📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 আমীরের হুকুম অমান্য করার কারণে কঠিন বিপর্যয় ঘটে

📄 আমীরের হুকুম অমান্য করার কারণে কঠিন বিপর্যয় ঘটে


عَنْ البَرَاءِ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يُحَدِّثُ قَالَ: جَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الرَّجَالَةِ يَوْمَ أَحُدٍ، وَكَانُوا خَمْسِينَ رَجُلًا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُبَيْرٍ، فَقَالَ : إِنْ رَأَيْتُمُونَا تَخْطَفُنَا الطَّيْرُ فَلَا تَبْرَحُوا مَكَانَكُمْ، هَذَا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ، وَإِنْ رَأَيْتُمُونَا هَزَمْنَا القَوْمَ وَأَوْطَأْنَاهُمْ ، فَلَا تَبْرَحُوا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ ، فَهَزَمُوهُمْ ، قَالَ: فَأَنَا وَاللَّهِ رَأَيْتُ النِّسَاءَ يَشْتَدِدْنَ ، قَدْ بَدَتْ خَلَاخِلُهُنَّ وَأَسْوقُهُنَّ، رَافِعَاتٍ ثِيَابَهُنَّ، فَقَالَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُبَيْرِ: الغَنِيمَةَ أَيْ قَوْمِ الغَنِيمَةَ، ظَهَرَ أَصْحَابُكُمْ فَمَا تَنْتَظِرُونَ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جُبَيْرٍ : أَنَسِيتُمْ مَا قَالَ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالُوا : وَاللَّهِ لَتَأْتِيَنَّ النَّاسَ، فَلَنُصِيبَنَّ مِنَ الغَنِيمَةِ، فَلَمَّا أَتَوْهُمْ صُرِفَتْ وُجُوهُهُمْ، فَأَقْبَلُوا مُنْهَزِمِينَ، فَذَاكَ إِذْ يَدْعُوهُمُ الرَّسُولُ فِي أُخْرَاهُمْ ، فَلَمْ يَبْقَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرُ اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا، فَأَصَابُوا مِنَّا سَبْعِينَ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ أَصَابُوا مِنَ المُشْرِكِينَ يَوْمَ بَدْرٍ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً، سَبْعِينَ أَسِيرًا وَسَبْعِينَ قَتِيلًا، فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: أَنِي القَوْمِ مُحَمَّدٌ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجِيبُوهُ، ثُمَّ قَالَ: أَفِي القَوْمِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: أَنِي القَوْمِ ابْنُ الخَطَابِ؟ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ: أَمَّا هَؤُلاءِ، فَقَدْ قُتِلُوا، فَمَا مَلَكَ عُمَرُ نَفْسَهُ، فَقَالَ : كَذَبْتَ وَاللَّهِ يَا عَدُوَّ اللَّهِ ، إِنَّ الَّذِينَ عَدَدْتَ لَأَحْيَاءٌ كُلُّهُمْ ، وَقَدْ بَقِيَ لَكَ مَا يَسُوءُكَ ، قَالَ : يَوْمُ بِيَوْمِ بَدْرٍ ، وَالحَرْبُ سِجَالٌ إِنَّكُمْ سَتَجِدُونَ فِي القَوْمِ مُثْلَةً، لَمْ آمُرُ بِهَا وَلَمْ تَسُؤْنِي، ثُمَّ أَخَذَ يَرْتَجِزُ : أُعْلُ هُبَلُ، أُعْلُ هُبَلُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلا تُجِيبُوا لَهُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: قُولُوا: اللهُ أَعْلَى وَأَجَلٌ, قَالَ: إِنَّ لَنَا العُزَّى وَلا عُزّى لَكُمْ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلا تُجِيبُوا لَهُ؟ ، قَالَ: قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: قُولُوا اللَّهُ مَوْلَانَا، وَلَا مَوْلَى لَكُمْ

