📄 জিহাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের নির্দেশ
وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمُ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَأَخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُوْنَهُمُ اللهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
অর্থ : আর তাদের (কাফিরদের) মোকাবেলা করার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর। যাতে এর দ্বারা তোমরা ভয় দেখাতে পার আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে; এরা ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। অধিকন্তু তোমরা যাকিছু আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তার পরিপূর্ণ বিনিময় তোমাদেরকে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। (সূরা আনফাল-৬০)
নোট: مِنْ قُوَّةٍ শব্দের অর্থ- মোকাবেলা করার শক্তি সঞ্চয় করা। যুদ্ধোপকরণ, অস্ত্রশস্ত্র, যানবাহন, শরীর চর্চা, সমরবিদ্যা শিক্ষা সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। জিহাদের জন্য এসব শক্তি অর্জন করা ফরয। কোনো যুগ, দেশ ও স্থান নির্দিষ্ট নয়; বরং সর্বযুগেই এ বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য। (মাআরিফুল কুরআন-৫৮২)
📄 সর্বাধিক লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ - تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে। অধিকন্তু তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। পরন্তু চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসে (প্রবেশ করাবেন)। এটিই মহাসাফল্য। (সূরা সাফ: ১০-১২)
📄 আল্লাহর সাথে জান ও মালের বেচা-কেনা করা
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَيَعْتُمْ بِهِ وَذُلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে তাদের (কাফিরদের) মারে ও নিজেরা মরে (শহীদ হয়)। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। বস্তুত ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক (সত্যাবাদী) আর কে হতে পারে? অতএব, তোমরা (আল্লাহর সঙ্গে) যে সদাই করেছ, সে সদাইর জন্য আনন্দিত হও। বস্তুত এটিই মহাসাফল্য। (সূরা তাওবা-১১১)
নোট: আল্লাহ মুমিনের জান ও মালের বিনিময়ে জান্নাত খরিদ করেছেন। অর্থাৎ, মুমিনগণ আল্লাহর রাস্তায় তাদের জান ও মাল খরচ করবে। মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে তাদেরকে জান্নাত দিবেন। আয়াতের শেষাংশে মুমিনের আরো দু'টি গুণের কথা বলা হয়েছে- (ক). মুমিনগণ আল্লাহর রাস্তায় সশস্ত্র যুদ্ধ করে কাফিরদের খতম করবে। (খ). কখনো যুদ্ধ করতে করতে নিজে শহীদ হয়ে যাবে।
📄 অন্তরে জিহাদের প্রত্যাশা না থাকলে সে মুনাফিক
এমর্মে কয়েকটি হাদীস অন্তরে জিহাদের প্রত্যাশা না থাকলে সে মুনাফিক
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثُ بِهِ نَفْسَهُ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ সে জিহাদ করল না কিংবা অন্তরে জিহাদের ইচ্ছাও ছিল না, সে একপ্রকার মুনাফিক অবস্থায় মারা গেল। (সহীহ মুসলিম-৫০৪০, ৪৮২৫, ইফা.-৪৭৭৮, আবু দাউদ-২৫০৪, নাসাঈ-৩০৯৭, আহমাদ-৮৮৬৫, বাইহাকী-১৭৭২০, হাকেম-২৪১৮, আবু আওয়ানাহ-৭৪৫১, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)
নোট: পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াত ও বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা জিহাদ প্রমাণিত। প্রতিটি মুসলমানের ওপর সর্বাবস্থায় জিহাদের প্রতি মৌন সম্মতি থাকা ও অন্তরে জিহাদের নিয়ত রাখা ওয়াজিব। যদি কেউ তার জীবদ্দশায় জিহাদ করার সুযোগ না পায় ও অন্তরে জিহাদের প্রতি মৌন সম্মতি ও নিয়ত না রাখে তবে হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী সে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ বুখারী)