📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 নামাজ-রোজার মতোই জিহাদ ফরয

📄 নামাজ-রোজার মতোই জিহাদ ফরয


كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অর্থ: তোমাদের ওপর জিহাদ ফরয করা হয়েছে, যদিও তোমাদের কাছে তা অপছন্দনীয় হয়। এমন হতে পারে একটি বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার এমনও হতে পারে একটা বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ সেটা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। অনন্তর প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই জানেন ও তোমরা জানো না। (সূরা বাকারা-২১৬)
নোট : সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতের كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ বাক্য দ্বারা যেমনিভাবে সমস্ত উম্মতে মুসলিমার উপর পবিত্র রমযান মাসের রোযা ফরয হয়েছে; তেমনিভাবে ২১৬ নম্বর আয়াতের كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ বাক্য দ্বারাও মুসলমানদের উপর জিহাদ ফরয ঘোষণা করা হয়েছে। একই সূরার একই ধরণের দু'টি আয়াত দ্বারা রোযা ও জিহাদ ফরয করা হয়েছে। সুতরাং কুরআনের আয়াত দ্বারা অকাট্যভাবে জিহাদ ফরয হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি তা অস্বীকার করে কিংবা জিহাদকে জঙ্গিবাদ বলে কটুক্তি করে, তাহলে নিঃসন্দেহে তার ঈমান চলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সাধারণ মানুষকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ

📄 সাধারণ মানুষকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ


يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِأَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِأَةً يَغْلِبُوا الْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ

অর্থ: হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন, তোমরা যদি বিশজন ধৈর্যশীল হও, তাহলে দু'শ' কাফিরের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে। একশ' জন হলে এক হাজার কাফিরের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে। কারণ, তারা (কাফিররা) নির্বোধ সম্প্রদায়। (সূরা আনফাল-৬৫)

নোট: আলোচ্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, মানুষের মাঝে জিহাদের দাওয়াত দেয়া, জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং জিহাদের প্রয়োজনীয়তা মানুষের সামনে তুলে ধরা কেবল জায়েযই নয়; বরং অন্যতম ঈমানী দায়িত্বও বটে।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 জিহাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের নির্দেশ

📄 জিহাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের নির্দেশ


وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمُ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَأَخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُوْنَهُمُ اللهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
অর্থ : আর তাদের (কাফিরদের) মোকাবেলা করার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর। যাতে এর দ্বারা তোমরা ভয় দেখাতে পার আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে; এরা ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। অধিকন্তু তোমরা যাকিছু আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তার পরিপূর্ণ বিনিময় তোমাদেরকে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। (সূরা আনফাল-৬০)
নোট: مِنْ قُوَّةٍ শব্দের অর্থ- মোকাবেলা করার শক্তি সঞ্চয় করা। যুদ্ধোপকরণ, অস্ত্রশস্ত্র, যানবাহন, শরীর চর্চা, সমরবিদ্যা শিক্ষা সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। জিহাদের জন্য এসব শক্তি অর্জন করা ফরয। কোনো যুগ, দেশ ও স্থান নির্দিষ্ট নয়; বরং সর্বযুগেই এ বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য। (মাআরিফুল কুরআন-৫৮২)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সর্বাধিক লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা

📄 সর্বাধিক লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা


يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ - تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে। অধিকন্তু তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। পরন্তু চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসে (প্রবেশ করাবেন)। এটিই মহাসাফল্য। (সূরা সাফ: ১০-১২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00