📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 একটি বাচ্চাকে দুই টুকরো করে ভাগ করার নির্দেশ দিলেন

📄 একটি বাচ্চাকে দুই টুকরো করে ভাগ করার নির্দেশ দিলেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْبُ, فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ، فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى، فَخَرَجَنَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ فَأَخْبَرَنَاهُ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِينِ أَشُقُهُ بَيْنَهُمَا ، فَقَالَتِ الصُّغْرَى : لا تَفْعَلُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ، هُوَ ابْنُهَا ، فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: (পূর্বেকার যুগে) দু'জন স্ত্রীলোকের সাথে দু'টি সন্তান ছিলো। একটি বাঘ এসে তাদের একজনের সন্তানকে নিয়ে গেল। তাদের একজন অপরজনকে বললো, তোমার সন্তানকেই বাঘে নিয়েছে। অপরজন বললো, তোমার সন্তানকেই বাঘে নিয়েছে। এরপর তারা মীমাংসার জন্য হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে গেল। তিনি বড় স্ত্রীর পক্ষে রায় দিলেন। তারা উভয়ে সেখান হতে বেরিয়ে দাউদ আ. এর ছেলে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর নিকট গেল এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করলো। হযরত সুলাইমান আ. বললেন, আমাকে একটি ছুরি এনে দাও। আমি একে দু'টুকরো করে দু'জনের মধ্যে ভাগ করে দিবো। ছোট মহিলা বললো, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন! আপনি এরূপ করবেন না। শিশুটি তারই, (তাকেই দিয়ে দিন)। তখন তিনি ছোট মহিলার পক্ষে রায় দিলেন। (বুখারী- ৩৪২৭, ৬৪৮৩, ৬৭৫৯, ইফা-৩১৮৩, মুসলিম-১৭২০, ২২৮৪, ৫৪০২, ৫৪০৩, ৫৪০৪, আহমাদ- ৮০৮১, ৮২৭৫, ১০৫৮০, ২৭৩৩২, ২৭৭৩৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 এক কলসী স্বর্ণ ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ নিতে রাজি হলো না

📄 এক কলসী স্বর্ণ ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ নিতে রাজি হলো না


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اشْتَرَى رَجُلٌ مِنْ رَجُلٍ عَقَارًا لَهُ ، فَوَجَدَ الرَّجُلُ الَّذِي اشْتَرَى العَقَارَ فِي عَقَارِهِ جَرَّةً فِيهَا ذَهَبٌ، فَقَالَ لَهُ الَّذِي اشْتَرَى العَقَارَ : خُذْ ذَهَبَكَ مِنِّي ، إِنَّمَا اشْتَرَيْتُ مِنْكَ الْأَرْضَ. وَلَمْ أَبْتَعْ مِنْكَ الذَّهَبَ ، وَقَالَ الَّذِي لَهُ الأَرْضُ: إِنَّمَا بِعْتُكَ الْأَرْضَ وَمَا فِيهَا، فَتَحَاكَمَا إِلَى رَجُلٍ ، فَقَالَ: الَّذِي تَحَاكَمَا إِلَيْهِ : أَلكُمَا وَلَدٌ؟ قَالَ أَحَدُهُمَا: لِي غُلَامٌ ، وَقَالَ الآخَرُ : لِي جَارِيَةٌ، قَالَ: أَنْكِحُوا الغُلاَمَ الجَارِيَةَ وَأَنْفِقُوا عَلَى أَنْفُسِهِمَا مِنْهُ وَتَصَدَّقَا

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (পূর্ব যুগে) এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তি হতে এক খণ্ড জমি ক্রয় করেছিল। ক্রেতা খরীদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি কলসী পেল। সে বিক্রেতাকে বললো, আপনি আপনার কলসী ফেরত নিন। কেননা, আমি আপনার থেকে শুধু জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বললো, আমি জমি এবং জমির মধ্যে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করে দিয়েছি। তারপর তারা উভয়ই অপর এক ব্যক্তির নিকট মীমাংসা চাইল। তিনি বললেন, তোমাদের কি ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বললো, আমার একটি ছেলে আছে। অপরজন বললো, আমার একটি কন্যা আছে। মীমাংসাকারী বললেন, তোমার কন্যাকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দাও। আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে খরচ করো এবং অবশিষ্টাংশ তাদেরকে দিয়ে দাও। (বুখারী-৩৪৭২, ইফা.-৩২২৩, ৩২২৬, মুসলিম-১৭২১, ইবনে মাজাহ-২৫১১, আহমাদ-৮১৯৮, ২৭৪০৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 একটি উট নবীজীর সাথে কথা বলল

