📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 শহীদ হওয়ার আশায় মুখের খেজুর ছুঁড়ে মারলেন

📄 শহীদ হওয়ার আশায় মুখের খেজুর ছুঁড়ে মারলেন


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَتَّى سَبَقُوا الْمُشْرِكِينَ إِلَى بَدْرٍ, وَجَاءَ الْمُشْرِكُونَ, فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم, لا يُقَدِّ مَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَى شَيْءٍ حَتَّى أَكُونَ أَنَا دُونَهُ.
فَدَنَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم, قُومُوا إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ. قَالَ يَقُولُ عُمَيْرُ بْنُ الْحُمَامِ الأَنْصَارِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَنَّةٌ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ قَالَ نَعَمْ . قَالَ بَحْ بَحْ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم, مَا يَحْمِلُكَ عَلَى قَوْلِكَ بَحْ بَحْ. قَالَ لا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا رَجَاءَةَ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِهَا . قَالَ فَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِهَا فَأَخْرَجَ تَمَرَاتٍ مِنْ قَرْنِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ مِنْهُنَّ ثُمَّ قَالَ لَئِنْ أَنَا حَبِيتُ حَتَّى أَكُلَ تَمَرَاتِي هَذِهِ إِنَّهَا لَحَيَاةً طَوِيلَةٌ قَالَ فَرَقَى بِمَا كَانَ مَعَهُ مِنَ التَّمْرِ . ثُمَّ قَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ.

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বদর যুদ্ধের দিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং মুশরিকদের আগেই বদরে পৌঁছে গেলেন। এরপর মুশরিকরাও এসে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যতক্ষণ আমি অগ্রসর না হবো, ততক্ষণ তোমাদের কেউ যেন কোন কিছুর দিকে এগিয়ে না যায়। তারপর যখন মুশরিকরা কাছে আসলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এবার জান্নাতে যাওয়ার জন্য তৈরি হও, যে জান্নাতের বিস্তৃতি হলো আসমান ও জমিনের সমান। হযরত আনাস রাযি. বললেন, উমাইর ইবনুল হুমাম আনসারী রাযি. বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাতের বিস্তৃতি আসমান ও জমীনের সমান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বললো, বাহ! বাহ! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতে অবাক হবার কি আছে। তুমি বাহ! বাহ! বলছ কেন? উমাইর রাযি. বললেন, না, আল্লাহর কসম তা নয়। এ কথা আমি কেবলমাত্র এ আশায় বলেছি, যাতে আমি তার অধিবাসী হতে পারি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি নিশ্চিত জান্নাতের অধিবাসী। এ কথা শুনে উমাইর রাযি. নিজের তীরদানী থেকে কিছু খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে থাকলেন। তারপর বলতে লাগলেন, যদি আমার এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত আমি জীবিত থাকতে চাই, তাহলে তো অনেক সময় লাগবে। এ কথা বলে তার কাছে যেসব খেজুর ছিলো তা ছুঁড়ে মেরে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেলেন। (মুসলিম-৫০২৪, ৪৮০৯, ইফা.-৪৭৬২, আবু দাউদ- ২৬১৮, আহমাদ-১১৯৯০, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 দু’জন কিশোর সাহাবী আবু জাহেলকে হত্যা করলো

📄 দু’জন কিশোর সাহাবী আবু জাহেলকে হত্যা করলো


قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ : إِنِّي لَفِي الصَّفِّ يَوْمَ بَدْرٍ إِذِ التَفَتُ فَإِذَا عَنْ يَمِينِي وَعَنْ يَسَارِي فَتَيَانِ حَدِيثًا السِّنِّ، فَكَأَنِّي لَمْ آمَنْ بِمَكَانِهِمَا، إِذْ قَالَ لِي أَحَدُهُمَا سِرًّا مِنْ صَاحِبِهِ : يَا عَمِّ أَرِنِي أَبَا جَهْلٍ، فَقُلْتُ: يَا ابْنَ أَخِي، وَمَا تَصْنَعُ بِهِ؟ قَالَ: عَاهَدْتُ اللَّهَ إِنْ رَأَيْتُهُ أَنْ أَقْتُلَهُ أَوْ أَمُوتَ دُونَهُ، فَقَالَ لِي الْآخَرُ سِرًّا مِنْ صَاحِبِهِ مِثْلَهُ، قَالَ: فَمَا سَرَّنِي أَنِّي بَيْنَ رَجُلَيْنِ مَكَانَهُمَا، فَأَشَرْتُ لَهُمَا إِلَيْهِ، فَشَدَّا عَلَيْهِ مِثْلَ الصَّقْرَيْنِ حَتَّى ضَرَبَاهُ، وَهُمَا ابْنَا عَفْرَاءَ

অর্থ: হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি বদর যুদ্ধে সৈন্যদের সারিতে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম, আমার ডানে ও বামে অল্প বয়সী দু'জন কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। পাশে দু'জন কিশোরকে দেখে আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারলাম না। হঠাৎ দেখি তাদের একজন আরেক জনের অজ্ঞাতে (আস্তে আস্তে) আমাকে জিজ্ঞাসা করল, চাচা, আবু জাহেল কোথায়? আমাকে একটু দেখিয়ে দিন (কেননা আমি শুনেছি সে নাকি আমাদের নবী সা. কে গালি দিয়েছে)। আমি বললাম, ভাতিজা, তাকে দিয়ে তুমি কি করবে? সে বলল, আমি আল্লাহর সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছি, আমি তাকে দেখলে অবশ্যই তাকে হত্যা করব অন্যথায় নিজে শহীদ হবো। অতঃপর দ্বিতীয় কিশোরটিও তার সাথীর অজ্ঞাতে আমাকে একই ধরনের প্রশ্ন করলো। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. বলেন, আমি তাদের কথা শুনে এত বেশি খুশি হলাম যে, দু'জন পূর্ণ বয়স্ক লোকের মাঝে থেকেও এত অধিক খুশি হতাম না। এরপর আমি তাদের দু'জনকে ইশারা করে আবু জাহেলকে দেখিয়ে দিলাম। সাথে সাথে তারা বাজ পাখির মত ক্ষিপ্রতার সাথে আবু জাহেলের উপর ঝাপিয়ে পড়লো এবং প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে তাকে হত্যা করলো। আর এই দু'জন ছিলো 'আফরা'র দু' ছেলে। (বুখারী-৩৯৮৮, ৩৯৬৩, ৪০২০, ৩১৮১, ৪৫৫৪, ইফা,-৩৬৯৬)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 আমীরের হুকুম অমান্য করার কারণে কঠিন বিপর্যয় ঘটে

📄 আমীরের হুকুম অমান্য করার কারণে কঠিন বিপর্যয় ঘটে


عَنْ البَرَاءِ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يُحَدِّثُ قَالَ: جَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الرَّجَالَةِ يَوْمَ أَحُدٍ، وَكَانُوا خَمْسِينَ رَجُلًا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُبَيْرٍ، فَقَالَ : إِنْ رَأَيْتُمُونَا تَخْطَفُنَا الطَّيْرُ فَلَا تَبْرَحُوا مَكَانَكُمْ، هَذَا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ، وَإِنْ رَأَيْتُمُونَا هَزَمْنَا القَوْمَ وَأَوْطَأْنَاهُمْ ، فَلَا تَبْرَحُوا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ ، فَهَزَمُوهُمْ ، قَالَ: فَأَنَا وَاللَّهِ رَأَيْتُ النِّسَاءَ يَشْتَدِدْنَ ، قَدْ بَدَتْ خَلَاخِلُهُنَّ وَأَسْوقُهُنَّ، رَافِعَاتٍ ثِيَابَهُنَّ، فَقَالَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُبَيْرِ: الغَنِيمَةَ أَيْ قَوْمِ الغَنِيمَةَ، ظَهَرَ أَصْحَابُكُمْ فَمَا تَنْتَظِرُونَ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جُبَيْرٍ : أَنَسِيتُمْ مَا قَالَ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالُوا : وَاللَّهِ لَتَأْتِيَنَّ النَّاسَ، فَلَنُصِيبَنَّ مِنَ الغَنِيمَةِ، فَلَمَّا أَتَوْهُمْ صُرِفَتْ وُجُوهُهُمْ، فَأَقْبَلُوا مُنْهَزِمِينَ، فَذَاكَ إِذْ يَدْعُوهُمُ الرَّسُولُ فِي أُخْرَاهُمْ ، فَلَمْ يَبْقَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرُ اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا، فَأَصَابُوا مِنَّا سَبْعِينَ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ أَصَابُوا مِنَ المُشْرِكِينَ يَوْمَ بَدْرٍ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً، سَبْعِينَ أَسِيرًا وَسَبْعِينَ قَتِيلًا، فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: أَنِي القَوْمِ مُحَمَّدٌ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجِيبُوهُ، ثُمَّ قَالَ: أَفِي القَوْمِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: أَنِي القَوْمِ ابْنُ الخَطَابِ؟ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ: أَمَّا هَؤُلاءِ، فَقَدْ قُتِلُوا، فَمَا مَلَكَ عُمَرُ نَفْسَهُ، فَقَالَ : كَذَبْتَ وَاللَّهِ يَا عَدُوَّ اللَّهِ ، إِنَّ الَّذِينَ عَدَدْتَ لَأَحْيَاءٌ كُلُّهُمْ ، وَقَدْ بَقِيَ لَكَ مَا يَسُوءُكَ ، قَالَ : يَوْمُ بِيَوْمِ بَدْرٍ ، وَالحَرْبُ سِجَالٌ إِنَّكُمْ سَتَجِدُونَ فِي القَوْمِ مُثْلَةً، لَمْ آمُرُ بِهَا وَلَمْ تَسُؤْنِي، ثُمَّ أَخَذَ يَرْتَجِزُ : أُعْلُ هُبَلُ، أُعْلُ هُبَلُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلا تُجِيبُوا لَهُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: قُولُوا: اللهُ أَعْلَى وَأَجَلٌ, قَالَ: إِنَّ لَنَا العُزَّى وَلا عُزّى لَكُمْ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلا تُجِيبُوا لَهُ؟ ، قَالَ: قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: قُولُوا اللَّهُ مَوْلَانَا، وَلَا مَوْلَى لَكُمْ

