📄 ঈসা আ. অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا, مُقْسِطًا وَإِمَامًا عَدْلاً, فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ, وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ, وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ, وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনসাফগার ইমাম হিসাবে অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তিনি (খ্রিস্টানদের) ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযিয়া মওকূফ করবেন এবং ধন-সম্পদের প্রাচুর্য হবে, এমনকি তা কেউ গ্রহণ করবে না। (বুখারী-২২২২, ২৪৭৬, ৩৪৪৮, ৩৪৪৯, ইফা.-২০৮১, মুসলিম-১৫৫, তিরমিযী-২২৩৩, আবু দাউদ-৪৩২৪, ইবনে মাজাহ-৪০৭৮, আহমাদ-১০০৩২, ১০৫৬১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
নোট: হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের আগে পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করে ৭ বছর (কোনো কোনো বর্ণনায় ৪০, আবার কোনো বর্ণনায় ৪৫ বছরের কথাও উল্লেখ আছে) অবস্থান করবেন। তারপর স্বাভাবিক ইন্তিকালের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন। খ্রিস্টানরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে কেন্দ্র করে ক্রুশের উপসনা করে থাকে এবং একেই তারা পরকালে নাজাতের অসিলা মনে করে। কিন্তু তাদের এই আকিদা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভ্রান্ত। এ জন্যে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের পূর্বে দুনিয়াতে এসেই সর্বপ্রথম ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন এবং শূকর হত্যা করবেন।
দ্বিতীয়ত হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে শূকর খাওয়া ও পালন করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরাহ গুনাহ ছিলো। কিন্তু খ্রিস্টান সম্প্রদায় শূকর খাওয়া ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হালাল মনে করে থাকে। তাই তিনি দুনিয়াতে পুনরায় আগমন করে নিজ হাতে শূকর হত্যা করবেন। এ কারনেই আলোচ্য হাদীসে বলা হয়েছে- فَيَكْسِرَ الصَّلِيبَ، وَيَقْتُلَ الخِنْزِيرَ “অর্থাৎ তিনি পুনরায় দুনিয়াতে এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন এবং শূকর হত্যা করবেন”। এরপর যতোদিন দুনিয়াতে অবস্থান করবেন, ততদিন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত অনুযায়ী গোটা দুনিয়া পরিচালনা করবেন। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-৩য় খণ্ড)
মাসআলা : যে কোনো মুসলমানের জন্য শূকর প্রতিপালন করা, শূকরের ব্যবসা করা সম্পূর্ণ হারাম। তাই যদি কোনো মুসলমান শূকর প্রতিপালন করে, তবে অন্যান্য মুসলমানের কর্তব্য হলো ঐসব শূকর হত্যা করা। আর এ হত্যার কারণে হত্যাকারীর উপর কোনো ক্ষতিপূরণ আসবে না। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী-৩য় খণ্ড)
📄 বাইতুল মুকাদ্দাসে ফজরের সময় ঈসা আ. অবতরণ করবেন
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ, خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ فَبَيْنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ إِذْ نَزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ فَرَجَعَ ذَلِكَ الإِمَامُ يَنْكُصُ يَمْشِي الْقَهْقَرَى لِيَتَقَدَّمَ عِيسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَيَضَعُ عِيسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ أُقِيمَتْ فَيُصَلِّي بِهِمْ إِمَامُهُمْ
অর্থ: হযরত আবু উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট (ঈসা আলাইহিস সালাম প্রসঙ্গে) বলেছেন: (বাইতুল মুকাদ্দাসে) একজন নিষ্ঠাবান সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি ইমামতি করবেন। একদিন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করবেন। এমন সময় ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন। তখন ইমাম পেছন দিকে সরে আসবেন, যাতে ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম সামনে অগ্রসর হয়ে লোকদের নামাযে ইমামতি করতে পারেন। ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর হাত ইমামের দু'কাঁধের উপর রেখে বলবেন: আপনি অগ্রবর্তী হয়ে নামাজে ইমামতি করুন। কেননা এই নামাজ আপনার দ্বারা শুরু হয়েছে। অতএব তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়বেন। (আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৭, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 ঈসা আলাইহিস সালাম যেভাবে অবতরণ করবেন
عَن جَابِرِ بْن عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا. فَيَقُولُ لا . إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি জামাআত কিয়ামত পর্যন্ত হকের উপর দ্বীনের জন্যে জিহাদ করতে থাকবে এবং তারা বিজয়ী হবে। অবশেষে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন। তখন মুসলমানদের আমির তাকে (ঈসা আলাইহিস সালামকে) বলবেন, আসুন! নামাজে আমাদের ইমামতি করুন। তখন তিনি বলবেন, না; তোমরা একে অপরের ইমাম হবে। এটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের সম্মান। (মুসলিম-৪১২, ৪৮৪৮, ৪৮৫০, ৪৮৫১, ইফা.- ২৯২, আহমাদ-১৪৭৬২, বায়হাকী-১৮৩৯৬, সহীহ ইবনে হিব্বান-৬৮১৯, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
ঈসা আ. 'লুদ' নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدجال ... فَقَالَ: إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُ ودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُهِ فَلَا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفْسِهِ إِلَّا مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُةٍ
অর্থ: হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন। তারপর বললেন: দাজ্জালের হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকবে। এমন সময় আল্লাহ তা'আলা 'মাসীহ ইবনে মরিয়াম' তথা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে দুনিয়াতে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ব অংশে সাদা মিনারের উপরে হালকা জাফরানী (হলুদ) রং এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় দু'জন ফেরেশতার কাঁধে ভর দিয়ে নেমে আসবেন। যখন তিনি মাথা অবনত করবেন, তখন মনে হবে যেন তার মাথায় মুক্তার মতো পানির বিন্দু টপকাচ্ছে। যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখনো তাঁর মাথা হতে মতির দানার মতো ঝরছে বলে মনে হবে। যে কাফেরের গায়ে তাঁর নিঃশ্বাস লাগবে তার বেঁচে থাকা সম্ভব হবে না। (বরং সাথে সাথেই সে মারা যাবে)। তাঁর দৃষ্টি যতদূরে যাবে, তার নিঃশ্বাসও ততদূর পৌঁছবে। তিনি দাজ্জালকে পিছু ধাওয়া করবেন এবং (জেরুজালেমের) 'লুদ' নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন। (মুসলিম-৭৫৬০, ৭২৬৩, ইফা.-৭১০৬, তিরমিযী-২২৪০, ২২৪৪, ৪০০১, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৫, আহমাদ-১৭১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 হযরত ঈসা আ.-কে হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যখন বনী ইসরাঈলকে ইসলাম ও তাওহীদের দাওয়াত দিতে লাগলেন, তখন ইহুদীরা তাঁকে হত্যা ও তাঁর বিরুদ্ধে নানাবিধ গোপন ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা অনবরত বাদশাহর নিকট বলতে থাকে যে, লোকটি খোদাদ্রোহী। সে তাওরাত পরিবর্তন করে সবাইকে গোমরাহ করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগ শুনে বাদশাহ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেন।