব স্ত্রীর সাক্ষাত পাবো। তারা বলবে, মারহাবা, আহলান। কী ব্যাপার! যেরূপ আকর্ষণীয় রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে এখান থেকে গিয়েছিলে, তার চেয়ে উত্তম সৌন্দর্য নিয়ে ফিরে এসেছো। আমরা বলবো, আজ আমরা আমাদের মহাপ্রতাপশালী মহান প্রভুর সাথে মজলিসে বসেছিলাম। তাই আমাদের এই পরিবর্তন ঘটেছে এবং এরূপ ঘটাই ছিলো স্বাভাবিক। (বুখারী- ৮০৬, মুসলিম-১২৭, ১২৮, আবু দাউদ-১২৯, ১৩৫, তিরমিযী-২৪৩৪, ২৫৪৯, ৩১৪৮, নাসাঈ- ১১৪০, ইবনে মাজাহ-৪৩৩৬, দারিমী-২৮০১, ২৮১৭, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মহিলা সাহাবীর বিস্ময়কর ধৈর্য

📄 মহিলা সাহাবীর বিস্ময়কর ধৈর্য


সন্তান মারা যাওয়ার পর স্বামীকে সান্ত্বনা দিলেন ফলে একটির পরিবর্তে ৯টি হাফেজে কুরআন সন্তান পেলেন

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : اشْتَكَى ابْنُ لِأَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: فَمَاتَ وَابُو طَلْحَةَ خَارِجٌ ، فَلَمَّا رَأَتِ امْرَأَتُهُ أَنَّهُ قَدْ مَاتَ هَيَّأْتُ شَيْئًا، وَنَحَتْهُ فِي جَانِبِ البَيْتِ، فَلَمَّا جَاءَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ : كَيْفَ الغُلامُ ، قَالَتْ : قَدْ هَدَأَتْ نَفْسُهُ، وَارْجُو أَنْ يَكُونَ قَدِ اسْتَرَاحَ، وَظَنَّ أَبُو طَلْحَةَ أَنَّهَا صَادِقَةٌ، قَالَ: فَبَاتَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ اغْتَسَلَ. فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ أَعْلَمَتْهُ أَنَّهُ قَدْ مَاتَ ، فَصَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ثُمَّ أَخْبَرَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا كَانَ مِنْهُمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُبَارِكَ لَكُمَا فِي لَيْلَتِكُمَا قَالَ سُفْيَانُ: فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ: فَرَأَيْتُ لَهُمَا تِسْعَةَ أَوْلَادٍ كُلُّهُمْ قَدْ قَرَأُ القُرْآنَ

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আবু তালহা রাযি.-এর একটি পুত্র সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লো। রাবী বলেন, অতঃপর সে এমন সময় ইন্তিকাল করলো, যখন আবু তালহা রাযি. বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি ইন্তিকাল করেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ঘরের এক কোণে ছেলেটিকে (ঢেকে) রেখে দিলেন। আবু তালহা রাযি. (রাতে বাড়িতে এসে) ছেলের অবস্থা জানতে চাইলেন। স্ত্রী বললেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন শান্তিতে আছে। আবু তালহা রাযি. মনে মনে ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্যিই বলছেন। রাবী বলেন, এরপর তিনি রাত যাপন (স্ত্রী মিলন) করলেন এবং সকালে গোসল করলেন। অতঃপর (ভোরে) তিনি বাইরে যেতে ইচ্ছে করলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন যে, ছেলেটি ইন্তিকাল করেছে। এরপর তিনি (আবু তালহা রাযি. মসজিদে চলে গেলেন এবং) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (ফজরের) নামাজ আদায় করে রাতের বিস্তারিত ঘটনা জানালেন। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন: আশা করা যায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে এ রাতে বরকত দান করবেন। সুফিয়ান রহ. বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, আমি আবু তালহা দম্পতির ৯টি সন্তান দেখেছি, তাদের প্রত্যেকেই কুরআন সম্পর্কে দক্ষ (কুরআনের হাফেজ) ছিলেন। (বুখারী-১৩০১, ১৫০২, ৫৪৭০, ৫৫৪২, ইফা.-১২২৩, মুসলিম-২১৪৪, আবু দাউদ-২৫৬৩, ৪৯৫১, আহমাদ-১১৬১৭, ১২৩৩৯, ১২৩৮৪, ১২৪৫৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বিরে মাউনায় ৭০জন সাহাবীকে যেভাবে শহীদ করা হলো

