📄 শহীদগণকে গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْمَعُ بَيْنَ رَجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ ، ثُمَّ يَقُولُ: أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ ۚ فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا، قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ، فَقَالَ: أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ يَوْمَ القِيَامَةِ فَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ ، وَلَمْ يُغَسِلُهُمْ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণকে দু' দু'জন করে একত্র করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তাঁদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? দু'জনের কোনো একজনের দিকে ইশারা করা হলে তিনি প্রথমে তাঁকে লাহদ কবরে রাখতেন। তারপর বললেন: কিয়ামত দিবসে আমি তাঁদের জন্য সাক্ষী হবো। তিনি রক্তমাখা অবস্থায়ই তাঁদের দাফন করার নির্দেশ করলেন এবং তাঁদের গোসলও দিলেন না। (বুখারী-১৩৫৩, ১৩৪৩, ইফা.-১২৭১, তিরমিযী-১০৩৬, নাসাঈ-১৯৫৫, ২০২১, আবু দাউদ-৩১৩৮, ইবনে মাজাহ-১৫১৪, আহমাদ- ১৩৭৭৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে করতে শাহাদাতবরণ করে তাকে গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি তার শরীর থেকে প্রবাহিত রক্ত মুছে ফেলাও নিষেধ। তবে এ হুকুম তখন প্রযোজ্য হবে যখন শাহাদাতের সকল শর্ত তার মাঝে বিদ্যমান থাকবে। অন্যথায় সাধারণভাবে মাইয়্যেতের ন্যায় গোসল দিয়ে দাফন করতে হবে। (ইলমুল ফিকহ-২/২০৬)
📄 এক সাহাবী শহীদ হবার আশায় হাতের খেজুর ছুঁড়ে মারলেন
عَنْ جَابِرِ بْن عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ, أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فَأَيْنَ أَنَا؟ قَالَ: فِي الجَنَّةِ, فَأَلْقَى تَمَرَاتٍ فِي يَدِهِ. ثُمَّ قَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হবে? তিনি বললেন, জান্নাতে। (এ কথা শুনে) লোকটি নিজের হাতের খেজুরগুলো ছুঁড়ে মেরে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হলো। (বুখারী-৪০৪৬, ইফা.৩৭৪৭, মুসলিম-১৮৯৯, ৪৮০৭, নাসাঈ-৩১৫৪, আহমাদ-১৩৯০২, মালিক-১০১৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 রাসূল সা. সর্বদা শহীদ হবার তামান্না করতেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلَا أَنَّ رِجَالًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ أَحْيَى ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أَحْيَى ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أَحْيَى ثُمَّ أُقْتَلُ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মু'মিনদের এমন দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকলকে সওয়ারী দিতে পারব না বলে আশঙ্কা করতাম, তাহলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে, আমি সে ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি, আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়, পুনরায় জীবিত করা হয়। এরপর শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। পুনরায় শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। পুনরায় শহীদ করা হয়। (বুখারী-৩৬, ২৭৮৭, ২৭৯৭, ২৯৭২, ৩২১৩, ৭২২৬, ৭২২৭, ৭৪৫৭, ৭৪৬৩, ইফা.-২৬০৪, মুসলিম-১৮৭৬, আহমাদ- ৯১৯৮, ৯৪৮১, ৯৪৮৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আল্লাহ তায়ালার কাছে শহীদদের মর্যাদা সবচেয়ে বেশী। শহীদের রূহ তথা আত্মা সরাসরি আল্লাহ নিজেই কবজ করেন। ফলে মৃত্যুর সময় তার কোন ব্যথা অনুভূত হয় না। এমনকি একটি ক্ষুদ্র পিপীলিকার কামড়ে যতটুকু ব্যথা অনুভূত হয়, শহীদের তাও হয় না। কেননা, তখন ফেরেশতাগণ তার সামনে জান্নাত হাজির করেন। মৃত্যুর সাথে সাথে তিনি জান্নাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাই তো আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা সকল নবী-রাসূল তথা সমগ্র সৃষ্টির মাঝে এতো অধিক হওয়ার পরও বারবার তিনি আল্লাহর কাছে শাহাদাতের আকাংখা করতেন। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ বুখারী-১/১০৭)
📄 বাড়ি থেকেও শহীদের মর্যাদা লাভ করা যায়
عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ অর্থ: হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ রাযি. তার পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি একান্ত নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর দরবারে শাহাদাত কামনা করবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই শহীদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে আপন বিছানায় (বাড়ীতে) মৃত্যুবরণ করে। (মুসলিম-৫০৩৯, ৪৮২৪, ইফা.-৪৭৭৭, তিরমিযী-১৬৫৩, নাসাঈ-৩১৬২, আবু দাউদ-১৫২০, ইবনে মাজাহ-২৭৯৭, দারিমী-২৪০, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
নোট: প্রতিটি মুমিনের অন্তরে শাহাদাতের তামান্না থাকা উচিত। আলোচ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, কারো অন্তরে জিহাদের নিয়ত ও শাহাদাতের আকাঙ্খা থাকলে সে অবশ্যই শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। যদিও তার মৃত্যু আপন বাড়ীতে হোক না কেন। এমর্মে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে উল্লেখ আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: مَنْ طَلَبَ الشَّهَادَةَ صَادِقًا أُعْطِيَهَا وَلَوْ لَمْ تُصِبْهُ
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে শাহাদাত কামনা করে, তাকে শহীদের মর্তবা দান করা হয়, যদিও সে শহীদ না হয়। (মুসলিম-৫০৩৮, ৪৮২৩, ইফা.-৪৭৭৬, তিরমিযী-১৬৫৩, নাসাঈ-৩১৬২, আবু দাউদ-১৫২০, ইবনে মাজাহ-২৭৯৭, দারিমী-২৪০, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)