📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের পূর্বে মানুষ গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে ব্যভিচার করবে

📄 কিয়ামতের পূর্বে মানুষ গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে ব্যভিচার করবে


عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَبْعَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: يَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةً فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا وَيَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ. وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لِأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لِأَحَدِكُمُ الْيُومَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الأَرْضِ فَلَا يَجِدُونَ فِي الأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلَّا مَلَأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لاَ يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الْأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ، فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى أَنَّ اللَّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللَّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللَّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ

অর্থ: হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তায়ালা 'ইয়াজুজ মাজুজ' সম্প্রদায়কে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে আসবে। তাদের প্রথম দলটি "তাবারিয়া হরদ” পার হবার সময় সকল পানি পান করে ফেলবে। তাদের পরবর্তী দলও এ অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করবে। তারা বলবে এখানে কোনো এক সময় পানি ছিলো। আল্লাহর নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। এমন সময় তাদের কাছে গরুর একটি মাথা এত মূল্যবান মনে হবে, যেমন বর্তমানে তোমরা একশ' দীনারকে মূল্যবান মনে করো। তখন আল্লাহর নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ফরিয়াদ করবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ) প্রত্যেকের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করে দেবেন। ফলে তারা সবাই এক সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এরপর আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জনপদে নেমে আসবেন। কিন্তু তাঁরা পৃথিবীতে এক ইঞ্চি জায়গাও ইয়াজুজ মাজুজের লাশ ও এর দুর্গন্ধ ব্যতীত ফাঁকা পাবেন না।
এরপর আল্লাহর নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তা'আলা 'বুখতী উটের কুজ সদৃশ (বড় বড়) পাখি প্রেরণ করবেন। এসব পাখি লাশসমূহকে উঠিয়ে আল্লাহ যেখানে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেবেন সেখানে ফেলে দেবে। এরপর মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ এমন বৃষ্টি প্রেরণ করবেন যা প্রতিটি স্থান, তা মৃত্তিকাই হোক অথবা বালি, ধুয়ে আয়নার মতো পরিষ্কার করে দেবে। এরপর ভূমিকে বলা হবে, তোমরা ফল উৎপাদন করো এবং কল্যাণ ফিরিয়ে দাও। (তখন এতো বরকত হবে যে,) একটি ডালিম খেয়ে পূর্ণ একটি দল পরিতৃপ্ত হবে এবং ডালিমের খোসাটি এতো বড় হবে যে, তার ছায়ায় তারা আশ্রয় নিতে পারবে। গবাদি পশুতেও এতো প্রাচুর্য দেয়া হবে যে, একটি উটের দুধ একটি বড় দলের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি গাভীর দুধ একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি দুধের বকরী পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।
এ সময় আল্লাহ তা'আলা পবিত্র বায়ু প্রবাহিত করবেন। এ বায়ু তাদের বগলের নিচ পর্যন্ত পৌঁছাবে। ফলে সকল মুমিন ও মুসলমানের রূহ কবজ হয়ে যাবে। শুধু অসৎ ও খারাপ মানুষগুলো বেঁচে থাকবে। তারা গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে ব্যভিচার করবে। অবশেষে তাদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মুসলিম-৭৫৬০, ৭২৬৩, ইফা.-৭১০৬, তিরমিযী-২২৪০, ৪০০১, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৫, আহমাদ-১৭১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের পূর্বে মক্কা-মদিনায় তিনবার প্রচণ্ড ভূমিকম্প হবে

📄 কিয়ামতের পূর্বে মক্কা-মদিনায় তিনবার প্রচণ্ড ভূমিকম্প হবে


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ، إِلَّا مَكَّةَ، وَالْمَدِينَةَ ، لَيْسَ لَهُ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبٌ. إِلَّا عَلَيْهِ المَلائِكَةُ صَافِينَ يَحْرُسُونَهَا ، ثُمَّ تَرْجُفُ المَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যেখানে দাজ্জাল পদদলিত (অনুপ্রবেশ) করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকেব। এরপর মদিনায় তাঁর অধিবাসীসহ তিন বার (প্রচণ্ড) ভূ- কম্পন হবে। আর এভাবেই আল্লাহ তা'আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদেরকে (মদিনা থেকে) বের করে দেবেন। (সহীহ বুখারী-১৮৮১, ৭১২৪, ৭১৩৪, ৭৪৭৩, ইফা.- ১৭৬১, মুসলিম-২৯৪৩, তিরমিযী-২২৪২, আহমাদ-১১৮৩৫, ১২৫৭৪, ১২৬৭৬, ১২৭৩২, ১২৯৮০, ১৩০৮৩, ১৩৫৩৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 দাজ্জাল ও কিয়ামত আসার আগেই প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ

📄 দাজ্জাল ও কিয়ামত আসার আগেই প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى عليه وسلم قَالَ: بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سَبْعًا هَلْ تَنْظُرُونَ إِلَّا فَقْرًا مُنْسِيًّا أَوْ غِنَّى مُطْغِيًّا أَوْ مَرَضًا مُفْسِدًا أَوْ هَرَمًا مُفَتِدًا أَوْ مَوْتًا مُجْهِرًا أَوِ الدَّجَّالَ فَشَرُ غَائِبِ يُنتَظَرُ أَوِ السَّاعَةَ فَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: সাতটি জিনিস প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই তোমরা নেক কাজের দিকে অগ্রসর হও- (১) তোমরা কি এমন দরিদ্রের অপেক্ষা করছো যা (মানুষকে) অমনোযোগী (অক্ষম) করে দেয়, (২) অথবা এমন প্রাচুর্যের যা ধর্মদ্রোহী বানায়, (৩) অথবা এরূপ রোগ-ব্যাধির যা (দৈহিক সামর্থ্যকে) তছনছ করে দেয়, (৪) অথবা এমন বৃদ্ধাবস্থার যা জ্ঞান-বুদ্ধিকে বিনষ্ট করে দেয়, (৫) অথবা এমন মৃত্যুর যা হঠাৎ উপস্থিত হয়, (৬) অথবা দাজ্জালের, যা অপেক্ষামাণ অনুপস্থিত বস্তুর মধ্যে নিকৃষ্ট, (৭). অথবা কিয়ামতের যা অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও তিক্ত। (তিরমিযী-২৩০৬, আহমাদ-৮১০৪, ৮২৪১, ৮৬৩২, ৯০২৫, ১০২৬২, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর, হাদীসটি হাসান)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামতের পূর্বে হতদরিদ্র রাখালশ্রেণীর লোকেরা বড় বড় দালান-কোঠা বানিয়ে গর্ব করবে

📄 কিয়ামতের পূর্বে হতদরিদ্র রাখালশ্রেণীর লোকেরা বড় বড় দালান-কোঠা বানিয়ে গর্ব করবে


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثَّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله علیہ وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَامِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً. قَالَ صَدَقْتَ. قَالَ فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ. قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ . قَالَ، أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ. قَالَ صَدَقْتَ . قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ. قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ. قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ. قَالَ ، مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ. قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا. قَالَ ، أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ . قَالَ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا ثُمَّ قَالَ لِي ، يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ. قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ

অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম।
এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাজির হলেন। তাঁর পরিধানের কাপড় ছিলো সাদা ধবধবে, মাথার চুলগুলো ছিলো কালো কুচকুচে। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন ছিলো না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন এবং তার দু'হাত উরুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি প্রশ্ন করলেন-
(১). 'হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো- তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের রোযা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহয় পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ আদায় করবে। আগন্তুক ব্যক্তি বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।
তার কথা শুনে আমরা বিস্মিত হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করেছেন আবার তিনিই- তা সত্যায়িত করছেন। আগন্তুক ব্যক্তি পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(২). 'আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন।' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ঈমান হলো- আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি, আখেরাতের প্রতি এবং তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক ব্যক্তি বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(৩). 'আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন।' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইহসান হলো, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো। যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তবে তিনি তো অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। আগন্তুক পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(৪). আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক পুনরায় প্রশ্ন করলো-
(৫). আমাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কিয়ামতের নিদর্শন হলো, দাসী তার মনিবের জননী হবে। তুমি আরো দেখতে পাবে- নগ্নপদ, (যাদের পায়ে জুতা থাকে না) বিবস্ত্রদেহ ও হতদরিদ্র মেষ চালকেরা (রাখালশ্রেনীর লোকেরা) বড় বড় দালান-কোঠা নিয়ে গর্ববোধ করবে।
উমর রাযি. বললেন, এরপর আগন্তুক ব্যক্তি চলে গেলে আমি বেশ কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমর! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী কে? আমি আরজ করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। তিনি তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। (বুখারী-৫০, ৪৭৭৭, ইফা.-৪৮, মুসলিম-১, ৫, ৭, ৮, ৯, ১০, ১০২, ইফা.-১, তিরমিযী-২৬১০, নাসাঈ-৪৯৯০, আবু দাউদ-৪৬৯৫, ইবনে মাজাহ-৬৩, আহমাদ-১৮৫, ১৯২, তারগীব-৩৫১, মিশকাত-১, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00