📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 একটি মাছ তিনশত সাহাবী ১৮ দিন পর্যন্ত খেলেন

📄 একটি মাছ তিনশত সাহাবী ১৮ দিন পর্যন্ত খেলেন


عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: bَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْثًا قِبَلَ السَّاحِلِ، فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الجَرَّاحِ وَهُمْ ثَلَاثُ مِائَةٍ، وَأَنَا فِيهِمْ ، فَخَرَجْنَا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ فَنِيَ الزَّادُ، فَأَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِأَزْوَادِ ذَلِكَ الجَيْشِ، فَجُمِعَ ذَلِكَ كُلُّهُ، فَكَانَ مِزْوَدَيْ تَمْرٍ، فَكَانَ يُقَوِتُنَا كُلَّ يَوْمٍ قَلِيلًا قَلِيلًا حَتَّى فَنِي، فَلَمْ يَكُنْ يُصِيبُنَا إِلَّا تَمْرَةٌ تَمْرَةٌ، فَقُلْتُ: وَمَا تُغْنِي تَمْرَةٌ فَقَالَ: لَقَدْ وَجَدْنَا فَقْدَهَا حِينَ فَنِيَتُ، قَالَ: ثُمَّ انْتَهَيْنَا إِلَى البَحْرِ، فَإِذَا حُوتٌ مِثْلُ الظَّرِبِ، فَأَكَلَ مِنْهُ ذَلِكَ الجَيْشُ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً، ثُمَّ أَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِضِلَعَيْنِ مِنْ أَضْلاعِهِ، فَنُصِبَا ثُمَّ أَمَرَ بِرَاحِلَةٍ، فَرُحِلَتْ ثُمَّ مَرَّتْ تَحْتَهُمَا فَلَمْ تُصِبْهُمَا

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমুদ্র তীর অভিমুখে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি.-কে তাদের সেনাপতি নিয়োগ করলেন। এ বাহিনীতে তিনশ' মুজাহিদ ছিলেন। আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। আমরা রওয়ানা হলাম। কিন্তু মাঝপথেই আমাদের পাথেয় (খাদ্য- সামগ্রী) শেষ হয়ে গেল। তখন আবু উবাইদা রাযি. দলের প্রত্যেককে নিজ নিজ খাদ্যদ্রব্য এক জায়গায় জমা করার নির্দেশ দিলেন। তাই সমস্ত খাদ্যদ্রব্য জমা করা হলো। এতে মোট দু'খলে খেজুর জমা করা হলো। আবু উবাইদা রাযি. প্রতি দিন আমাদের এই খেজুর থেকে কিছু কিছু খেতে দিতেন। অবশেষে তাও শেষ হওয়ার উপক্রম হলো এবং জন প্রতি একটি করে খেজুর ভাগে পড়তে লাগলো। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি (জাবির রাযি.