📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সাহাবাগণ বাতি নিভিয়ে মেহমানদের খাওয়ালেন

📄 সাহাবাগণ বাতি নিভিয়ে মেহমানদের খাওয়ালেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَبَعَثَ إِلَى نِسَائِهِ فَقُلْنَ: مَا مَعَنَا إِلَّا المَاءُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ يَضُمُّ أَوْ يُضِيفُ هَذَا ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : أَنَا، فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَ: أَكْرِ مِي ضَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَتْ: مَا عِنْدَنَا إِلَّا قُوتُ صِبْيَانِي. فَقَالَ: هَيِّنِي طَعَامَكِ، وَأَصْبِحِي سِرَاجَكِ ، وَنَوْمِي صِبْيَانَكِ إِذَا أَرَادُوا عَشَاءً، فَهَيَّأْتُ طَعَامَهَا، وَأَصْبَحَتْ سِرَاجَهَا، وَنَوَّمَتْ صِبْيَانَهَا، ثُمَّ قَامَتْ كَأَنَّهَا تُصْلِحُ سِرَاجَهَا فَأَطْفَأَتُهُ، فَجَعَلاَ يُرِيَانِهِ أَنَّهُمَا يَأْكُلانِ ، فَبَاتَا طَاوِيَيْنِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: ضَحِكَ اللَّهُ اللَّيْلَةَ، أَوْ عَجِبَ، مِنْ فَعَالِكُمَا : فَأَنْزَلَ اللَّهُ : وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: জনৈক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কোন খাবার আছে কিনা তা জানার জন্য তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা বললেন, আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ এই ব্যক্তিকে মেহমানদারী করাবে? জনৈক (আবু তালহা রাযি.) আনসারী সাহাবী বললেন, আমি পারবো। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়ীতে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহমানকে সম্মান করো। স্ত্রী জবাব দিলেন, বাচ্চাদের আহার্য ব্যতীত ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও আর বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। স্বামীর কথা অনুযায়ী সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করলো। তারপর মেহমানসহ তারা খেতে বসলেন এবং বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্ধকারে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে তারাও সঙ্গে খানা খাচ্ছেন। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটালেন। সকালে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে গেলেন, তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কার্যকলাপ দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং এই আয়াত নাযিল করেছেন-

وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“তারা অভাবগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” (সূরা হাশর-৯, বুখারী-৩৭৯৮, ৪৮৮৯, ইফা.-৩৫২৩, মুসলিম-২০৫৪, তিরমিযী-৩৩০৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 একটি বাচ্চাকে দুই টুকরো করে ভাগ করার নির্দেশ দিলেন

📄 একটি বাচ্চাকে দুই টুকরো করে ভাগ করার নির্দেশ দিলেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْبُ, فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ، فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى، فَخَرَجَنَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ فَأَخْبَرَنَاهُ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِينِ أَشُقُهُ بَيْنَهُمَا ، فَقَالَتِ الصُّغْرَى : لا تَفْعَلُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ، هُوَ ابْنُهَا ، فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: (পূর্বেকার যুগে) দু'জন স্ত্রীলোকের সাথে দু'টি সন্তান ছিলো। একটি বাঘ এসে তাদের একজনের সন্তানকে নিয়ে গেল। তাদের একজন অপরজনকে বললো, তোমার সন্তানকেই বাঘে নিয়েছে। অপরজন বললো, তোমার সন্তানকেই বাঘে নিয়েছে। এরপর তারা মীমাংসার জন্য হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে গেল। তিনি বড় স্ত্রীর পক্ষে রায় দিলেন। তারা উভয়ে সেখান হতে বেরিয়ে দাউদ আ. এর ছেলে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর নিকট গেল এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করলো। হযরত সুলাইমান আ. বললেন, আমাকে একটি ছুরি এনে দাও। আমি একে দু'টুকরো করে দু'জনের মধ্যে ভাগ করে দিবো। ছোট মহিলা বললো, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন! আপনি এরূপ করবেন না। শিশুটি তারই, (তাকেই দিয়ে দিন)। তখন তিনি ছোট মহিলার পক্ষে রায় দিলেন। (বুখারী- ৩৪২৭, ৬৪৮৩, ৬৭৫৯, ইফা-৩১৮৩, মুসলিম-১৭২০, ২২৮৪, ৫৪০২, ৫৪০৩, ৫৪০৪, আহমাদ- ৮০৮১, ৮২৭৫, ১০৫৮০, ২৭৩৩২, ২৭৭৩৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 এক কলসী স্বর্ণ ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ নিতে রাজি হলো না

