📄 শহীদগণ মরে না, বরং তারা জীবিত
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ * فَرِحِينَ بِمَا أَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ فَخَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ * يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: আর যারা আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতবরণ করেছে, তাদেরকে আপনি মৃত মনে করবেন না, বরং তারা স্বীয় পালনকর্তার নিকট জীবিত। নিয়মিত তাদেরকে রিযিক প্রদান করা হয় * আল্লাহ তাদেরকে যে অনুগ্রহ করেছেন, তাতে তারা খুশি। তারা উৎফুল্ল হয়, পরবর্তীদের থেকে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের বিষয়ে। এজন্য যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না * তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত ও অনুগ্রহ পেয়ে খুশি হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। (সূরা আলে ইমরান-১৬৯-১৭১)
📄 শহীদগণ মরে না, বরং তারা জীবিত
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لَّا تَشْعُرُونَ অর্থ: আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত (শহীদ) হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না। (সূরা বাকারা-১৫৪)
নোট: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়, কাউকে চিমটি কাটলে অথবা পিঁপিলিকায় কামড় দিলে যতটুকু যন্ত্রণা অনুভূত হয় মৃত্যুকালে ততটুকু কষ্ট সে পায় না। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
📄 শহীদগণ জান্নাতে গিয়ে পুনরায় শহীদ হবার আকাঙ্খা করবে
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ الكَرَامَةِ অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: জান্নাতে প্রবেশের পর একমাত্র শহীদ ছাড়া আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাংখা পোষণ করবে না, যদিও দুনিয়ার সবকিছু তার কাছে বিদ্যমান থাকবে। সে শহীদদের মর্তবা দেখে দুনিয়াতে ফিরে এসে দশবার শহীদ হওয়ার আকাংখা করবে। (বুখারী- ২৮১৭, ২৭৯৫, ইফা.-২৬১৯, মুসলিম-১৮৭৭, তিরমিযী-১৬৬১, নাসাঈ-৩১৬০, আহমাদ-১১৫৯২, ১১৮৬৪, ১১৯৩৩, ১২১৪৭, ১২৩৬০, ১২৭৫০, ১৩২১৬, ১৩২২৬, ১৩৫১৪, দারিমী-২৪০৯, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 শহীদগণকে গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْمَعُ بَيْنَ رَجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ ، ثُمَّ يَقُولُ: أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ ۚ فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا، قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ، فَقَالَ: أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ يَوْمَ القِيَامَةِ فَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ ، وَلَمْ يُغَسِلُهُمْ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণকে দু' দু'জন করে একত্র করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তাঁদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? দু'জনের কোনো একজনের দিকে ইশারা করা হলে তিনি প্রথমে তাঁকে লাহদ কবরে রাখতেন। তারপর বললেন: কিয়ামত দিবসে আমি তাঁদের জন্য সাক্ষী হবো। তিনি রক্তমাখা অবস্থায়ই তাঁদের দাফন করার নির্দেশ করলেন এবং তাঁদের গোসলও দিলেন না। (বুখারী-১৩৫৩, ১৩৪৩, ইফা.-১২৭১, তিরমিযী-১০৩৬, নাসাঈ-১৯৫৫, ২০২১, আবু দাউদ-৩১৩৮, ইবনে মাজাহ-১৫১৪, আহমাদ- ১৩৭৭৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে করতে শাহাদাতবরণ করে তাকে গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি তার শরীর থেকে প্রবাহিত রক্ত মুছে ফেলাও নিষেধ। তবে এ হুকুম তখন প্রযোজ্য হবে যখন শাহাদাতের সকল শর্ত তার মাঝে বিদ্যমান থাকবে। অন্যথায় সাধারণভাবে মাইয়্যেতের ন্যায় গোসল দিয়ে দাফন করতে হবে। (ইলমুল ফিকহ-২/২০৬)