📄 হযরত ঈসা আ.-কে হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যখন বনী ইসরাঈলকে ইসলাম ও তাওহীদের দাওয়াত দিতে লাগলেন, তখন ইহুদীরা তাঁকে হত্যা ও তাঁর বিরুদ্ধে নানাবিধ গোপন ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা অনবরত বাদশাহর নিকট বলতে থাকে যে, লোকটি খোদাদ্রোহী। সে তাওরাত পরিবর্তন করে সবাইকে গোমরাহ করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগ শুনে বাদশাহ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেন।
📄 ইহুদীরা ঈসা আ.-কে হত্যা করতে পারেনি
হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইহুদীদের কয়েকজন তাঁর ঘরে প্রবেশ করে। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্য থেকে 'তাইতিয়ানুষ' নামক এক ইহুদী সরদারের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে হুবহু ঈসা আলাইহিস সালামের মতো করে দেন এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নেন। তখন ইহুদীরা তাদের সরদার ‘তাইতিয়ানুযকে’ ঈসা মনে করে তাকেই হত্যা করে এবং বলতে থাকে যে, আমরা ঈসাকে হত্যা করেছি। কুরআনে এভাবে তার বর্ণনা এসেছে-
وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ
“তারা ঈসাকে হত্যা করেনি এবং শূলিতেও চড়ায়নি, বরং (আল্লাহর কৌশলের কাছে) তারা ধাঁধাঁয় পড়েছে (এবং নিজেদের লোককে হত্যা করে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছে)। (সূরা নিসা-১৫৭, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন)
সূরা আলে ইমরানে ইহুদীদের সেই অপকৌশলের কথা বলা হয়েছে-
وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ ۖ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ
“তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহ কৌশল করেছেন। আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠ কৌশলী।” (সূরা আলে ইমরান-৫৪)