📄 এক কলসী স্বর্ণ ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ নিতে রাজি হলো না


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اشْتَرَى رَجُلٌ مِنْ رَجُلٍ عَقَارًا لَهُ ، فَوَجَدَ الرَّجُلُ الَّذِي اشْتَرَى العَقَارَ فِي عَقَارِهِ جَرَّةً فِيهَا ذَهَبٌ، فَقَالَ لَهُ الَّذِي اشْتَرَى العَقَارَ : خُذْ ذَهَبَكَ مِنِّي ، إِنَّمَا اشْتَرَيْتُ مِنْكَ الْأَرْضَ. وَلَمْ أَبْتَعْ مِنْكَ الذَّهَبَ ، وَقَالَ الَّذِي لَهُ الأَرْضُ: إِنَّمَا بِعْتُكَ الْأَرْضَ وَمَا فِيهَا، فَتَحَاكَمَا إِلَى رَجُلٍ ، فَقَالَ: الَّذِي تَحَاكَمَا إِلَيْهِ : أَلكُمَا وَلَدٌ؟ قَالَ أَحَدُهُمَا: لِي غُلَامٌ ، وَقَالَ الآخَرُ : لِي جَارِيَةٌ، قَالَ: أَنْكِحُوا الغُلاَمَ الجَارِيَةَ وَأَنْفِقُوا عَلَى أَنْفُسِهِمَا مِنْهُ وَتَصَدَّقَا

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (পূর্ব যুগে) এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তি হতে এক খণ্ড জমি ক্রয় করেছিল। ক্রেতা খরীদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি কলসী পেল। সে বিক্রেতাকে বললো, আপনি আপনার কলসী ফেরত নিন। কেননা, আমি আপনার থেকে শুধু জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বললো, আমি জমি এবং জমির মধ্যে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করে দিয়েছি। তারপর তারা উভয়ই অপর এক ব্যক্তির নিকট মীমাংসা চাইল। তিনি বললেন, তোমাদের কি ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বললো, আমার একটি ছেলে আছে। অপরজন বললো, আমার একটি কন্যা আছে। মীমাংসাকারী বললেন, তোমার কন্যাকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দাও। আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে খরচ করো এবং অবশিষ্টাংশ তাদেরকে দিয়ে দাও। (বুখারী-৩৪৭২, ইফা.-৩২২৩, ৩২২৬, মুসলিম-১৭২১, ইবনে মাজাহ-২৫১১, আহমাদ-৮১৯৮, ২৭৪০৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 একটি উট নবীজীর সাথে কথা বলল

📄 একটি উট নবীজীর সাথে কথা বলল


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَسَرَّ إِلَى حَدِيثًا لا أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أَحَبُّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ هَدَفًا أَوْ حَائِشَ نَخْلٍ . قَالَ : فَدَخَلَ حَائِطًا لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَإِذَا جَمَلٌ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَنَّ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَسَحَ ذِفْرَاهُ فَسَكَتَ، فَقَالَ : مَنْ رَبُّ هَذَا الْجَمَلِ لِمَنْ هَذَا الْجَمَلُ. فَجَاءَ فَنَّى مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ : لِي يَا رَسُولَ اللهِ . فَقَالَ : أَفَلا تَتَّقِي اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي مَلَكَكَ اللَّهُ إِيَّاهَا، فَإِنَّهُ شَكَى إِلَى أَنَّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْئِبُهُ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর সওয়ারীর পিছনে বসালেন এবং আমাকে একটি গোপন কথা বললেন, যা আমি কাউকে বলবো না। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মল-মূত্র ত্যাগ করার সময় দেয়াল কিংবা খেজুরের ডালের আড়াল বেশি পছন্দ করতেন। (ইমাম মুসলিম এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীর বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে ছিল একটি উট। উটটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে ফুঁফিয়ে কাঁদতে লাগলো এবং চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন এবং তার কাঁধ ও মাথার পেছনের অংশে হাত বুলালেন। এতে উটটি শান্ত হলো। তারপর তিনি বললেন, এ উটটির মালিক কে? এক আনসারী যুবক এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। তিনি বললেন: আল্লাহ তোমাকে এ পশুটির মালিক বানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? কারণ সে আমার কাছে অভিযোগ করেছে, তুমি তাকে অভুক্ত রাখো এবং তাকে বেশি কষ্ট দাও। (মুসলিম-৩৪২, ২৪২৯, আবু দউদ-২৫৪৯, ইবনে মাজাহ-২৪০, আহমাদ-১৭৪৭, দারিমী-৬৬৩, ৭৫৫, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00