📄 ঈসা আলাইহিস সালাম যেভাবে অবতরণ করবেন
عَن جَابِرِ بْن عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا. فَيَقُولُ لا . إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি জামাআত কিয়ামত পর্যন্ত হকের উপর দ্বীনের জন্যে জিহাদ করতে থাকবে এবং তারা বিজয়ী হবে। অবশেষে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন। তখন মুসলমানদের আমির তাকে (ঈসা আলাইহিস সালামকে) বলবেন, আসুন! নামাজে আমাদের ইমামতি করুন। তখন তিনি বলবেন, না; তোমরা একে অপরের ইমাম হবে। এটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের সম্মান। (মুসলিম-৪১২, ৪৮৪৮, ৪৮৫০, ৪৮৫১, ইফা.- ২৯২, আহমাদ-১৪৭৬২, বায়হাকী-১৮৩৯৬, সহীহ ইবনে হিব্বান-৬৮১৯, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
ঈসা আ. 'লুদ' নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدجال ... فَقَالَ: إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُ ودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُهِ فَلَا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفْسِهِ إِلَّا مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُةٍ
অর্থ: হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন। তারপর বললেন: দাজ্জালের হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকবে। এমন সময় আল্লাহ তা'আলা 'মাসীহ ইবনে মরিয়াম' তথা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে দুনিয়াতে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ব অংশে সাদা মিনারের উপরে হালকা জাফরানী (হলুদ) রং এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় দু'জন ফেরেশতার কাঁধে ভর দিয়ে নেমে আসবেন। যখন তিনি মাথা অবনত করবেন, তখন মনে হবে যেন তার মাথায় মুক্তার মতো পানির বিন্দু টপকাচ্ছে। যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখনো তাঁর মাথা হতে মতির দানার মতো ঝরছে বলে মনে হবে। যে কাফেরের গায়ে তাঁর নিঃশ্বাস লাগবে তার বেঁচে থাকা সম্ভব হবে না। (বরং সাথে সাথেই সে মারা যাবে)। তাঁর দৃষ্টি যতদূরে যাবে, তার নিঃশ্বাসও ততদূর পৌঁছবে। তিনি দাজ্জালকে পিছু ধাওয়া করবেন এবং (জেরুজালেমের) 'লুদ' নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন। (মুসলিম-৭৫৬০, ৭২৬৩, ইফা.-৭১০৬, তিরমিযী-২২৪০, ২২৪৪, ৪০০১, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৫, আহমাদ-১৭১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 হযরত ঈসা আ.-কে হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যখন বনী ইসরাঈলকে ইসলাম ও তাওহীদের দাওয়াত দিতে লাগলেন, তখন ইহুদীরা তাঁকে হত্যা ও তাঁর বিরুদ্ধে নানাবিধ গোপন ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা অনবরত বাদশাহর নিকট বলতে থাকে যে, লোকটি খোদাদ্রোহী। সে তাওরাত পরিবর্তন করে সবাইকে গোমরাহ করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগ শুনে বাদশাহ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেন।
📄 ইহুদীরা ঈসা আ.-কে হত্যা করতে পারেনি
হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইহুদীদের কয়েকজন তাঁর ঘরে প্রবেশ করে। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্য থেকে 'তাইতিয়ানুষ' নামক এক ইহুদী সরদারের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে হুবহু ঈসা আলাইহিস সালামের মতো করে দেন এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নেন। তখন ইহুদীরা তাদের সরদার ‘তাইতিয়ানুযকে’ ঈসা মনে করে তাকেই হত্যা করে এবং বলতে থাকে যে, আমরা ঈসাকে হত্যা করেছি। কুরআনে এভাবে তার বর্ণনা এসেছে-
وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ
“তারা ঈসাকে হত্যা করেনি এবং শূলিতেও চড়ায়নি, বরং (আল্লাহর কৌশলের কাছে) তারা ধাঁধাঁয় পড়েছে (এবং নিজেদের লোককে হত্যা করে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছে)। (সূরা নিসা-১৫৭, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন)
সূরা আলে ইমরানে ইহুদীদের সেই অপকৌশলের কথা বলা হয়েছে-
وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ ۖ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ
“তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহ কৌশল করেছেন। আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠ কৌশলী।” (সূরা আলে ইমরান-৫৪)