📄 কিয়ামতের আগে পুঁতির দানার মতো ফিতনা শুধু আসতেই থাকবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا اتَّخِذَ الْفَيْءُ دُوَلًا وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَتُعُلِّمَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَأَدْنَى صَدِيقَهُ وَأَقْصَى أَبَاهُ وَظَهَرَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَسَادَ الْقَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَعَنَ آخِرُ هُذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ رِيحًا حَمْرَاءَ وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (ক). যখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত মালে পরিণত হবে, (খ). আমানতের মাল লুটের মালে পরিণত হবে, (গ). যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, (ঘ). ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, (ঙ). পুরুষ লোকেরা স্ত্রীর আনুগত্য করবে, (চ). কিন্তু মায়ের অবাধ্য হবে, (ছ). বন্ধুদেরকে কাছে টেনে নিবে, (জ). কিন্তু নিজ পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, (ঝ). মসজিদে হট্টগোল করবে, (ঞ). পাপাচারীরা সমাজের নেতা হবে. (ট). নিকৃষ্ট লোকেরা সমাজের কর্ণধার হবে, (ঠ). কাউকে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য সম্মান দেখানো হবে, (ড). নর্তকী-গায়িকা বৃদ্ধি পাবে, (ঢ). বাদ্যযন্ত্রের কদর করা হবে, (ণ). ব্যাপকভাবে মাদক সেবন করা হবে, (ত). এ উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে লা'নত দিবে। তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি, পাথরবৃষ্টি ও অন্যান্য বালা-মুসিবতের অপেক্ষা করো, যা একের পর এক আসতে থাকবে, যেমন পুরাতন পুঁতিরমালা ছিঁড়ে গেলে একের পর এক ঝরে থাকে। (তিরমিযী-২২১১)
📄 একের পর এক বিপদাপদ আসতে থাকবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : خَطَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَّاً مُرَبَّعًا. وَخَطَّ خَطَّاً فِي الْوَسَطِ خَارِجًا مِنْهُ، وَخَطَّ خُطَطًا صِغَارًا إِلَى هَذَا الَّذِي فِي الْوَسَطِ مِنْ جَانِبِهِ الَّذِي فِي الْوَسَطِ، وَقَالَ: هَذَا الإِنْسَانُ، وَهَذَا أَجَلُهُ مُحِيطٌ بِهِ أَوْ: قَدْ أَحَاطَ بِهِ وَهَذَا الَّذِي هُوَ خَارِجٌ أَمَلُهُ، وَهَذِهِ الخُطَطُ الصِّغَارُ الأَعْرَاضُ، فَإِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا نَهَشَهُ هَذَا، وَإِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا نَهَشَهُ هَذَا
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং তার মাঝ বরাবর কয়েকটি সরল রেখা টানলেন যা চতুর্ভুজ ভেদ করে বাইরে চলে গেল। তিনি মধ্যবর্তী এ রেখাটির সাথে যুক্ত আরো কতগুলো ছোট ছোট সরল রেখা (আড়াআড়ি ভাবে) টানলেন। তারপর বলেন: هَذَا الْإِنْسَانُ، وَهَذَا أَجَلُهُ مُحِيطٌ بِهِ
অর্থাৎ, এটা হলো মানুষ এবং এটা তার মৃত্যু, যা তাকে বেষ্টন করে আছে।' (চতুর্ভুজ ভেদ করে) বেরিয়ে যাওয়া রেখা হলো তার আশা-আকাংখা আর ছোট ছোট রেখাগুলো তার জীবনের বিপদাপদ। একটি বিপদ থেকে ছুটতে পারলে অপরটি এসে তাকে আক্রমণ করে। আবার দ্বিতীয়টি থেকে মুক্তি পেলেই তৃতীয়টি তাকে নিষ্পেষিত করে। (বুখারী-৬৪১৭, ইফা.-৫৯৭৫, তিরমিযী-২৪৫৪, ইবনে মাজাহ-৪২৩১, আহমাদ-৩৬৪৪, ৪১৩১, ৪৪২৩, দারিমী-২৭২৯, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 কিয়ামত যতো নিকটবর্তী হবে ফিতনাও ততো বৃদ্ধি পাবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ, قَالَ إِبْرَاهِيمُ : وَكَانُوا يَضْرِبُونَنَا عَلَى الشَّهَادَةِ، وَالعَهْدِ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম। এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী যুগের। এরপরে এমন সব লোক আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দিবে, আবার সাক্ষ্য দেয়ার পূর্বেই কসম করে বসবে। ইবরাহীম রহ. বলেন, আমাদেরকে (অন্যায়ভাবে) সাক্ষ্য দিলে ও অঙ্গীকার করলে প্রহার করতেন। (বুখারী-২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮, ইফা.-২৪৭৬, মুসলিম-২৫৩৩, তিরমিযী- ৩৮৫৯, ইবনে মাজাহ-২৩৬২, আহমাদ-৩৫৮৩, ৩৯৫৩, ৪১৯৯, ৪১৬২, ৪২০৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের লোকেরা অর্থাৎ, সাহাবীগণ হলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। তারপর তাবেঈনগণ, তারপর তাবে-তাবেঈনগণ। সাধারণত এক যুগের লোকদেরকে قرن বলা হয়। 'করন' এর পরিমাণ কী? এ নিয়ে হাদীস বিশারদগণের মাঝে সামান্য ইখতিলাফ রয়েছে। কারো কারো মতে, সত্তর বছরে এক 'করন' হয়। আবার কারো মতে আশি বছর, কারো মতে একশ বছর, আবার কারো কারো মতে একশ বিশ বছরে এক 'করন' হয়।
আলোচ্য হাদীসে তিন যুগের পরের লোকদের কিছু খারাপ অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে। তারা হালাল-হারামের তোয়াক্কা করবে না এবং তাদের অন্তরে দ্বীনের কোনো গুরুত্ব থাকবে না; বরং তারা সত্য-মিথ্যা সব ধরনের সাক্ষ্য দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এমনকি তারা সাক্ষ্য দিতে চাইবে, কিন্তু তাদের মুখ থেকে কসম বেরিয়ে আসবে। অনুরূপ তারা কসম করতে চাইবে, কিন্তু তাদের মুখ থেকে সাক্ষ্য বেরিয়ে আসবে। এ হাদীসের উপর কিয়াস করে ইমাম মালিক রহ. ওইসব লোকের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করতেন, যারা সাক্ষ্যের সাথে কসমও করে ফেলতো। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী-৩য় খণ্ড)
📄 অচিরেই ফিতনা তথা নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হবে
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَكُونُ فِتَنَّ عَلَى أَبْوَا بِهَا دُعَاةٌ إِلَى النَّارِ, فَأَنْ تَمُوتَ وَأَنْتَ عَاضٌ عَلَى جِذْلِ شَجَرَةٍ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَتْبَعَ أَحَدًا مِنْهُمْ
অর্থ: হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অচিরেই এমন ফিতনা (নৈরাজ্যকর অবস্থা) সৃষ্টি হবে, যার সম্মুখভাগে থাকবে জাহান্নামের দিকে আহবানকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে তুমি যদি বৃক্ষের কান্ড আঁকড়ে ধরে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে পারো, তবে তা তোমার জন্য ওদের কারো আহবানে সাড়া দেয়ার চেয়ে অনেক উত্তম। (বুখারী-৩৬০৬, মুসলিম-১৮৪৭, আবু দাউদ-৪২৪৪, ইবনে মাজাহ-৩৯৮১, আহমাদ-২২৯৩৯, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)