📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 রাসূল সা. সর্বদা শহীদ হবার তামান্না করতেন

📄 রাসূল সা. সর্বদা শহীদ হবার তামান্না করতেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلَا أَنَّ رِجَالًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ أَحْيَى ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أَحْيَى ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أَحْيَى ثُمَّ أُقْتَلُ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মু'মিনদের এমন দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকলকে সওয়ারী দিতে পারব না বলে আশঙ্কা করতাম, তাহলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে, আমি সে ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি, আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়, পুনরায় জীবিত করা হয়। এরপর শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। পুনরায় শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। পুনরায় শহীদ করা হয়। (বুখারী-৩৬, ২৭৮৭, ২৭৯৭, ২৯৭২, ৩২১৩, ৭২২৬, ৭২২৭, ৭৪৫৭, ৭৪৬৩, ইফা.-২৬০৪, মুসলিম-১৮৭৬, আহমাদ- ৯১৯৮, ৯৪৮১, ৯৪৮৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: আল্লাহ তায়ালার কাছে শহীদদের মর্যাদা সবচেয়ে বেশী। শহীদের রূহ তথা আত্মা সরাসরি আল্লাহ নিজেই কবজ করেন। ফলে মৃত্যুর সময় তার কোন ব্যথা অনুভূত হয় না। এমনকি একটি ক্ষুদ্র পিপীলিকার কামড়ে যতটুকু ব্যথা অনুভূত হয়, শহীদের তাও হয় না। কেননা, তখন ফেরেশতাগণ তার সামনে জান্নাত হাজির করেন। মৃত্যুর সাথে সাথে তিনি জান্নাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাই তো আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা সকল নবী-রাসূল তথা সমগ্র সৃষ্টির মাঝে এতো অধিক হওয়ার পরও বারবার তিনি আল্লাহর কাছে শাহাদাতের আকাংখা করতেন। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ বুখারী-১/১০৭)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বাড়ি থেকেও শহীদের মর্যাদা লাভ করা যায়

📄 বাড়ি থেকেও শহীদের মর্যাদা লাভ করা যায়


عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ অর্থ: হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ রাযি. তার পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি একান্ত নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর দরবারে শাহাদাত কামনা করবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই শহীদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে আপন বিছানায় (বাড়ীতে) মৃত্যুবরণ করে। (মুসলিম-৫০৩৯, ৪৮২৪, ইফা.-৪৭৭৭, তিরমিযী-১৬৫৩, নাসাঈ-৩১৬২, আবু দাউদ-১৫২০, ইবনে মাজাহ-২৭৯৭, দারিমী-২৪০, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

নোট: প্রতিটি মুমিনের অন্তরে শাহাদাতের তামান্না থাকা উচিত। আলোচ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, কারো অন্তরে জিহাদের নিয়ত ও শাহাদাতের আকাঙ্খা থাকলে সে অবশ্যই শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। যদিও তার মৃত্যু আপন বাড়ীতে হোক না কেন। এমর্মে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে উল্লেখ আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: مَنْ طَلَبَ الشَّهَادَةَ صَادِقًا أُعْطِيَهَا وَلَوْ لَمْ تُصِبْهُ

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে শাহাদাত কামনা করে, তাকে শহীদের মর্তবা দান করা হয়, যদিও সে শহীদ না হয়। (মুসলিম-৫০৩৮, ৪৮২৩, ইফা.-৪৭৭৬, তিরমিযী-১৬৫৩, নাসাঈ-৩১৬২, আবু দাউদ-১৫২০, ইবনে মাজাহ-২৭৯৭, দারিমী-২৪০, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 হানযালা রাযি.-এর লাশ ফেরেশতারা ঢেকে রেখেছিলেন

📄 হানযালা রাযি.-এর লাশ ফেরেশতারা ঢেকে রেখেছিলেন


عَنْ جَابِرِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: جِيءَ بِأَبِي يَوْمَ أُحُدٍ قَدْ مُثْلَ بِهِ، حَتَّى وُضِعَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ سُجِّيَ ثَوْبًا، فَذَهَبْتُ أُرِيدُ أَنْ أَكْشِفَ عَنْهُ، فَنَهَانِي قَوْمِي، ثُمَّ ذَهَبْتُ أَكْشِفُ عَنْهُ، فَنَهَانِي قَوْمِي، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُفِعَ ، فَسَمِعَ صَوْتَ صَائِحَةٍ، فَقَالَ: مَنْ هَذِهِ؟ فَقَالُوا: ابْنَةُ عَمْرٍو أَوْ أُخْتُ عَمْرٍو قَالَ: فَلِمَ تَبْكِي؟ أَوْ لَا تَبْكِي، فَمَا زَالَتِ المَلَائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رُفِعَ

