📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কতদিন পর্যন্ত জিহাদ থাকবে?

📄 কতদিন পর্যন্ত জিহাদ থাকবে?


عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الإِسْلَامِ ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ

অর্থ: ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল, এবং নামাজ কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো। অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোনো কারণ থাকে, তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্র ওপর অর্পিত। (বুখারী-২৫, ৩৮৫, ১৩৩৫, ৩৯২, ২৭৪৩, ৬৫২৬, ৬৮৫৫, ইফা.-২৪, মুসলিম-১৩৫, ১৩৭, ১৩৮, আবু দাউদ-১৫৫৮, ২৬৪২, তিরমিযী-৩৩৪১, নাসাঈ-২৪৪৩, ৩০৯১, ইবনে মাজাহ- ৭১, ৩৯২৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 কিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ অব্যাহত থাকবে

📄 কিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ অব্যাহত থাকবে


عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : لَنْ يَبْرَحَ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا يُقَاتِلُ عَلَيْهِ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: এ দ্বীন ইসলাম সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং মুসলিমদের একটি জামাআত কিয়ামত পর্যন্ত দ্বীনের উপর অটল থেকে অব্যাহতভাবে জিহাদ চালিয়ে যাবে। (মুসলিম-৫০৬২, আবু দাউদ-২৪৮৬, আহমাদ-২১০২৩, মু'জামুল কাবীর-১৯৩১, কানযুল উম্মাল-৩৪৪৯৫, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 আল্লাহর রাস্তায় আহত হওয়ার ফযীলত

📄 আল্লাহর রাস্তায় আহত হওয়ার ফযীলত


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُلُّ كَلْمٍ يُكْلَمُهُ الْمُسْلِمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، يَكُونُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَهَيْئَتِهَا ، إِذْ طُعِنَتْ ، تَفَجَّرُ دَمًا ، اللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ . وَالْعَرْفُ عَرْفُ الْمِسْكِ

অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ্র রাস্তায় (যুদ্ধের ময়দানে) মুসলমানদের যে যখম হয়, কিয়ামত দিবসে তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যেরূপ ছিলো সে রূপই হবে। (তা থেকে) রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের, কিন্তু তার ঘ্রাণ হবে মিশকের ন্যায়। (সহীহ বুখারী-২৩৭, ২৮০৩, ৫৫৩৩, ইফা.-২৩৭, মুসলিম-১৮৭৬, তিরমিযী-১৬৫৬, নাসাঈ-৩১৪৭, আহমাদ-৭১১৭, ৭২৬০, ৭২৯৮, ৮৭৫৭, ৮৮৪৩, ৮৯৪০, ৯১৯২, ৯১৯৮, ৯৭৭৬, মালিক-১০০১, দারিমী-২৪০৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوَاقَ نَاقَةٍ فَقَدْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْقَتْلَ مِنْ نَفْسِهِ صَادِقًا ثُمَّ مَاتَ أَوْ قُتِلَ فَإِنَّ لَهُ أَجْرَ شَهِيدٍ, وَمَنْ جُرِحَ جُرْعًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً, فَإِنَّهَا تَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغْزَرِ مَا كَانَتْ، لَوْنُهَا لَوْنُ الزَّعْفَرَانِ، وَرِيحُهَا رِيحُ الْمِسْكِ

অর্থ: হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি উট দোহন পরিমাণ সময় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি সত্যিকারভাবে মন থেকে শহীদ হওয়ার আশা পোষণ করে, অতঃপর সে ঘরে মারা যায় কিংবা নিহত হয়, তবে তাকে শহীদের মর্তবা দান করা হয়। আর যাকে আল্লাহর রাস্তায় আহত করা হয়েছে অথবা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার ক্ষতস্থান থেকে পূর্বের তুলনায় বেশি রক্তধারা প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তার রং হবে জাফরানী ও সুগন্ধ হবে মিশকের মতো। (আবু দাউদ-২৫৪১, তিরমিযী-১৬৫৪, ১৬৫৭, নাসাঈ-৩১৪১, ইবনে মাজাহ-২৭৯২, আহমাদ-২১৫০৯, দারিমী-২৩৯৪, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সামান্য সময় জিহাদ করা দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম

📄 সামান্য সময় জিহাদ করা দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : غَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَقَابُ قَوْسٍ أَحَدِكُمْ ، أَوْ مَوْضِعُ قَدَمٍ مِنَ الجَنَّةِ، خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى الأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا ، وَلَمَلَاتُ مَا بَيْنَهُمَا رِيحًا، وَلَنَصِيفُهَا يَعْنِي الخِمَارَ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) এক সকাল অথবা এক বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে উত্তম। আর জান্নাতে তোমাদের কারো একটি তীর ধনুক জায়গা দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুর চাইতে উত্তম। জান্নাতের কোনো নারী যদি দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তবে সমস্ত দুনিয়া আলোকিত ও খুশবুতে মোহিত হয়ে যাবে। জান্নাতী নারীর নাসীফ (ওড়না) দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। (বুখারী-৬৫৬৭, ৬৫৬৮, ২৭৯২, ইফা.-৬১২১, মুসলিম-১৮৮০, ৪৭৬৭, আহমাদ-১২৩৫২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

নোট: 'এক সকাল' ও 'এক বিকাল' দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সামান্য সময়, অল্প কিছুক্ষণ। অর্থাৎ, সামান্য সময় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা দুনিয়ার সমস্ত ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা দান করা কিংবা (যুগ যুগ ধরে) ইবাদত-বন্দেগী করা অপেক্ষা উত্তম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00