📄 সামান্য সময় জিহাদ করা ৭০ বছর ইবাদত অপেক্ষা উত্তম
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشِعْبٍ فِيهِ عُيَيْنَةٌ مِنْ مَاءٍ عَذْبَةٌ فَأَعْجَبَتْهُ لِطِيبِهَا فَقَالَ لَوِ اعْتَزَلْتُ النَّاسَ فَأَقَمْتُ فِي هَذَا الشِّعْبِ وَلَنْ أَفْعَلَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم, فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: لَا تَفْعَلُ فَإِنَّ مَقَامَ أَحَدِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ سَبْعِينَ عَامًا, أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَيُدْخِلَكُمُ الْجَنَّةَ أَغْرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী একটি গিরিপথ অতিক্রম করছিলেন। সেই গিরিপথে ছিলো একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা। ঝর্ণাটি তাঁকে মুগ্ধ করলো। তিনি মনে মনে বললেন, লোকজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যদি আমি এই গিরিপথে অবস্থান করতে পারতাম, তাহলে বড়ই ভালো হতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে অনুমতি না নিয়ে আমি এটা করতে পারি না। ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, না, এরূপ করো না। কেননা, জিহাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় অবস্থান করা তোমাদের কারো ঘরে বসে সত্তর বছর নামাজ পড়া অপেক্ষা অনেক উত্তম। তোমরা কি এটা পছন্দ করবে না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন ও তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন? তাহলে তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় উট দোহন পরিমাণ সময় যুদ্ধ করে, তাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। (তিরমিযী-১৬৫০, আহমাদ-১০৪০৭, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর, হাদীসটি হাসান)
📄 বাতিলের বিরুদ্ধে হক কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ أَوْ أَمِيرٍ جَائِرٍ
অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: স্বৈরাচারী শাসক বা আমীরের সামনে হক কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ। (তিরমিযী-২১৭৪, আবু দাউদ-৪৩৪৪, নাসাঈ-৪২০৯, ইবনে মাজাহ-৪০১১, আহমাদ-১০৭৫৯, ১১১৯৩, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের, হাদীসটি সহীহ)
📄 জান, মাল ও যবান দ্বারাও জিহাদ করা যায়
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسَكُمْ وَالسَنْتُكُمْ -
অর্থ: হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের জান, মাল ও মুখ দ্বারা জিহাদ করো। (আবু দাউদ-২৫০৪, নাসাঈ-৩০৯৬, ৩১৯২, আহমাদ-১১৮৩৭, ১২১৪৫, ১৩২২৬, দারিমী-২৪৩১, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)
নোট: এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জিহাদ শুধু তলোয়ার বা অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যেখানে অস্ত্রের প্রয়োজন সেখানে অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করবে। যেখানে জানের প্রয়োজন সেখানে জান দ্বারা যুদ্ধ করবে। যেখানে মালের প্রয়োজন সেখানে মাল দ্বারা যুদ্ধ করবে এবং যেখানে হক কথা বলার প্রয়োজন, সেখানে মুখ দ্বারা জিহাদ করবে।
বর্তমানে আমরা হক কথা বলতে ভয় পাই। আবার অনেকে সরকারী দলের দালালী করে হক কথা বলে না। কিন্তু আলোচ্য হাদীসে হক কথা বলার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যালিম বাদশা বা সমাজের ক্ষমতাধর ব্যক্তির সামনে হক কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।
তাই আসুন, আজ থেকে আমরা পাক্কা ইরাদা করি- যেখানে থাকি, যে পরিবেশে থাকি সর্বাবস্থায় হকের উপর থাকবো, হক কথা বলবো। ইনশাআল্লাহ, -আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন।-আমীন
📄 কতদিন পর্যন্ত জিহাদ থাকবে?
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الإِسْلَامِ ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ
অর্থ: ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল, এবং নামাজ কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো। অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোনো কারণ থাকে, তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্র ওপর অর্পিত। (বুখারী-২৫, ৩৮৫, ১৩৩৫, ৩৯২, ২৭৪৩, ৬৫২৬, ৬৮৫৫, ইফা.-২৪, মুসলিম-১৩৫, ১৩৭, ১৩৮, আবু দাউদ-১৫৫৮, ২৬৪২, তিরমিযী-৩৩৪১, নাসাঈ-২৪৪৩, ৩০৯১, ইবনে মাজাহ- ৭১, ৩৯২৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)