📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَسْتُرُ عَبْدٌ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا إِلَّا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। (মুসলিম-৬৭৬০, ৬৪৮৯, ইফা.-৬৩৫৯, আহমাদ-৮৯৯৫, ২৭৪৮৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার লাভ হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَضَامُونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ؟ قَالُوا لاَ, قَالَ فَكَذَلِكَ لَا تَضَامُوْنَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোনো অসুবিধা হয়? সাহাবাগণ বললেন, না। তিনি বললেন: এমনিভাবে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রভুর দর্শন লাভে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। (বুখারী-৮০৬, ৬৫৭৪, ৭৪৩৮, ইফা.-৭৬৯, মুসলিম-১৮২, ২৯৬৮, তিরমিযী-২৫৪৯, ২৫৫৪, ২৫৫৭, আবু দাউদ-৪৭৩০, ইবনে মাজাহ-১৭৮, আহমাদ-৭৬৬০, ৭৭২১, ১০৫২৩, দারিমী-২৮০১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মাদীকে যেভাবে ডাকা হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرًا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ইচ্ছে রাখে সে যেন তা করে নেয়। (বুখারী-১৩৬, ইফা.-১৩৮, মুসলিম-৩৫, ২৪৬, ইবনে মাজাহ-৪৩০৬, আহমাদ-৮২০৮, ৮৫২৪, ৮৯৪২, ৯২০৬, ১০৩৯৯, মালিক-৬০, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 কিয়ামতের দিন যাদের হাত ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَعْرِفُ أُمَّتَكَ مِنْ بَيْنِ الْأُمَمِ فِيمَا بَيْنَ نُوحٍ إِلَى أُمَّتِكَ قَالَ هُمْ غُرَّ مُحَجَّلُونَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ لَيْسَ أَحَدٌ كَذَلِكَ غَيْرَهُمْ وَاعْرِفُهُمْ أَنَّهُمْ يُؤْتَوْنَ كُتُبَهُمْ بِأَيْمَانِهِمْ وَاعْرِفُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ ذُرِّيَّتُهُمْ
অর্থ: হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নূহ আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আপনি পর্যন্ত অসংখ্য উম্মতের মধ্যে আপনার উম্মতকে (কিয়ামতের দিন) কীভাবে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, অজুর নিশানার কারণে তাদের হাত, পা চমকাতে থাকবে। অন্য কোনো নবীর উম্মত এরূপ হবে না। আমি তাদেরকে চিনব এজন্য যে, তাদের আমলনামা (সর্বপ্রথম) তাদের ডান হাতে দেয়া হবে। এজন্যও যে, তাদের সামনে তাদের সন্তানেরা দৌড়াতে থাকবে। (আহমদ-২১৭৩৭, ৮৭৪১, ১০৭৭৮, মিশকাত-৪০পৃ. হাদীসের শব্দাবলী আহমাদের)
নোট: غر শব্দটি এর শব্দের বহুবচন। হাত এবং পা সাদা ও উজ্জ্বল হওয়া।
এটি উম্মতে মুহাম্মাদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলনামা তো প্রত্যেক উম্মতের জান্নাতীদের ডান হাতেই থাকবে। তবে এ উম্মত সবার আগে পাবে। "তাদের সন্তানেরা তাদের সামনে দৌড়াবে” এর তাৎপর্য হলো, অন্য উম্মতের সন্তানেরা এ রকম হবে না এটি এ উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।