📄 যে যাকে ভালোবাসে, কিয়ামতের দিন সে তার সাথে উঠবে
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ, أَنَّ أَعْرَابِيًّا, قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم, مَتَى السَّاعَةُ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَعْدَدْتَ لَهَا. قَالَ حُبَّ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ، قَالَ, أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, কিয়ামত কবে হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি সে জন্যে কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? লোকটি বললো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা। তিনি বললেন, তুমি দুনিয়াতে যাকে ভালোবাসো, (পরকালে) তার সঙ্গেই থাকবে। (বুখারী-৬৮৮৮, ৬১৬৭, ৬১৭১, ৭১৫৩, ইফা.-৬৬৬৮, মুসলিম-৬৮৭৮, ইফা.- ৬৪৭০, তিরমিযী-২৩৮৫, ২৩৮৬, নাসাঈ-৫১২৭, আহমাদ-১১৬০২, ১১৬৬৫, ১২২১৪, ১২২৮১, ১২২৯২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 যে যাকে ভালোবাসে তার সাথেই তার হাশর হবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، كَيْفَ تَقُولُ فِي رَجُلٍ أَحَبَّ قَوْمًا وَلَمْ يَلْحَقْ بِهِمْ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
অর্থ: হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললো: হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে কিন্তু তাদের সাথে মিলিত হতে পারছে না। এই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে (কিয়ামতের দিন) সে তারই সঙ্গী হবে। (বুখারী-৬১৬৯, ৬১৬৮, ৬১৭০, ইফা-৫৬২৫, মুসলিম-৬৬১১, ইফা.-৬৪৭৭, আহমাদ-৩৮১০, ১৯১৩১, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 মুহাম্মাদ সা. ব্যতীত কেউ সুপারিশ করতে পারবে না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحُذَيْفَةَ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : يَجْمَعُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى النَّاسَ فَيَقُومُ الْمُؤْمِنُونَ حَتَّى تُزْلَفَ لَهُمُ الْجَنَّةُ فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ يَا أَبَانَا اسْتَفْتِحُ لَنَا الْجَنَّةَ. فَيَقُولُ وَهَلْ أَخْرَجَكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلَّا خَطِيئَةُ أَبِيكُمْ آدَمَ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ اذْهَبُوا إِلَى ابْنِي إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ اللَّهِ قَالَ فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ إِنَّمَا كُنْتُ خَلِيلاً مِنْ وَرَاءِ وَرَاءَ اعْمِدُوا إِلَى مُوسَى صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَلَّمَهُ اللهُ تَكْلِيمًا فَيَأْتُونَ مُوسَى صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ اذْهَبُوا إِلَى عِيسَى كَلِمَةُ اللَّهِ وَرُوحِهِ. فَيَقُولُ عِيسَى صلى الله عليه وَسَلَّم لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ . فَيَأْتُونَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَيَقُومُ فَيُؤْذَنُ لَهُ وَتُرْسَلُ الْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ فَتَقُومَانِ جَنَبَتَي الصِّرَاطِ يَمِينًا وَشِمَالاً فَيَمُرُّ أَوَّلُكُمْ كَالْبَرْقِ. قَالَ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَيُّ شَيْءٍ كَمَةِ الْبَرْقِ قَالَ, أَلَمْ تَرَوْا إِلَى الْبَرْقِ كَيْفَ يَمُرُّ وَيَرْجِعُ فِي طَرْفَةِ عَيْنٍ ثُمَّ كَمَةِ الرِّيحِ ثُمَّ كَمَةِ الطَّيْرِ وَشَيِّ الرِّجَالِ تَجْرِي بِهِمْ أَعْمَالُهُمْ وَنَبِيُّكُمْ قَائِمٌ عَلَى الصِّرَاطِ يَقُولُ رَبِّ سَلِّمْ سَلِّمْ حَتَّى تَعْجِزَ أَعْمَالُ الْعِبَادِ حَتَّى يَجِيءَ الرَّجُلُ فَلا يَسْتَطِيعُ السَّيْرَ إِلَّا زَحْفًا قَالَ وَفِي حَافَتَي الصِّرَاطِ كَلالِيبُ مُعَلَّقَةٌ مَأْمُورَةٌ بِأَخْذِ مَنْ أُمِرَتْ بِهِ فَمَخْدُوشُ نَاجٍ وَمَكْدُوسٌ فِي النَّارِ. وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ إِنَّ قَعْرَ جَهَنَّمَ لَسَبْعُونَ خَرِيفًا
