📄 ইমাম মাহদীর নাম ও বংশ পরিচয়
عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه وَنَظَرَ إِلَى ابْنِهِ الْحَسَنِ فَقَالَ إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ كَمَا سَمَّاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَسَيَخْرُجُ مِنْ صُلْبِهِ رَجُلٌ يُسَمَّى بِاسْمِ نَبِيِّكُمْ يُشْبِهُهُ فِي الْخُلُقِ وَلَا يُشْبِهُهُ فِي الْخَلْقِ ثُمَّ ذَكَرَ قِصَّةَ يَمْلأُ الأَرْضَ عَدْلاً
অর্থ: হযরত আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আলী রাযি. স্বীয় পুত্র হাসান রাযি. এর প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন: আমার এই পুত্র সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, সে জান্নাতী যুবকদের সরদার হবে। আর অচিরেই তাঁর বংশে এমন এক ব্যক্তির জন্ম হবে, যার নাম তোমাদের নবীর নাম হবে। স্বভাব-চরিত্রও তোমাদের নবীর মতো হবে। তবে বাহ্যিক গঠন-আকৃতি তাঁর মতো হবে না। এরপর তিনি তাঁর (ইমাম মাহদীর) ন্যায়বিচার দ্বারা পৃথিবী ভরে দেয়ার আলোচনা করলেন। (আবু দাউদ-৪২৯২, হাদীসটি হাসান সহীহ)
📄 ইমাম মাহদীর যুগে সমস্ত মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : فَتَنْعَمُ فِيهِ أُمَّتِي نَعْمَةً لَمْ يَنْعَمُوا مِثْلَهَا قَط تُؤْتَى أُكُلَهَا وَلَا تَدَّخِرُ مِنْهُمْ شَيْئًا وَالْمَالُ يَوْمَئِذٍ كُدُوسٌ فَيَقُومُ الرَّجُلُ فَيَقُولُ يَا مَهْدِيُّ أَعْطِنِي فَيَقُولُ خُذْ
অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তাঁর (ইমাম মাহদীর) যুগে আমার উম্মতগণ এতো বেশি প্রাচুর্যের অধিকারী হবে, যা ইতোপূর্বে কখনো হয়নি। পৃথিবী তার সর্বপ্রকার ফলমূল (খাদ্যদ্রব্য) উৎপন্ন করবে এবং কিছুই আটকে রাখবে না। ধন-সম্পদ স্তূপাকারে থাকবে। তখন এক লোকে দাঁড়িয়ে বলবে, হে মাহদী! আমাকে দান করুন। তিনি বলবেন, তোমার যতো প্রয়োজন নিয়ে যাও। (তিরমিযী-২২৩২, আবু দাউদ-৪২৮৫, ইবনে মাজাহ-৪০৮৩, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 ইমাম মাহদী কখন আগমন করবেন?
ইমাম মাহদী দুনিয়াতে আসবেন একথা পুরোটাই সত্য। তবে কখন আসবেন, কিভাবে আসবেন, হাদীসে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। সহীহ হাদীস থেকে যতটুকু জানা যায় তা হচ্ছে, তিনি শেষ জামানায় দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্বে দুনিয়াতে আগমন করবেন। তাঁর বর্তমানেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং তিনি দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবেন। কিন্তু তাকে খতম করতে পারবেন না।
অবশেষে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ফজরের নামাজের সময় বাইতুল মুকাদ্দাসে দু'জন ফেরেশতার কাঁধে ভর দিয়ে আসমান থেকে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জলকে হত্যা করবেন। (ইবনে মাজাহ-৪০৭৭, আবু দাউদ-৪৩২১)
তবে মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম দামেস্কের পূর্ব অংশে সাদা মিনারের উপরে হালকা জাফরানী রং এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় দু'জন ফেরেশতার কাঁধে ভর দিয়ে নেমে আসবেন। যখন তিনি মাথা অবনত করবেন, তখন মনে হবে যেন তার মাথায় মুক্তার মতো পানির বিন্দু টপকাচ্ছে। যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখনো তাঁর মাথা হতে মতির দানার মতো ঝরছে বলে মনে হবে। এরপর তিনি দাজ্জালের পিছু ধাওয়া করবেন এবং জেরুজালেমের ‘লুদ’ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন। (মুসলিম-৭৫৬০, ৭২৬৩, ইফা.-৭১০৬, তিরমিযী-২২৪০, ৪০০১, আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৫, আহমাদ-১৭১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন সহীহ হাদীসে ইমাম মাহদী, দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ, কিয়ামত ইত্যাদি সম্পর্কে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী ও আলামত উল্লেখ রয়েছে, তা এখনো প্রকাশ পায়নি। সুতরাং “ইমাম মাহদীর আগমন হয়েছে” এমর্মে যেসব অপপ্রচার চলছে, তাতে বিভ্রান্ত না হয়ে কুরআন-সুন্নাহর উপর অবিচল থাকা এবং পরকালের পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়াই শ্রেয়।