📄 মেয়েদেরকে যথা সময়ে বিবাহ না দিলে ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যদি তোমাদের নিকট এমন কোনো ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার চরিত্র ও দ্বীনদারী সম্পর্কে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে (তোমাদের মেয়েদের) বিবাহ দাও। যদি তা না করো, তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়বে। (তিরমিযী-১০৮৪, ইবনে মাজাহ-১৯৬৭, ইরওয়া-১৮৬৮, সহীহাহ-১০২২, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য পাহাড়ে আশ্রয় নিতে হবে
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمْ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفِتَنِ
অর্থ: আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অচিরেই مسلمانوں সর্বাপেক্ষা উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী। তারা ফিতনা থেকে তাদের দ্বীন (ঈমান) বাঁচাতে সেগুলো নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে এবং পানির উৎস সমৃদ্ধ চারণভূমিতে পলায়ন করবে। (বুখারী-১৯, ৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮, ইফা.-১৮, নাসাঈ-৫০৩৬, আবু দাউদ-৩২৭৬, ৪২৬৭, ইবনে মাজাহ-৩৭৮০, আহমাদ-১০৬৪৯, ১০৮৬১, ১০৯৯৮, ১১১৪৮, ১১৪২৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে দ্বীন ও ইসলামকে সর্বাগ্রে ও সবকিছুর উর্ধ্বে প্রাধান্য দিবে। যখন চতুর্দিক থেকে ফিতনা-ফাসাদ দ্বারা স্বীয় দ্বীন আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হবে, তখন স্বীয় দ্বীন ও ঈমান রক্ষার্থে নিজের ঘর-বাড়ী, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ সবকিছু পরিত্যাগ করে পাহাড়-পর্বত কিংবা বন-জঙ্গলে গিয়ে হলেও নিজের দ্বীন ও ঈমানকে রক্ষা করবে।
📄 কিয়ামতের পূর্বে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يُقْبَضُ العِلْمُ ، وَيَظْهَرُ الجَهْلُ وَالفِتَنُ، وَيَكْثُرُ الهَرْجُ ، قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الهَرْجُ؟ فَقَالَ: هَكَذَا بِيَدِهِ فَحَرَّفَهَا، كَأَنَّهُ يُرِيدُ القَتْلَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (কিয়ামতের পূর্বে) ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, মূর্খতা ও ফিতনার বিস্তার ঘটবে এবং হারাজ বৃদ্ধি পাবে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হারাজ' কী? তিনি হাতের ইশারা দিয়ে বললেন, 'এরূপ।' যেন তিনি এর দ্বারা 'হত্যা বুঝিয়েছিলেন। (বুখারী-৮৫, ১০৩৬, ১৪১২, ৩৬০৮, ৩৬০৯, ৪৬৩৫, ৪৬৩৬, ৬০৩৭, ৬৫০৬, ৬৯৩৫, ৭০৬১, ৭১১৫, ৭১২১, ইফা.-৮৫, মুসলিম-১৫৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 ফেতনা একের পর এক শুধু আসতেই থাকবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَسَيُصِيبُ آخِرَهَا بَلاءُ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا وَتَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي. ثُمَّ تَنْكَشِفُ وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ هَذِهِ. فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমাদের এ উম্মতের অবস্থা হলো প্রথম দিকে রয়েছে শান্তি ও সুস্থিরতা এবং শেষ দিকে রয়েছে বিপদ-মুসিবতের ঘনঘটা। তখন তোমরা এমন সব বিষয় ও ঘটনাবলীর সম্মুখীন হবে, যা তোমাদের অপছন্দনীয় হবে। এমন সব ফিতনার উদ্ভব হবে, যার একাংশ অপর অংশকে করবে দুর্বল (আগেরটির তুলনায় পরেরটি হবে আরো ভয়াবহ)। একেকটি মুসিবত আসবে আর মুমিন বলবে এটাই বুঝি আমাকে ধ্বংস করে ছাড়বে। তারপর সে বিপদ কেটে যাবে। পুনরায় বিপদ-মুসিবত আসবে। তখন মুমিন বলবে, এটাই হয়তো আমার ধ্বংসের কারণ হবে। এমন কঠিন মুহূর্তে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক, তার জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমানদার হিসেবে মৃত্যুবরণ করা। আর যেরূপ ব্যবহার সে পেতে আগ্রহী সেরূপ ব্যবহারই যেন লোকদের সাথে করে। (মুসলিম-৪৮৮২, ৪৬৭০, ইফা.-৪৬২৪, নাসাঈ-৪১৯১, আবু দাউদ-৪২৪৮, ইবনে মাজাহ-৩৯৫৬, আহমাদ-৬৪৬৫, ৬৭৫৪, ৬৭৭৬, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)