📄 খানা খাওয়ার সময় শয়তানের হাত ধরে ফেললেন
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا لَمْ نَضَعُ أَيْدِيَنَا حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعَ يَدَهُ وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ مَرَّةً طَعَامًا فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّهَا تُدْفَعُ فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهَا ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَجَاءَ بِهَذَا الْأَعْرَابِي لِيَسْتَحِلَّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدِهَا : ثُمَّ ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ وَأَكَلَ
অর্থ: হযরত হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যখন খানা খেতে বসতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতক্ষণ পর্যন্ত খানা শুরু না করতেন, ততক্ষণ আমরা খানায় হাত দিতাম না। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খানা খেতে উপস্থিত হলাম। এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে এসে (এমনভাবে) খাদ্যের উপর ঝুঁকে পড়লো (যেন তাকে তাড়ানো হয়েছে)। সে খাবারে হাত রাখতে যাচ্ছিল, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর আরেক বেদুঈন আসলো। সেও যেন খাবারের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারও হাত ধরে ফেললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না (বিসমিল্লাহ বলা হয় না), শয়তান সেই খাদ্যকে (নিজের জন্য) হালাল করে নেয়। শয়তান এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিলো এর দ্বারা নিজের খাবার হালাল করার জন্য। আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর শয়তান এ বেদুঈনকে নিয়ে আসে এর সাহায্যে তার নিজের খাবার হালাল করার জন্য। আমি তারও হাত ধরে ফেললাম। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! এ দু'জনের হাতের সাথে শয়তানের হাতও আমার হাতে (মুষ্টিবদ্ধ) আছে। তারপর তিনি আল্লাহর নাম নিলেন (বিসমিল্লাহ পড়লেন) এবং খানা খেলেন। (মুসলিম-৫৩৭৮, ৫১৫৪, ইফা.-৫০৮৯, তিরমিযী-১৮১২, ২৮৫৭, আবু দাউদ-৩৭৩১, ৩৭৩৩, ইবনে মাজাহ-৩৪১০, আহমাদ-১৩৮১৬, ১৩৮৭১, ১৪০২৫, ১৪৫৯৭, মালিক-১৭২৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 তিন ফকিরের বিস্ময়কর ঘটনা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ, أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ ثَلَاثَةً فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ: أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى، بَدَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا، فَأَتَى الأَبْرَصَ، فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: لَوْنْ حَسَنٌ، وَجِلْدٌ حَسَنٌ، قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ، فَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا، وَجِلدًا حَسَنًا، فَقَالَ : أَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الْإِبِلُ، أَوْ قَالَ: البَقَرُ، هُوَ شَكٍّ فِي ذَلِكَ : إِنَّ الأَبْرَصَ، وَالأَقْرَعَ، قَالَ أَحَدُهُمَا الْإِبِلُ، وَقَالَ الْآخَرُ: البَقَرُ ، فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ، فَقَالَ: يُبَارَكُ لَكَ فِيهَا وَأَتَى الأَقْرَعَ فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ شَعَرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا ، قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا، قَالَ: فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: البَقَرُ، قَالَ: فَأَعْطَاهُ بَقَرَةً حَامِلا ، وَقَالَ: يُبَارَكُ لَكَ فِيهَا ، وَأَتَى الأَعْمَى فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: يَرُدُّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي، فَأُبْصِرُ بِهِ النَّاسَ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ، قَالَ: فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ الغَلَمُ : فَأَعْطَاهُ شَاةٌ وَالِدًا، فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَدَ هَذَا، فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنْ إِبِلٍ ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنْ بَقَرٍ ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنْ غَنَمٍ ، ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينَ، تَقَطَّعَتْ بِي الحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلاغَ اليَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الحَسَنَ، وَالجِلْدَ الحَسَنَ وَالمَالَ ، بَعِيرًا أَتَبَلَّغْ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي، فَقَالَ لَهُ: إِنَّ الحُقُوقَ كَثِيرَةٌ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ ، أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ، فَقِيرًا فَأَعْطَاكَ اللَّهُ؟ فَقَالَ: لَقَدْ وَرِثْتُ لِكَابِرٍ عَنْ كَابِرٍ ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ، وَأَتَى الأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ لَهُ: مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا، فَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَيْهِ هَذَا. فَقَالَ : إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ، وَأَتَى الأَعْمَى فِي صُورَتِهِ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينَ وَابْنُ سَبِيلٍ وَتَقَطَّعَتْ بِي الحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلاغَ اليَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةً أَتَبَلَّغْ بِهَا فِي سَفَرِي، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ بَصَرِي، وَفَقِيرًا فَقَدْ أَغْنَانِي، فَخُذْ مَا شِئْتَ، فَوَاللَّهِ لَا أَجْهَدُكَ اليَوْمَ بِشَيْءٍ أَخَذْتَهُ لِلَّهِ، فَقَالَ أَمْسِكَ مَالَكَ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ، فَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ، وَسَخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক (রোগী) ছিলো। তাদের একজন শ্বেতরোগী (কুষ্ট), একজন মাথায় টাকওয়ালা, আরেকজন অন্ধ। মহান আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। তাই তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন।
ফেরেশতা প্রথমে শ্বেত রোগীর কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কোন জিনিস বেশী প্রিয়? সে বললো, সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া। কেননা, মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তার রোগ ভালো হয়ে গেল। তাকে সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া দান করা হলো। তারপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন প্রকার ধন-সম্পদ তোমার কাছ বেশী প্রিয়? সে বললো, 'উট' অথবা সে বললো, 'গরু'। এ ব্যাপারে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে যে শ্বেতরোগী না টাকওয়ালা দু'জনের একজন বলেছিল 'উট' আর অপরজন বলেছিল 'গরু'। অতএব তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেয়া হলো। তখন ফেরেশতা বললেন, "এতে তোমার বরকত হোক।”
এরপর ফেরেশতা টাকওয়ালার কাছে গেলেন এবং বললেন, তোমার কাছে কি জিনিস পছন্দনীয়? সে বললো, সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এ রোগ চলে যায়। কেননা মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মাথার টাক চলে গেল। তাকে (তার মাথায়) সুন্দর চুল দেয়া হলো। এরপর ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বললো, 'গরু'। তারপর তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করলেন এবং ফেরেশতা বরকতের জন্য দুআ করলেন।
তারপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস তোমার কাছে বেশী প্রিয়? সে বললো, আল্লাহ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি মানুষকে দেখতে পারি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন ফেরেশতা তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে সাথে সাথেই আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সম্পদ তোমার কাছে অধিক প্রিয়? সে বললো, 'ছাগল।' তখন ফেরেশতা তাকে একটি গর্ভবতী ছাগী দিলেন।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (কিছু দিনের মধ্যে) উপরোক্ত (তিন প্রকার) লোকদের পশুগুলো (প্রচুর) বাচ্চা দিল। একজনের উটে ময়দান ভরে গেল, অপরজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আরেকজনের ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল। এরপর ঐ ফেরেশতা তাঁর পূর্ববর্তী আকৃতি ধারণ করে (তাদেরকে পরীক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্যে) প্রথমে শ্বেতরোগীর কাছে এসে বললেন, আমি একজন নিঃস্ব (ভিক্ষুক) লোক। আমার সফরের সকল (সম্বল) শেষ হয়ে গেছে। আজ আমার গন্তব্য স্থানে পৌঁছানোর আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমি তোমার কাছে ঐ সত্তার নামে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং, কোমল চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন। আমি এর উপর সওয়ার হয়ে আমার গন্তব্যে পৌঁছাব। তখন লোকটি তাকে বললো, আমার উপর বহু দায় দায়িত্ব রয়েছে। (কাজেই আমার পক্ষে দান করা সম্ভব নয়) তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি এক সময় শ্বেতরোগী ছিলে না? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত। তুমি কি ফকীর ছিলে না? এরপর আল্লাহ তা'আলা তোমাকে (প্রচুর সম্পদ) দান করেছেন। তখন সে বললো, আমি তো এ সম্পদ আমার পূর্বপুরুষ থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা বললেন, তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক, তবে আল্লাহ তোমাকে সেরূপ করে দিন, যেমন তুমি পূর্বে ছিলে।