অর্থ: বারা ইবনে আযিব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-কে পঞ্চাশজন পদাতিক সৈন্যের আমীর নিযুক্ত করেন এবং এ কথা বলেন, তোমরা যদি দেখ যে, আমাদেরকে পাখীরা (শত্রুরা) ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে, তথাপি তোমরা আমার নিকট হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। আর যদি তোমরা দেখ যে, আমরা শত্রু দলকে পরাস্ত করেছি এবং আমরা তাদেরকে পদদলিত করেছি, তখনো আমার পক্ষ হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। এরপর মুসলমানগণ কাফিরদেরকে যুদ্ধে পরাস্ত করলো। বারা রাযি. বলেন, আল্লাহর কসম! আমি মুশরিক নারীদেরকে দেখতে পেলাম যে, তারা নিজ পরিধেয় বস্ত্র উপরে উঠিয়ে পলায়ন করছে। তাতে পায়ের অলঙ্কার ও পায়ের নলা উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে।

তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর সহযোগীগণ বলতে লাগলেন, 'লোক সকল! এখন তোমরা গনীমতের মাল সংগ্রহ করো। তোমাদের সাথীরা বিজয় লাভ করেছে। আর অপেক্ষা কিসের? তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা বলেছিলেন, তোমরা কি তা ভুলে গিয়েছ? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ, আমরা লোকদের সাথে মিলিত হয়ে গনীমতের মাল সংগ্রহে অংশগ্রহণ করবো। তারপর যখন তারা স্ব-স্থান ত্যাগ করে নিজেদের লোকজনের নিকট পৌঁছল, তখন (কাফির কর্তৃক) তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে থাকেন। এটা সে সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে পেছন থেকে ডেকেছিলেন। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ১২জন লোক ব্যতীত আর কেউই অবশিষ্ট ছিলো না। কাফিররা এ সুযোগে মুসলমানদের ৭০জনকে শহীদ করে। এর পূর্বে বদর যুদ্ধে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীরা মুশরিকদের ৭০জনকে বন্দী ও ৭০জনকে হত্যা করেন। এ সময় আবু সুফিয়ান তিনবার আওয়াজ দিল, লোকদের মধ্যে কি মুহাম্মাদ জীবিত আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উত্তর দিতে নিষেধ করেন। পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, লোকদের মধ্যে কি আবু কুহাফার পুত্র (আবু বকর রাযি.) জীবিত আছে? পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, লোকদের মধ্যে কি খাত্তাবের পুত্র (উমর রাযি.) জীবিত আছে? তারপর সে নিজ লোকদের নিকট গিয়ে বললো, এরা সবাই নিহত হয়েছে। এ সময় উমর রাযি. ধৈর্য্যধারণ করতে পারলেন না। তিনি বলে উঠলেন; 'হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহর কসম, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি যাদের নাম বলছো তারা সবাই জীবিত আছেন। তোমাদের জন্যে চরম পরিণতি অবশিষ্ট রয়েছে। আবু সুফিয়ান বললো, আজ বদরের প্রতিশোধ (গ্রহণ করা হলো)। যুদ্ধ তো বালতির ন্যায়। তোমরা তোমাদের লোকজনের মধ্যে নাক-কান কর্তিত দেখতে পাবে। আমি এর নির্দেশ দেইনি, কিন্তু তা আমি অপছন্দও করিনি। এরপর বলতে লাগল, হে হুবাল (মূর্তি)! তোমার মাথা উঁচু হোক।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা এর উত্তর দিবে না? তারা বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি জবাব দিবো? তিনি বললেন, তোমরা বলো,- أَعْلَى وَأَجَلُّ اللَّهُ অর্থাৎ, আল্লাহই সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, তিনিই মাহিমান্বিত।” আবু সুফিয়ান বললো, আমাদের উযযা (দেবতা) রয়েছে, তোমাদের উযযা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এর উত্তর দিবে না? বারা রাযি. বলেন, সাহাবাগণ বললেন,' 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি জবাব দিবো? তিনি বললেন, তোমরা বলো,

اللَّهُ مَوْلَانَا ، وَلَا مَوْلَى لَكُمْ

আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী অভিভাবক, তোমাদের কোনো সাহায্যকারী অভিভাবক নেই। (বুখারী-৩০৩৯, ৩৯৮৬, ৪০৪৩, ৪০৬৭, ৪৫৬১,, ইফা.-২৮২৫, আবু দাউদ-২৬৬২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: আমীরের নির্দেশ অমান্য করলে সেই জাতির পরিণতি কতো করুণ হয়, তা আলোচ্য হাদীস থেকে উপলব্ধি করা যায়। মাত্র একটি আদেশ অমান্য করার কারণে বিজয় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও গোটা মুসলিম জাতিকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিলো। সাতশ' সাহাবায়ে কিরামের প্রায় সকলেই যখম হয়েছিলেন, ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিলো তাদের পবিত্র দেহ। এমনকি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মারাত্মক যখমে রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে ছিলেন। কি করুণ পরিণতি! শুধু আমীরের একটি আদেশ অমান্য করার কারণে। এজন্য আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে যেখানেই আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের কথা বলেছেন, সেখানেই আমীরের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন-

يٰاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِي الْاَمْرِ مِنْكُمْۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّسُوْلِ

অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমীরের আনুগত্য করো। তবে তোমাদের মাঝে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরে যাবে অর্থাৎ কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী ফায়সালা করবে। (সূরা নিসা-৫৯)

এই আয়াত দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, 'আমীরুল মুজাহিদীন' এর আনুগত্য করা ফরয। আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে- 'যদি তোমাদের মাঝে ইখতিলাফ দেখা দেয় কিংবা তোমাদের আমীরের মধ্যে শরীয়তের খেলাফ কোনো জিনিস দেখতে পাও, তবে অবশ্যই কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী তার ফায়সালা করবে। কিন্তু কোনোভাবেই আমীরের বিরোধীতা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 খানা খাওয়ার সময় শয়তানের হাত ধরে ফেললেন

📄 খানা খাওয়ার সময় শয়তানের হাত ধরে ফেললেন


عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا لَمْ نَضَعُ أَيْدِيَنَا حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعَ يَدَهُ وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ مَرَّةً طَعَامًا فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّهَا تُدْفَعُ فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهَا ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَجَاءَ بِهَذَا الْأَعْرَابِي لِيَسْتَحِلَّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدِهَا : ثُمَّ ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ وَأَكَلَ

অর্থ: হযরত হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যখন খানা খেতে বসতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতক্ষণ পর্যন্ত খানা শুরু না করতেন, ততক্ষণ আমরা খানায় হাত দিতাম না। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খানা খেতে উপস্থিত হলাম। এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে এসে (এমনভাবে) খাদ্যের উপর ঝুঁকে পড়লো (যেন তাকে তাড়ানো হয়েছে)। সে খাবারে হাত রাখতে যাচ্ছিল, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর আরেক বেদুঈন আসলো। সেও যেন খাবারের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারও হাত ধরে ফেললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না (বিসমিল্লাহ বলা হয় না), শয়তান সেই খাদ্যকে (নিজের জন্য) হালাল করে নেয়। শয়তান এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিলো এর দ্বারা নিজের খাবার হালাল করার জন্য। আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর শয়তান এ বেদুঈনকে নিয়ে আসে এর সাহায্যে তার নিজের খাবার হালাল করার জন্য। আমি তারও হাত ধরে ফেললাম। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! এ দু'জনের হাতের সাথে শয়তানের হাতও আমার হাতে (মুষ্টিবদ্ধ) আছে। তারপর তিনি আল্লাহর নাম নিলেন (বিসমিল্লাহ পড়লেন) এবং খানা খেলেন। (মুসলিম-৫৩৭৮, ৫১৫৪, ইফা.-৫০৮৯, তিরমিযী-১৮১২, ২৮৫৭, আবু দাউদ-৩৭৩১, ৩৭৩৩, ইবনে মাজাহ-৩৪১০, আহমাদ-১৩৮১৬, ১৩৮৭১, ১৪০২৫, ১৪৫৯৭, মালিক-১৭২৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 তিন ফকিরের বিস্ময়কর ঘটনা