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. ও হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা (কিয়ামাতের দিন) লোকদের সমবেত করবেন। তখন ঈমানদারগণ উঠে দাঁড়াবে। এ সময় জান্নাত তাদের নিকটবর্তী করা হবে (এবং তা হবে সুসজ্জিত)। এরপর তারা হযরত আদম আ. এর নিকট এসে বলবে, হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্যে জান্নাত খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। তিনি বলবেন, তোমাদের পিতা আদমের অপরাধের কারণেই তো তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অতএব আমি এ কাজের উপযুক্ত নই। বরং তোমরা আমার পুত্র আল্লাহর বন্ধু (খলীলুল্লাহ) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে যাও। তখন তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে আসলে তিনি বলবেন, আমি এ কাজের উপযুক্ত নই। আমি অবশ্যই তাঁর বন্ধু ছিলাম, তবে তা ছিলো অনেক দূরে। বরং তোমরা মূসা আলাইহিস সালামের কাছে যাও। তিনি হলেন সে ব্যক্তি, যাঁর সাথে আল্লাহ স্বয়ং কথা বলেছেন। এরপর তারা মূসা আলাইহিস সালামের কাছে আসবে। তিনি বলবেন, আমি এ কাজের উপযুক্ত নই। বরং তোমরা ঈসার নিকট যাও। কেননা তিনি হলেন রূহুল্লাহ। এবার তার ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে আসবে। তিনি বলবেন, আমি এ কাজের যোগ্য নই। অতঃপর তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসবে। তখন তিনি উঠে দাঁড়াবেন এবং তাঁকে (জান্নাতের দরজা খোলার) অনুমতি দেয়া হবে। এবার আমানত ও রেহম (রক্ত সম্পর্ক) বস্তু দু'টি পুলসিরাতের ডানে ও বামে এসে দাঁড়াবে। অতঃপর তোমাদের সর্বপ্রথম দল তা অতিক্রম করবে বিদ্যুতের গতিতে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক। বিদ্যুতের গতিতে কি জিনিস অতিক্রম করতে পারে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি দেখোনি বিদ্যুত চোখের পলকের মধ্যে কিরূপ গতিতে যায় ও ফিরে আসে? ঐ সমস্ত লোকেরাও অনুরূপভাবে দ্রুত গতিতে পুলসিরাত অতিক্রম করে যাবে। তারপর যারা অতিক্রম করবে, তাদের গতি হবে বাতাসের সমান। এরপর যারা অতিক্রম করবে তাদের গতি হবে পাখির গতির সমান। এরপর প্রত্যেকটি মানুষের গতিবেগ তাদের নিজ নিজ আমল অনুপাতে নির্ধারিত হবে।
আর তোমাদের নবী পুলসিরাতের উপর দন্ডায়মান অবস্থায় বলতে থাকবেন, হে আমার প্রভু! (আমার উম্মতকে) নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে পার করুন, শেষ পর্যন্ত যখন বান্দাদের আমল অকেজো হয়ে যাবে (অর্থাৎ আমল দ্বারা পার হওয়ার কোনো উপায় থাববে না) এ সময় এমন এক ব্যক্তি আসবে যার চলার শক্তি নেই। সে পার হবে হামা গুড়ি দিয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাও বলেছেন যে, পুলসিরাতের দুই ধারে ঝুলানো থাকবে বৃহদাকারের আংটা। যাকে ধরার নির্দেশ করা হবে, তৎক্ষণাৎ তা তাকে পাকড়াও করবে। ফলে কেউ কেউ ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় নাজাত পাবে। আবার কেউ কেউ ফেটে জাহান্নামে পতিত হবে। সেই মহান সত্তার কসম যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ! নিশ্চয়ই জাহান্নামের গভীরতা হবে সত্তর বছরের দূরত্বের সমান। (মুসলিম-৫০৩, ইফা.-৩৭৮, তিরমিযী-২১৮৬, ৩২২৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
নোট: আলোচ্য হাদীসের শেষের দিকে বলা হয়েছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে বলতে থাকবেন- 'হে আমার প্রভু! আমার উম্মতকে নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে পার করুন।' সেদনি পুলসিরাতের দুই ধারে ঝুলানো থাকবে বৃহদাকারের আংটা। যাকে ধরার নির্দেশ করা হবে, তৎক্ষণাৎ তা তাকে পাকড়াও করবে। ফলে কেউ কেউ ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় নাজাত পাবে। আবার কেউ কেউ ফেটে জাহান্নামে পতিত হবে। সেই মহান সত্তার কসম যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ! নিশ্চয়ই জাহান্নামের গভীরতা হবে সত্তর বছরের দূরত্বের পরিমান। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, উর্দু-৩য় খণ্ড, মুসলিম-৫০৩, ইফা.-৩৭৮, তিরমিযী-২১৮৬, ৩২২৭, হাদীসের বর্ণনা মুসলিমের)
📄 কিয়ামতের দিন যালিমদের কি অবস্থা হবে?
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।