📄 ইয়াজুজ-মাজুজ এসে হত্যাযজ্ঞ চালাবে
عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ، يَقُولُ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَيُوقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ قِسِيَ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَنُشَابِهِمْ وَأَتْرِسَتِهِمْ سَبْعَ سنين
অর্থ: নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অচিরেই মুসলমানগণ ইয়াজুজ-মাজুজের তীর-ধনুক, বর্শাফলক এবং ঢালসমূহ সাত বছর ধরে জ্বালানী কাঠরূপে ভষ্মীভূত করবে। (মুসলিম-২৯৩৭, তিরমিযী-২২৪০, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 হযরত ঈসা আ. এর যামানায় ইয়াজুজ-মাজুজ আসবে
عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ كَمَا قَالَ اللَّهُ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا ثُمَّ يَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ فِي هَذَا مَاءً مَرَّةً وَيَحْضُرُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَيَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَلَا يَجِدُونَ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلَّا قَدْ مَلَأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ وَدِمَاؤُهُمْ فَيَرْغَبُونَ إِلَى اللَّهِ سُبْحَانَهُ فَيُرْسِلُ عَلَيْهِمْ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مَطَرًا لا يُكِنُ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ فَيَغْسِلُهُ حَتَّى يَتْرُكَهُ كَالزَّلَقَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعُهُمْ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارِكُ اللَّهُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى إِنَّ التَّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ تَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللَّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ تَكْفِي الْقَبِيلَةَ وَالتَّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ تَكْفِي الْفَخِذَ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى سَائِرُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ كَمَا تَتَهَارَجُ الْحُمُرُ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ
অর্থ: নাওয়াস ইবনে সামআন কিলাবী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজ পাঠাবেন। আল্লাহ তাআলার বাণী অনুযায়ী তাদের অবস্থা হলো-
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ
"ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে যখন মুক্তি দেয়া হবে, তখন তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে।” (সূরা আম্বিয়া-৯৬)
এদের প্রথম দলটি (সিরিয়ার) তাবারিয়া সাগর অতিক্রমকালে এর সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে। পরবর্তী দল এখান দিয়ে অতিক্রমকালে বলবে, কোনো এক সময় এতে পানি ছিলো। আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গীগণসহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তারা (খাদ্যাভাবে) এমন এক কঠিন অবস্থায় পতিত হবেন যে, তখন একটি গরুর মাথা তাদের একজনের জন্য তোমাদের আজকের দিনের একশত স্বর্ণ মুদ্রার চেয়েও মূল্যবান মনে হবে। তারপর আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সাথীগণ আল্লাহর দিকে রুজু হয়ে দুআ করবেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনীর) ঘাড়ে মহামারীরূপে 'নাগাফ' নামক কীটের সৃষ্টি করবেন। সকালে তারা এমনভাবে ধ্বংস হবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে।
তখন আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সাথীগণ (পাহাড় থেকে) নেমে আসবেন। তারা সেখানে এমন এক বিঘত জায়গাও পাবেন না, যেখানে সেগুলোর পচা দুর্গন্ধময় রক্ত-মাংস ছড়িয়ে নাই। তারা মহান আল্লাহর নিকট দুআ করবেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি পাঠাবেন। সেই পাখিগুলো তাদের মৃতদেহগুলো তুলে নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছামত স্থানে নিক্ষেপ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের উপর এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যা সমস্ত ঘরবাড়ি, স্থলভাগ ও কঠিন মাটির স্তরে গিয়ে পৌঁছবে এবং সমস্ত পৃথিবী ধুয়ে মুছে আয়নার মত ঝকঝকে হয়ে উঠবে। অতঃপর যমীনকে বলা হবে, তোমার ফল উৎপন্ন করো এবং বরকত ফিরিয়ে দাও।
