📄 কিয়ামত দিবসে যে ব্যক্তি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُ بَطْنِهِ فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ فَيَقُولُونَ يَا فُلانُ مَا لَكَ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ, فَيَقُولُ بَلَى قَدْ كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ
অর্থ: উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কিয়ামত দিবসে এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তার নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাবে এবং সে তার চতুর্দিকে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন গাধা তার চাকির চতুর্দিকে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামীরা তার কাছে একত্রিত হয়ে জিজ্ঞেস করবে, হে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে? সে বলবে, নিশ্চয়ই! আমি তোমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতাম, কিন্তু তা আমল করতাম না এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম, কিন্তু আমি নিজেই ঐ কাজ করতাম। (সহীহ বুখারী-৩২৬৭, ৭০৯৮, মুসলিম-৭৬৭৪, ৭৩৭৩, ইফা.-৭২১৩, আহমাদ-২১২৭৭, ২১২৮৭, ২১২৯৩, ২১৩১২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
নোট: অন্যকে দাওয়াত দেয়ার পাশাপাশি নিজেও আমল করা জরুরী। মানুষকে ভালো কাজের দাওয়াত দিলাম, কিন্তু নিজে ভালো কাজ করলাম না, অন্যকে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নসীহত করলাম, কিন্তু নিজে মন্দ কাজ ছাড়লাম না, এটা মারাত্মক অন্যায়। আলোচ্য হাদীসে এ ধরনের 'দাঈ' ও বক্তাদের কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া পবিত্র কুরআনেও এরূপ 'দাঈ' ও বক্তাদের হুঁশিয়ার করা হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ ) كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল, যা নিজে করো না? তোমরা যা করো না, এরূপ কথা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।' (সূরা সাফ-২-৩)
আমাদের সমাজেও এমন 'দাঈ' ও বক্তার অভাব নেই, যারা মানুষকে খুব সুন্দর সুন্দর বয়ান করেন নিজে আমল করেন না। মানুষকে পর্দার কথা বলেন, কিন্তু নিজের স্ত্রী ও মেয়ে বেপর্দা। মানুষকে নামাজের কথা বলেন, অথচ নিজেও নামাজ পড়ে না এবং পরিবার সদস্যদের দ্বারাও পড়ায় না। মানুষকে হারাম থেকে বেঁচে থাকার নসীহত করেন অথচ নিজের ঘরে টিভি, মেয়ে কলেজে পড়ে, নিজে সুদ খায়, হারাম ব্যবসা করে, কথায় কথায় মিথ্যা বলে, শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করে, আমানতের খিয়ানত করে, কারো সাথে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, অন্যকে নামাজের দাওয়াত দেন অথচ নিজের ছেলে- মেয়ে ও স্ত্রীসহ ঘরের কেউ নামাজ পড়ে না ইত্যাদি।
তবে আমি এ কথা বলবো না যে, যারা আমল করে না কিংবা এরূপ বড় বড় পাপের সাথে জড়িত তারা অন্যকে দাওয়াত দিতে পারবে না বা দাওয়াত দিলে গুনাহ হবে; বরং আমি তাদের প্রতি অনুরোধ করবো যে, যেহেতু আপনারা 'দাঈ' ও রাসূলের উত্তরসূরী, সুতরাং আপনি দাওয়াত দেয়ার পাশাপাশি নিজেও আমল করুন এবং নিজের মধ্যে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলো অতিদ্রুত পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন।
📄 কিয়ামত দিবসে আল্লাহ যাকে হিফাজত করবেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِن كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ, وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ, وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কোনো বিপদ-মুসীবত দূর করে দেবে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তার থেকেও বিপদ-মুসীবত দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত লোকের দুর্দশা লাঘব করবে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুর্দশা দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্য করে থাকেন। (মুসলিম-৭০২৮, ৬৭৪৬, ইফা.-৬৬০৮, তিরমিযী-১৪২৫, ২৬৪৬, ২৯৪৫, আবু দাউদ-১৪৫৫, ৩৬৪৩, ইবনে মাজাহ-২২৫, ২৪১৭, আহমাদ-৭৬৩৪, ৯৫১২, দারিমী-৩৪৪, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যাকে অধিক সম্মানিত করবেন
عن معاذ بن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : من كظم غيظاً ، وهُو قادر على أن ينفذه ، دعاه الله سبحانه وتعالى على رؤوس الخلائق يوم القيامة حتى يخيره من الحور العين ما شاء
অর্থ: হযরত মুআয ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ প্রকাশের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাকে অবদমিত (নিয়ন্ত্রণে) রাখে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে সব মানুষের চেয়ে অধিক মর্যাদার সাথে ডাকবেন। এমনকি তিনি নিজ পছন্দ মতো বড় বড় সুন্দরী যুবতীদের (হুর) মধ্যে থেকে যাকে ইচ্ছা বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দান করবেন। (তিরমিযী-২০২১, ২৪৯৩, আবু দাউদ-৪৭৭৭, ইবনে মাজাহ-৪১৮৬, আহমাদ-১৫১৯২, ১৫২১০, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর, হাদীসটি হাসান)
📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ যাকে ইজ্জতের পোশাক পরাবেন
عن عمرو بن حزم ، يحدث عن أبيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال, ما من مؤمن يُعَنِّي أخاه بمصيبة, إلا كساه الله سبحانه من حلل الكرامة يوم القيامة
অর্থ: আমর ইবনে হাযম রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি তার মুমিন ভাইকে বিপদে সান্তনা দিবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে ইজ্জতের পোশাক পরাবেন। (ইবনে মাজাহ-১৬০১, সহীহাহ-১৯৫, ইরওয়া-৭৬৮, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)