📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বিস্ময়কর মেহমানদারী

📄 বিস্ময়কর মেহমানদারী


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কয়েক টুকরা রুটি ৮০ জন সাহাবী খেলেন

📄 কয়েক টুকরা রুটি ৮০ জন সাহাবী খেলেন


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِأُمِّ سُلَيْمٍ لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَعِيفًا، أَعْرِفُ فِيهِ الجُوعَ ، فَهَلْ عِنْدَكِ مِنْ شَيْءٍ ؟ قَالَتْ: نَعَمْ ، فَأَخْرَجَتْ أَقْرَاصًا مِنْ شَعِيرٍ ، ثُمَّ أَخْرَجَتْ خِمَارًا لَهَا، فَلَفَّتِ الخُبْزَ بِبَعْضِهِ، ثُمَّ دَشَتْهُ تَحْتَ يَدِي وَلا ثَتُنِي بِبَعْضِهِ، ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: فَذَهَبْتُ بِهِ، فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي المَسْجِدِ، وَمَعَهُ النَّاسُ، فَقُمْتُ عَلَيْهِمْ ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ, فَقُلْتُ : نَعَمْ ، قَالَ: بِطَعَامٍ, فَقُلْتُ : نَعَمْ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَنْ مَعَهُ : قُومُوا, فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ ، حَتَّى جِئْتُ أَبَا طَلْحَةَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: يَا أُمَّ سُلَيْمٍ قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ، وَلَيْسَ عِنْدَنَا مَا نُطْعِمُهُمْ ؟ فَقَالَتْ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، فَانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ حَتَّى لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو طَلْحَةَ مَعَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : هَلُتِي يَا أُمَّ سُلَيْمٍ ، مَا عِنْدَكِ, فَأَتَتْ بِذَلِكَ الخُبْزِ، فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفُتَّ، وَعَصَرَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ عُكَةً فَأَدَمَتْهُ ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ، ثُمَّ قَالَ: ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ, فَأَذِنَ لَهُمْ ، فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ، ثُمَّ قَالَ: ائْذَنْ لِعَشَرَةِ, فَأَذِنَ لَهُمْ ، فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ، ثُمَّ قَالَ: ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ ، فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ، ثُمَّ قَالَ: ائْذَنْ لِعَشَرَةِ فَأَكَلَ القَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا، وَالقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلًا

অর্থ: হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার সৎ পিতা) আবু তালহা রাযি. (আমার মা) উম্মে সুলাইম রাযি.-কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুর্বল কণ্ঠস্বর শুনলাম। আমি লক্ষ্য করলাম তিনি ক্ষুধার্ত আছেন। তোমার কাছে কিছু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি কয়েক টুকরা যবের রুটি বের করে আনলেন এবং তার উড়নার একাংশ দ্বারা রুটি পেঁচিয়ে দিলেন। তারপর পুঁটলিটি আমার কাপড়ের নীচে গুঁজে দিলেন। অতঃপর আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠান। আমি তা নিয়ে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম। তাঁর সাথে আরো লোক ছিলো। আমি তাদের কাছে দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমাকে কি আবু তালহা পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, খাবারের জন্য? আমি বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা চলো। সুতরাং সবাই রওয়ানা হলেন। আমিও তাদের সাথে আগে আগে এসে আবু তালহা রাযি.-কে অবহিত করলাম। আবু তালহা বলেন: হে উম্মে সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো সাহাবীদের নিয়ে চলে এসেছেন। অথচ সকলকে খাওয়ানোর মতো কিছুই আমাদের কাছে নেই। উম্মে সুলাইম রাযি. বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। অতঃপর আবু তালহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে বাড়িতে প্রবেশ করে বললেন: হে উম্মে সুলাইম! তোমার কাছে যা আছে নিয়ে এসো। তিনি সেই রুটিগুলো হাজির করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুটিগুলো টুকরা টুকরা করতে আদেশ দিলে সেগুলো টুকরা করা হলো। উম্মে সুলাইম তাতে ঘি ঢেলে তরকারি তৈরি করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর মর্জি মাফিক বরকতের দুআ পড়লেন। অতঃপর বললেন: দশজনকে ভেতরে আসতে বলো। তিনি (আবু তালহা) তাদের অনুমতি দিলেন। তারা ভেতরে এসে তৃপ্তির সাথে খেয়ে বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি আরো দশজনকে আসার কথা বললেন। তারাও ভেতরে এসে তৃপ্তি সহকারে খেয়ে বেরিয়ে গেলেন। পুনরায় দশজনকে আসার কথা বললেন। এভাবে এ দলের সবাই পূর্ণ তৃপ্তির সাথে খেয়ে গেলেন। এ দলে সত্তরজন অথবা আশিজন লোক ছিলেন। (বুখারী-৩৫৭৮, ৫৩৮১, ৫৪৫০, ৬৫৮৮, ইফা.-৩৩২২, মুসলিম-২০৪০, তিরমিযী-৩৬৩০, আহমাদ-১২০৮২, ১২৮৭০, ১৩০১৫, ১৩১৩৫, ১৩২৮২, মালিক-১৭২৫, দারিমী-৪৩, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 এক পেয়ালা দুধ ৭০ জন সাহাবী তৃপ্তিসহ পান করলেন

