📄 পূর্ব দিক থেকে ফিতনার সূচনা হবে
عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا، فَأَشَارَ نَحْوَ مَسْكَنِ عَائِشَةَ ، فَقَالَ: هُنَا الفِتْنَةُ ثَلَاثًا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। এ সময় তিনি আয়েশা রাযি.-এর ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনবার বললেন, এ দিক (পূর্বদিক) থেকেই ফিতনা (শুরু হবে), যে দিকে সূর্য উদয়কালে শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে। (বুখারী-৩১০৪, ৩২৭৯, ৩৫১১, ৫২৯৬, ৭০৯২, ৭০৯৩, ইফা.-২৮৮৫, মুসলিম-২৯০৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 ফিতনার সময় সুন্নাত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ
عَنْ عِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ، يَقُولُ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً bَلِيغَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَظْتَنَا مَوْعِظَةً مُوَدّعٍ فَاعْهَدْ إِلَيْنَا بِعَهْدٍ فَقَالَ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا وَسَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلَافًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
অর্থ: ইরবায ইবনে সারিয়াহ রাযি. বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং আমাদেরকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী নসীহত করেন; এতে অন্তরসমূহ ভীত হলো এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো আমাদেরকে বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায় নসীহত করলেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদেরকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিন। তিনি বললেন: তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, আমীরের কথা শ্রবণ করো ও মেনে চলো; যদিও সে হাবশী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা কঠিন ইখতিলাফ (ফিতনা) দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাতের উপর অবিচল থাকবে এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা বিদআত থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক বিদআত (দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করা) গোমরাহী। (তিরমিযী-২৬৬২, ২৬৭৬, আবু দাউদ-৪৬০৭, ইবনে মাজাহ-৪২, আহমাদ-১৬৬৯২, ১৭৭৩৭, দারিমী-৯৫, হাদীসটি সহীহ, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 কিয়ামতের পূর্বে ১৫ টি পাপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشَرَةَ خَصْلَةً حَلَّ بِهَا الْبَلَاءُ, فَقِيلَ وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ إِذَا كَانَ الْمَغْنَمُ دُوَلًا وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَأَطَاعَ الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ وَ عَقَّ أُمَّهُ وَبَرَّ صَدِيقَهُ وَجَفَا أَبَاهُ وَارْتَفَعَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَبِسَ الْحَرِيرُ وَاتَّخِذَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ أَوْ خَسْفًا أَوْ mَسْخًا
অর্থ: হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন আমার উম্মত পনেরটি পাপ কাজে লিপ্ত হবে, তখন তাদের উপর বালা-মুসিবত ও আযাব নেমে আসবে। প্রশ্ন করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন: (১). যখন গনিমতের (সরকারী) মালকে ব্যক্তিগত সম্পদ বানিয়ে ফেলবে। (২). আমানতকে লুটের মাল বানিয়ে ফেলবে। (৩). যাকাতকে জরিমানা মনে করবে। (৪). পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে। (৫). লোকেরা মায়ের অবাধ্য হবে। (৬). বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার করবে। (৭). পিতার সাথে খারাপ আচরণ করবে। (৮). মসজিদে শোরগোল করা হবে। (৯). সর্বাধিক খারাপ চরিত্রের লোকেরা সমাজের নেতা হবে। (১০), মানুষকে তার অনিষ্টের ভয়ে সম্মান করা হবে। (১১). ব্যাপকভাবে মদক সেবন করা হবে। (১২). রেশমী বস্ত্র পরিধান করা হবে। (১৩). নর্তকী গায়িকাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। (১৪). বাদ্যযন্ত্রের কদর করা হবে। (১৫). এ উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে লা'নত দিবে। তখন তোমরা অগ্নি বায়ু, অথবা ভূমিধ্বস কিংবা চেহারা বিকৃতির আযাবের অপেক্ষা করো। (তিরমিযী-২২১০)
📄 ফিতনার সময় মুখের কথা তরবারির চেয়ে মারাত্মক হবে
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْطِفُ الْعَرَبَ, قَتْلَاهَا فِي النَّارِ النِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقُعِ السَّيْفِ অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (কিয়ামতের পূর্বে) এমন একটি ফিতনার উদ্ভব হবে, যা সমগ্র আরবকে গ্রাস করে ফেলবে। সেই ফিতনায় নিহত ব্যক্তিরা হবে জাহান্নামী। তখন যবান (মুখের কথা) হবে তরবারির চেয়েও মারাত্মক। (তিরমিযী-২১৭৮, আবু দাউদ-৪২৬৫, ইবনে মাজাহ-৩৯৬৭, আহমাদ-৬৯৪১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)