তারপর ফেরেশতা মাথায় টাকওয়ালার কাছে তাঁর সেই বেশভূষা ও আকৃতিতে গেলেন এবং তাকে ঠিক তদ্রূপই বললেন, যেরূপ তিনি শ্বেতরোগীকে বলেছিলেন। টাকওয়ালাও তাকে অনুরূপ জবাব দিল যেমন জবাব দিয়েছিল শ্বেতরোগী। তখন ফেরেশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় ফিরিয়ে দিন, যেমন তুমি আগে ছিলে।
সর্বশেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে তাঁর আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন, আমি একজন নিঃস্ব লোক, মুসাফির মানুষ; আমার সফরের সকল সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ বাড়ি পৌঁছার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া কোনো গতি নেই। তাই আমি তোমার কাছে সেই সত্তার নামে একটি ছাগী প্রার্থনা করছি, যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর আমি এ ছাগীটি নিয়ে আমার এ সফরে বাড়ি পৌঁছতে পারব। সে বললো, (তুমি সত্যই বলেছ) পূর্বে আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি ফকির ছিলাম। আল্লাহ আমাকে ধনী করেছেন। এখন তুমি যা চাও নিয়ে যাও। আল্লাহর কসম। আল্লাহর ওয়াস্তে তুমি যা কিছু নিবে, তার জন্য আমি তোমার নিকট কোনো প্রশংসা দাবী করবো না। তখন ফেরেশতা বললেন, তোমার মাল তুমি রেখে দাও। তোমাদের তিন জনকে পরীক্ষা করা হলো। (তুমি পরীক্ষায় পাশ করেছ ফলে) আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তোমার দু'সাথী (পরীক্ষায় ফেল করেছে ফলে) আল্লাহ তাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। (বুখারী- ৩৪৬৪, ৬৬৫৩, ইফা.-৩২১৫, মুসলিম-২৯৬৪, মিশকাত-১৮৭৮, ইবনে হিব্বান-৩১৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 বিস্ময়কর গায়েবী মদদ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 মেঘ থেকে ঘোষণা এলো, অমুকের জমিতে বৃষ্টি হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : بَيْنَا رَجُلٌ بِفَلَاةٍ مِنَ الأَرْضِ فَسَمِعَ صَوْتًا فِي سَحَابَةٍ اسْقِ حَدِيقَةً فُلانٍ فَتَنَقَّى ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَاءَهُ فِي حَرَّةٍ فَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشَّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتْ ذَلِكَ الْمَاءَ كُلَّهُ فَتَتَبَّعَ الْمَاءَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِي حَدِيقَتِهِ يُحَوِّلُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا اسْمُكَ قَالَ فُلانٌ. لِلإِسْمِ الَّذِي سَمِعَ فِي السَّحَابَةِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ لِمَ تَسْأَلُنِي عَنِ اسْمِي فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّحَابِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهُ يَقُولُ اسْقِ حَدِيقَةً فُلانٍ لِاِسْمِكَ فَمَا تَصْنَعُ فِيهَا قَالَ أَمَّا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ وَأَكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثَا وَأَرْدُّ فِيهَا ثُلُثَهُ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: একদা এক ব্যক্তি কোনো এক জঙ্গলে (বিরাণ মাঠে) দাঁড়িয়ে ছিলো। হঠাৎ সে (আকাশের) মেঘের মধ্য থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন যে, অমুকের বাগানে পানি বর্ষণ করো। সঙ্গে সঙ্গেই ঐ মেঘমালাটি সেদিকে সরে গিয়ে একটি কংকরময় জমিতে বৃষ্টিপাত আরম্ভ করলো। ঐ স্থানের নালা সমূহের একটি নালা ঐ পানিতে সম্পূর্ণরূপে ভরে গেল। তখন সে লোকটি পানির অনুসরণ করে চললো। যেতে যেতে সে এক ব্যক্তিকে তার বাগানে দাঁড়ানো অবস্থায় কোদাল (সেচনী) দিয়ে পানি ভরতে দেখতে পেল। এ দেখে সে তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর বান্দা! আপনার নাম কি? সে বললো, আমার নাম অমুক, যা তুমি মেঘ খণ্ডের মাঝে শুনতে পেয়েছ। অতঃপর বাগানের মালিক তাকে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে কেন? সে বললো, আমি মেঘের মধ্যে এ আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, তোমার নাম নিয়ে বলছে যে, অমুকের বাগানে পানি দাও, (আর সেটি তোমার নাম)। সুতরাং এখন বলো, তুমি এ বাগান দিয়ে কি করো? বাগানের মালিক বললো, যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করছো তাই বলছি, এ বাগানে যে ফসল উৎপন্ন হয় প্রথমে তা আমি হিসাব করি। এরপর সেখান থেকে এক-তৃতীয়াংশ (তিনের একাংশ) আল্লাহর রাস্তায় দান করি; এক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবারের জন্য রেখে দেই এবং এক-তৃতীয়াংশ বাগানের উন্নয়নের কাজে খরচ করি। (সহীহ মুসলিম-৭৬৬৪, ২৯৮৪, ইফা.-৭২০৩, আহমাদ-৭৮৮১, মিশকাত-১৮৭৭, জামিউস সগীর-২৮৬৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)