📄 এক পেয়ালা দুধ ৭০ জন সাহাবী তৃপ্তিসহ পান করলেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : أَللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِنْ كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ بِكَبِدِي عَلَى الأَرْضِ مِنَ الجُوعِ، وَإِنْ كُنْتُ لَأَشُدُّ الحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الجُوعِ، وَلَقَدْ قَعَدْتُ يَوْمًا عَلَى طَرِيقِهِمُ الَّذِي يَخْرُجُونَ مِنْهُ، فَمَرَّ أَبُو بَكْرٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ ، مَا سَأَلْتُهُ إِلَّا لِيُشْبِعَنِي ، فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ ، ثُمَّ مَرَّ بِي عُمَرُ ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ ، مَا سَأَلْتُهُ إِلَّا لِيُشْبِعَنِي، فَمَرَّ فَلَمْ يَفْعَلُ، ثُمَّ مَرَّ بِي أَبُو القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَتَبَسَّمَ حِينَ رَآنِي، وَعَرَفَ مَا فِي نَفْسِي وَمَا فِي وَجْهِي، ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا هِرٌ, قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: الحَقُّ, وَمَضَى فَتَبِعْتُهُ، فَدَخَلَ، فَاسْتَأْذَنَ، فَأَذِنَ لِي ، فَدَخَلَ، فَوَجَدَ لَبَنًا فِي قَدَحٍ ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ هَذَا اللَّبَنُ؟ قَالُوا : أَهْدَاهُ لَكَ فُلانٌ أَوْ فُلانَةٌ، قَالَ: أَبَا هِرْ, قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ : الحَقُّ إِلَى أَهْلِ الصُّفَةِ فَادْعُهُمْ بِي, قَالَ: وَأَهْلُ الصُّفَةِ أَضْيَافُ الإِسْلَامِ لا يَأْوُونَ إِلَى أَهْلٍ وَلا مَالٍ وَلا عَلَى أَحَدٍ إِذَا أَتَتْهُ صَدَقَةٌ بَعَثَ بِهَا إِلَيْهِمْ وَلَمْ يَتَنَاوَلُ مِنْهَا شَيْئًا، وَإِذَا أَتَتُهُ هَدِيَّةٌ أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ وَأَصَابَ مِنْهَا وَأَشْرَكَهُمْ فِيهَا. فَسَاءَ نِي ذَلِكَ ، فَقُلْتُ : وَمَا هَذَا اللَّبَنُ فِي أَهْلِ الصُّفَةِ كُنْتُ أَحَقُّ أَنَا أَنْ أُصِيبَ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ شَرْبَةً أَتَقَوَى بِهَا، فَإِذَا جَاءَ أَمَرَنِي، فَكُنْتُ أَنَا أُعْطِيهِمْ ، وَمَا عَسَى أَنْ يَبْلُغَنِي مِنْ هَذَا اللَّبَنِ، وَلَمْ يَكُنْ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِد، فَأَتَيْتُهُمْ فَدَعَوْتُهُمْ فَأَقْبَلُوا، فَاسْتَأْذَنُوا فَأَذِنَ لَهُمْ ، وَأَخَذُوا مَجَالِسَهُمْ مِنَ البَيْتِ، قَالَ: يَا أَبَا هِرٌ, قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: خُذْ فَأَعْطِهِمْ, قَالَ: فَأَخَذْتُ القَدَحَ، فَجَعَلْتُ أُعْطِيهِ الرَّجُلَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يَرْوَى، ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ القَدَحَ، فَأُعْطِيهِ الرَّجُلَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يَرْوَى ، ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ القَدَحَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يَرْوَى، ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ القَدَحَ، حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ رَوِيَ القَوْمُ كُلُّهُمْ ، فَأَخَذَ القَدَحَ فَوَضَعَهُ عَلَى يَدِهِ، فَنَظَرَ إِلَيَّ فَتَبَسَّمَ ، فَقَالَ: أَبَا هِرْ قُلْتُ : لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : بَقِيتُ أَنَا وَأَنْتَ قُلْتُ : صَدَقْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: اقْعُدُ فَأَشْرَبُ, فَقَعَدْتُ فَشَرِبْتُ، فَقَالَ : اشْرَبْ, فَشَرِبْتُ، فَمَا زَالَ يَقُولُ: اشْرَبْ, حَتَّى قُلْتُ: لَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ، مَا أَجِدُ لَهُ مَسْلَكًا، قَالَ: فَأَرِنِي, فَأَعْطَيْتُهُ القَدَحَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَسَمَّى وَشَرِبَ الفَضْلَةَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ক্ষুধার কারণে আমি আমার পেট মাটির সাথে লাগিয়ে রাখতাম, আবার কখনো ক্ষুধার জ্বালায় আমার পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। একদিন আমি লোক চলাচলের পথের উপর বসে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে পথে আমার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন এবং আমার মুখমণ্ডলের অবস্থা ও অন্তরের কথা বুঝে ফেললেন। