📄 কিয়ামতের দিন ভিক্ষুকের চেহারায় গোশত থাকবে না
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَسْأَلُ النَّاسَ، حَتَّى يَأْتِيَ يَوْمَ القِيَامَةِ لَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةٌ لَحْمٍ
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সর্বদা প্রার্থনা (ভিক্ষা) করে, সে কিয়ামত দিবসে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না। (বুখারী-১৪৭৪, ৪৭১৯, ইফা-১৩৮৯, মুসলিম-১০৪০, নাসাঈ-২৫৮৫, আহমাদ-৪৬২৪, ৫৫৮৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যাদের লোভ খুবই বেশি। চলার মতো অর্থ-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে ভিক্ষা করে। এটা মারাত্মক একটি কু-স্বভাব। এই কু-স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে কোনো দিনই বড় হতে পারবে না; বরং মৃত্যু পর্যন্ত তার ভিক্ষা-ই করতে হবে। দরিদ্রতা কখনো তার থেকে দূর হবে না। তাছাড়া সাধারণ জনগণও এসব কু-চরিত্রের লোকদেরকে খুব ঘৃণা করে। আর যারা গরীব হওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে হাত প্রসারিত করে না; বরং আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করে। আল্লাহ অল্পদিনের মধ্যেই তাদেরকে স্বচ্ছলতা দান করেন এবং ইজ্জতের সাথে জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেন।
📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَسْتُرُ عَبْدٌ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا إِلَّا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। (মুসলিম-৬৭৬০, ৬৪৮৯, ইফা.-৬৩৫৯, আহমাদ-৮৯৯৫, ২৭৪৮৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার লাভ হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَضَامُونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ؟ قَالُوا لاَ, قَالَ فَكَذَلِكَ لَا تَضَامُوْنَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোনো অসুবিধা হয়? সাহাবাগণ বললেন, না। তিনি বললেন: এমনিভাবে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রভুর দর্শন লাভে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। (বুখারী-৮০৬, ৬৫৭৪, ৭৪৩৮, ইফা.-৭৬৯, মুসলিম-১৮২, ২৯৬৮, তিরমিযী-২৫৪৯, ২৫৫৪, ২৫৫৭, আবু দাউদ-৪৭৩০, ইবনে মাজাহ-১৭৮, আহমাদ-৭৬৬০, ৭৭২১, ১০৫২৩, দারিমী-২৮০১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মাদীকে যেভাবে ডাকা হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرًا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ইচ্ছে রাখে সে যেন তা করে নেয়। (বুখারী-১৩৬, ইফা.-১৩৮, মুসলিম-৩৫, ২৪৬, ইবনে মাজাহ-৪৩০৬, আহমাদ-৮২০৮, ৮৫২৪, ৮৯৪২, ৯২০৬, ১০৩৯৯, মালিক-৬০, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)