📄 অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের থেকেই ফিতনা শুরু হয়
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ, عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ, فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: দুনিয়াটা অবশ্যই মিষ্টি-মধুর ও লোভনীয়। আল্লাহ তোমাদেরকে দুনিয়ায় তাঁর প্রতিনিধি বানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখতে চান তোমরা কেমন আমল করো। সুতরাং তোমরা দুনিয়ার ফিতনাকে ভয় করো এবং নারীদের ফিতনাকেও ভয় করো। কেননা বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা সৃষ্টি হয়েছিল নারীদের মধ্য থেকেই। (মুসলিম- ৭১২৪, ২৭৪২, ৬৮৪১, ইফা.-৬৬৯৭, তিরমিযী-২১৯১, ইবনে মাজাহ-৪০০০, আহমাদ-১০৭৫৯, ১০৭৮৫, ১১০৩৪, ১১১৯৩, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 শেষ যামানায় বিপদ শুধু আসতেই থাকবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَتَكُونُ فِتَنَّ القَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ القَائِمِ ، وَالقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ المَاشِي، وَالمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي، وَمَنْ يُشْرِفْ لَهَا تَسْتَشْرِفُهُ، وَمَنْ وَجَدَ مَلْجَأَ أَوْ مَعَاذَا فَلْيَعُذْ بِهِ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: অচিরেই অসংখ্য ফিতনা- ফাসাদ দেখা দিবে। ঐ সময় বসা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ), দাড়াঁনো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি হতে অধিক রক্ষিত আর চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে দৃষ্টি করবে ফিতনা তাকে গ্রাস করে নিবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বীন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তবে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত হবে। (সহীহ মুসলিম-২৮৮৬, আবু দাউদ-৪২৫৯, ইবনে মাজাহ-৩৯৬১, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 কিয়ামতের আগে পুঁতির দানার মতো ফিতনা শুধু আসতেই থাকবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا اتَّخِذَ الْفَيْءُ دُوَلًا وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَتُعُلِّمَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَأَدْنَى صَدِيقَهُ وَأَقْصَى أَبَاهُ وَظَهَرَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَسَادَ الْقَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَعَنَ آخِرُ هُذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ رِيحًا حَمْرَاءَ وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (ক). যখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত মালে পরিণত হবে, (খ). আমানতের মাল লুটের মালে পরিণত হবে, (গ). যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, (ঘ). ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, (ঙ). পুরুষ লোকেরা স্ত্রীর আনুগত্য করবে, (চ). কিন্তু মায়ের অবাধ্য হবে, (ছ). বন্ধুদেরকে কাছে টেনে নিবে, (জ). কিন্তু নিজ পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, (ঝ). মসজিদে হট্টগোল করবে, (ঞ). পাপাচারীরা সমাজের নেতা হবে. (ট). নিকৃষ্ট লোকেরা সমাজের কর্ণধার হবে, (ঠ). কাউকে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য সম্মান দেখানো হবে, (ড). নর্তকী-গায়িকা বৃদ্ধি পাবে, (ঢ). বাদ্যযন্ত্রের কদর করা হবে, (ণ). ব্যাপকভাবে মাদক সেবন করা হবে, (ত). এ উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে লা'নত দিবে। তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি, পাথরবৃষ্টি ও অন্যান্য বালা-মুসিবতের অপেক্ষা করো, যা একের পর এক আসতে থাকবে, যেমন পুরাতন পুঁতিরমালা ছিঁড়ে গেলে একের পর এক ঝরে থাকে। (তিরমিযী-২২১১)
📄 একের পর এক বিপদাপদ আসতে থাকবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : خَطَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَّاً مُرَبَّعًا. وَخَطَّ خَطَّاً فِي الْوَسَطِ خَارِجًا مِنْهُ، وَخَطَّ خُطَطًا صِغَارًا إِلَى هَذَا الَّذِي فِي الْوَسَطِ مِنْ جَانِبِهِ الَّذِي فِي الْوَسَطِ، وَقَالَ: هَذَا الإِنْسَانُ، وَهَذَا أَجَلُهُ مُحِيطٌ بِهِ أَوْ: قَدْ أَحَاطَ بِهِ وَهَذَا الَّذِي هُوَ خَارِجٌ أَمَلُهُ، وَهَذِهِ الخُطَطُ الصِّغَارُ الأَعْرَاضُ، فَإِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا نَهَشَهُ هَذَا، وَإِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا نَهَشَهُ هَذَا
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং তার মাঝ বরাবর কয়েকটি সরল রেখা টানলেন যা চতুর্ভুজ ভেদ করে বাইরে চলে গেল। তিনি মধ্যবর্তী এ রেখাটির সাথে যুক্ত আরো কতগুলো ছোট ছোট সরল রেখা (আড়াআড়ি ভাবে) টানলেন। তারপর বলেন: هَذَا الْإِنْسَانُ، وَهَذَا أَجَلُهُ مُحِيطٌ بِهِ
অর্থাৎ, এটা হলো মানুষ এবং এটা তার মৃত্যু, যা তাকে বেষ্টন করে আছে।' (চতুর্ভুজ ভেদ করে) বেরিয়ে যাওয়া রেখা হলো তার আশা-আকাংখা আর ছোট ছোট রেখাগুলো তার জীবনের বিপদাপদ। একটি বিপদ থেকে ছুটতে পারলে অপরটি এসে তাকে আক্রমণ করে। আবার দ্বিতীয়টি থেকে মুক্তি পেলেই তৃতীয়টি তাকে নিষ্পেষিত করে। (বুখারী-৬৪১৭, ইফা.-৫৯৭৫, তিরমিযী-২৪৫৪, ইবনে মাজাহ-৪২৩১, আহমাদ-৩৬৪৪, ৪১৩১, ৪৪২৩, দারিমী-২৭২৯, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)