📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 জাহান্নামীদের ঘাম সত্তর হাত ছাড়িয়ে যাবে

📄 জাহান্নামীদের ঘাম সত্তর হাত ছাড়িয়ে যাবে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَعْرَقُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَذْهَبَ عَرَقُهُمْ فِي الْأَرْضِ سَبْعِينَ ذِرَاعًا، وَيُلْجِمُهُمْ حَتَّى يَبْلُغَ إِذَا نَهُمْ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন মানুষের অধিক পরিমাণ ঘাম হবে। এমনকি তাদের ঘাম যমীনে সত্তর হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে এবং তাদের মুখ পর্যন্ত ঘামে নিমজ্জিত হবে; এমনকি কান পর্যন্ত হয়ে যাবে। (বুখারী-৬৫৩২, ইফা.-৬০৮৮, মুসলিম-২৮৬৩, তিরমিযী-২৪২২, ইবনে মাজাহ-৪২৭৮, আহমাদ-৯৪২৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানলে মানুষ জঙ্গলে চলে যেতো

📄 কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানলে মানুষ জঙ্গলে চলে যেতো


عَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : إِنِّي أَرَى مَا لا تَرَوْنَ وَأَسْمَعُ مَا لَا تَسْمَعُونَ أَطَّتِ السَّمَاءُ وَحُقَّ لَهَا أَنْ تَشِطَ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلَّا وَمَلَكَ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا لِلَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشِ وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ تَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ. لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ شَجَرَةً تُعْضَدُ অর্থ: হযরত আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমি যা দেখি, তা তোমরা দেখতে পাও না। আসমান কট্ কট্ শব্দ করছে। এরূপ শব্দ করার অধিকারও তার রয়েছে। কেননা সেখানে এমন চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গাও খালি নেই, যেখানে ফেরেশতারা আল্লাহর জন্য সিজদায় কপাল অবনত করেননি। আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। তোমরা স্ত্রীদের সাথে বিছানায় আমোদ-আহলাদও করতে না; বরং মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য বনে-জঙ্গলে বেরিয়ে যেতে। (তিরমিযী-২৩১২, ইবনে মাজাহ-৪১৯০, আহমাদ-২১০০৫, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের দিন যেসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কেউ এক কদমও সামনে অগ্রসর হতে পারবে না

📄 কিয়ামতের দিন যেসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কেউ এক কদমও সামনে অগ্রসর হতে পারবে না


عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمْرِهِ فِيهَا أَفْنَاهُ وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَا فَعَلَ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ অর্থ: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: কিয়ামতের দিন মানুষের দু'পা সামনে অগ্রসর হতে পারবে না, যতক্ষণ না এ প্রশ্নগুলোর জবাব দিবে- (১). হায়াত কিভাবে অতিবাহিত করেছে, (২). ইলম অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে, (৩). সম্পদ কিভাবে অর্জন করেছে, (৪). সম্পদ কোথায় খরচ করেছে, (৫). যৌবন কাল কিভাবে অতিবাহিত করেছে। (তিরমিযী-২৪১৭, দারিমী-৫৩৭, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত দিবসে যে ব্যক্তি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে

📄 কিয়ামত দিবসে যে ব্যক্তি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে


عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُ بَطْنِهِ فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ فَيَقُولُونَ يَا فُلانُ مَا لَكَ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ, فَيَقُولُ بَلَى قَدْ كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ

অর্থ: উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কিয়ামত দিবসে এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তার নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাবে এবং সে তার চতুর্দিকে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন গাধা তার চাকির চতুর্দিকে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামীরা তার কাছে একত্রিত হয়ে জিজ্ঞেস করবে, হে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে? সে বলবে, নিশ্চয়ই! আমি তোমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতাম, কিন্তু তা আমল করতাম না এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম, কিন্তু আমি নিজেই ঐ কাজ করতাম। (সহীহ বুখারী-৩২৬৭, ৭০৯৮, মুসলিম-৭৬৭৪, ৭৩৭৩, ইফা.-৭২১৩, আহমাদ-২১২৭৭, ২১২৮৭, ২১২৯৩, ২১৩১২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

নোট: অন্যকে দাওয়াত দেয়ার পাশাপাশি নিজেও আমল করা জরুরী। মানুষকে ভালো কাজের দাওয়াত দিলাম, কিন্তু নিজে ভালো কাজ করলাম না, অন্যকে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নসীহত করলাম, কিন্তু নিজে মন্দ কাজ ছাড়লাম না, এটা মারাত্মক অন্যায়। আলোচ্য হাদীসে এ ধরনের 'দাঈ' ও বক্তাদের কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া পবিত্র কুরআনেও এরূপ 'দাঈ' ও বক্তাদের হুঁশিয়ার করা হয়েছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ ) كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ

'হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল, যা নিজে করো না? তোমরা যা করো না, এরূপ কথা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।' (সূরা সাফ-২-৩)

আমাদের সমাজেও এমন 'দাঈ' ও বক্তার অভাব নেই, যারা মানুষকে খুব সুন্দর সুন্দর বয়ান করেন নিজে আমল করেন না। মানুষকে পর্দার কথা বলেন, কিন্তু নিজের স্ত্রী ও মেয়ে বেপর্দা। মানুষকে নামাজের কথা বলেন, অথচ নিজেও নামাজ পড়ে না এবং পরিবার সদস্যদের দ্বারাও পড়ায় না। মানুষকে হারাম থেকে বেঁচে থাকার নসীহত করেন অথচ নিজের ঘরে টিভি, মেয়ে কলেজে পড়ে, নিজে সুদ খায়, হারাম ব্যবসা করে, কথায় কথায় মিথ্যা বলে, শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করে, আমানতের খিয়ানত করে, কারো সাথে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, অন্যকে নামাজের দাওয়াত দেন অথচ নিজের ছেলে- মেয়ে ও স্ত্রীসহ ঘরের কেউ নামাজ পড়ে না ইত্যাদি।

তবে আমি এ কথা বলবো না যে, যারা আমল করে না কিংবা এরূপ বড় বড় পাপের সাথে জড়িত তারা অন্যকে দাওয়াত দিতে পারবে না বা দাওয়াত দিলে গুনাহ হবে; বরং আমি তাদের প্রতি অনুরোধ করবো যে, যেহেতু আপনারা 'দাঈ' ও রাসূলের উত্তরসূরী, সুতরাং আপনি দাওয়াত দেয়ার পাশাপাশি নিজেও আমল করুন এবং নিজের মধ্যে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলো অতিদ্রুত পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00