📄 এক পেয়ালা দুধ ৭০ জন সাহাবী তৃপ্তিসহ পান করলেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : أَللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِنْ كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ بِكَبِدِي عَلَى الأَرْضِ مِنَ الجُوعِ، وَإِنْ كُنْتُ لَأَشُدُّ الحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الجُوعِ، وَلَقَدْ قَعَدْتُ يَوْمًا عَلَى طَرِيقِهِمُ الَّذِي يَخْرُجُونَ مِنْهُ، فَمَرَّ أَبُو بَكْرٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ ، مَا سَأَلْتُهُ إِلَّا لِيُشْبِعَنِي ، فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ ، ثُمَّ مَرَّ بِي عُمَرُ ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ ، مَا سَأَلْتُهُ إِلَّا لِيُشْبِعَنِي، فَمَرَّ فَلَمْ يَفْعَلُ، ثُمَّ مَرَّ بِي أَبُو القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَتَبَسَّمَ حِينَ رَآنِي، وَعَرَفَ مَا فِي نَفْسِي وَمَا فِي وَجْهِي، ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا هِرٌ, قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: الحَقُّ, وَمَضَى فَتَبِعْتُهُ، فَدَخَلَ، فَاسْتَأْذَنَ، فَأَذِنَ لِي ، فَدَخَلَ، فَوَجَدَ لَبَنًا فِي قَدَحٍ ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ هَذَا اللَّبَنُ؟ قَالُوا : أَهْدَاهُ لَكَ فُلانٌ أَوْ فُلانَةٌ، قَالَ: أَبَا هِرْ, قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ : الحَقُّ إِلَى أَهْلِ الصُّفَةِ فَادْعُهُمْ بِي, قَالَ: وَأَهْلُ الصُّفَةِ أَضْيَافُ الإِسْلَامِ لا يَأْوُونَ إِلَى أَهْلٍ وَلا مَالٍ وَلا عَلَى أَحَدٍ إِذَا أَتَتْهُ صَدَقَةٌ بَعَثَ بِهَا إِلَيْهِمْ وَلَمْ يَتَنَاوَلُ مِنْهَا شَيْئًا، وَإِذَا أَتَتُهُ هَدِيَّةٌ أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ وَأَصَابَ مِنْهَا وَأَشْرَكَهُمْ فِيهَا. فَسَاءَ نِي ذَلِكَ ، فَقُلْتُ : وَمَا هَذَا اللَّبَنُ فِي أَهْلِ الصُّفَةِ كُنْتُ أَحَقُّ أَنَا أَنْ أُصِيبَ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ شَرْبَةً أَتَقَوَى بِهَا، فَإِذَا جَاءَ أَمَرَنِي، فَكُنْتُ أَنَا أُعْطِيهِمْ ، وَمَا عَسَى أَنْ يَبْلُغَنِي مِنْ هَذَا اللَّبَنِ، وَلَمْ يَكُنْ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِد، فَأَتَيْتُهُمْ فَدَعَوْتُهُمْ فَأَقْبَلُوا، فَاسْتَأْذَنُوا فَأَذِنَ لَهُمْ ، وَأَخَذُوا مَجَالِسَهُمْ مِنَ البَيْتِ، قَالَ: يَا أَبَا هِرٌ, قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: خُذْ فَأَعْطِهِمْ, قَالَ: فَأَخَذْتُ القَدَحَ، فَجَعَلْتُ أُعْطِيهِ الرَّجُلَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يَرْوَى، ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ القَدَحَ، فَأُعْطِيهِ الرَّجُلَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يَرْوَى ، ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ القَدَحَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يَرْوَى، ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ القَدَحَ، حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ رَوِيَ القَوْمُ كُلُّهُمْ ، فَأَخَذَ القَدَحَ فَوَضَعَهُ عَلَى يَدِهِ، فَنَظَرَ إِلَيَّ فَتَبَسَّمَ ، فَقَالَ: أَبَا هِرْ قُلْتُ : لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : بَقِيتُ أَنَا وَأَنْتَ قُلْتُ : صَدَقْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: اقْعُدُ فَأَشْرَبُ, فَقَعَدْتُ فَشَرِبْتُ، فَقَالَ : اشْرَبْ, فَشَرِبْتُ، فَمَا زَالَ يَقُولُ: اشْرَبْ, حَتَّى قُلْتُ: لَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ، مَا أَجِدُ لَهُ مَسْلَكًا، قَالَ: فَأَرِنِي, فَأَعْطَيْتُهُ القَدَحَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَسَمَّى وَشَرِبَ الفَضْلَةَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ক্ষুধার কারণে আমি আমার পেট মাটির সাথে লাগিয়ে রাখতাম, আবার কখনো ক্ষুধার জ্বালায় আমার পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। একদিন আমি লোক চলাচলের পথের উপর বসে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে পথে আমার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন এবং আমার মুখমণ্ডলের অবস্থা ও অন্তরের কথা বুঝে ফেললেন। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত। তিনি বললেন: আমার সাথে এসো। তিনি রওয়ানা দিলেন। আমিও তাঁর পিছে পিছে গেলাম। তিনি অনুমতি নিয়ে বাড়ি প্রবেশ করলে আমিও প্রবেশ করলাম। তিনি এক পেয়ালা দুধ দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ কোথা থেকে এসেছে? পরিবারের লোকেরা বললো, অমুক ব্যক্তি বা অমুক মেয়েলোক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার খেদমতে হাজির। তিনি বললেন: যাও আসহাবে সুফফাদের ডেকে নিয়ে এসো। আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আসহাবে সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাদের বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ বলতে কিছুই ছিলো না। এমন কোন বন্ধু-বান্ধবও তাদের ছিলো না যাদের বাড়িতে গিয়ে তারা থাকতে পারতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোনো সদকার মাল আসলে তা তিনি তাদের নিকট পাঠিয়ে দিতেন, তিনি তাতে হাত দিতেন না। আর যখন হাদিয়া বা উপহার আসতো, তখন তিনি তাদের কাছে কিছু পাঠিয়ে দিতেন এবং নিজেও তা থেকে গ্রহণ করতেন।
সেদিন তিনি আমাকে তাদের ডেকে আনার কথা বলাতে আমার খুব খারাপ লাগলো। আমি মনে মনে বললাম, আসহাবে সুফফার জন্য এতোটুকু দুধে কী হবে? আমি তো বেশি হকদার ছিলাম, এ দুধের কিছু পান করে শক্তি অনুভব করতাম। আর তারা যখন আসবে, তাদেরকে এ দুধ পরিবেশন করার জন্য তিনি তো আমাকেই আদেশ দিবেন। তাদের সবাইকে দেয়ার পর এ থেকে আমি কিছু পাব বলে তো মনে হলো না। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মান্য করা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিলো না। তাই আমি তাদের কাছে গিয়ে সংবাদ দিলাম। তারা এসে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। তারা ঘরের ভেতরে নিজ নিজ জায়গায় বসে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার কাছেই উপস্থিত। তিনি বললেন: দুধের পেয়ালাটি নিয়ে তাদের পরিবেশন করো। আবু হুরায়রা বলেন, আমি পেয়ালা নিয়ে একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তির সাথে পান করে আমাকে পেয়ালা ফেরত দিলেন। এরপর আমি আরেকজনকে দিলাম, তিনিও পূর্ণ তৃপ্তির সাথে পান করে আমাকে পেয়ালাটা ফেরত দিলেন। এভাবে সবার শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেয়ালা নিয়ে হাজির হলাম। অথচ উপস্থিত সকলেই তৃপ্তির সাথে তা পান করেছেন। তিনি পেয়ালাটা নিয়ে নিজের হাতে রেখে মুচকি হেসে বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খেদমতে হাজির। তিনি বললেন: আমি আর তুমি বাকি রয়ে গেছি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সত্যিই বলেছেন। তিনি বললেন: বসো এবং পান করো। অতএব আমি বসে তা পান করলাম। পুনরায় তিনি বললেন, পান করো। আমি পান করলাম। এভাবে তিনি আমাকে পান করার কথা বলতেই থাকলেন। অবশেষে আমি বললাম, না আর পারবো না। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! এর জন্য আমার পেটে আর খালি জায়গা নেই। তিনি বললেন: আমাকে এবার তৃপ্ত করো। আমি তাঁকে পেয়ালা দিলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বিসমিল্লাহ বলে অবশিষ্ট দুধ পান করলেন। (বুখারী-৬৪৫২, ৫৩৭৫, ইফা.-৬০০৮, মুসলিম-২০২২, তিরমিযী-২৪৭৭, আহমাদ-১০৩০১, ১৬৩৩২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 সাহাবাগণ বাতি নিভিয়ে মেহমানদের খাওয়ালেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَبَعَثَ إِلَى نِسَائِهِ فَقُلْنَ: مَا مَعَنَا إِلَّا المَاءُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ يَضُمُّ أَوْ يُضِيفُ هَذَا ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : أَنَا، فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَ: أَكْرِ مِي ضَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَتْ: مَا عِنْدَنَا إِلَّا قُوتُ صِبْيَانِي. فَقَالَ: هَيِّنِي طَعَامَكِ، وَأَصْبِحِي سِرَاجَكِ ، وَنَوْمِي صِبْيَانَكِ إِذَا أَرَادُوا عَشَاءً، فَهَيَّأْتُ طَعَامَهَا، وَأَصْبَحَتْ سِرَاجَهَا، وَنَوَّمَتْ صِبْيَانَهَا، ثُمَّ قَامَتْ كَأَنَّهَا تُصْلِحُ سِرَاجَهَا فَأَطْفَأَتُهُ، فَجَعَلاَ يُرِيَانِهِ أَنَّهُمَا يَأْكُلانِ ، فَبَاتَا طَاوِيَيْنِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: ضَحِكَ اللَّهُ اللَّيْلَةَ، أَوْ عَجِبَ، مِنْ فَعَالِكُمَا : فَأَنْزَلَ اللَّهُ : وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: জনৈক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কোন খাবার আছে কিনা তা জানার জন্য তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা বললেন, আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ এই ব্যক্তিকে মেহমানদারী করাবে? জনৈক (আবু তালহা রাযি.) আনসারী সাহাবী বললেন, আমি পারবো। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়ীতে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহমানকে সম্মান করো। স্ত্রী জবাব দিলেন, বাচ্চাদের আহার্য ব্যতীত ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও আর বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। স্বামীর কথা অনুযায়ী সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করলো। তারপর মেহমানসহ তারা খেতে বসলেন এবং বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্ধকারে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে তারাও সঙ্গে খানা খাচ্ছেন। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটালেন। সকালে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে গেলেন, তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কার্যকলাপ দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং এই আয়াত নাযিল করেছেন-
وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“তারা অভাবগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” (সূরা হাশর-৯, বুখারী-৩৭৯৮, ৪৮৮৯, ইফা.-৩৫২৩, মুসলিম-২০৫৪, তিরমিযী-৩৩০৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 একটি বাচ্চাকে দুই টুকরো করে ভাগ করার নির্দেশ দিলেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْبُ, فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ، فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى، فَخَرَجَنَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ فَأَخْبَرَنَاهُ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِينِ أَشُقُهُ بَيْنَهُمَا ، فَقَالَتِ الصُّغْرَى : لا تَفْعَلُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ، هُوَ ابْنُهَا ، فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: (পূর্বেকার যুগে) দু'জন স্ত্রীলোকের সাথে দু'টি সন্তান ছিলো। একটি বাঘ এসে তাদের একজনের সন্তানকে নিয়ে গেল। তাদের একজন অপরজনকে বললো, তোমার সন্তানকেই বাঘে নিয়েছে। অপরজন বললো, তোমার সন্তানকেই বাঘে নিয়েছে। এরপর তারা মীমাংসার জন্য হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে গেল। তিনি বড় স্ত্রীর পক্ষে রায় দিলেন। তারা উভয়ে সেখান হতে বেরিয়ে দাউদ আ. এর ছেলে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর নিকট গেল এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করলো। হযরত সুলাইমান আ. বললেন, আমাকে একটি ছুরি এনে দাও। আমি একে দু'টুকরো করে দু'জনের মধ্যে ভাগ করে দিবো। ছোট মহিলা বললো, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন! আপনি এরূপ করবেন না। শিশুটি তারই, (তাকেই দিয়ে দিন)। তখন তিনি ছোট মহিলার পক্ষে রায় দিলেন। (বুখারী- ৩৪২৭, ৬৪৮৩, ৬৭৫৯, ইফা-৩১৮৩, মুসলিম-১৭২০, ২২৮৪, ৫৪০২, ৫৪০৩, ৫৪০৪, আহমাদ- ৮০৮১, ৮২৭৫, ১০৫৮০, ২৭৩৩২, ২৭৭৩৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 এক কলসী স্বর্ণ ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ নিতে রাজি হলো না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اشْتَرَى رَجُلٌ مِنْ رَجُلٍ عَقَارًا لَهُ ، فَوَجَدَ الرَّجُلُ الَّذِي اشْتَرَى العَقَارَ فِي عَقَارِهِ جَرَّةً فِيهَا ذَهَبٌ، فَقَالَ لَهُ الَّذِي اشْتَرَى العَقَارَ : خُذْ ذَهَبَكَ مِنِّي ، إِنَّمَا اشْتَرَيْتُ مِنْكَ الْأَرْضَ. وَلَمْ أَبْتَعْ مِنْكَ الذَّهَبَ ، وَقَالَ الَّذِي لَهُ الأَرْضُ: إِنَّمَا بِعْتُكَ الْأَرْضَ وَمَا فِيهَا، فَتَحَاكَمَا إِلَى رَجُلٍ ، فَقَالَ: الَّذِي تَحَاكَمَا إِلَيْهِ : أَلكُمَا وَلَدٌ؟ قَالَ أَحَدُهُمَا: لِي غُلَامٌ ، وَقَالَ الآخَرُ : لِي جَارِيَةٌ، قَالَ: أَنْكِحُوا الغُلاَمَ الجَارِيَةَ وَأَنْفِقُوا عَلَى أَنْفُسِهِمَا مِنْهُ وَتَصَدَّقَا
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (পূর্ব যুগে) এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তি হতে এক খণ্ড জমি ক্রয় করেছিল। ক্রেতা খরীদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি কলসী পেল। সে বিক্রেতাকে বললো, আপনি আপনার কলসী ফেরত নিন। কেননা, আমি আপনার থেকে শুধু জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বললো, আমি জমি এবং জমির মধ্যে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করে দিয়েছি। তারপর তারা উভয়ই অপর এক ব্যক্তির নিকট মীমাংসা চাইল। তিনি বললেন, তোমাদের কি ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বললো, আমার একটি ছেলে আছে। অপরজন বললো, আমার একটি কন্যা আছে। মীমাংসাকারী বললেন, তোমার কন্যাকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দাও। আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে খরচ করো এবং অবশিষ্টাংশ তাদেরকে দিয়ে দাও। (বুখারী-৩৪৭২, ইফা.-৩২২৩, ৩২২৬, মুসলিম-১৭২১, ইবনে মাজাহ-২৫১১, আহমাদ-৮১৯৮, ২৭৪০৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)