📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যাকে ইজ্জতের পোশাক পরাবেন

📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যাকে ইজ্জতের পোশাক পরাবেন


عن عمرو بن حزم ، يحدث عن أبيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال, ما من مؤمن يُعَنِّي أخاه بمصيبة, إلا كساه الله سبحانه من حلل الكرامة يوم القيامة

অর্থ: আমর ইবনে হাযম রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি তার মুমিন ভাইকে বিপদে সান্তনা দিবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে ইজ্জতের পোশাক পরাবেন। (ইবনে মাজাহ-১৬০১, সহীহাহ-১৯৫, ইরওয়া-৭৬৮, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত দিবসে রাসূল সা. যাদের সাক্ষী হবেন

📄 কিয়ামত দিবসে রাসূল সা. যাদের সাক্ষী হবেন


عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْمَعُ بَيْنَ رَجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ ، ثُمَّ يَقُولُ : أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ؟ فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا ، قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ، فَقَالَ : أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ يَوْمَ القِيَامَةِ فَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ ، وَلَمْ يُغَسِلُهُمْ

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণকে দু' দু'জন করে একত্র করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তাঁদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? দু'জনের কোনো একজনের দিকে ইশারা করা হলে তিনি প্রথমে তাঁকে লাহদ কবরে রাখতেন। তারপর বললেন: কিয়ামত দিবসে আমি তাঁদের জন্য সাক্ষী হবো। তিনি রক্তমাখা অবস্থায়ই তাঁদের দাফন করার নির্দেশ করলেন এবং তাঁদের গোসলও দিলেন না। (সহীহ বুখারী-১৩৫৩, ১৩৪৩, ইফা.-১২৭১, তিরমিযী-১০৩৬, নাসাঈ-১৯৫৫, ২০২১, আবু দাউদ-৩১৩৮, ইবনে মাজাহ-১৫১৪, আহমাদ- ১৩৭৭৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত দিবসে যারা আল্লাহ আরশের নিচে ছায়া পাবেন

📄 কিয়ামত দিবসে যারা আল্লাহ আরশের নিচে ছায়া পাবেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِهِ، يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الإِمَامُ العَادِلُ، وَشَابٌ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقُ فِي المَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ ، وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ، أَخْفَى حَتَّى لا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তা'আলা তার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দিবেন।
(১). ন্যায়পরায়ণ শাসক। (শুধু শাসকই উদ্দেশ্য নয়, বরং যে ব্যক্তিই ইনসাফভিত্তিক বিচার-ফায়সালা করবে, সে এই মর্তবা হাসিল করবে)।
(২). যে ব্যক্তি যৌবন বয়সে আল্লাহর ইবাদাতে লিপ্ত থাকে।
(৩). যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে লেগে থাকে।
(৪). ঐ দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্যই পরস্পর একত্রিত হয় এবং তাঁর জন্যই সম্পর্ক ছিন্ন করে।
(৫). ঐ ব্যক্তি যাকে কোনো বংশীয় রূপসী-সুন্দরী নারী কুকর্মের জন্য আহবান জানায়, কিন্তু সে এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
(৬). যে ব্যক্তি এমন গোপনে দান-সদকা করে যে, তার ডানহাত কী দান করেছে বামহাত তা জানে না।
(৭). যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহর যিকির করে এবং তাঁর ভয়ে চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরে। (বুখারী-৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯, ৬৮০৬, ইফা.-৬২৭, সহীহ মুসলিম-১০৩১, তিরমিযী-২৩৯১, নাসাঈ-৫৩৮০, আহমাদ-৯৩৭৩, ৯৬৭১, মালিক-১৭৭৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত দিবসে যারা নূরের সুসংবাদ প্রাপ্ত হবেন

📄 কিয়ামত দিবসে যারা নূরের সুসংবাদ প্রাপ্ত হবেন


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: جَلَسْتُ فِي عِصَابَةٍ مِنْ ضُعَفَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَإِنَّ بَعْضَهُمْ لَيَسْتَتِرُ بِبَعْضٍ مِنَ الْعُرْيِ وَقَارِئُ يَقْرَأُ عَلَيْنَا إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عَلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَكَتَ الْقَارِيُّ, فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ : مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ. قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّهُ كَانَ قَارِئُ لَنَا يَقْرَأُ عَلَيْنَا فَكُنَّا نَسْتَمِعُ إِلَى كِتَابِ اللهِ. قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ أُمِرْتُ أَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَهُمْ . قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَسَطَنَا لِيَعْدِلَ بِنَفْسِهِ فِينَا ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا فَتَحَلَّقُوا وَبَرَزَتُ وُجُوهُهُمْ لَهُ, قَالَ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَفَ مِنْهُمْ أَحَدًا غَيْرِى . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ بِالنُّورِ التَّامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَاءِ النَّاسِ بِنِصْفِ يَوْمٍ, وَذَاكَ خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি দরিদ্র মুহাজিরদের একটি জামাতের সাথে বসলাম। তাঁরা নিজেদের পোশাক স্বল্পতার কারণে একে অন্যের সাথে মিশে মিশে বসেছিলেন। তখন একজন আমাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন এবং আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দাঁড়ালে কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাম দিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী করছিলে? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন ক্বারী কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন, আর আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, ঐ আল্লাহর শুকর, যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এ ধরণের লোক সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সাথে বসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের সাথে বসে নিজেকে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তারপর তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন, তোমরা গোল হয়ে বসো। তারা গোল হয়ে বসলেন। তাদের চেহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখোমুখি হলো। তখন তিনি বললেন, হে গরীব মুহাজিরগণ! তোমরা কিয়ামত দিবসে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমরা ধনীদের অর্ধ দিন আগে জান্নাতে যাবে। এ অর্ধ দিনের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচশ' বছর। (আবু দাউদ-৩৬৬৮, মিশকাত-২১৯৮, বায়হাকী ফী শুআবিল ঈমান-১০০১০, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00