📄 বিরে মাউনায় ৭০জন সাহাবীকে যেভাবে শহীদ করা হলো


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ رِعْلٌ، وَذَكْوَانُ وَعُصَيَّةٌ، وَبَنُو لَحْيَانَ، فَزَعَمُوا أَنَّهُمْ قَدْ أَسْلَمُوا، وَاسْتَمَدُّوهُ عَلَى قَوْمِهِمْ فَأَمَدَّهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعِينَ مِنَ الأَنْصَارِ، قَالَ أَنَسٌ : كُنَّا نُسَمِّيْهِمُ القُرَّاءَ يَحْطِبُونَ بِالنَّهَارِ وَيُصَلُّونَ بِاللَّيْلِ ، فَانْطَلَقُوا بِهِمْ ، حَتَّى بَلَغُوا بِئْرَ مَعُونَةً ، غَدَرُوا بِهِمْ وَقَتَلُوهُمْ ، فَقَنَتَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ، وَبَنِي لَحْيَانَ، قَالَ قَتَادَةُ: وَحَدَّثَنَا أَنَسٌ : أَنَّهُمْ قَرَءُوا بِهِمْ قُرْآنَا : أَلا بَلِّغُوا عَنَّا قَوْمَنَا بِأَنَّا قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا. فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا، ثُمَّ رُفِعَ ذَلِكَ بَعْدُ

অর্থ: আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট 'রিল, যাকওয়ান, উসাইয়া ও বনূ লাহইয়ান গোত্রের কিছু লোক এসে বললো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। এরপর তারা তাঁর নিকট তাদের কওমের মোকাবেলায় সাহায্য প্রার্থনা করলো। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৭০জন আনসার সাহাবীকে পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করলেন। আনাস রাযি. বলেন, আমরা তাদের ক্বারী নামে আখ্যায়িত করতাম। তারা দিনের বেলা লাকড়ী সংগ্রহ করতেন আর রাতে সালাতে মগ্ন থাকতেন। তারা তাঁদের নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল। যখন তাঁরা 'বীরে মাউনা' নামক স্থানে পৌঁছালো, তখন তারা আনসার সাহাবীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো এবং তাঁদেরকে হত্যা করলো। এ সংবাদ শোনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিল, যাকওয়ান ও বনূ লাহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একমাস পর্যন্ত কুনূতে নাযেলার মাধ্যমে বদ-দুআ করেছিলেন। কাতাদা রহ. বলেন, আনাস রাযি. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তারা তাঁদের সম্পর্কে কিছুকাল যাবৎ কুরআনের এ আয়াতটি পড়তে থাকেন: আমাদের সংবাদ আমাদের কওমের নিকট পৌঁছে দাও যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাক্ষাত পেয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকে সন্তুষ্ট করেছেন। এরপর এ আয়াত পাঠ করা বন্ধ করে দেয়া হয় অর্থাৎ আয়াতটি মানসুখ হয়ে যায়। (বুখারী-৩০৬৪, ২৮০১, ২৮১৪, ৩১৭০, ৪০৮৮, ৪০৮৯, ৪০৯০, ৪০৯১, ৪০৯২, ৪০৯৩, ৪০৯৪, ৪০৯৫, ৪০৯৬, ৬৩৯৪, ইফা.-২৮৪৮, মুসলিম-৬৭৭, নাসাঈ-১০৭০, ১০৭১, ১০৭৭, আবু দাউদ-১৪৪৪, ইবনে মাজাহ-১১৮৩, ১১৮৪, আহমাদ-১১৪৭, ১১৭৪২, ১২২৪৪, ১২২৯৪, ১২৪৩৮, ১২৫০০, ১৩০৫০, ১৩৬৬০, দারিমী-১৫৯৬, ১৫৯৯, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: আলোচ্য পরিচ্ছেদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, ইত্যাদির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সৈন্যবাহিনী (রিজার্ভ ফোর্স) পাঠিয়ে সাহায্য করা জায়েয। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে বর্ণিত চারটি গোত্রের লোকদেরকে দ্বীনী শিক্ষা এবং কওমের অমুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য সত্তর জন হাফেজে কুরআন সাহাবীকে প্রেরণ করেছিলেন। তারা যখন 'বীরে মাউনা' নামক স্থানে পৌঁছালেন তখন ঐসব মুনাফিক বিশ্বাসঘাতকতা করে সাহাবীদেরকে শহীদ করে ফেলে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহীর মাধ্যমে এ সংবাদ শোনার পর রি'ল, যাকওয়ান ও বনূ লাহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একমাস পর্যন্ত কুনূতে নাযেলার মাধ্যমে বদ-দুআ করেছিলেন। হযরত আনাস রাযি. বলেন, 'বীরে মাউনা'র কাছে শাহাদাৎবরণকারী সাহাবীদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়-

أَلا بَلِّغُوا عَنَّا قَوْمَنَا بِأَنَّا قَدْ لَقِيَنَا رَبَّنَا ، فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا

“আমাদের সংবাদ আমাদের কওমের নিকট পৌঁছে দাও যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাক্ষাত পেয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকে সন্তুষ্ট করেছেন।” উল্লেখ্য যে, পরবর্তীতে এ আয়াতটি মানসুখ হয়ে যায়। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-৩য় খন্ড)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00