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত। তিনি বললেন: আমার সাথে এসো। তিনি রওয়ানা দিলেন। আমিও তাঁর পিছে পিছে গেলাম। তিনি অনুমতি নিয়ে বাড়ি প্রবেশ করলে আমিও প্রবেশ করলাম। তিনি এক পেয়ালা দুধ দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ কোথা থেকে এসেছে? পরিবারের লোকেরা বললো, অমুক ব্যক্তি বা অমুক মেয়েলোক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার খেদমতে হাজির। তিনি বললেন: যাও আসহাবে সুফফাদের ডেকে নিয়ে এসো। আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আসহাবে সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাদের বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ বলতে কিছুই ছিলো না। এমন কোন বন্ধু-বান্ধবও তাদের ছিলো না যাদের বাড়িতে গিয়ে তারা থাকতে পারতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোনো সদকার মাল আসলে তা তিনি তাদের নিকট পাঠিয়ে দিতেন, তিনি তাতে হাত দিতেন না। আর যখন হাদিয়া বা উপহার আসতো, তখন তিনি তাদের কাছে কিছু পাঠিয়ে দিতেন এবং নিজেও তা থেকে গ্রহণ করতেন।
সেদিন তিনি আমাকে তাদের ডেকে আনার কথা বলাতে আমার খুব খারাপ লাগলো। আমি মনে মনে বললাম, আসহাবে সুফফার জন্য এতোটুকু দুধে কী হবে? আমি তো বেশি হকদার ছিলাম, এ দুধের কিছু পান করে শক্তি অনুভব করতাম। আর তারা যখন আসবে, তাদেরকে এ দুধ পরিবেশন করার জন্য তিনি তো আমাকেই আদেশ দিবেন। তাদের সবাইকে দেয়ার পর এ থেকে আমি কিছু পাব বলে তো মনে হলো না। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মান্য করা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিলো না। তাই আমি তাদের কাছে গিয়ে সংবাদ দিলাম। তারা এসে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। তারা ঘরের ভেতরে নিজ নিজ জায়গায় বসে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার কাছেই উপস্থিত। তিনি বললেন: দুধের পেয়ালাটি নিয়ে তাদের পরিবেশন করো। আবু হুরায়রা বলেন, আমি পেয়ালা নিয়ে একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তির সাথে পান করে আমাকে পেয়ালা ফেরত দিলেন। এরপর আমি আরেকজনকে দিলাম, তিনিও পূর্ণ তৃপ্তির সাথে পান করে আমাকে পেয়ালাটা ফেরত দিলেন। এভাবে সবার শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেয়ালা নিয়ে হাজির হলাম। অথচ উপস্থিত সকলেই তৃপ্তির সাথে তা পান করেছেন। তিনি পেয়ালাটা নিয়ে নিজের হাতে রেখে মুচকি হেসে বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খেদমতে হাজির। তিনি বললেন: আমি আর তুমি বাকি রয়ে গেছি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সত্যিই বলেছেন। তিনি বললেন: বসো এবং পান করো। অতএব আমি বসে তা পান করলাম। পুনরায় তিনি বললেন, পান করো। আমি পান করলাম। এভাবে তিনি আমাকে পান করার কথা বলতেই থাকলেন। অবশেষে আমি বললাম, না আর পারবো না। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! এর জন্য আমার পেটে আর খালি জায়গা নেই। তিনি বললেন: আমাকে এবার তৃপ্ত করো। আমি তাঁকে পেয়ালা দিলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বিসমিল্লাহ বলে অবশিষ্ট দুধ পান করলেন। (বুখারী-৬৪৫২, ৫৩৭৫, ইফা.-৬০০৮, মুসলিম-২০২২, তিরমিযী-২৪৭৭, আহমাদ-১০৩০১, ১৬৩৩২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সাহাবাগণ বাতি নিভিয়ে মেহমানদের খাওয়ালেন