-কে) জিজ্ঞাসা করলাম, একটি খেজুর কি যথেষ্ট হতো? তিনি বললেন, তার মূল্য তখন বুঝতে পারলাম, যখন তাও শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, এরপর আমরা সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। হঠাৎ ছোট পাহাড়ের ন্যায় (বিরাট) একটা মাছ আমরা পেয়ে গেলাম। অতঃপর এ বাহিনী আঠারো দিন পর্যন্ত সেই মাছটি খেলো। তারপর আবু উবাইদা রাযি.-এর আদেশে সে মাছের পাঁজর থেকে দুটো কাঁটা দাঁড় করানো হলো। তারপর তিনি হাওদা লাগাতে বললেন। হাওদা লাগানো হলো। এরপর উট তার পাঁজরের নীচ দিয়ে গমন করলো, কিন্তু উটের দেহ তাতে (সে দুটো কাঁটা) স্পর্শ করলো না। (বুখারী-২৪৮৩, ২৯৮৩, ৪৩৬০, ৪৩৬১, ৪৩৬২, ৫৪৯৩, ৫৪৯৪, ইফা.-২৩২১, মুসলিম-১৯৩৫, তিরমিযী-২৪৭৫, নাসাঈ-৪৩৫১, ৪৩৫২ ৪৩৫৩, ৪৩৫৪, আবু দাউদ-৩৮৪০, ইবনে মাজাহ-৪১৫৯, আহমাদ-১৩৮৪৪, ১৩৮৭৪, ১৩৯০৩, ১৩৯২৬, ১৪৬২৯, মালিক-১৭৩০, দারিমী-২০১২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: এটি অষ্টম হিজরী সনের ঘটনা। কুরাইশদের একটি বণিক দলের পশ্চাদ্ধাবন করার উদ্দেশ্যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবাইদা রাযি. এর নেতৃত্বে তিনশ' জন মুজাহিদকে সমুদ্র তীরবর্তী রাস্তায় প্রেরণ করেন। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী পথিমধ্যেই তাদের সকল খাদ্য শেষ হয়ে যায়। সাহাবাগণ অত্যন্ত কষ্ট করে সমুদ্রের নিকট পৌঁছে তীরের কাছেই ছোট-খাটো পাহাড়ের ন্যায় বিরাট একটি 'আম্বর' মাছ (মৃত অবস্থায়) দেখতে পেলেন। মাছটি এতো বড় ছিলো যে, একদিন সেনাপতি হযরত আবু উবাইদা রাযি. তেরজন সাহাবীকে ঐ মাছের চোখের গর্তের মধ্যে বসিয়ে দিলেন।
আরেকদিন মাছের পাঁজরের একটি কাটা (যেটি বাঁকা হয়) উঁচু করে ধরলেন এবং সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক দীর্ঘকায় ব্যক্তিকে সবচেয়ে উঁচু একটি উটের পিঠে আরোহণ করে সেই কাটার নিচ দিয়ে যেতে বললেন। অতঃপর সর্বাধিক দীর্ঘকায় ব্যক্তি উটের পিঠে আরোহণ করে তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করলেন, কিন্তু তার মাথা ঐ কাটায় স্পর্শ করলো না। তিনশ'জন মুজাহিদ সাহাবী প্রায় এক মাস পর্যন্ত সেই মাছটি ভক্ষণ করলেন। তারপরও মাছ শেষ হয়নি। ঐ মাছ খাওয়ার ফলে সকলেই স্বাস্থ্যবান (মোটা) হয়েছিলেন। সর্বশেষ মদিনায় প্রত্যাবর্তনকালে তারা ঐ মাছ থেকে কিছু গোশত নিয়ে এসেছিলেন এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে তা পেশ করলে তিনিও তা ভক্ষণ করলেন। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 নবীজীর মুখের লালায় বিস্ময়কর বরকত