অর্থ: বারা ইবনে আযিব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-কে পঞ্চাশজন পদাতিক সৈন্যের আমীর নিযুক্ত করেন এবং এ কথা বলেন, তোমরা যদি দেখ যে, আমাদেরকে পাখীরা (শত্রুরা) ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে, তথাপি তোমরা আমার নিকট হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। আর যদি তোমরা দেখ যে, আমরা শত্রু দলকে পরাস্ত করেছি এবং আমরা তাদেরকে পদদলিত করেছি, তখনো আমার পক্ষ হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। এরপর মুসলমানগণ কাফিরদেরকে যুদ্ধে পরাস্ত করলো। বারা রাযি. বলেন, আল্লাহর কসম! আমি মুশরিক নারীদেরকে দেখতে পেলাম যে, তারা নিজ পরিধেয় বস্ত্র উপরে উঠিয়ে পলায়ন করছে। তাতে পায়ের অলঙ্কার ও পায়ের নলা উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে।

তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর সহযোগীগণ বলতে লাগলেন, 'লোক সকল! এখন তোমরা গনীমতের মাল সংগ্রহ করো। তোমাদের সাথীরা বিজয় লাভ করেছে। আর অপেক্ষা কিসের? তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা বলেছিলেন, তোমরা কি তা ভুলে গিয়েছ? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ, আমরা লোকদের সাথে মিলিত হয়ে গনীমতের মাল সংগ্রহে অংশগ্রহণ করবো। তারপর যখন তারা স্ব-স্থান ত্যাগ করে নিজেদের লোকজনের নিকট পৌঁছল, তখন (কাফির কর্তৃক) তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে থাকেন। এটা সে সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে পেছন থেকে ডেকেছিলেন। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ১২জন লোক ব্যতীত আর কেউই অবশিষ্ট ছিলো না। কাফিররা এ সুযোগে মুসলমানদের ৭০জনকে শহীদ করে। এর পূর্বে বদর যুদ্ধে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীরা মুশরিকদের ৭০জনকে বন্দী ও ৭০জনকে হত্যা করেন। এ সময় আবু সুফিয়ান তিনবার আওয়াজ দিল, লোকদের মধ্যে কি মুহাম্মাদ জীবিত আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উত্তর দিতে নিষেধ করেন। পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, লোকদের মধ্যে কি আবু কুহাফার পুত্র (আবু বকর রাযি.) জীবিত আছে? পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, লোকদের মধ্যে কি খাত্তাবের পুত্র (উমর রাযি.) জীবিত আছে? তারপর সে নিজ লোকদের নিকট গিয়ে বললো, এরা সবাই নিহত হয়েছে। এ সময় উমর রাযি. ধৈর্য্যধারণ করতে পারলেন না। তিনি বলে উঠলেন; 'হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহর কসম, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি যাদের নাম বলছো তারা সবাই জীবিত আছেন। তোমাদের জন্যে চরম পরিণতি অবশিষ্ট রয়েছে। আবু সুফিয়ান বললো, আজ বদরের প্রতিশোধ (গ্রহণ করা হলো)। যুদ্ধ তো বালতির ন্যায়। তোমরা তোমাদের লোকজনের মধ্যে নাক-কান কর্তিত দেখতে পাবে। আমি এর নির্দেশ দেইনি, কিন্তু তা আমি অপছন্দও করিনি। এরপর বলতে লাগল, হে হুবাল (মূর্তি)! তোমার মাথা উঁচু হোক।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা এর উত্তর দিবে না? তারা বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি জবাব দিবো? তিনি বললেন, তোমরা বলো,- أَعْلَى وَأَجَلُّ اللَّهُ অর্থাৎ, আল্লাহই সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, তিনিই মাহিমান্বিত।” আবু সুফিয়ান বললো, আমাদের উযযা (দেবতা) রয়েছে, তোমাদের উযযা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এর উত্তর দিবে না? বারা রাযি. বলেন, সাহাবাগণ বললেন,' 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি জবাব দিবো? তিনি বললেন, তোমরা বলো,