📄 একটি উট নবীজীর সাথে কথা বলল


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَسَرَّ إِلَى حَدِيثًا لا أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أَحَبُّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ هَدَفًا أَوْ حَائِشَ نَخْلٍ . قَالَ : فَدَخَلَ حَائِطًا لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَإِذَا جَمَلٌ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَنَّ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَسَحَ ذِفْرَاهُ فَسَكَتَ، فَقَالَ : مَنْ رَبُّ هَذَا الْجَمَلِ لِمَنْ هَذَا الْجَمَلُ. فَجَاءَ فَنَّى مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ : لِي يَا رَسُولَ اللهِ . فَقَالَ : أَفَلا تَتَّقِي اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي مَلَكَكَ اللَّهُ إِيَّاهَا، فَإِنَّهُ شَكَى إِلَى أَنَّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْئِبُهُ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর সওয়ারীর পিছনে বসালেন এবং আমাকে একটি গোপন কথা বললেন, যা আমি কাউকে বলবো না। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মল-মূত্র ত্যাগ করার সময় দেয়াল কিংবা খেজুরের ডালের আড়াল বেশি পছন্দ করতেন। (ইমাম মুসলিম এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীর বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে ছিল একটি উট। উটটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে ফুঁফিয়ে কাঁদতে লাগলো এবং চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন এবং তার কাঁধ ও মাথার পেছনের অংশে হাত বুলালেন। এতে উটটি শান্ত হলো। তারপর তিনি বললেন, এ উটটির মালিক কে? এক আনসারী যুবক এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। তিনি বললেন: আল্লাহ তোমাকে এ পশুটির মালিক বানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? কারণ সে আমার কাছে অভিযোগ করেছে, তুমি তাকে অভুক্ত রাখো এবং তাকে বেশি কষ্ট দাও। (মুসলিম-৩৪২, ২৪২৯, আবু দউদ-২৫৪৯, ইবনে মাজাহ-২৪০, আহমাদ-১৭৪৭, দারিমী-৬৬৩, ৭৫৫, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 খেজুর গাছ নবীজীর জন্য শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কাঁদলো

📄 খেজুর গাছ নবীজীর জন্য শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কাঁদলো


عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَتْ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا رَسُولَ اللهِ أَلَا أَجْعَلُ لَكَ شَيْئًا تَقْعُدُ عَلَيْهِ، فَإِنَّ لِي غُلَامًا نَجَّارًا قَالَ : إِنْ شِئْتِ ، قَالَ : فَعَمِلَتْ لَهُ المِنْبَرَ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الجُمُعَةِ قَعَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى المِنْبَرِ الَّذِي صُنِعَ، فَصَاحَتِ النَّخْلَةُ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ عِنْدَهَا ، حَتَّى كَادَتْ تَنْشَقُ ، فَنَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَخَذَهَا. فَضَمَّهَا إِلَيْهِ ، فَجَعَلَتْ تَئِنُّ أَنِينَ الصَّبِيِّ الَّذِي يُسَكَّتُ، حَتَّى اسْتَقَرَّتْ، قَالَ: بَكَتْ عَلَى مَا كَانَتْ تَسْمَعُ مِنَ الذِّكْرِ

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। একজন আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস তৈরি করে দিব, যার উপর আপনি উপবেশন করবেন? কেননা, আমার একজন কাঠমিস্ত্রি গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি ইচ্ছে করো (তবে দিতে পারো)। বর্ননাকারী বলেন, অতঃপর সেই মহিলা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি মিম্বর বানিয়ে দিলেন। যখন জুমুআর দিন হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মিম্বরের উপরে উপবেশন করলেন। সে সময় যে খেঁজুর গাছের কাণ্ডের উপর ভর দিয়ে তিনি খুতবাহ প্রদান করতেন, সেটি এমনভাবে চিৎকার করে উঠলো, যেন তা (শোকে-দুঃখে) ফেটে পড়বে। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বর থেকে) নেমে এসে তাকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোঁপাতে লাগলো, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোঁপায়। অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। তিনি বলেন, খেঁজুর কাণ্ডটি যে ওয়াজ-নসীহত শুনতে পেতো, তা থেকে বঞ্চিত হবার কারণে কেঁদেছিলো। (বুখারী-২০৯৫, ৪৪৯, ইফা.-১৯৬৫, ইবনে মাজাহ-১৪১৭, আহমাদ- ১৩৭০৫, ১৩৭২৯, ১৩৮৭০, ১৪০৫৯, দারিমী-৩৩, ১৫৬২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পর (সাত মাস পর্যন্ত) হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রাযি.-এর বাড়িতে অবস্থান করেন। এসময় তিনি (১ম হিজরী সনের শাওয়াল মাসে) একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যাকে মসজিদে নববী বলা হয়। তিনি প্রাথমিক অবস্থায় একটি খেজুর গাছের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবাহ প্রদান করতেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন পর যখন খেজুর গাছের সেই মিম্বরটি সরিয়ে অন্য একটি কাঠের মিম্বর সেখানে স্থাপন করলেন, তখন সেই খেজুর গাছের মিম্বরটি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়ে কাঁদতে লাগলো। যার বিবরণ সহীহ বুখারীতে এভাবে উল্লেখ আছে, হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. বলেন-

كَانَ جِذْعٌ يَقُومُ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَلَمَّا وُضِعَ لَهُ الْمِنْبَرُ سَمِعْنَا لِلْجِذْعِ مِثْلَ أَصْوَاتِ العِشَارِ حَتَّى نَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ

অর্থ: মসজিদে নববীতে একটি খেজুর বৃক্ষের খুঁটি ছিলো যার সাথে হেলান দিয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন। এরপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর, স্থাপন করা হলো, আমরা তখন খুঁটি থেকে দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর মতো কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এমনকি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে এসে খুঁটির উপর হাত রাখলেন (তখন তার কান্না বন্ধ হলো)। (বুখারী-৯১৮, ৪৪৯, ইফা.-৮৭২, ইবনে মাজাহ-১৪১৭, আহমাদ-১৩৭০৫, ১৩৭২৯, ১৩৮৭০, ১৪০৫৯, দারিমী-৩৩, ১৫৬২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00