তখন অবস্থা এমন হবে যে, একদল লোকের আহারের জন্য একটি ডালিমই যথেষ্ট হবে এবং একদল লোক এর খোসার ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারবে। আল্লাহ তাআলা দুধেও এতো বরকত দিবেন যে, একটি উষ্ট্রীর দুধ একটি বৃহৎ দলের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি গাভীর দুধ একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি বকরীর দুধ একটি ক্ষুদ্র দলের জন্য যথেষ্ট হবে। তাদের এ অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাদের উপর নির্মল বায়ু প্রবাহিত করবেন। এ বায়ু তাদের বগলের অভ্যন্তরভাগ স্পর্শ করে প্রত্যেক মুসলমানের জান কবয করবে। তখন অবশিষ্ট নর-নারী গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এরপর তাদের উপরই কিয়ামত কায়েম হবে। (মুসলিম-২৯৩৭, তিরমিযী-২২৪০, ৪০০১, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৫, আহমাদ-১৭১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায় হবে দাজ্জালের চেয়েও ভয়ঙ্কর
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ ... قَالَ فَأُنْزِلُ فَأَقْتُلُهُ فَيَرْجِعُ النَّاسُ إِلَى بِلادِهِمْ فَيَسْتَقْبِلُهُمْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَلَا يَمُرُّونَ بِمَاءٍ إِلَّا شَرِبُوهُ وَلَا بِشَيْءٍ إِلَّا أَفْسَدُوهُ فَيَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ فَأَدْعُو اللَّهَ أَنْ يُمِيتَهُمْ فَتَنْتُنُ الأَرْضُ مِنْ رِيحِهِمْ فَيَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ فَأَدْعُو اللَّهَ فَيُرْسِلُ السَّمَاءَ بِالْمَاءِ فَيَحْمِلُهُمْ فَيُلْقِيهِمْ فِي الْبَحْرِ ثُمَّ تُنْسَفُ الْجِبَالُ وَتُمَدُّ الأَرْضُ مَدَّ الأَدِيمِ فَعُهِدَ إِلَى مَتَى كَانَ ذَلِكَ كَانَتِ السَّاعَةُ مِنَ النَّاسِ كَالْحَامِلِ الَّتِي لَا يَدْرِي أَهْلُهَا مَتَى تَفْجَؤُهُمْ بِوِلادَتِهَا قَالَ الْعَوَّامُ وَوُجِدَ تَصْدِيقُ ذُلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى { حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ }
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে বলেন: আমি দুনিয়াতে অবতরণ করবো এবং দাজ্জালকে হত্যা করবো। তারপর লোকেরা তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে। এমন সময় তাদের নিকট ইয়াজুজ-মাজুজ আত্মপ্রকাশ করবে। তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি থেকে ছুটে আসবে। তারা যে পানির উৎসের নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে, তা পান করে শেষ করবে। এরা যে বস্তুর নিকট দিয়ে যাবে তা নষ্ট করে ফেলবে। তখন লোকেরা তাদেরকে মেরে ফেলার জন্য আল্লাহর নিকট চিৎকার করে ফরিয়াদ করবে এবং আমিও দুআ করবো। ফলে পৃথিবী তাদের (গলিত লাশের) গন্ধে দুর্গন্ধময় হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যা তাদের ভাসিয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। অতঃপর পাহাড়-পর্বত উৎপাটিত করা হবে, পৃথিবীকে প্রশস্ত করা হবে, যেমন চামড়া প্রশস্ত করা হয়। তারপর আমাকে বলা হলো, যখন এসব বিষয় প্রকাশিত হবে, তখন কিয়ামত মানুষের এত নিকটবর্তী হবে যেমন গর্ভবর্তী নারী, যার পরিবারের লোকজন জানে না যে, কোন মুহূর্তে সে সন্তান প্রসব করবে। আওয়াম রহ. বলেন, এ ঘটনার সত্যতা আল্লাহর কিতাবে উল্লেখ আছে-
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ
"ইয়াজুজ ও মাজুজকে যখন মুক্তি দেয়া হবে, তখন তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি থেকে ছুটে আসবে।” (সূরা আম্বিয়া-৯৬, ইবনে মাজাহ-৪০৮১, আহমাদ-৩৫৪৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
নোট: হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম 'লুদ' নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। দাজ্জালকে হত্যার পরপরই ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায় বের হয়ে আসবে। এদের সংখ্যা এতো বেশি হবে যে, তাদের একটি দল 'তাবারিয়া' উপসাগরের পানি পান করে শেষ করে ফেলবে। পরবর্তী দল এসে বলবে, হয়তো অনেক পূর্বে এখানে পানি ছিলো।
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহার নির্দেশে মুসলমানদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে আশ্রয় নিবেন। তখন অবশিষ্ট লোকদেরকে ইয়াজুজ-মাজুজ হত্যা করে ফেলবে। তারা পৃথিবীবাসীকে হত্যা করার পর আসমানের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। তীর রক্তমাখা অবস্থায় মাটি পতিত হলে তারা বলবে যে, আমরা আসমানবাসীকেও হত্যা করেছি। সুতরাং এখন রাজত্ব শুধু আমাদেরই। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ঘাড়ে মহামারীরূপে 'নাগাফ' নামক এক ধরণের কীটের সৃষ্টি করবেন। ফলে তারা এমনভাবে ধ্বংস হবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ একসাথে সকলেরই মৃত্যু হয়ে যাবে। (মুসলিম-২৯৩৭, তিরমিযী-২২৪০, ৪০০১, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৫, আহমাদ-১৭১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)