📄 সাহাবাগণ বাতি নিভিয়ে মেহমানদের খাওয়ালেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَبَعَثَ إِلَى نِسَائِهِ فَقُلْنَ: مَا مَعَنَا إِلَّا المَاءُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ يَضُمُّ أَوْ يُضِيفُ هَذَا ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : أَنَا، فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَ: أَكْرِ مِي ضَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَتْ: مَا عِنْدَنَا إِلَّا قُوتُ صِبْيَانِي. فَقَالَ: هَيِّنِي طَعَامَكِ، وَأَصْبِحِي سِرَاجَكِ ، وَنَوْمِي صِبْيَانَكِ إِذَا أَرَادُوا عَشَاءً، فَهَيَّأْتُ طَعَامَهَا، وَأَصْبَحَتْ سِرَاجَهَا، وَنَوَّمَتْ صِبْيَانَهَا، ثُمَّ قَامَتْ كَأَنَّهَا تُصْلِحُ سِرَاجَهَا فَأَطْفَأَتُهُ، فَجَعَلاَ يُرِيَانِهِ أَنَّهُمَا يَأْكُلانِ ، فَبَاتَا طَاوِيَيْنِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: ضَحِكَ اللَّهُ اللَّيْلَةَ، أَوْ عَجِبَ، مِنْ فَعَالِكُمَا : فَأَنْزَلَ اللَّهُ : وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: জনৈক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কোন খাবার আছে কিনা তা জানার জন্য তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা বললেন, আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ এই ব্যক্তিকে মেহমানদারী করাবে? জনৈক (আবু তালহা রাযি.) আনসারী সাহাবী বললেন, আমি পারবো। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়ীতে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহমানকে সম্মান করো। স্ত্রী জবাব দিলেন, বাচ্চাদের আহার্য ব্যতীত ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও আর বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। স্বামীর কথা অনুযায়ী সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করলো। তারপর মেহমানসহ তারা খেতে বসলেন এবং বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্ধকারে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে তারাও সঙ্গে খানা খাচ্ছেন। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটালেন। সকালে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে গেলেন, তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কার্যকলাপ দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং এই আয়াত নাযিল করেছেন-

وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“তারা অভাবগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” (সূরা হাশর-৯, বুখারী-৩৭৯৮, ৪৮৮৯, ইফা.-৩৫২৩, মুসলিম-২০৫৪, তিরমিযী-৩৩০৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00