📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 দাজ্জাল একজনকে হত্যা করে পুনরায় তাকে জীবিত করবে

📄 দাজ্জাল একজনকে হত্যা করে পুনরায় তাকে জীবিত করবে


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَدِيثًا طَوِيلًا عَنِ الدَّجَّالِ فَكَانَ فِيمَا حَدَّثَنَا بِهِ أَنْ قَالَ: يَأْتِي الدَّجَّالُ، وَهُوَ مُحَرَّمْ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ المَدِينَةِ، بَعْضَ الصِّبَاحِ الَّتِي بِالْمَدِينَةِ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ هُوَ خَيْرُ النَّاسِ، أَوْ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ، فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ الَّذِي حَدَّثَنَا عَنْكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَهُ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ: أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا، ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ هَلْ تَشْكُونَ فِي الأَمْرِ ؟ فَيَقُولُونَ: لَا ، فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يُحْيِيهِ، فَيَقُولُ حِينَ يُحْيِيهِ: وَاللَّهِ مَا كُنْتُ قَط أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي اليَوْمَ ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ: أَقْتُلُهُ فَلَا أُسَلَّطَ عَلَيْهِ

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন। বর্ণিত কথাগুলোর মধ্যে তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, মদিনার প্রবেশ পথে দাজ্জালের অনুপ্রবেশ করা হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই সে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মদিনার নিকটবর্তী কোনো একটি লবণাক্ত ভূমিতে অবতরণ করবে। ঐ সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি যাবে, যে (সকল মানুষের মধ্যে) উত্তম ব্যক্তি হবে অথবা (রাবীর সন্দেহ) উত্তম মানুষের একজন হবে। অতঃপর সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমিই সেই দাজ্জাল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবহিত করেছেন। দাজ্জাল বলবে, আমি যদি তাঁকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করি তাহলেও কি তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করবে? তাঁরা বলবে, না। এরপর দাজ্জাল লোকটিকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করবে। লোকটি জীবিত হয়েই বলবে, আল্লাহ্র কসম! আজকের চেয়ে অধিক প্রত্যয় আমার আর কখনো ছিলো না। তারপর দাজ্জাল বলবে, আমি লোকটিকে হত্যা করবো। কিন্তু সে আর হত্যা করতে সক্ষম হবে না। (বুখারী-১৮৮২, ৭১৩২, ইফা.-১৭৬০, মুসলিম-২৯৩৮, আহমাদ-১০৯২৫, ১১৩১৮, ১১৩৪৩, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

দাজ্জাল চল্লিশ দিন, চল্লিশ মাস অথবা চল্লিশ বছর বেঁচে থাকবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ, لَا أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا, أَوْ أَرْبَعِينَ شَهْرًا, أَوْ أَرْبَعِينَ عَامًا, فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ فَيَطْلُبُهُ, فَيُهْلِكُهُ, ثُمَّ يَمْكُثُ النَّاسُ سَبْعَ سِنِينَ لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةٌ, ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّأْمِ, فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ فِي كَبَدِ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ, قَالَ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ, فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ وَأَحْلامِ السِّبَاعِ لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ أَلَا تَسْتَجِيبُونَ فَيَقُولُونَ فَمَا تَأْمُرُنَا فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَهُمْ فِي ذَلِكَ دَارٌ رِزْقُهُمْ حَسَنٌ عَيْشُهُمْ ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَلَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا أَصْغَى لِينًا وَرَفَعَ لِينًا قَالَ وَأَوَّلُ مَنْ يَسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ إِبِلِهِ قَالَ فَيَصْعَقُ وَيَصْعَقُ النَّاسُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ أَوْ قَالَ يُنْزِلُ اللَّهُ مَطَرًا كَأَنَّهُ الظَّلُّ أَوِ القِلُّ, فَتَنْبُتُ مِنْهُ أَجْسَادُ النَّاسِ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ, ثُمَّ يُقَالُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَلُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ . وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ, قَالَ ثُمَّ يُقَالُ أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ فَيُقَالُ مِنْ كَمْ فَيُقَالُ مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ فَذَاكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا وَذَلِكَ يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার জানা নেই যে, নবী কারীম সা. চল্লিশ দিন, চল্লিশ মাস, নাকি চল্লিশ বছর বলেছেন। এরপর আল্লাহ তা'আলা হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে হত্যা করবেন। এরপর মানুষ সাত বছর এমনভাবে কাটাবে যে দু'জনের মধ্যেও কোনো রকম শত্রুতা থাকবে না। এরপর আল্লাহ তা'আলা শামের দিক হতে একটি শীতল বায়ু প্রবাহিত করবেন। ফলে দুনিয়াতে এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না, যার মধ্যে সামান্য পরিমাণ সৎকাজের আগ্রহ বা ঈমান রয়েছে। এমনকি তোমাদের কেউ পর্বত গুহায় আশ্রয় নেয়, সেখানেও (বায়ু) প্রবেশ করে রূহ কবজ করবে। এরপর শুধু মন্দ ও খারাপ লোকেরাই বেঁচে থাকবে। তারা যৌনতা ও কুপ্রবৃত্তির বেলায় পাখির মতো এবং যুলুম অত্যাচারের ক্ষেত্রে হিংস্র জন্তুর মতো হবে। তারা ভালো কাজ বলতে কিছুই করবে না এবং খারাপ কাজ বলতে কোনটাই ছাড়বে না। শয়তান মানুষের রূপ ধরে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমরা কি আমার কথা মানবে? তারা বলবে, তুমি আমাদের কি কাজ করতে বলো? তখন শয়তান তাদেরকে মূর্তি পূজার নির্দেশ দেবে। মূর্তি পূজা চলাকালীন সময়ে তাদের খাদ্য দ্রব্যের বৃদ্ধি পেতে থাকবে; জীবনটা অত্যন্ত বিলাসী ও আনন্দ উল্লাসময় হবে। এরপর শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। যে ব্যক্তি শিঙ্গার শব্দ শুনতে পাবে, সে ঘাড় বাঁকিয়ে সে দিকে তাকাবে এবং ঘাড় উঠাবে। সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি আওয়াজ শুনতে পাবে, সে তখন তার উটের পানির হাউজ পরিষ্কার করতে থাকবে। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে পড়বে এবং তার আশে পাশের লোকজনও অজ্ঞান হয়ে যাবে। এরপর মহান আল্লাহ শিশির বিন্দুর ন্যায় বৃষ্টি প্রেরণ করবেন। অথবা তিনি বলেছেন, মুষলধারে বৃষ্টি অবতীর্ণ করবেন। এর প্রভাবে মানুষের শরীর (উদ্ভিদের ন্যায়) পুনরায় গজিয়ে উঠবে। তারপর যখন দ্বিতীয়বার সিঙ্গা বাজানো হবে, তখন তারা উঠে দেখতে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের রবের কাছে এগিয়ে এসো। এরপর (ফেরেশতাদেরকে হুকুম দেয়া হবে) তাদের দাঁড় করাও। কেননা, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর বলা হবে, এদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে বের করে দাও। বলা হবে কি পরিমাণ? বলা হবে, প্রতি হাজারে নয়শ' নিরানব্বই জন (প্রতি হাজারে মাত্র একজন জান্নাতী)। এটাই হলো সেই (ভয়ংকর) দিন, যেদিন বালক বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং এ দিনেই (আল্লাহ তাআলা) নিজ পায়ের গোছা অনাবৃত করবেন। (মুসলিম-৭৫৬৮, ৭২৭১, ইফা.-৭১১৪, আহমাদ-৬৫১৯, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার আমল

📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার আমল


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ

অর্থ: হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। (মুসলিম-১৯১৯, ১৭৬৮, ইফা.-১৭৫৩, তিরমিযী-২৮৮৬, আবু দাউদ-৪৩২৩, আহমাদ-২১২০০, ২৬৯৭০, ২৬৯৯২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দুআ

📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দুআ


দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দুআ-১

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو وَيَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ পাঠ করতেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবর আযাব থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে। (বুখারী-১৩৭৭, ইফা.-১২৯৪, মুসলিম-৫৮৮, তিরমিযী-৩৬০৪, নাসাঈ-১৩১০, ৫৫০৫, ৫৫০৬, ৫৫০৯, ৫৫১১, ৫৫১৩, ৫৫১৫, ৫৫১৮, আবু দাউদ-৯৮৩, ইবনে মাজাহ-৯০৯, আহমাদ-৭১৯৬, ৭৮১০, ৭৯০৪, ৯০৯৩, ৯১৮৩, ৯৫৪৬, ৯৮৪৬, ১০৩৮৯, ২৭৬৭৪, ২৭২৮০, দারিমী-১৩৪৪, ৯৪৭০, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দুআ-২

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ, كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا هُذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

অর্থ: ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে এ দুআটি এতো বেশি গুরুত্বের সাথে শিক্ষা দিতেন, যেরূপ গুরুত্বের সাথে তিনি আমাদের কুরআনের কোনো সূরা শিক্ষা দিতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ, وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ, وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, তোমার নিকট আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে, তোমার নিকট আশ্রয় চাই দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর সকল প্রকার ফিতনা (অনিষ্ট) থেকে। (মুসলিম-৫৯০, তিরমিযী-৩৪৯৪, নাসাঈ- ২০৬৩, ৫৫১২, ৯৮৪, ১৫৪২, ইবনে মাজাহ-৩৮৪০, আহমাদ-২১৬৯, ২৩৩৮, ২৭০৪, ২৭৭৪, ২৮৩৪, মালিক-৪৯৯, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দুআ-৩

عَنْ عَائِشَةَ، زَوْحِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَخْبَرَتْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا، وَفِتْنَةِ المَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ, فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ : مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِينُ مِنَ الْمَغْرَمِ . فَقَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ ، حَدَّثَ فَكَذَبَ، وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ

অর্থ: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে (কখনো কখনো) এই দুআ পাঠ করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا، وَفِتْنَةِ المَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই কবরের আজাব থেকে, মাসীহে দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই গুনাহ এবং ঋণগ্রস্ততা থেকে।” তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, আপনি ঋণগ্রস্থতা থেকে এতো বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন? তিনি (নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যখন কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে তখন কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা খেলাফ (ভঙ্গ) করে। (বুখারী-৮৩২, ২৩৯৭, ৬৩৬৮,৬৩৭৫, ৬৩৭৬, ৬৩৭৭, ৭১২৯, ইফা.-৭৯৪, মুসলিম-৫৮৭, ৫৮৯, ৫৮৮, নাসাঈ-১৩০৯, ৫৪৫৪, ৫৪৬৬, ৫৪৭২, ৫৪৭৭, ৫৫০৪, আবু দাউদ-৮৮০, ১৫৪৩, ইবনে মাজাহ-৩৮৩৮, আহমাদ-২৪০৫৭, ২৪০৬১, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00