📄 তিন ফকিরের বিস্ময়কর ঘটনা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ, أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ ثَلَاثَةً فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ: أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى، بَدَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا، فَأَتَى الأَبْرَصَ، فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: لَوْنْ حَسَنٌ، وَجِلْدٌ حَسَنٌ، قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ، فَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا، وَجِلدًا حَسَنًا، فَقَالَ : أَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الْإِبِلُ، أَوْ قَالَ: البَقَرُ، هُوَ شَكٍّ فِي ذَلِكَ : إِنَّ الأَبْرَصَ، وَالأَقْرَعَ، قَالَ أَحَدُهُمَا الْإِبِلُ، وَقَالَ الْآخَرُ: البَقَرُ ، فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ، فَقَالَ: يُبَارَكُ لَكَ فِيهَا وَأَتَى الأَقْرَعَ فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ شَعَرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا ، قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا، قَالَ: فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: البَقَرُ، قَالَ: فَأَعْطَاهُ بَقَرَةً حَامِلا ، وَقَالَ: يُبَارَكُ لَكَ فِيهَا ، وَأَتَى الأَعْمَى فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: يَرُدُّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي، فَأُبْصِرُ بِهِ النَّاسَ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ، قَالَ: فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ الغَلَمُ : فَأَعْطَاهُ شَاةٌ وَالِدًا، فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَدَ هَذَا، فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنْ إِبِلٍ ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنْ بَقَرٍ ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنْ غَنَمٍ ، ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينَ، تَقَطَّعَتْ بِي الحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلاغَ اليَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الحَسَنَ، وَالجِلْدَ الحَسَنَ وَالمَالَ ، بَعِيرًا أَتَبَلَّغْ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي، فَقَالَ لَهُ: إِنَّ الحُقُوقَ كَثِيرَةٌ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ ، أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ، فَقِيرًا فَأَعْطَاكَ اللَّهُ؟ فَقَالَ: لَقَدْ وَرِثْتُ لِكَابِرٍ عَنْ كَابِرٍ ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ، وَأَتَى الأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ لَهُ: مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا، فَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَيْهِ هَذَا. فَقَالَ : إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ، وَأَتَى الأَعْمَى فِي صُورَتِهِ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينَ وَابْنُ سَبِيلٍ وَتَقَطَّعَتْ بِي الحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلاغَ اليَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةً أَتَبَلَّغْ بِهَا فِي سَفَرِي، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ بَصَرِي، وَفَقِيرًا فَقَدْ أَغْنَانِي، فَخُذْ مَا شِئْتَ، فَوَاللَّهِ لَا أَجْهَدُكَ اليَوْمَ بِشَيْءٍ أَخَذْتَهُ لِلَّهِ، فَقَالَ أَمْسِكَ مَالَكَ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ، فَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ، وَسَخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক (রোগী) ছিলো। তাদের একজন শ্বেতরোগী (কুষ্ট), একজন মাথায় টাকওয়ালা, আরেকজন অন্ধ। মহান আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। তাই তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন।
ফেরেশতা প্রথমে শ্বেত রোগীর কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কোন জিনিস বেশী প্রিয়? সে বললো, সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া। কেননা, মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তার রোগ ভালো হয়ে গেল। তাকে সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া দান করা হলো। তারপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন প্রকার ধন-সম্পদ তোমার কাছ বেশী প্রিয়? সে বললো, 'উট' অথবা সে বললো, 'গরু'। এ ব্যাপারে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে যে শ্বেতরোগী না টাকওয়ালা দু'জনের একজন বলেছিল 'উট' আর অপরজন বলেছিল 'গরু'। অতএব তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেয়া হলো। তখন ফেরেশতা বললেন, "এতে তোমার বরকত হোক।”
