📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত যতো নিকটবর্তী হবে ফিতনাও ততো বৃদ্ধি পাবে

📄 কিয়ামত যতো নিকটবর্তী হবে ফিতনাও ততো বৃদ্ধি পাবে


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ, قَالَ إِبْرَاهِيمُ : وَكَانُوا يَضْرِبُونَنَا عَلَى الشَّهَادَةِ، وَالعَهْدِ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম। এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী যুগের। এরপরে এমন সব লোক আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দিবে, আবার সাক্ষ্য দেয়ার পূর্বেই কসম করে বসবে। ইবরাহীম রহ. বলেন, আমাদেরকে (অন্যায়ভাবে) সাক্ষ্য দিলে ও অঙ্গীকার করলে প্রহার করতেন। (বুখারী-২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮, ইফা.-২৪৭৬, মুসলিম-২৫৩৩, তিরমিযী- ৩৮৫৯, ইবনে মাজাহ-২৩৬২, আহমাদ-৩৫৮৩, ৩৯৫৩, ৪১৯৯, ৪১৬২, ৪২০৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: আলোচ্য হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের লোকেরা অর্থাৎ, সাহাবীগণ হলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। তারপর তাবেঈনগণ, তারপর তাবে-তাবেঈনগণ। সাধারণত এক যুগের লোকদেরকে قرن বলা হয়। 'করন' এর পরিমাণ কী? এ নিয়ে হাদীস বিশারদগণের মাঝে সামান্য ইখতিলাফ রয়েছে। কারো কারো মতে, সত্তর বছরে এক 'করন' হয়। আবার কারো মতে আশি বছর, কারো মতে একশ বছর, আবার কারো কারো মতে একশ বিশ বছরে এক 'করন' হয়।
আলোচ্য হাদীসে তিন যুগের পরের লোকদের কিছু খারাপ অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে। তারা হালাল-হারামের তোয়াক্কা করবে না এবং তাদের অন্তরে দ্বীনের কোনো গুরুত্ব থাকবে না; বরং তারা সত্য-মিথ্যা সব ধরনের সাক্ষ্য দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এমনকি তারা সাক্ষ্য দিতে চাইবে, কিন্তু তাদের মুখ থেকে কসম বেরিয়ে আসবে। অনুরূপ তারা কসম করতে চাইবে, কিন্তু তাদের মুখ থেকে সাক্ষ্য বেরিয়ে আসবে। এ হাদীসের উপর কিয়াস করে ইমাম মালিক রহ. ওইসব লোকের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করতেন, যারা সাক্ষ্যের সাথে কসমও করে ফেলতো। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী-৩য় খণ্ড)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 অচিরেই ফিতনা তথা নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হবে

📄 অচিরেই ফিতনা তথা নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হবে


عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَكُونُ فِتَنَّ عَلَى أَبْوَا بِهَا دُعَاةٌ إِلَى النَّارِ, فَأَنْ تَمُوتَ وَأَنْتَ عَاضٌ عَلَى جِذْلِ شَجَرَةٍ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَتْبَعَ أَحَدًا مِنْهُمْ

অর্থ: হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অচিরেই এমন ফিতনা (নৈরাজ্যকর অবস্থা) সৃষ্টি হবে, যার সম্মুখভাগে থাকবে জাহান্নামের দিকে আহবানকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে তুমি যদি বৃক্ষের কান্ড আঁকড়ে ধরে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে পারো, তবে তা তোমার জন্য ওদের কারো আহবানে সাড়া দেয়ার চেয়ে অনেক উত্তম। (বুখারী-৩৬০৬, মুসলিম-১৮৪৭, আবু দাউদ-৪২৪৪, ইবনে মাজাহ-৩৯৮১, আহমাদ-২২৯৩৯, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 ফিতনার সময় ইবাদত করা হিজরতের মতোই সওয়াব

📄 ফিতনার সময় ইবাদত করা হিজরতের মতোই সওয়াব


عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُولُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةِ إِلَى

অর্থ: হযরত মাকিল ইবনে ইয়াসার রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ফিতনার সময় (হানাহানি ও কলহ-বিবাদকালে) ইবাদতে লিপ্ত থাকা, আমার কাছে হিজরত করার সমতুল্য। (মুসলিম-২৯৪৮, তিরমিযী-২২০১, ইবনে মাজাহ-৩৯৮৫, আহমাদ-১৯৭৮৭, ১৯৮০০, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কুরআন-হাদীসের ইলম ছাড়া ফিতনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়

📄 কুরআন-হাদীসের ইলম ছাড়া ফিতনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَتَكُونُ فِتَنْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا إِلَّا مَنْ أَحْيَاهُ اللَّهُ بِالْعِلْمِ

অর্থ: আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অচিরেই এমনভাবে ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে যে, সকালে মানুষ মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে দ্বীনের ইলম দ্বারা বাঁচিয়ে রাখবেন, তার কথা স্বতন্ত্র। (ইবনে মাজাহ-৩৯৫৪, দারিমী-৩৩৮, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00