📄 অন্যকে যুদ্ধের সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ফযীলত
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ فَتَى مِنْ أَسْلَمَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنِّي أُرِيدُ الْغَزْوَ وَلَيْسَ مَعِي مَا أَتَجَهَّزُ قَالَ : اثْتِ فُلَانًا فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ تَجَهَّزَ فَمَرِضَ. فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَيَقُولُ أَعْطِنِي الَّذِي تَجَهَّرْتَ بِهِ قَالَ يَا فُلانَةُ أَعْطِيهِ الَّذِي تَجَهَّرْتُ بِهِ وَلَا تَحْبِسِي عَنْهُ شَيْئًا فَوَاللَّهِ لَا تَحْبِسِي مِنْهُ شَيْئًا فَيُبَارَكَ لَكِ فِيهِ
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা আসলাম গোত্রের জনৈক যুবক আরজ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করতে চাই; কিন্তু আমার কাছে প্রস্তুতি গ্রহণের সঙ্গতি নেই। তিনি বললেন, তুমি অমুক লোকের সঙ্গে দেখা করো। সে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যুবকটি তার কাছে গিয়ে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমায় সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, তুমি যা কিছু সরঞ্জাম যোগাড় করেছ, তা আমাকে দিয়ে দাও। লোকটি (তার স্ত্রীকে) বললো, হে অমুক! একে আমার সমস্ত সরঞ্জাম দিয়ে দাও এবং তার কোনো কিছুই রাখবে না। আল্লাহ্র কসম! তুমি যদি তার কোনো কিছু আটকে না রাখো, তাহলে তোমাকেও অনুরূপ সওয়াব দান করা হবে। (মুসলিম-৫০১০, ৪৭৯৫, ইফা.-৪৭৪৮, আবু দাউদ-২৭৮০, আহমাদ-১২৭৪৮, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
📄 মুজাহিদকে যুদ্ধের সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেয়ার ফযীলত
عَنْ زَيْدِ بْن خَالِدٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ جَهَزَ غَازِيَّا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا ، وَمَنْ خَلَفَ غَازِيَّا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا
অর্থ: হযরত যায়েদ ইবনে খালিদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো মুজাহিদের যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দিলো, সে যেন নিজেই জিহাদ করলো। যে ব্যক্তি মুজাহিদের অনুপস্থিতিতে উত্তমরূপে তার পরিবার-পরিজনের দেখাশুনা করলো সেও যেন জিহাদ করলো। (সহীহ বুখারী- ২৮৪৩, ইফা.-২৬৪৩, মুসলিম-১৮৯৫, ৫০১১, তিরমিযী-১৬২৮, ১৬২৯, নাসাঈ-৩১৮০, আবু দাউদ-২৫০৯, মুসনাদে আহমাদ-১৭০৩৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
📄 প্রচণ্ড যুদ্ধের সময় এ দুআ পাঠ করা সুন্নাত
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا غَزَا قَالَ : اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَنَصِيرِي بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ وَبِكَ أُقَاتِلُ অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুদ্ধ করতেন, তখন এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَنَصِيرِي بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ وَبِكَ أُقَاتِلُ “হে আল্লাহ! আপনিই আমার বাহু (ভরসাস্থল), আপনিই আমার সাহায্যকারী, আপনার দ্বারাই আমি শক্তি সঞ্চয় করি, আপনার সাহায্যেই আমি আক্রমণ করি এবং আপনারই সাহায্যেই আমি যুদ্ধ করি." (আবু দাউদ-২৬৩২, তিরমিযী-৩৫৮৪, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)
📄 যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে এ দুআ পাঠ করা সুন্নাত
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَفَلَ مِنْ غَزْهِ أَوْ حَجٍ أَوْ عُمْرَةٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنَ الْأَرْضِ ثَلَاثَ تَكْبِيرَاتٍ ، ثُمَّ يَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ ، أَيبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ ، صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো যুদ্ধ অথবা হজ কিংবা উমরাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন তিনি প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে তিনবার তাকবীর বলতেন এবং তারপর বলতেন:
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، أَيبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ. وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ “আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। সর্বময় ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁর জন্যই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা (সফর থেকে) প্রত্যাবর্তন করছি তাওবাকারী, ইবাদাতকারী, আমাদের প্রভুর উদ্দেশ্যে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী হয়ে। আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, নিজ বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি এককভাবেই সকল শত্রুকে পরাজিত করেছেন।” (বুখারী-১৭৯৭, ২৯৯৫, ৩০৮৪, ৪১১৬, ৬৩৮৫, ইফা.-১৬৮০, মুসলিম-১৩৪৪, তিরমিযী-৯৫০, আবু দাউদ-২৭৭০, আহমাদ- ৪৪৮২, ৪৫৫৫, ৪৬২২, ৪৯৪০, ৫২৭৩, ৫৭৯৬, ৬৩৭৫, ৬৩৩৮, মালিক-৯৬০, দারিমী-২৬৮২, দুআর শব্দাবলী বুখারীর)