اللَّهُ مَوْلَانَا ، وَلَا مَوْلَى لَكُمْ

আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী অভিভাবক, তোমাদের কোনো সাহায্যকারী অভিভাবক নেই। (বুখারী-৩০৩৯, ৩৯৮৬, ৪০৪৩, ৪০৬৭, ৪৫৬১,, ইফা.-২৮২৫, আবু দাউদ-২৬৬২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: আমীরের নির্দেশ অমান্য করলে সেই জাতির পরিণতি কতো করুণ হয়, তা আলোচ্য হাদীস থেকে উপলব্ধি করা যায়। মাত্র একটি আদেশ অমান্য করার কারণে বিজয় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও গোটা মুসলিম জাতিকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিলো। সাতশ' সাহাবায়ে কিরামের প্রায় সকলেই যখম হয়েছিলেন, ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিলো তাদের পবিত্র দেহ। এমনকি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মারাত্মক যখমে রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে ছিলেন। কি করুণ পরিণতি! শুধু আমীরের একটি আদেশ অমান্য করার কারণে। এজন্য আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে যেখানেই আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের কথা বলেছেন, সেখানেই আমীরের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন-

يٰاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِي الْاَمْرِ مِنْكُمْۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّسُوْلِ

অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমীরের আনুগত্য করো। তবে তোমাদের মাঝে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরে যাবে অর্থাৎ কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী ফায়সালা করবে। (সূরা নিসা-৫৯)

এই আয়াত দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, 'আমীরুল মুজাহিদীন' এর আনুগত্য করা ফরয। আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে- 'যদি তোমাদের মাঝে ইখতিলাফ দেখা দেয় কিংবা তোমাদের আমীরের মধ্যে শরীয়তের খেলাফ কোনো জিনিস দেখতে পাও, তবে অবশ্যই কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী তার ফায়সালা করবে। কিন্তু কোনোভাবেই আমীরের বিরোধীতা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 খানা খাওয়ার সময় শয়তানের হাত ধরে ফেললেন

📄 খানা খাওয়ার সময় শয়তানের হাত ধরে ফেললেন


عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا لَمْ نَضَعُ أَيْدِيَنَا حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعَ يَدَهُ وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ مَرَّةً طَعَامًا فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّهَا تُدْفَعُ فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهَا ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَجَاءَ بِهَذَا الْأَعْرَابِي لِيَسْتَحِلَّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدِهَا : ثُمَّ ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ وَأَكَلَ

অর্থ: হযরত হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যখন খানা খেতে বসতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতক্ষণ পর্যন্ত খানা শুরু না করতেন, ততক্ষণ আমরা খানায় হাত দিতাম না। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খানা খেতে উপস্থিত হলাম। এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে এসে (এমনভাবে) খাদ্যের উপর ঝুঁকে পড়লো (যেন তাকে তাড়ানো হয়েছে)। সে খাবারে হাত রাখতে যাচ্ছিল, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর আরেক বেদুঈন আসলো। সেও যেন খাবারের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারও হাত ধরে ফেললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না (বিসমিল্লাহ বলা হয় না), শয়তান সেই খাদ্যকে (নিজের জন্য) হালাল করে নেয়। শয়তান এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিলো এর দ্বারা নিজের খাবার হালাল করার জন্য। আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর শয়তান এ বেদুঈনকে নিয়ে আসে এর সাহায্যে তার নিজের খাবার হালাল করার জন্য। আমি তারও হাত ধরে ফেললাম। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! এ দু'জনের হাতের সাথে শয়তানের হাতও আমার হাতে (মুষ্টিবদ্ধ) আছে। তারপর তিনি আল্লাহর নাম নিলেন (বিসমিল্লাহ পড়লেন) এবং খানা খেলেন। (মুসলিম-৫৩৭৮, ৫১৫৪, ইফা.-৫০৮৯, তিরমিযী-১৮১২, ২৮৫৭, আবু দাউদ-৩৭৩১, ৩৭৩৩, ইবনে মাজাহ-৩৪১০, আহমাদ-১৩৮১৬, ১৩৮৭১, ১৪০২৫, ১৪৫৯৭, মালিক-১৭২৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00