📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত দিবসে যারা নূরের সুসংবাদ প্রাপ্ত হবেন

📄 কিয়ামত দিবসে যারা নূরের সুসংবাদ প্রাপ্ত হবেন


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: جَلَسْتُ فِي عِصَابَةٍ مِنْ ضُعَفَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَإِنَّ بَعْضَهُمْ لَيَسْتَتِرُ بِبَعْضٍ مِنَ الْعُرْيِ وَقَارِئُ يَقْرَأُ عَلَيْنَا إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عَلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَكَتَ الْقَارِيُّ, فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ : مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ. قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّهُ كَانَ قَارِئُ لَنَا يَقْرَأُ عَلَيْنَا فَكُنَّا نَسْتَمِعُ إِلَى كِتَابِ اللهِ. قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ أُمِرْتُ أَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَهُمْ . قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَسَطَنَا لِيَعْدِلَ بِنَفْسِهِ فِينَا ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا فَتَحَلَّقُوا وَبَرَزَتُ وُجُوهُهُمْ لَهُ, قَالَ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَفَ مِنْهُمْ أَحَدًا غَيْرِى . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ بِالنُّورِ التَّامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَاءِ النَّاسِ بِنِصْفِ يَوْمٍ, وَذَاكَ خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি দরিদ্র মুহাজিরদের একটি জামাতের সাথে বসলাম। তাঁরা নিজেদের পোশাক স্বল্পতার কারণে একে অন্যের সাথে মিশে মিশে বসেছিলেন। তখন একজন আমাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন এবং আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দাঁড়ালে কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাম দিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী করছিলে? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন ক্বারী কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন, আর আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, ঐ আল্লাহর শুকর, যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এ ধরণের লোক সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সাথে বসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের সাথে বসে নিজেকে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তারপর তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন, তোমরা গোল হয়ে বসো। তারা গোল হয়ে বসলেন। তাদের চেহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখোমুখি হলো। তখন তিনি বললেন, হে গরীব মুহাজিরগণ! তোমরা কিয়ামত দিবসে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমরা ধনীদের অর্ধ দিন আগে জান্নাতে যাবে। এ অর্ধ দিনের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচশ' বছর। (আবু দাউদ-৩৬৬৮, মিশকাত-২১৯৮, বায়হাকী ফী শুআবিল ঈমান-১০০১০, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের দিন ভিক্ষুকের চেহারায় গোশত থাকবে না

📄 কিয়ামতের দিন ভিক্ষুকের চেহারায় গোশত থাকবে না


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَسْأَلُ النَّاسَ، حَتَّى يَأْتِيَ يَوْمَ القِيَامَةِ لَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةٌ لَحْمٍ

অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সর্বদা প্রার্থনা (ভিক্ষা) করে, সে কিয়ামত দিবসে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না। (বুখারী-১৪৭৪, ৪৭১৯, ইফা-১৩৮৯, মুসলিম-১০৪০, নাসাঈ-২৫৮৫, আহমাদ-৪৬২৪, ৫৫৮৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যাদের লোভ খুবই বেশি। চলার মতো অর্থ-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে ভিক্ষা করে। এটা মারাত্মক একটি কু-স্বভাব। এই কু-স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে কোনো দিনই বড় হতে পারবে না; বরং মৃত্যু পর্যন্ত তার ভিক্ষা-ই করতে হবে। দরিদ্রতা কখনো তার থেকে দূর হবে না। তাছাড়া সাধারণ জনগণও এসব কু-চরিত্রের লোকদেরকে খুব ঘৃণা করে। আর যারা গরীব হওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে হাত প্রসারিত করে না; বরং আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করে। আল্লাহ অল্পদিনের মধ্যেই তাদেরকে স্বচ্ছলতা দান করেন এবং ইজ্জতের সাথে জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেন।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন

📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَسْتُرُ عَبْدٌ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا إِلَّا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। (মুসলিম-৬৭৬০, ৬৪৮৯, ইফা.-৬৩৫৯, আহমাদ-৮৯৯৫, ২৭৪৮৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার লাভ হবে

📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার লাভ হবে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَضَامُونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ؟ قَالُوا لاَ, قَالَ فَكَذَلِكَ لَا تَضَامُوْنَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোনো অসুবিধা হয়? সাহাবাগণ বললেন, না। তিনি বললেন: এমনিভাবে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রভুর দর্শন লাভে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। (বুখারী-৮০৬, ৬৫৭৪, ৭৪৩৮, ইফা.-৭৬৯, মুসলিম-১৮২, ২৯৬৮, তিরমিযী-২৫৪৯, ২৫৫৪, ২৫৫৭, আবু দাউদ-৪৭৩০, ইবনে মাজাহ-১৭৮, আহমাদ-৭৬৬০, ৭৭২১, ১০৫২৩, দারিমী-২৮০১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00