এরপর ফেরেশতা টাকওয়ালার কাছে গেলেন এবং বললেন, তোমার কাছে কি জিনিস পছন্দনীয়? সে বললো, সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এ রোগ চলে যায়। কেননা মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মাথার টাক চলে গেল। তাকে (তার মাথায়) সুন্দর চুল দেয়া হলো। এরপর ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বললো, 'গরু'। তারপর তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করলেন এবং ফেরেশতা বরকতের জন্য দুআ করলেন।
তারপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস তোমার কাছে বেশী প্রিয়? সে বললো, আল্লাহ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি মানুষকে দেখতে পারি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন ফেরেশতা তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে সাথে সাথেই আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সম্পদ তোমার কাছে অধিক প্রিয়? সে বললো, 'ছাগল।' তখন ফেরেশতা তাকে একটি গর্ভবতী ছাগী দিলেন।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (কিছু দিনের মধ্যে) উপরোক্ত (তিন প্রকার) লোকদের পশুগুলো (প্রচুর) বাচ্চা দিল। একজনের উটে ময়দান ভরে গেল, অপরজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আরেকজনের ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল। এরপর ঐ ফেরেশতা তাঁর পূর্ববর্তী আকৃতি ধারণ করে (তাদেরকে পরীক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্যে) প্রথমে শ্বেতরোগীর কাছে এসে বললেন, আমি একজন নিঃস্ব (ভিক্ষুক) লোক। আমার সফরের সকল (সম্বল) শেষ হয়ে গেছে। আজ আমার গন্তব্য স্থানে পৌঁছানোর আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমি তোমার কাছে ঐ সত্তার নামে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং, কোমল চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন। আমি এর উপর সওয়ার হয়ে আমার গন্তব্যে পৌঁছাব। তখন লোকটি তাকে বললো, আমার উপর বহু দায় দায়িত্ব রয়েছে। (কাজেই আমার পক্ষে দান করা সম্ভব নয়) তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি এক সময় শ্বেতরোগী ছিলে না? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত। তুমি কি ফকীর ছিলে না? এরপর আল্লাহ তা'আলা তোমাকে (প্রচুর সম্পদ) দান করেছেন। তখন সে বললো, আমি তো এ সম্পদ আমার পূর্বপুরুষ থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা বললেন, তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক, তবে আল্লাহ তোমাকে সেরূপ করে দিন, যেমন তুমি পূর্বে ছিলে।
তারপর ফেরেশতা মাথায় টাকওয়ালার কাছে তাঁর সেই বেশভূষা ও আকৃতিতে গেলেন এবং তাকে ঠিক তদ্রূপই বললেন, যেরূপ তিনি শ্বেতরোগীকে বলেছিলেন। টাকওয়ালাও তাকে অনুরূপ জবাব দিল যেমন জবাব দিয়েছিল শ্বেতরোগী। তখন ফেরেশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় ফিরিয়ে দিন, যেমন তুমি আগে ছিলে।
সর্বশেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে তাঁর আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন, আমি একজন নিঃস্ব লোক, মুসাফির মানুষ; আমার সফরের সকল সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ বাড়ি পৌঁছার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া কোনো গতি নেই। তাই আমি তোমার কাছে সেই সত্তার নামে একটি ছাগী প্রার্থনা করছি, যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর আমি এ ছাগীটি নিয়ে আমার এ সফরে বাড়ি পৌঁছতে পারব। সে বললো, (তুমি সত্যই বলেছ) পূর্বে আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি ফকির ছিলাম। আল্লাহ আমাকে ধনী করেছেন। এখন তুমি যা চাও নিয়ে যাও। আল্লাহর কসম। আল্লাহর ওয়াস্তে তুমি যা কিছু নিবে, তার জন্য আমি তোমার নিকট কোনো প্রশংসা দাবী করবো না। তখন ফেরেশতা বললেন, তোমার মাল তুমি রেখে দাও। তোমাদের তিন জনকে পরীক্ষা করা হলো। (তুমি পরীক্ষায় পাশ করেছ ফলে) আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তোমার দু'সাথী (পরীক্ষায় ফেল করেছে ফলে) আল্লাহ তাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। (বুখারী- ৩৪৬৪, ৬৬৫৩, ইফা.-৩২১৫, মুসলিম-২৯৬৪, মিশকাত-১৮৭৮, ইবনে হিব্বান-৩১৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বিস্ময়কর গায়েবী মদদ

📄 বিস্ময়কর গায়েবী মদদ


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00