📄 নবীজীর মুখের লালায় বিস্ময়কর বরকত


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 এক কেজি আটার রুটি এক হাজার সাহাবী খেলেন

📄 এক কেজি আটার রুটি এক হাজার সাহাবী খেলেন


عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، فَقَالَ: إِنَّا يَوْمَ الخَنْدَقِ نَحْفِرُ، فَعَرَضَتْ كُدْيَةٌ شَدِيدَةً، فَجَاءُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: هَذِهِ كُرْيَةً عَرَضَتْ فِي الخَنْدَقِ، فَقَالَ: أَنَا نَازِلْ . ثُمَّ قَامَ وَبَطْنُهُ مَعْصُوبٌ بِحَجَرٍ ، وَلَبِثْنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ لَا نَذُوقُ ذَوَاقًا، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المِعْوَلَ فَضَرَبَ، فَعَادَ كَثِيبًا أَهْيَلَ أَوْ أَهْيَمَ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، ائْذَنْ لِي إِلَى البَيْتِ، فَقُلْتُ لِامْرَأَتِي: رَأَيْتُ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا مَا كَانَ فِي ذَلِكَ صَبْرٌ ، فَعِنْدَكِ شَيْءٌ؟ قَالَتْ: عِنْدِي شَعِيرٌ وَعَنَاقُ، فَذَبَحَتِ العَنَاقَ، وَطَحَنَتِ الشَّعِيرَ حَتَّى جَعَلْنَا اللَّحْمَ فِي البُرْمَةِ، ثُمَّ جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالعَجِينُ قَدْ انْكَسَرَ وَالبُرْمَةُ بَيْنَ الأَثَانِي قَدْ كَادَتْ أَنْ تَنْضَجَ ، فَقُلْتُ : طُعَيِّمٌ لِي ، فَقُمْ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ وَرَجُلٌ أَوْ رَجُلانِ ، قَالَ: كَمْ هُوَ, فَذَكَرْتُ لَهُ ، قَالَ : كَثِيرٌ طَيِّبٌ ، قَالَ : قُلْ لَهَا : لَا تَنْزِعِ البُرْمَةَ، وَلَا الخُبْزَ مِنَ التَّنُّورِ حَتَّى آتِي، فَقَالَ: قُومُوا, فَقَامَ المُهَاجِرُونَ، وَالْأَنْصَارُ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى امْرَأَتِهِ قَالَ: وَيُحَكِ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَمَنْ مَعَهُمْ ، قَالَتْ: هَلْ سَأَلَكَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ: ادْخُلُوا وَلَا تَضَاغَطُوا فَجَعَلَ يَكْسِرُ الخُبْزَ وَيَجْعَلُ عَلَيْهِ اللَّحْمَ، وَيُخَمِّرُ البُرْمَةَ وَالتَّنُّورَ إِذَا أَخَذَ مِنْهُ، وَيُقَرِّبُ إِلَى أَصْحَابِهِ ثُمَّ يَنْزِعُ، فَلَمْ يَزَلْ يَكْسِرُ الخُبْزَ، وَيَغْرِفُ حَتَّى شَبِعُوا وَبَقِيَ بَقِيَّةٌ، قَالَ: كُلِي هَذَا وَأَهْدِي، فَإِنَّ النَّاسَ أَصَابَتْهُمْ مَجَاعَة
وفي روايةٍ قَالَ جَابِرٍ : لَمَّا حُفِرَ الخَنْدَقُ رَأَيْتُ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمَصًا شَدِيدًا، فَانْكَفَأْتُ إِلَى امْرَأَتِي، فَقُلْتُ: هَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ؟ فَإِنِّي رَأَيْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمَصًا شَدِيدًا ، فَأَخْرَجَتْ إِلَيَّ جِرَابًا فِيهِ صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ، وَلَنَا بُهَيْمَةٌ دَاجِنٌ فَذَبَحْتُهَا ، وَطَحَنَتِ الشَّعِيرَ ، فَفَرَغَتْ إِلَى فَرَاغِي، وَقَطَّعْتُهَا فِي بُرْمَتِهَا، ثُمَّ وَلَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: لَا تَفْضَحْنِي بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِمَنْ مَعَهُ ، فَجِئْتُهُ فَسَارَرْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَبَحْنَا بُهَيْمَةً لَنَا وَطَحَنَّا صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ كَانَ عِنْدَنَا، فَتَعَالَ أَنْتَ وَنَفَرٌ مَعَكَ، فَصَاحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا أَهْلَ الخَنْدَقِ، إِنَّ جَابِرًا قَدْ صَنَعَ سُورًا ، فَحَيَّ هَلَّا بِهَلَكُمْ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تُنْزِلُنَّ بُرْمَتَكُمْ ، وَلَا تَخْبِرُنَّ عَجِينَكُمْ حَتَّى أَجِيءَ فَجِئْتُ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْدُمُ النَّاسَ حَتَّى جِئْتُ امْرَأَتِي، فَقَالَتْ: بِكَ وَبِكَ، فَقُلْتُ: قَدْ فَعَلْتُ الَّذِي قُلْتِ، فَأَخْرَجَتْ لَهُ عَجِينًا فَبَصَقَ فِيهِ وَبَارَكَ، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى بُرْمَتِنَا فَبَصَقَ وَبَارَكَ، ثُمَّ قَالَ: ادْعُ خَابِزَةً فَلْتَخْبِرُ مَعِي، وَاقْدَحِي مِنْ بُرْمَتِكُمْ وَلَا تُنْزِلُوهَا, وَهُمْ أَلْفٌ، فَأُقْسِمُ بِاللَّهِ لَقَدْ أَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ وَانْحَرَفُوا، وَإِنَّ بُرْمَتَنَا لَتَغِطْ كَمَا هِيَ، وَإِنَّ عَجِينَنَا لَيُخْبَرُ كَمَا هُوَ

