📄 কিয়ামতের পূর্বে হতদরিদ্র রাখালশ্রেণীর লোকেরা বড় বড় দালান-কোঠা বানিয়ে গর্ব করবে
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثَّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله علیہ وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَامِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً. قَالَ صَدَقْتَ. قَالَ فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ. قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ . قَالَ، أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ. قَالَ صَدَقْتَ . قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ. قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ. قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ. قَالَ ، مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ. قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا. قَالَ ، أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ . قَالَ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا ثُمَّ قَالَ لِي ، يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ. قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ
অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম।
এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাজির হলেন। তাঁর পরিধানের কাপড় ছিলো সাদা ধবধবে, মাথার চুলগুলো ছিলো কালো কুচকুচে। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন ছিলো না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন এবং তার দু'হাত উরুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি প্রশ্ন করলেন-
(১). 'হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো- তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের রোযা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহয় পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ আদায় করবে। আগন্তুক ব্যক্তি বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।
তার কথা শুনে আমরা বিস্মিত হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করেছেন আবার তিনিই- তা সত্যায়িত করছেন। আগন্তুক ব্যক্তি পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(২). 'আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন।' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ঈমান হলো- আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি, আখেরাতের প্রতি এবং তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক ব্যক্তি বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(৩). 'আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন।' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইহসান হলো, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো। যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তবে তিনি তো অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। আগন্তুক পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(৪). আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(৫). আমাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কিয়ামতের নিদর্শন হলো, দাসী তার মনিবের জননী হবে। তুমি আরো দেখতে পাবে- নগ্নপদ, (যাদের পায়ে জুতা থাকে না) বিবস্ত্রদেহ ও হতদরিদ্র মেষ চালকেরা (রাখালশ্রেনীর লোকেরা) বড় বড় দালান-কোঠা নিয়ে গর্ববোধ করবে।
উমর রাযি. বললেন, এরপর আগন্তুক ব্যক্তি চলে গেলে আমি বেশ কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমর! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী কে? আমি আরজ করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। তিনি তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। (বুখারী-৫০, ৪৭৭৭, ইফা.-৪৮, মুসলিম-১, ৫, ৭, ৮, ৯, ১০, ১০২, ইফা.-১, তিরমিযী-২৬১০, নাসাঈ-৪৯৯০, আবু দাউদ-৪৬৯৫, ইবনে মাজাহ-৬৩, আহমাদ-১৮৫, ১৯২, তারগীব-৩৫১, মিশকাত-১, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)