📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 ফেতনা একের পর এক শুধু আসতেই থাকবে

📄 ফেতনা একের পর এক শুধু আসতেই থাকবে


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَسَيُصِيبُ آخِرَهَا بَلاءُ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا وَتَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي. ثُمَّ تَنْكَشِفُ وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ هَذِهِ. فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমাদের এ উম্মতের অবস্থা হলো প্রথম দিকে রয়েছে শান্তি ও সুস্থিরতা এবং শেষ দিকে রয়েছে বিপদ-মুসিবতের ঘনঘটা। তখন তোমরা এমন সব বিষয় ও ঘটনাবলীর সম্মুখীন হবে, যা তোমাদের অপছন্দনীয় হবে। এমন সব ফিতনার উদ্ভব হবে, যার একাংশ অপর অংশকে করবে দুর্বল (আগেরটির তুলনায় পরেরটি হবে আরো ভয়াবহ)। একেকটি মুসিবত আসবে আর মুমিন বলবে এটাই বুঝি আমাকে ধ্বংস করে ছাড়বে। তারপর সে বিপদ কেটে যাবে। পুনরায় বিপদ-মুসিবত আসবে। তখন মুমিন বলবে, এটাই হয়তো আমার ধ্বংসের কারণ হবে। এমন কঠিন মুহূর্তে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক, তার জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমানদার হিসেবে মৃত্যুবরণ করা। আর যেরূপ ব্যবহার সে পেতে আগ্রহী সেরূপ ব্যবহারই যেন লোকদের সাথে করে। (মুসলিম-৪৮৮২, ৪৬৭০, ইফা.-৪৬২৪, নাসাঈ-৪১৯১, আবু দাউদ-৪২৪৮, ইবনে মাজাহ-৩৯৫৬, আহমাদ-৬৪৬৫, ৬৭৫৪, ৬৭৭৬, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মানুষ সকালে মুমিন থাকবে বিকালে কাফির হয়ে যাবে

📄 মানুষ সকালে মুমিন থাকবে বিকালে কাফির হয়ে যাবে


عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ ، قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنَّا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ, يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا, الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ, وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي, فَكَسِرُوا قِسِيَّكُمْ وَقَطِعُوا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا بِسُيُوفِكُمُ الْحِجَارَةَ, فَإِنْ دُخِلَ عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ অর্থ: আবু মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: কিয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাতের ন্যায় চরম ফিতনা (বিপর্যয়) আসতে থাকবে। ঐ সময় সকালে যে ব্যক্তি মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে এবং সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি মুমিন থাকবে, সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। তখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দন্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে, দন্ডায়মান ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে এবং চলমান ব্যক্তি দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। ঐ সময় তোমরা তোমাদের ধনুক ভেঙ্গে ফেলো, ধনুকের ছিলা কেটে ফেলো এবং তোমাদের তরবারিগুলো পাথরের উপর আঘাত করে ভেঙ্গে ফেলো। তোমাদের কারো ঘরে বিপর্যয় ঢুকে পড়লে সে যেন আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু পুত্রের মধ্যে উত্তমজন (হাবিল) যা করেছিলো তাই করে। (আবু দাউদ-৪২৫৯, ইবনে মাজাহ-৩৯৬১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 পূর্ব দিক থেকে ফিতনার সূচনা হবে

📄 পূর্ব দিক থেকে ফিতনার সূচনা হবে


عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا، فَأَشَارَ نَحْوَ مَسْكَنِ عَائِشَةَ ، فَقَالَ: هُنَا الفِتْنَةُ ثَلَاثًا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। এ সময় তিনি আয়েশা রাযি.-এর ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনবার বললেন, এ দিক (পূর্বদিক) থেকেই ফিতনা (শুরু হবে), যে দিকে সূর্য উদয়কালে শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে। (বুখারী-৩১০৪, ৩২৭৯, ৩৫১১, ৫২৯৬, ৭০৯২, ৭০৯৩, ইফা.-২৮৮৫, মুসলিম-২৯০৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 ফিতনার সময় সুন্নাত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ

📄 ফিতনার সময় সুন্নাত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ


عَنْ عِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ، يَقُولُ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً bَلِيغَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَظْتَنَا مَوْعِظَةً مُوَدّعٍ فَاعْهَدْ إِلَيْنَا بِعَهْدٍ فَقَالَ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا وَسَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلَافًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ

অর্থ: ইরবায ইবনে সারিয়াহ রাযি. বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং আমাদেরকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী নসীহত করেন; এতে অন্তরসমূহ ভীত হলো এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো আমাদেরকে বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায় নসীহত করলেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদেরকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিন। তিনি বললেন: তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, আমীরের কথা শ্রবণ করো ও মেনে চলো; যদিও সে হাবশী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা কঠিন ইখতিলাফ (ফিতনা) দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাতের উপর অবিচল থাকবে এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা বিদআত থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক বিদআত (দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করা) গোমরাহী। (তিরমিযী-২৬৬২, ২৬৭৬, আবু দাউদ-৪৬০৭, ইবনে মাজাহ-৪২, আহমাদ-১৬৬৯২, ১৭৭৩৭, দারিমী-৯৫, হাদীসটি সহীহ, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00