অর্থ: হযরত জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের সময় আমরা পরিখা (খাল) খনন করছিলাম। এমন সময় একটি কঠিন পাথর বেরিয়ে এলো (যা ভাঙ্গা যাচ্ছিল না)। সাহাবীগণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন, খন্দকে একটি পাথর বেরিয়েছে (কিন্তু আমরা ভাঙ্গতে পারছি না)। তিনি বললেন: আমি নিজে খন্দকে অবতরণ করবো। এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। এ সময় ক্ষুধার কারণে তাঁর পেটে একটি পাথর বাঁধা ছিল। আমরাও তিন দিন পর্যন্ত কিছু খাইনি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কোদাল হাতে নিয়ে পাথরে আঘাত করলেন, ফলে তৎক্ষণাৎ পাথরটি টুকরো টুকরো হয়ে বালিতে পরিণত হলো। আমি বললাম, ইয়া রাসুলল্লাহ! আমাকে একটু বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দিন। অতঃপর আমি বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বললাম, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে অবস্থায় দেখে এসেছি, তা আমি সহ্য করতে পারছি না। তোমার কাছে খাবার কিছু আছে কি? সে বললো, আমার কাছে কিছু যব ও একটি ছাগল ছানা আছে। আমি ছাগল ছানাটি যবেহ করলাম এবং যব পিষলাম। এরপর ডেকচিতে গোশত চড়িয়ে দিয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে উপস্থিত হলাম। ইতোমধ্যে আটা রুটি তৈরীর উপযুক্ত হয়ে গেল এবং চুলার ডেকচিতে গোশত রান্না হয়ে গেল। আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অল্প কিছু খাবারের ব্যবস্থা করেছি। দয়া করে আপনি এবং সাথে এক অথবা দু'জন লোক নিয়ে চলুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা কতোজন যাবো? আমি তাঁকে পরিমাণ খুলে বললাম। তিনি বলেন: আমরা বেশি সংখ্যকই উত্তম। তুমি তোমার স্ত্রীকে বলো, আমি না আসা পর্যন্ত ডেকচি চুলো থেকে নামাবে না এবং রুটিও বানাবে না। অতঃপর তিনি সকলকে সম্বোধন করে বললেন: সকলেই চলো। তখন মুহাজির ও আনসার সকলেই রওয়ানা দিলেন। আমি স্ত্রীর কাছে এসে বললাম, তোমার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আনসার, মুহাজির ও তাঁর সাথের সবাই এসে গেছেন। সে বললো, তিনি কি তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছেন? আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা প্রবেশ করো; কিন্তু ভীড় করো না। তারপর তিনি রুটি টুকরো টুকরো করে তার উপর গোশত দিতে লাগলেন এবং ডেকচি ও উনুন ঢেকে দিলেন। তিনি তা থেকে সাহাবীদের কাছে এনে ঢেকে দিতেন। এভাবে তিনি রুটি টুকরা করতেই থাকলেন। এবং তাতে তরকারী ঢেলে দিতে থাকলেন। অবশেষে সকলেই পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে পেট ভরে খেলেন এবং কিছু অবশিষ্টও থাকলো। তিনি বললেন: এগুলো তুমি (জাবিরের স্ত্রী) খাও এবং অন্যদের হাদিয়া দাও। কেননা লোকদের ক্ষুধা পেয়েছে।
অপর বর্ণনায় আছে: জাবির রাযি. বলেন, পরিখা খননের সময় আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে ক্ষুধার লক্ষণ দেখতে পেয়ে আমার স্ত্রীর কাছে ফিরে এলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কাছে কিছু আছে কি? কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুবই ক্ষুধার্ত দেখেছি। সে আমাকে এক সা যব ভর্তি একটি থলে বের করে দিল। আমাদের পালিত একটি ভেড়ার বাচ্চা ছিলো। আমি সেটা যবেহ করলাম। সে যব পিষে ফেললো। আমি অবসর হয়ে গোশত টুকরা করে ডেকচিতে চড়িয়ে দিলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে (দাওয়াত নিয়ে) যেতে ইচ্ছা করলাম। আমার স্ত্রী বললো, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের সামনে লজ্জিত করো না। আমি তাঁর কাছে হাজির হয়ে তাঁকে চুপে চুপে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের একটি ভেড়ার বাচ্চা ছিলো। আমি সেটা যবেহ করেছি এবং সে এক সা' যব পিষে আটা তৈরি করেছে। সুতরাং দয়া করে আপনি কয়েকজন লোকসহ চলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে বললেন, হে খন্দক বাহিনী! জাবির তোমাদের জন্য মেহমানী (খাবার) প্রস্তুত করেছে, সুতরাং সবাই চলো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: আমি না আসা পর্যন্ত চুলো থেকে ডেকচি নামাবে না এবং রুটিও পাকাবে না। আমি চলে আসলাম এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে নিয়ে চলে এলেন। আমি আমার স্ত্রীর কাছে এসে সব বললাম। সে বললো, তুমিই লজ্জিত হবে, তুমিই অপমানিত হবে। আমি বললাম, তুমি যা বলে দিয়েছিলে, আমি তো তাই করেছি। অতঃপর সে খামীর করা আটা বের করে দিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে মুখের লালা মিশিয়ে বরকতের দুআ করলেন এবং ডেকচির কাছে এসেও মুখের লালা দিয়ে দুআ করলেন। অতঃপর বললেন, রাঁধুনিকে ডাক। সে তোমাদের সাথে রুটি পাকাবে এবং ডেকচি থেকে গোশত বের করবে, কিন্তু চুলো থেকে তা নামাবে না। লোকসংখ্যা ছিলো এক হাজার। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তারা সবাই পেট ভরে খেলেন এবং অবশিষ্ট রেখে চলে গেলেন। এদিকে আমাদের ডেকচিতে জোש মারার শব্দ হচ্ছিল এবং একই ভাবে রুটিও পাকানো হচ্ছিল। (বুখারী-৪১০১, ৪১০২, ৩০৭০, ইফা.-৩৭৯৮, মুসলিম-২০৩৯, তিরমিযী-২৮৪২, আহমাদ-১৩৭৯৯, ১৩৮০৯, ১৪৬১০, দারিমী-৪২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বিস্ময়কর মেহমানদারী

📄 বিস্ময়কর মেহমানদারী


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00