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন আমার পিতা (হানযালা রাযি.)-কে অঙ্গ-প্রতঙ্গ কর্তিত অবস্থায় নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে রাখা হলো। তখন একখানি কাপড় দিয়ে তাকে ঢেকে রাখা হয়েছিলো। আমি তাঁর উপর থেকে আবরণ উন্মোচন করতে (কাপড় সরিয়ে ফেলতে) আসলে, আমার কওমের লোকেরা আমাকে নিষেধ করলো। পুনরায় আমি আবরণ উন্মুক্ত করতে চাইলে আমার কওমের লোকেরা (পুনরায়) আমাকে নিষেধ করলো। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে তাকে উঠিয়ে নেয়া হলো। তখন তিনি এক ক্রন্দনকারিনীর আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? লোকেরা বললো, আমরের মেয়ে অথবা (তারা বলল,) আমরের বোন। তিনি বললেন, কাঁদো কেন? অথবা বলেছেন, কেঁদো না। কেননা, তাকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত (রহমতের) ফেরেশতাগণ তাদের পাখা দ্বারা তাকে ছায়া দিয়ে (ঢেকে) রেখেছেন। (বুখারী-১২৯৩, ১২৪৪, ২৮১৬, ইফা.-১২১৬, মুসলিম-২৪৭১, নাসাঈ-১৮৪২, ১৮৪৫, আহমাদ-১৩৭৭৫, ১৩৮৮৩, ১৪৮৩৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 জান্নাতে শহীদগণের স্ত্রীদের ওড়না কেমন হবে?

📄 জান্নাতে শহীদগণের স্ত্রীদের ওড়না কেমন হবে?


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ أُمَّ حَارِثَةَ أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَقَدْ هَلَكَ حَارِثَةُ يَوْمَ بَدْرٍ، أَصَابَهُ غَرْبُ سَهُمٍ ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَدْ عَلِمْتَ مَوْقِعَ حَارِثَةَ مِنْ قَلْبِي ، فَإِنْ كَانَ فِي الجَنَّةِ لَمْ أَبْكِ عَلَيْهِ، وَإِلَّا سَوْفَ تَرَى مَا أَصْنَعُ ؟ فَقَالَ لَهَا : هَبِلْتِ، أَجَنَّةً وَاحِدَةٌ هِيَ؟ إِنَّهَا جِنَانٌ كَثِيرَةٌ، وَإِنَّهُ فِي الفِرْدَوْسِ الأَعْلَى : وَقَالَ: غَدْوَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. وَلَقَابُ قَوْسٍ أَحَدِكُمْ ، أَوْ مَوْضِعُ قَدَمٍ مِنَ الجَنَّةِ، خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى الأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا، وَلَمَلَاتُ مَا بَيْنَهُمَا رِيحًا، وَلَنَصِيفُهَا يَعْنِي الخِمَارَ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। বদরের যুদ্ধে হযরত হারিসা রাযি. অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শহীদ হয়ে গেলে তাঁর মাতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অন্তরে হারিসার প্রতি যে কত স্নেহ-ভালোবাসা তা আপনি জানেন। অতএব সে যদি জান্নাত লাভ করে তবে আমি তার জন্য কান্নাকাটি করবো না। আর যদি ব্যতিক্রম হয়, তবে আপনি অচিরেই দেখতে পাবেন আমি কি করি। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি তো নির্বোধ। জান্নাত কি একটি, নাকি অনেক? জান্নাত অনেকগুলো। তার মধ্যে তোমার ছেলে সর্বোচ্চ জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করেছে। এরপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে উত্তম। আর জান্নাতে তোমাদের কারো একটি তীর ধনুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম। জান্নাতের কোনো নারী যদি দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তবে সমস্ত দুনিয়া আলোকিত ও খুশবুতে মোহিত হয়ে যাবে। জান্নাতী নারীর নাসীফ (ওড়না) দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। (বুখারী-৬৫৬৭, ৬৫৬৮, ২৭৯২, ২৮০৯, ৩৯৮২, ৬৫৫০, ইফা.-৬১২১, মুসলিম-১৮৮২, তিরমিযী-১৬৪৯, ২৫২৩, ৩২৯২, ইবনে মাজাহ-৪৩৩৫, আহমাদ-৯৫২২, ৯৫৬০, ২৭৬১৬, দারিমী-২৮৩৯, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00